আরোহ অনুমানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন তৃতীয় অধ্যায় | Aroho Onumaner Swarup Queastion Answer | Class 12 4th Semester Philosophy

আরোহ অনুমানের স্বরূপ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (মান ৬)
১। আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি কী কী? আলোচনা করো।
আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি বলতে এমন মৌলিক নিয়মকে বোঝায় যেগুলির উপর নির্ভর করে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয়। আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি দুটি। যথা- প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়ম।
প্রকৃতির একরূপতা নীতি: প্রকৃতি হল নিয়মের রাজত্বের অধীন। প্রকৃতি রাজ্যে আকস্মিকভাবে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে না। প্রকৃতির সকল ঘটনাই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে ঘটে। প্রকৃতির একরূপতা নীতির মূলকথা হল-প্রকৃতি সম অবস্থায় সম আচরণ করে। যে পরিস্থিতিতে প্রকৃতিতে কোনো ঘটনা একবার ঘটে, অনুরূপ পরিস্থিতিতে আবারও সেই ঘটনা একইরকমভাবে ঘটবে। যে অবস্থায় বা পরিস্থিতিতে কোথাও ভূমিকম্প হয়েছিল, সেই একই অবস্থা বা পরিস্থিতির যদি পুনরাবৃত্তি হয় তবে ভবিষ্যতেও ভূমিকম্প হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না-এটিই হল প্রকৃতির একরূপতা নীতির মূল বৈশিষ্ট্য। এই নীতির উপর আস্থা রেখে আরোহ অনুমানের গঠন বা সামান্য আকার প্রতিষ্ঠিত হয় বলে প্রকৃতির একরূপতা নীতিকে আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।
কার্যকারণ নিয়ম: কার্যকারণ নিয়ম অনুসারে জগতের প্রত্যেকটি কার্যের একটি সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। বৈচিত্র্যময় জগতে শূন্য থেকে কোনো কিছুর সৃষ্টি হতে পারে না। প্রত্যেকটি ঘটনার কোনো-না-কোনো কারণ আছে। অভিজ্ঞতায় বারবার দুটি ঘটনাকে একসঙ্গে ঘটতে দেখে ওই দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ আছে বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে পূর্ববর্তী ঘটনাটিকে কারণ এবং পরবর্তী ঘটনাটিকে কার্য বলে। যেমন-আগুন হল দহন ক্রিয়ার কারণ। এখানে আগুন হল কারণ এবং দহন ক্রিয়া হল কার্য। কার্যকারণ নিয়ম অনুসারে এক্ষেত্রে ‘আগুন’ এবং ‘দহন ক্রিয়া’-র মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ আছে বলে মনে করা হয়। এই কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতেই আরোহ অনুমানের সামান্যীকরণ করা হয় বলে কার্যকারণ, নিয়মকে আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।
২। আরোহ অনুমানের ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির একরূপতা নীতিকে ব্যাখ্যা করো।
আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত যে দুটি মূল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তার মধ্যে অন্যতম হল প্রকৃতির একরূপতা নীতি। এই নীতি হল চিন্তার এক মৌলিক সূত্র যা মূলত স্বতঃসিদ্ধ। এই নীতিটিকে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা যায়। যেমন—
- প্রকৃতি সর্বদা একইরকম আচরণ করে,
- প্রকৃতি নির্দিষ্ট নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়,
- প্রকৃতিতে রয়েছে নিয়মের অপরিবর্তনশীলতা অর্থাৎ নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই,
- ভবিষ্যৎ ও অতীত একই নিয়মে চলবে ইত্যাদি।
এইসব বর্ণনার মধ্যে দিয়ে যে মূলকথাটি প্রকাশ পায়, তা হল প্রকৃতি সম অবস্থায় সম আচরণ করে। অর্থাৎ বৈচিত্র্যময় এই প্রকৃতিতে এক নিয়মশৃঙ্খলা কাজ করে। জগতের কোনো ঘটনাই আকস্মিক নয়। কোনো অবস্থায় প্রকৃতিতে যে ঘটনা ঘটে সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ওই ঘটনাটি একইভাবে ঘটবে। যেমন- যে অবস্থায় জল অতীতে মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করেছে, সেই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হলে জল ভবিষ্যতেও মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করবে।
আকারগত ভিত্তি হিাসান প্রকৃতির একরূপতা নীতি: প্রকৃতির একরূপতা নীতির উপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমানে সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই নীতি অনুসারে কিছু মানুষের মৃত্যু দেখে অনুমান করা হয় যে ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল’। কারণ এ কথা বিশ্বাস করা হয় যে, একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রকৃতি একই রকমের আচরণ করবে। যে যে কারণের জন্য রাম, শ্যাম, যদু, মধু প্রমুখের মৃত্যু অতীতে ঘটেছে, সেইসব কারণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ভবিষ্যতেও সকল মানুষেরই মৃত্যু হবে। এইভাবে প্রকৃতির একরূপতা নীতির উপর আস্থা রেখে আরোহ অনুমানের গঠন বা সামান্য আকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এইজন্যই প্রকৃতির একরূপতা নীতিকে আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।
প্রকৃতির বৈচিত্য ও একরূপতা নীতি: প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। প্রকৃতি যেমন নিয়মের অধীন তেমনই এই নিয়মের ব্যতিক্রমও রয়েছে। প্রকৃতির বৈচিত্র্যের দিকে তাকালে মনে হয় যেন প্রকৃতির মধ্যে কোনো একরূপতা নেই। যেমন- আবহাওয়ার কথা নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। যুক্তিবিদ মিল তাই বলেছেন যে প্রকৃতি কেবল একরূপ নয়, প্রকৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ।
কিন্তু প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য তার একরূপতা নীতিকে অপ্রমাণ করে না। প্রকৃতির একরূপতার অর্থ হল প্রকৃতি অনুরূপ অবস্থায় অনুরূপ আচরণ করে। যে অবস্থায় আজ যে ঘটনা ঘটেছে অনুরূপ অবস্থার পুনরাবৃত্তি হলে ভবিষ্যতেও আবার অনুরূপ ঘটনাটি ঘটবে।
৩। আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি কী কী? আলোচনা করো।
আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি বলতে এমন প্রক্রিয়াকে বোঝায় যা আরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্যগুলিকে সরবরাহ করে এবং সিদ্ধান্তের বস্তুগত সত্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে। আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি হল দুটি। যথা- পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ।
পর্যবেক্ষণ: কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা বা বিষয়কে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষ করাই হল পর্যবেক্ষণ। পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যক্ষের বিষয়টি নির্বাচন করতে হয় এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে বর্জন করা হয়। এই পদ্ধতিতে আমাদের প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হয়। কেন-না প্রকৃতিই আমাদের সামনে পর্যবেক্ষণের বিষয়বস্তুটি উপস্থাপিত করে। সুতরাং পর্যবেক্ষণের মূল বৈশিষ্ট্য হল উদ্দেশ্যমূলক, সুনিয়ন্ত্রিত, নির্বাচনমূলক এবং প্রকৃতিনির্ভর।
পরীক্ষণ: যখন কোনো কৃত্রিম পরিবেশে কোনো বিষয় বা ঘটনাকে সুসংগঠিত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তখন তাকে বলে পরীক্ষণ। কোনো বিষয় বা ঘটনা সম্বন্ধে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গেলে সেই বিষয়টিকে বারবার পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশে তা সম্ভব হয় না বলে কৃত্রিমভাবে ওইরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এইজন্য পরীক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং পরীক্ষণের মূল বৈশিষ্ট্য হল উদ্দেশ্যমূলক, সুনিয়ন্ত্রিত, নির্বাচনমূলক এবং কৃত্রিম পরিবেশ।
৪। বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান বলতে কী বোঝো? এই অনুমানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও।
বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান: যে আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ বস্তু বা ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের দ্বারা প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে একটি সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান বলে।
উদাহরণ : রহিম হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন। অজয় হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন। রাকেশ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন। সুমনা হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন। ∴ সব মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন। বৈশিষ্ট্য: বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল-
সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা: বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানে যে সামান্য বচনটি প্রতিষ্ঠা করা হয় তা সংশ্লেষক, বিশ্লেষক নয়। যে বচনের বিধেয়টি কেবলমাত্র উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ কিংবা জাত্যর্থের অংশ বিশেষকে বিশ্লেষণ করে, তাকে বলা হয় বিশ্লেষক বচন। এই জাতীয় বচন হল সংজ্ঞার্থজ্ঞাপক। কাজেই এক্ষেত্রে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কোনো নতুন তথ্য দেয় না। যেমন- ‘সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।’ অপরপক্ষে যে বচনের বিধেয়টি উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নতুন কোনো তথ্য দেয় তাকে বলা হয় সংশ্লেষক বচন। যেমন- ‘সকল মানুষ হয় হাস্যপ্রিয় জীব।’ এই জাতীয় বচনের বিধেয় পদ যে নতুন জ্ঞান দেয় তা উদ্দেশ্যকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় না। তাই বলা যায় যে আরোহ অনুমান সর্বদাই সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করে।
পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ: বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান বিশেষ বস্তু বা ঘটনার পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের উপর নির্ভর করে। আরোহ অনুমানে আমরা কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করি। যেমন- রাম, শ্যাম, যদু, মধু প্রমুখ কয়েকজনের মৃত্যু পর্যবেক্ষণ করে আমরা অনুমান করি যে ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব’। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষণের সাহায্যে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করে সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। যেমন- কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পরীক্ষণ করে আমরা অনুমান করি যে ‘সকল ক্ষেত্রে তাপ দিলে বস্তু আয়তনে বাড়ে।’ এইজন্যই পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণকে আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি বলা হয়।
প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান দুটি মূল নিয়মের উপর নির্ভর করে- একটি হল প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং অপরটি হল কার্যকারণ নিয়ম। এই দুটি নিয়মের জন্যই ‘আরোহ অনুমান সংক্রান্ত লাফ’ দেওয়া সম্ভব হয়। এই দুটি নিয়ম হল আরোহ অনুমানের স্বীকার্য সত্য। প্রমাণ ছাড়াই এই নিয়ম দুটিকে গ্রহণ করা হয়। প্রকৃতির একরূপতার অর্থ হল ‘প্রকৃতি সম অবস্থায় সম আচরণ করে’। অথবা একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ‘প্রকৃতি একইরকম আচরণ করে’। আর কার্যকারণ নিয়মের অর্থ হল ‘প্রতিটি ঘটনারই কারণ আছে’। এই দুটি নিয়মের উপর নির্ভর করেই ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব’-এই সামান্য সংশ্লেষক বচনটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। বস্তুত আরোহ অনুমানের সামান্যীকরণ প্রক্রিয়ার মূলে আছে প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়ম। এই দুটি নিয়মের সাহায্যেই আমরা জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে অর্থাৎ বিশেষ সত্য থেকে সামান্য সত্যে উপনীত হতে পারি। এইজন্যই এই দুটি নিয়মকে আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।
৫। বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানের পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।
বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ হল আরোহ অনুমানের দুটি প্রকার। যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করে সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান বলে।
অপরদিকে যে আরোহ অনুমানে কার্যকারণ সম্বন্ধের উপর নির্ভর না করে, কেবলমাত্র অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান বলে। এই দুই প্রকার আরোহ অনুমানের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সেগুলি হল-
বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানের পার্থক্য
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
| বিষয় | বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান | অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান |
| ১. আকারগত ভিত্তি | বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। | অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান কেবল প্রকৃতির একরূপতা নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। |
| ২. দৃষ্টান্তের গুরুত্ব | এখানে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। | এখানে কেবল সদর্থক দৃষ্টান্তের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। |
| ৩. স্তরগত পার্থক্য | এখানে সংজ্ঞা, বিশ্লেষণ, অপসারণ, প্রকল্প গঠন ও সামান্যীকরণ প্রভৃতি স্তর অতিক্রম করতে হয়। | এখানে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট স্তর অতিক্রম করতে হয় না। |
| ৪. সিদ্ধান্তের গুরুত্ব | কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয় বলে এর সিদ্ধান্ত অধিক গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। | কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয় না বলে এর সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। |
| ৫. দৃষ্টান্তের সংখ্যা | এখানে দৃষ্টান্তের সংখ্যার চেয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। | এখানে দৃষ্টান্তের সংখ্যার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। |
| ৬. অপসারণের পদ্ধতি | এখানে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি রেখে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলি বর্জন করার জন্য অপসারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। | এখানে অপসারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জন করা হয় না। |
আরোহ অনুমানের স্বরূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ৩)
১। আরোহ অনুমানের প্রয়োজনীয়তা কী?
যুক্তিবিদ্যায় যে-কোনো অনুমানের সত্যতার দুটি দিক থাকে। যথা-আকারগত সত্যতা এবং বস্তুগত সত্যতা। যুক্তির নিয়মসংগত গঠনকে বলা হয় যুক্তির আকারগত সত্যতা। অর্থাৎ কোনো অনুমানে নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন না করে আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুসৃত হলে তা আকারগত দিক থেকে সত্য হয়। অপরদিকে যুক্তির বিষয়বস্তুর সত্যতাকে বলা হয় যুক্তির বস্তুগত সত্যতা। অর্থাৎ অনুমানের অন্তর্গত বচনগুলির সঙ্গে বাস্তব জগতের সংগতি থাকলে তা বস্তুগত দিক থেকে সত্য হয়।
অবরোহ অনুমানে কেবলমাত্র আকারগত সত্যতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অর্থাৎ এই অনুমানে কেবলমাত্র অনুমানের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা বিচার করা হয়। অবরোহ অনুমানে যেসব সামান্য সংশ্লেষক বচন ব্যবহৃত হয় সেগুলিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বস্তুগত সত্যতা বিচার করা হয় না। কিন্তু একটি অনুমান তখনই যথার্থ হয় যখন তার আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাই আলোচনা করা হয়। এই বস্তুগত সত্যতা আলোচিত হয় আরোহ অনুমানে। অবরোহ অনুমানে যেসব সামান্য সংশ্লেষক বচনকে সত্য বলে ধরে নেওয়া হয় সেইগুলির বস্তুগত সত্যতা যাচাই করার জন্য অবরোহ অনুমানকে আরোহ অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়। এই কারণে আরোহ অনুমানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
২। দৈনন্দিন জীবনে আরোহ অনুমানের গুরুত্ব আলোচনা করো।
আমাদের জীবনে বিভিন্ন ঘটনায় আরোহ অনুমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেগুলি হল-
বস্তুগত সত্যতা নির্ধারণ: যুক্তিবিদ্যায় অনুমানের সত্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আকারগত সত্যতা এবং বস্তুগত সত্যতা এই দুটি দিক যাচাই করতে হয়। অবরোহ অনুমানে আকারগত সত্যতা যাচাই করা গেলেও বস্তুগত সত্যতা যাচাই করা হয় না। বস্তুগত সত্যতা নির্ধারণের জন্য আমাদের আরোহ অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়।
বৈজ্ঞানিক নিয়ম আবিষ্কার: আরোহ অনুমান বৈজ্ঞানিক নিয়ম আবিষ্কারে সহায়তা করে। প্রতিটি বিজ্ঞান নিজ নিজ বিভাগের উৎকর্ষ সাধনের জন্য কতগুলি সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে। এক্ষেত্রে আরোহ পদ্ধতি প্রধান নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।
অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূরীকরণ: আরোহ অনুমান আমাদের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করতে সহায়তা করে। আরোহ অনুমানের দ্বারা প্রাকৃতিক নিয়মাবলি আবিষ্কারের ফলে অপ্রাকৃত, অলৌকিক বিষয়াবলির অসারতা সহজেই আমাদের কাছে ধরা পড়ে।
প্রকৃতির অন্তর্নিহিত রূপ উন্মোচন: আমাদের বিশ্বপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। তবে প্রকৃতিতে নিয়মের রাজত্ব রয়েছে। যার ফলে এত বৈচিত্র্যের মধ্যেও প্রকৃতিতে ঐক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতির এই অন্তর্নিহিত রূপ আরোহের মাধ্যমেই জানা যায়।
৩। সামান্য সংশ্লেষক বচনের উৎসগুলি কী কী আলোচনা করো।
সামান্য সংশ্লেষক বচনের তিনটি উৎস রয়েছে। যথা- স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম, অধিক ব্যাপক সামান্য বচন এবং আরোহ অনুমান।
স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম: যে নিয়মগুলিকে বিনা প্রমাণে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয় তাকে স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম বলা হয়। তাই সামান্য সংশ্লেষক বচন কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হলে সেটির সত্যতা প্রমাণ করার আর প্রয়োজন হয় না।
অধিক ব্যাপক সামান্য বচন: অনেক ক্ষেত্রে কোনো সামান্য সংশ্লেষক বচনকে একটি বৃহত্তর সামান্য সংশ্লেষক বচনের সাহায্যে প্রমাণ করা হয়। কোনো ন্যায়ে যে সামান্য সংশ্লেষক বচনটি আশ্রয়বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেটি অপর কোনো একটি ন্যায়ের সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আরোহ অনুমান: সামান্য সংশ্লেষক বচন স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম বা অধিক ব্যাপক সামান্য বচন থেকে সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রাপ্ত না হলে তার বস্তুগত সত্যতা আরোহ অনুমানের সাহায্যে বিচার করা যায়।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ৪। উপমাযুক্তির ব্যাবহারিক গুরুত্ব লেখো।
উপমাযুক্তির যৌক্তিক ভিত্তির ব্যাবহারিক গুরুত্বকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না। দৈনন্দিন জীবনে আমরা কোনো-না-কোনোভাবে উপমাযুক্তির সাহায্য গ্রহণ করি। আমরা দুই বা ততোধিক বস্তুর মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করি এবং তাদের একটি বস্তুর মধ্যে কোনো নতুন গুণের উপস্থিতি লক্ষ করে অন্য বস্তু সম্পর্কে ওই গুণটি আরোপ করি। এই আরোপ ভুলও হতে পারে, আবার সঠিকও হতে পারে। কিন্তু ব্যাবহারিক জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। যেমন-
গতকাল আকাশে মেঘ ছিল এবং বৃষ্টি হয়েছিল।
আজও আকাশে মেঘ আছে।
∴ আজও বৃষ্টি হবে।
এই জাতীয় যুক্তি সম্ভাব্য হলেও আমাদের জীবনের কোনো-না-কোনো প্রয়োজন সিদ্ধ করে। আবার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও উপমাযুক্তির গুরুত্ব কম নয়। বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানের জন্য উপমাযুক্তির উপর নির্ভর করেন। বস্তুত উপমাযুক্তির উপর নির্ভর করে একজন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ কার্যে অগ্রসর হন। এ জন্য বলা হয় যে উপমাযুক্তি হল বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানের প্রাথমিক স্তর। জে এস মিল যথার্থই বলেছেন যে এমন কোনো উপমাযুক্তি নেই, যা কোনো-না-কোনোভাবে বিজ্ঞানকে সাহায্য করে না।
আরো পড়ুন : বুলীয় ভাষ্য ও ভেনচিত্র প্রশ্ন উত্তর
আরোহ অনুমানের স্বরূপ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ২)
১। আরোহ আরোহ অনুমানের সংজ্ঞা দাও।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর ভিত্তি করে ব্যাপকতর একটি সার্বিক সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেই প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।
উদাহরণ
অমল বিজ্ঞানের ছাত্র এবং দর্শন ভালো বোঝে।
বিমল বিজ্ঞানের ছাত্র এবং দর্শন ভালো বোঝে।
সামিম বিজ্ঞানের ছাত্র এবং দর্শন ভালো বোঝে।
∴সকল বিজ্ঞানের ছাত্র দর্শন ভালো বোঝে।
২। আরোহ অনুমানের স্তরবিভাগগুলি উল্লেখ করো।
আরোহ অনুমানের স্তরবিভাগগুলি হল-সংজ্ঞা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ, অপনয়ন, প্রকল্প গঠন, সামান্যীকরণ, যাচাইকরণ এবং সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা।
৩। আরোহ অনুমানের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
আরোহ অনুমানের দুটি বৈশিষ্ট্য হল সিদ্ধান্তটি একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে নিঃসৃত হয়। এই অনুমানের সিদ্ধান্তটি সামান্য সংশ্লেষক বচন হয়।
৪। আকারগত সত্যতা ও বস্তুগত সত্যতা বলতে কী বোঝো?
একটি যুক্তির আকারগত ও বস্তুগত সত্যতা হল-
যুক্তির নিয়মসংগত গঠনকে বলা হয় যুক্তির আকারগত সত্যতা। যদি কোনো যুক্তি বা অনুমানে নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন না করে আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুসৃত হয় তবে অনুমানটি আকারগত দিক থেকে সত্য হয়।
যুক্তির বিষয়বস্তুর সত্যতা বা যুক্তির অন্তর্গত বচনগুলি সত্য-মিথ্যা হওয়াকে বলা হয় যুক্তির বস্তুগত সত্যতা।
৫। সামান্যীকরণ বলতে কী বোঝো?
সামান্যীকরণ হল এমন এক অনুমান পদ্ধতি, যার সাহায্যে কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণ করে একটি সার্বিক বা সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি হল আরোহ অনুমানের প্রধান লক্ষণ। যেমন-কিছু মানুষের মৃত্যু দেখে সামান্যীকরণের সাহায্যে আমরা অনুমান করতে পারি যে ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।’
৬। কোন্ প্রকার আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে সামান্যীকরণ হয় না এবং কেন?
উপমাযুক্তি বা সাদৃশ্যমূলক আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে সামান্যীকরণ হয় না। কারণ উপমাযুক্তিতে বিশেষ বিশেষ বস্তু পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণ করে সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় না। এক্ষেত্রে আমরা বিশেষ সত্য থেকে সামান্য সত্যে উপনীত হই না-বিশেষ থেকে বিশেষে উপনীত হই।
৭। আরোহমূলক লাফ বা ঝুঁকি বলতে কী বোঝো?
আরোহ অনুমানে বিশেষ জ্ঞাত সত্য থেকে সামান্য অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে একরকম ফাঁক বা ঝুঁকি থেকে যায়।
যেমন-বিশেষ কয়েকজন মানুষকে স্বার্থপর হতে দেখে সিদ্ধান্ত করা হল যে ‘সকল মানুষ হয় স্বার্থপর’। এক্ষেত্রে সকল মানষ যে স্বার্থপর তা যাচাই করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে যে ফাঁক বা ব্যবধান থেকে যায় তাকে ‘আরোহমূলক লাফ’ বলা হয়। জন স্টুয়ার্ট মিল আরোহ অনুমানের এই ‘লাফ’-কে ‘অন্ধকারে ঝাঁপ দেওয়া’ বা ‘আরোহমূলক ঝুঁকি’ বলেছেন।
৮। আরোহ অনুমানের ভিত্তি কত প্রকার ও কী কী?
আরোহ অনুমানের ভিত্তি দুই প্রকার। যথা- আকারগত ভিত্তি ও বস্তুগত ভিত্তি।
৯। আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি কী কী?
আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি দুই প্রকার। যথা- প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়ম।
১০। প্রকৃতির একরূপতা নীতি কী দাবি করে? অথবা, প্রকৃতির একরূপতা নিয়ম বলতে কী বোঝো?
প্রকৃতির সকল ঘটনাই নিয়মের অধীন। প্রকৃতিতে বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের কোনো স্থান নেই। প্রত্যেক ঘটনাই একটি বিশেষ পরিবেশ বা বিশেষ অবস্থায় ঘটে। যদি পরিবেশ বা অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে ঘটনাটিরও পুনরাবৃত্তি ঘটবে। অর্থাৎ প্রকৃতির একরূপতা নিয়মের মূল কথা হল প্রকৃতি সম অবস্থায় সম আচরণ করে। যেমন-অতীতে যে অবস্থায় জলপানের দ্বারা তৃয়া নিবারিত হয়েছে, সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ভবিষ্যতেও জলপানের দ্বারা তৃয়া নিবারিত হবে।
১১। কার্যকারণ নিয়ম বলতে কী বোঝো?
যে নিয়ম অনুসারে বলা হয় যে প্রতিটি ঘটনারই কারণ আছে তাকে কার্যকারণ নিয়ম বলে। এই পৃথিবীতে কোনো ঘটনা বা কার্য বিনা কারণে ঘটে না। বৈচিত্র্যময় জগতে শূন্য থেকে কোনো কিছুর সৃষ্টি হতে পারে না। প্রতিটি ঘটনার কোনো-না-কোনো কারণ আছে। এই কার্যকারণ নিয়মের উপর ভিত্তি করেই কয়েকটি ক্ষেত্রে আগুনের দ্বারা দহন হতে দেখে ‘আগুন হল দহনের কারণ’এইরূপ সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১২। আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তিগুলি কী কী?
আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি দুই প্রকার। যথা-পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ।
১৩। অপর্যবেক্ষণ দোষ কাকে বলে?
যে বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করা উচিত যদি সেগুলি পর্যবেক্ষণ করা না হয় তাহলে যে দোষ ঘটে তা হল অপর্যবেক্ষণ দোষ। যেমন-শনিবার বারবেলায় ভ্রমণ করলে মানুষ বিপদে পড়ে। এটি অপর্যবেক্ষণ দোষে দুষ্ট। কারণ এখানে শুধুমাত্র সদর্থক দৃষ্টান্তগুলিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং নঞর্থক দৃষ্টান্তগুলিকে (যেসব ক্ষেত্রে শনিবার বারবেলাতে ভ্রমণ করলে মানুষ বিপদে পড়েনি) পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না।
১৪। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ কাকে বলে?
কোনো বস্তু বা বিষয়ের আসল রূপকে প্রত্যক্ষ না করে যদি তার বিকৃত রূপকে প্রত্যক্ষ করা হয় তাহলে যে দোষ ঘটবে তা হল ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ। যেমন- রাতের অন্ধকারে দড়িকে প্রত্যক্ষ করেও তাকে সাপ ভেবে ভুল করা হল ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ।
১৫। পরীক্ষণের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
পরীক্ষণের দুটি বৈশিষ্ট্য হল-
- পরীক্ষণ হল উদ্দেশ্যমূলক। কোনো একটি উদ্দেশ্যসাধনের জন্যই কোনো বিষয়কে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এটি পরীক্ষণের মূল বৈশিষ্ট্য।
- পরীক্ষণের ক্ষেত্রে কৃত্রিম পরিবেশ হল অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো বিষয় সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানলাভ করতে হলে তাকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে বারবার পর্যবেক্ষণ করতে হয় যা স্বাভাবিক পরিবেশে সম্ভব নয়।
১৬। মিল আরোহ অনুমানকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন ও কী কী?
মিল আরোহ অনুমানকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- তথাকথিত আরোহ অনুমান এবং প্রকৃত আরোহ অনুমান।
১৭। তথাকথিত আরোহ অনুমান কাকে বলে?
যেসব অনুমান পদ্ধতি আরোহ অনুমানের মতো অথচ যাদের মধ্যে আরোহ অনুমানের লক্ষণগুলি উপস্থিত থাকে না তাদের তথাকথিত আরোহ অনুমান বলা হয়। অনেকে এই আরোহ অনুমানকে ‘ছদ্মবেশী আরোহ অনুমান’ নামেও অভিহিত করেছেন।
১৮। পূর্ণগণনামূলক আরোহ অনুমান কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে অনুমানে কোনো শ্রেণির অন্তর্গত প্রত্যেকটি দৃষ্টান্তকে আলাদা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণ করে সেগুলি সম্পর্কে একটি সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে পূর্ণগণনামূলক আরোহ অনুমান বলে। যেমন-একটি ক্লাসের সব ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষা করে দেখা গেল যে সবাই মেধাবী। এর থেকে যে সামান্য বচনটি প্রতিষ্ঠা করা হয় তা হল ‘এই ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রী হয় মেধাবী’। এই প্রকার অনুমান হল পূর্ণগণনামূলক আরোহ অনুমান।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| সমসাময়িক ভারতীয় চিন্তাধারা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন | Click here |
| মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন পঞ্চম অধ্যায় | Click here |
| কারণতা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন চতুর্থ অধ্যায় | Click here |
| বাক্য থেকে বচনে রূপান্তর | গুণ ও পরিমাণ নির্ণয় | ব্যাপ্য ও অব্যাপ্য নির্ণয় | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন