কারণতা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন চতুর্থ অধ্যায় | Karonota Queastion Answer | Class 12 4th Semester Philosophy

কারণতা রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (মান ৬)
১। কার্ডেথ রিড-এর মতে কারণের গুণগত লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।
কারণের গুণগত লক্ষণ: কার্ডেথ রিড কারণের গুণগত লক্ষণের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন সেখানে তিনি কারণকে কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনারূপে উল্লেখ করেছেন। কারণ সর্বদা কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনারূপে উপস্থিত থাকে এবং কার্য কারণের অনুবর্তী ঘটনারূপে উপস্থিত থাকে। কারণের গুণগত লক্ষণগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল-
কারণ ও কার্য পরস্পর সাপেক্ষ দুটি পদ: সাপেক্ষ পদ বলতে বোঝায় যে পদকে অর্থপূর্ণ হওয়ার জন্য অন্য কোনো পদের উপর নির্ভর করতে হয়। এই অর্থে কারণ ও কার্য দুটি সাপেক্ষ পদ। কার্য ছাড়া যেমন কারণ উৎপন্ন হয় না, তেমনই কারণ ছাড়াও কার্য ঘটতে পারে না। কাজেই কারণ ও কার্য পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অতিবৃষ্টির ফলে যেমন বন্যা দেখা দেয় তেমনই বন্যার ফলে মানুষ গৃহহীনও হয়। তাই বন্যা যেমন অতিবৃষ্টির কার্য তেমনই আবার মানুষের গৃহহীনতার কারণ।
কারণ কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনা : কোনো একটি ঘটনা পূর্বে ঘটলে তবেই কার্য ঘটা সম্ভবপর হয়। পূর্বে বা আগে ঘটা ঘটনাই হল কারণ। কারণ পূর্বে ঘটলে তবেই কার্য ঘটে। এইজন্য কারণকে পূর্ববর্তী ঘটনা এবং কার্যকে পরবর্তী ঘটনা বলা হয়। যেমন-ওষুধ খাওয়ার পরেই রোগ নিরাময় হয়। ‘ওষুধ খাওয়া’ হল কারণ আর ‘রোগ নিরাময় হওয়া’ হল কার্য।
কারণ কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা: যে ঘটনা সর্বদাই অপরিবর্তনীয়ভাবে কার্যের পূর্বে ঘটে সেই অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনাই হল কারণ। যে-কোনো পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলা যায় না। যেমন-ম্যালেরিয়া জ্বরের পূর্ববর্তী কারণ হিসেবে বিভিন্ন ঘটনা থাকলেও একমাত্র অ্যানোফিলিস মশার দংশন সবক্ষেত্রে সর্বদাই উপস্থিত আছে। এর থেকে সিদ্ধান্ত করা হল অ্যানোফিলিস মশার দংশন ম্যালেরিয়া রোগের কারণ।
কারণ কার্যের শর্তান্তরহীন অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা: যে-কোনো অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে গণ্য করা যায় না। কেন-না কারণ হল এমন শর্তসমষ্টি যা অন্য কোনো শর্তের উপর নির্ভর না করে কার্য উৎপন্ন করে। তাই যে অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা শর্তান্তরহীন সেই ঘটনাটি হল কারণ।
তাই বলা যায় গুণের দিক থেকে কারণ হল কার্যের নিয়ত অপরিবর্তনীয় শর্তান্তরহীন অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা।
২। বহুকারণবাদ সবিচার আলোচনা করো।
বহুকারণবাদ: যে মতবাদ অনুযায়ী একটি কার্য একাধিক কারণ থেকে উৎপন্ন হয় সেই মতবাদ হল বহুকারণবাদ। অর্থাৎ বহুকারণবাদ অনুসারে একই কার্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণের দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। যেমন-মৃত্যু নামক কার্যটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, জলে ডুবে যাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে হতে পারে। সংক্ষেপে বলা যায় ‘ক’ অথবা ‘খ’ অথবা ‘গ’ এদের যে-কোনো একটি ‘ঘ’-কে উৎপন্ন করতে পারে।
মিল, বেইন প্রমুখ তর্কবিদ বহুকারণবাদের সমর্থক। মিল তাঁর A System of Logic নামক গ্রন্থে বলেছেন-একই কার্য সবসময় একই কারণের সঙ্গে যুক্ত থাকবে কিংবা একটি ঘটনা বারবার একইভাবে ঘটবে এ কথা সত্য নয়। একটি ঘটনা বিভিন্নভাবে উৎপন্ন হতে পারে।
সমালোচনা: বহুকারণবাদ মতবাদটি সাধারণভাবে সত্য বলে মনে হয়। কিন্তু কারণের বৈজ্ঞানিক অর্থ গ্রহণ করলে অর্থাৎ কারণকে আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্তে গ্রহণ করলে বহুকারণবাদ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। যেসকল যুক্তির সাহায্যে বহুকারণবাদ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয় সেগুলি হল-
প্রথমত : বহুকারণবাদে কার্যকে সাধারণ অর্থে ব্যবহার করে কারণকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কারণের মতো কার্যকেও যদি বিশেষভাবে প্রয়োগ করা যায় তাহলে বহুকারণবাদের ত্রুটি ধরা পড়ে। সেক্ষেত্রে একটি কার্যের একটি কারণই স্বীকার করতে হয়, একাধিক কারণ স্বীকার করার প্রয়োজন হয় না। যেমন-মৃত্যুরূপ কার্যকে সাধারণভাবে গ্রহণ করে তার কারণস্বরূপ বিশেষ বিশেষ কারণের যথা-জলে ডোবা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা ইত্যাদির উল্লেখ করা হয়েছে। এখন মৃত্যুকে সাধারণভাবে গ্রহণ না করে যদি বিশেষভাবে গ্রহণ করা হয় তাহলে বিশেষ কারণের দ্বারা উৎপন্ন মৃত্যুর স্বরূপ বিশেষ রকমের হবে। জলে ডুবে মৃত্যু হলে মৃতদেহের লক্ষণ একরকম, বিষপানে মৃত্যু হলে সেই মৃতদেহের লক্ষণ অন্যরকম ইত্যাদি। সুতরাং বিশেষ বিশেষ কারণের দ্বারা উৎপন্ন মৃত্যুর স্বরূপও বিশেষ হবে। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন কারণের দ্বারা উৎপন্ন কার্যও ভিন্ন ভিন্ন। সেক্ষেত্রে বহুকারণবাদ ভুল প্রমাণিত হয়।
দ্বিতীয়ত : কারণকে বিশেষভাবে গ্রহণ না করে যদি সাধারণভাবে গ্রহণ করা হয় তাহলে একটি কার্যের একটি কারণ স্বীকৃত হয়। ফলে বহুকারণবাদ ভ্রান্ত মতবাদে পরিণত হয়। মৃত্যু নামক কার্যের বিশেষ বিশেষ কারণের উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কারণকে বিশেষ অর্থে না নিয়ে সাধারণ অর্থে নিলে দেখা যাবে যে প্রত্যেক মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটিমাত্র কারণ সাধারণভাবে উপস্থিত। এই সাধারণ কারণটি হল ‘হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া’। এর অর্থ হল একই কার্য ‘মৃত্যু’ সকল ক্ষেত্রে একটি কারণের দ্বারা অর্থাৎ ‘হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার’ ফলে উৎপন্ন হয়। এইভাবে বহুকারণবাদের ত্রুটি ধরা পড়ে।
কারণতা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ৩)
১। মিল ও বেইনের মতে কারণের সংজ্ঞা দাও।
মিলের মতে কারণের সংজ্ঞা: তর্কবিদ মিল কারণের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন যদি কোনো ঘটনা বা ঘটনাসমূহের সংমিশ্রণের পরে অন্য একটি ঘটনা অপরিবর্তনীয়ভাবে এবং শর্তান্তরহীনভাবে ঘটে তাহলে পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ এবং পরবর্তী ঘটনাকে কার্য বলা হবে। মিল ভিন্ন একভাবে কারণের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন-কারণ হল সদর্থক ও নঞর্থক শর্তসমূহের সমষ্টি।
বেইনের মতে কারণের সংজ্ঞা: তর্কবিদ বেইন কারণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে কোনো কার্য ঘটার জন্য যেসকল শর্ত বা বিষয়ের প্রয়োজন হয় সেই সকল শর্তসমূহের সমগ্রতাকেই কারণ বলা হয়। অর্থাৎ কারণ হল কার্যের জন্য অনিবার্যভাবে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা সমষ্টি।
২। কার্ডেথ রিড কীভাবে কারণের সংজ্ঞা দিয়েছেন? কার্ডেথ রিড প্রদত্ত কারণের সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে কারণের কয়টি লক্ষণ পাওয়া যায় ও কী কী?
কারণের সংজ্ঞা: কার্ভেথ রিডের মতে গুণের দিক থেকে কারণ হল কার্যের অব্যবহিত, শর্তান্তরহীন, অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরিমাণের দিক থেকে কারণ হল কার্যের সমান।
কারণের লক্ষণ: কার্ভেথ রিডের সংজ্ঞাকে বিশ্লেষণ করলে আমরা কারণের দুই প্রকার লক্ষণ পাই। যথা- গুণগত লক্ষণ এবং পরিমাণগত লক্ষণ।
৩। কারণ কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা – কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
কারণ কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনা হলেও যে-কোনো পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে নির্দেশ করা যাবে না। যে ঘটনা সর্বদা কার্যের পূর্বে ঘটে থাকে তাকেই ‘কারণ’ বলে অভিহিত করা যেতে পারে। সুতরাং কারণ হতে হলে পূর্ববর্তী ঘটনাকে অবশ্যই নিয়ত বা অপরিবর্তনীয় ঘটনা হতে হবে। যেমন-যেখানেই ম্যালেরিয়া জ্বর দেখা যায় সেখানে সবসময় অ্যানোফিলিস মশার দংশন দেখা যায়। এর থেকে সিদ্ধান্ত করা যেতে পারে যে অ্যানোফিলিস মশার দংশন হল ম্যালেরিয়া জ্বরের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা। তাই অ্যানোফিলিস মশার দংশন ম্যালেরিয়া রোগের কারণ।
৪। বস্তুর অবিনশ্বরতার নিয়ম বলতে কী বোঝায়?
কারণের পরিমাণগত লক্ষণের ভিত্তিস্বরূপ যে দুটি মৌল নীতির উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে বস্তুর অবিনশ্বরতা নিয়মের মূলকথা হল-এই বিশ্বে যে-সমস্ত বস্তু আছে তার পরিমাণ অবিনশ্বর। বস্তু এক আকার থেকে পরিবর্তিত হয়ে নতুন আকার লাভ করতে পারে। কিন্তু বস্তুর পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন-নির্দিষ্ট পরিমাণ হাইড্রোজেনের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন মেশালে জল উৎপন্ন হয়। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন বায়বীয় পদার্থ, নির্দিষ্ট পরিমাণে মেশানোর পর যে জল উৎপন্ন হয় তা তরল পদার্থ। এক্ষেত্রে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ এবং উৎপন্ন জলের পরিমাণ সমান।
৫। উদাহরণ-সহ সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সংজ্ঞা দাও।
তর্কবিদ মিলের মতে কারণ হল সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি। নিম্নে উদাহরণ-সহ সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সংজ্ঞা দেওয়া হল-
সদর্থক শর্ত: যে শর্ত উপস্থিত না থাকলে কার্যটি উৎপন্ন হতে পারে না তাকে সদর্থক শর্ত বলে। অর্থাৎ সদর্থক শর্ত উপস্থিত থাকলে তবেই কার্যটি ঘটে। সুতরাং সদর্থক শর্ত হল কার্যের আবির্ভাবের পক্ষে অনুকূল অবস্থা।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
নঞর্থক শর্ত: যে শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্যটি উৎপন্ন হতে পারে না তাকে নঞর্থক শর্ত বলে। অর্থাৎ নঞর্থক শর্ত উপস্থিত না থাকলে তবেই কার্যটি ঘটে। সুতরাং নঞর্থক শর্ত হল কার্যের আবির্ভাবের পক্ষে প্রতিকূল অবস্থা।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি ছোটো একটি নৌকায় করে একটি বড়ো নদী পার করতে গিয়ে হঠাৎ ঝড়ের সম্মুখীন হয়ে জলে ডুবে মারা গেল। এখানে ছোটো আকৃতির নৌকা, হঠাৎ ঝড়ের উদ্ভব, জলের গভীরতা, ব্যক্তিটির শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি ব্যক্তিটির মারা যাওয়ার সদর্থক শর্ত। অন্যদিকে ব্যক্তিটির কাছাকাছি অন্য কোনো নৌকার উপস্থিতি না থাকা, ব্যক্তিটির সাঁতার না জানা ইত্যাদি হল নঞর্থক শর্ত।
৬। আবশ্যিক শর্তরূপে কারণ আলোচনা করো।
আবশ্যিক শর্তের সংজ্ঞায় বলা হয়, আবশ্যিক শর্ত হল সেই শর্ত যেখানে ঘটনাটি না ঘটলে বিশেষ কার্যটি ঘটে না, কিন্তু ঘটনাটি ঘটলেও বিশেষ কার্যটি নাও ঘটতে পারে। কারণকে যদি আবশ্যিক শর্তরূপে গ্রহণ করা হয় তাহলে বলতে হয় কারণ হল এমন ঘটনা যা নিয়তই কার্যের পূর্বগামী। কিন্তু কার্য কারণের নিয়ত অনুগামী ঘটনা নয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কার্য থেকে কারণ অনুমান করা যায়, কিন্তু কারণ থেকে কার্যকে অনুমান করা যায় না। যেমন-অক্সিজেন হল দহন কার্যের কারণ-এখানে কারণটিকে আবশ্যিক শর্তরূপে গ্রহণ করা হয়েছে। কেন-না দহন কার্য দেখে আমরা কারণরূপ অক্সিজেন অনুমান করতে পারি। কিন্তু অক্সিজেনের থেকে আমরা দহন কার্যের অনুমান করতে পারি না। তাই অক্সিজেনের উপস্থিতি হল দহন কার্যের আবশ্যিক শর্ত ঘটনার পর্যাপ্ত শর্ত বলা হয়। এখন কারণকে যদি পর্যাপ্ত শর্তে গ্রহণ করা হয় তাহলে বলতে হয়, কারণ কার্যের নিয়ত পূর্বগামী ঘটনা নয়। কিন্তু কার্য কারণের নিয়ত অনুগামী ঘটনা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কারণ থেকে কার্যকে অনুমান করা যায়, কিন্তু কার্য থেকে কারণকে অনুমান করা যায় না। যেমন-বৃষ্টি হল মাটি ভেজার কারণ-এখানে কারণকে পর্যাপ্ত শর্তরূপে গ্রহণ করা হয়েছে। কেন-না বৃষ্টি দেখে মাটি ভেজা অনুমান করা গেলেও মাটি ভেজা থেকে বৃষ্টির অনুমান করা যায় না। বৃষ্টি ছাড়াও অন্যান্য কারণে মাটি ভিজতে পারে। তাই বৃষ্টি হল মাটি ভেজার পর্যাপ্ত শর্ত।
৭। আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্তরূপে কারণ আলোচনা করো।
আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত হল এমন শর্ত যেখানে কারণ ঘটনাটি না ঘটলে কার্যটি ঘটে না এবং কারণ ঘটনাটি ঘটলে কার্যটি ঘটে। কারণকে যখন আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্তরূপে গ্রহণ করা হয় তখন কারণ থেকে যেমন কার্য অনুমান করা যায় তেমনই কার্য থেকে কারণ অনুমান করা যায়। যেমন-ভিজে জ্বালানিতে অগ্নিসংযোগ করাই হল ধোঁয়া সৃষ্টির কারণ। ভিজে জ্বালানিতে অগ্নিসংযোগ করা না হলে ধোঁয়া সৃষ্টি হয় না এবং ভিজে জ্বালানিতে অগ্নিসংযোগ করা হলেই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। সুতরাং ভিজে জ্বালানিতে অগ্নিসংযোগ হল ধোঁয়া সৃষ্টির আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত।
কারণতা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ২)
১। সামান্য সংশ্লেষক বচন কাকে বলে?
সামান্য সংশ্লেষক কথাটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। যথা- সামান্য ও সংশ্লেষক। সামান্য কথাটির অর্থ হল যা সামগ্রিক অর্থাৎ যা কোনো শ্রেণির অন্তর্গত সকল বস্তু বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সংশ্লেষক কথাটির অর্থ হল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়ের নতুন কোনো তথ্য প্রদান।
২। শর্ত কী? মিল ও রিডের মতে শর্ত কয় প্রকার ও কী কী?
কোনো কার্য সংগঠিত হওয়ার পর বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ওই কার্যটির পিছনে একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা কারণরূপে উপস্থিত থাকে। এই সকল বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমষ্টি হল কারণগুচ্ছ সমগ্র এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি কারণের অপরিহার্য অংশ। কারণের এই অপরিহার্য অংশকে শর্ত বলা হয়। সহজ কথায় যা কার্য সৃষ্টির সহায়ক তা-ই শর্ত।
মিল ও রিড উভয়েই শর্তকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- সদর্থক শর্ত ও নঞর্থক শর্ত।
৩। কারণ সম্পর্কে লৌকিক অভিমত কী?
লৌকিক বা ব্যাবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা কারণ বলতে সদর্থক ও নঞর্থক শর্তসমূহকে না বুঝে সাধারণত কার্যের অব্যবহিত পূর্বগামী ঘটনাকে বুঝে থাকি। কখনো-কখনো সমস্ত শর্তসমষ্টির পরিবর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তকে কারণ বলা হয়। আবার কখনো-কখনো নঞর্থক শর্তকেও কারণ বলে গ্রহণ করা হয়। যেমন-কোনো একটি ছাত্র পরীক্ষায় অকৃতকার্য হল। এক্ষেত্রে ছাত্রটির অকৃতকার্যতার কারণ হিসেবে পরীক্ষার অব্যবহিত পূর্বে তার গৃহশিক্ষকের অনুপস্থিতিকে ধরা হয়। কিন্তু ছাত্রটির অকৃতকার্যতার কারণ হল একাধিক সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি।
৪। কারণের বিভিন্ন অর্থ কী কী?
‘কারণ’ কথাটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথা- আবশ্যিক শর্তরূপে কারণ, পর্যাপ্ত শর্তরূপে কারণ এবং আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্তরূপে কারণ।
৫। ‘ক, ‘খ, এর আবশ্যিক শর্ত এ কথার অর্থ কী?
ক. খ-এর আবশ্যিক শর্ত-এ কথার অর্থ হল-যদি ‘ক’ না ঘটে তবে ‘খ’ ঘটবে না, কিন্তু যদি ‘ক’ ঘটে তবে ‘খ’ নাও ঘটতে পারে।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ৬। সুইচ অন করা পাখা চলার কারণ এবং বিষপান হল মৃত্যুর কারণ-এই ঘটনা দুটিতে কারণ কথাটি কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
‘সুইচ অন করা পাখা চলার কারণ’-এক্ষেত্রে কারণ কথাটি আবশ্যিক শর্তরূপে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘বিষপান হল মৃত্যুর কারণ’-এক্ষেত্রে কারণ কথাটি পর্যাপ্ত শর্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
৭। আবশ্যিক শর্তের গুরুত্ব লেখো।
কোনো ঘটনার (কার্যের) কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তথাকথিত বা অবান্তর ঘটনাকে বর্জন বা অপসারণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কারণকে আবশ্যিক শর্ত অর্থে গ্রহণ করা হয়। যেমন-কোনো চিকিৎসক যখন কোনো রোগীর টাইফয়েড-এর চিকিৎসা করেন, তখন তিনি টাইফয়েড নামক রোগের কারণরূপ যে জীবাণু (স্যালমোনেলা টাইফি) সেটিকে রোগীর দেহ থেকে অপসারণ করতে চান। এই জীবাণুই হল টাইফয়েড রোগের আবশ্যিক শর্ত।
৮। পর্যাপ্ত শর্ত কাকে বলে? উদাহরণ-সহ লেখো।
পর্যাপ্ত শর্ত হল এমন শর্ত যার উপস্থিতিতে কার্যটি অনিবার্যভাবে ঘটে। অর্থাৎ যদি দুটি ঘটনা এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত হয় যে, প্রথমটি ঘটলে দ্বিতীয়টি অনিবার্যভাবে ঘটে, আবার প্রথমটি না ঘটলেও দ্বিতীয়টি ঘটতে পারে তাহলে প্রথম ঘটনাটি হবে দ্বিতীয় ঘটনার পর্যাপ্ত শর্ত।
বিষপান হল মৃত্যুর পর্যাপ্ত শর্ত। বিষপান করলে মৃত্যু হবেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বিষপান না করলে মৃত্যু হবে না। বিষপান না করলেও মৃত্যু হতে পারে। যেমন-দুর্ঘটনাগ্রস্থ হয়ে, গুলিবিদ্ধ হয়েও মৃত্যু হতে পারে ইত্যাদি।
৯। ক, খ-এর পর্যাপ্ত শর্ত-এ কথার অর্থ কী?
ক, খ-এর পর্যাপ্ত শর্ত-এ কথার অর্থ হল-যদি ‘ক’ ঘটে তবে ‘খ’ অবশ্যই ঘটবে। কিন্তু যদি ‘ক’ না ঘটে তবে ‘খ’ ঘটতে পারে। সংক্ষেপে বলা যায় যে ‘ক’, ‘খ’-এর পর্যাপ্ত শর্ত যদি ‘ক’ ঘটে তবে ‘খ’ অবশ্যই ঘটবে।
১০। জলপান তৃষ্ণানিবারণের কীরূপ শর্ত?
জলপান তৃষ্ণানিবারণের পর্যাপ্ত শর্ত। কারণ জলপান করলে তৃষ্ণানিবারিত হয়। কিন্তু জলপান না করলেও অন্যভাবে তৃষ্ণানিবারিত হতে পারে। যেমন-কোল্ডড্রিংক বা আইসক্রিম খেয়ে আমাদের তৃষ্ণানিবারিত হয়। সুতরাং জলপান তৃষ্ণানিবারণের পর্যাপ্ত শর্ত।
আরো পড়ুন : আরোহ অনুমানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর
১১। ‘বৃষ্টি হওয়া মাটি ভেজার কারণ’-এখানে ‘কারণ’ কথাটি কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কেন?
‘বৃষ্টি হওয়া মাটি ভেজার’ পর্যাপ্ত শর্ত। কারণ পর্যাপ্ত শর্তে বলা হয়েছে-দুটি ঘটনার সম্বন্ধ এমন যে একটি ঘটলে অপরটি ঘটবেই, কিন্তু প্রথমটি না ঘটলেও দ্বিতীয়টি ঘটতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টি হলে মাটি ভেজে। কিন্তু বৃষ্টি না হলেও মাটি অন্যভাবে ভিজতে পারে। কাজেই বৃষ্টি হওয়া মাটি ভেজার পর্যাপ্ত শর্ত কিন্তু আবশ্যিক শর্ত নয়।
১২। যদি-‘A’ ঘটে তবে ‘B’ নামক ঘটনাটিও ঘটে-এখানে ‘A’, ‘B’ -এর কীরূপ শর্ত?
যদি ‘A’ ঘটে তবে ‘B’ নামক ঘটনাটিও ঘটে-এখানে ‘A’, ‘B’ -এর পর্যাপ্ত শর্ত। কেন-না পর্যাপ্ত শর্তে বলা হয়েছে দুটি ঘটনার সম্বর্ধ এমন হয় যে একটি ঘটলে অপর ঘটনাটি ঘটবেই।
১৩। একটি ঘটনার কয়টি আবশ্যিক ও কয়টি পর্যাপ্ত শর্ত থাকতে পারে?
একটি ঘটনার একাধিক আবশ্যিক শর্ত ও একাধিক পর্যাপ্ত শর্ত থাকতে পারে। যেমন-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। এই ঘটনার আবশ্যিক শর্তগুলি হল-শিক্ষকের উপস্থিতি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা, মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করা ইত্যাদি। আবার পরিবেশ দূষণের পর্যাপ্ত শর্তগুলি হল প্লাস্টিকের ব্যবহার, গাছ কাটা, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া ইত্যাদি। তাই একটি ঘটনার একাধিক আবশ্যিক শর্ত ও একাধিক পর্যাপ্ত শর্ত থাকতে পারে।
১৪। যুক্তিবিজ্ঞানী কোপি কীভাবে কারণের লক্ষণ দিয়েছেন? অথবা, কোন্ তর্কবিদ কারণকে আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত অর্থে গ্রহণ করেছেন?
যুক্তিবিজ্ঞানী কোপির মতে কারণ হল আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি কারণের লক্ষণ এইভাবে দিয়েছেন-কোনো কার্যের কারণ হল এমন এক নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা, যার পরে কার্যটি নিয়তই ঘটে। অর্থাৎ কারণ হল কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা এবং কার্য হল কারণের নিয়ত অনুবর্তী ঘটনা। এর থেকে বোঝা যায় যে, কারণ হল আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত।
১৫। বহুকারণ সমন্বয়-এর নীতিটি উল্লেখ করো।
যখন একাধিক কারণ একত্রিত হয়ে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করে তখন সেই মিশ্র কার্যের কারণকে বলা হয় বহুকারণ সমন্বয়। যেমন-যখন একাধিক লোক একসঙ্গে মিলিত হয়ে একটি ভারবাহী গাড়ি টানে তখন বহুকারণের সমন্বয়ে কার্যটি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| সমসাময়িক ভারতীয় চিন্তাধারা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন | Click here |
| মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন পঞ্চম অধ্যায় | Click here |
| আরোহ অনুমানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন তৃতীয় অধ্যায় | Click here |
| বাক্য থেকে বচনে রূপান্তর | গুণ ও পরিমাণ নির্ণয় | ব্যাপ্য ও অব্যাপ্য নির্ণয় | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন