ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Organs of the Indian Governments (4th Chapter) Question Answer Class 12 Semester IV

ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মান ৬)
১। ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান। সংবিধানের ৫২ নং ধারা অনুযায়ী ভারতে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় তিনি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা যায়।
(i) শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি হলেন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক প্রধান। প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির নামে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল, নিয়ন্ত্রক ও মহা হিসাব পরীক্ষক, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং অর্থ কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করেন। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে।
(ii) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি হলেন সংসদের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন। সংসদে পাস হওয়া কোনো বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনে পরিণত হয়। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিল রাষ্ট্রপতি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। সংসদ অধিবেশনে না থাকলে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভায় ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন, যাঁদের সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও সমাজসেবায় বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা রয়েছে।
(iii) অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া কোনো অর্থবিল লোকসভায় উত্থাপন করা যায় না। প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি সংসদের সামনে কেন্দ্রীয় সরকারের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী বা বাজেট উপস্থাপনের ব্যবস্থা করেন। অর্থ কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেও তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।
(iv) বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা হল ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা। তিনি কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি ক্ষমা, স্থগিত, লঘু বা পরিবর্তন করতে পারেন। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।
(v) সামরিক ক্ষমতা : ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার প্রধানদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি করেন। যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে সংসদের সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের অধীন থেকে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে।

(vi) কূটনৈতিক ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বিদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের নিয়োগ করেন এবং ভারতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি দেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রয়েছে।
(vii) জরুরি ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাগুলির মধ্যে জরুরি ক্ষমতা অন্যতম। সংবিধানে জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থা এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সংবিধান নির্দিষ্ট শর্ত ও সংসদীয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, ভারতের রাষ্ট্রপতির হাতে ব্যাপক সাংবিধানিক ক্ষমতা ন্যস্ত থাকলেও তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক প্রধান। বাস্তবে রাষ্ট্রপতি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাই ভারতের রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে যেমন জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতীক, অন্যদিকে তেমনই সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
২। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত শাসনপ্রধান। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসন পরিচালনা করে। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলিগুলি হল—
(i) মন্ত্রিসভা গঠন ও পরিচালনা : প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগের জন্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করেন। তিনি মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন এবং প্রয়োজন হলে দপ্তরের পরিবর্তন করতে পারেন। কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলা বা তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।
(ii) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্পর্ক : প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা প্রদান করেন।
(iii) প্রশাসনিক ক্ষমতা : প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী। বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ এবং সেগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি নেতৃত্ব দেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নির্ধারণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
(iv) সংসদীয় ক্ষমতা : প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় সরকারের নেতা এবং সংসদে সরকারি কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। সংসদে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেন এবং বিরোধী দলের প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব দেন। সংসদে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখাও প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি রাষ্ট্রপতিকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান, মুলতবি বা লোকসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।
(v) আইন প্রণয়নে ভূমিকা : সরকারের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোন আইন সংসদে পেশ করা হবে এবং সরকারের কোন নীতি আইনগত রূপ পাবে, সেই বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি নেতৃত্ব দেন। ফলে সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম অনেকাংশে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
(vi) পররাষ্ট্রনীতিতে ভূমিকা : ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(vii) গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদানের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেন।
(viii) জাতীয় নেতৃত্ব : প্রধানমন্ত্রী শুধু সরকারের প্রধান নন, তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও জাতীয় নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন। জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, ভারতের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। মন্ত্রিসভা গঠন থেকে শুরু করে প্রশাসন পরিচালনা, সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগ, পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নেতৃত্ব—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁকে ভারতের ‘মন্ত্রিসভার নেতা’ এবং ‘প্রকৃত শাসনপ্রধান’ বলা হয়। তবে তাঁর ক্ষমতা সংবিধান, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
৩। ভারতের যে কোনো একটি অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে একজন রাজ্যপাল থাকেন। তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। রাজ্যপালের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অনুরূপ হলেও রাজ্যের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র আলাদা। রাজ্যপালের প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি হল—
(i) শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে প্রশাসনিক কার্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজ্যপালের ভূমিকা রয়েছে।
(ii) আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাজ্যপাল রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। বিধানসভায় পাস হওয়া বিল তাঁর সম্মতি লাভের পর আইনে পরিণত হয়। তিনি কোনো বিল পুনর্বিবেচনার জন্য বিধানসভায় ফেরত পাঠাতে পারেন এবং প্রয়োজনবোধে কোনো বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। বিধানসভার অধিবেশন না থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
(iii) অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাজ্যপালের সুপারিশ ছাড়া রাজ্য বিধানসভায় কোনো অর্থবিল উত্থাপন করা যায় না। প্রতি বছর রাজ্য সরকারের বাজেট বিধানসভায় পেশ করার ব্যবস্থা রাজ্যপাল করেন। রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।
(iv) বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা : রাজ্যপালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা হল নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি মকুব, স্থগিত, লঘু বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা। তবে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ ক্ষমা করার ক্ষমতা তাঁর নেই; এই ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে।
(v) স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা : কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল নিজের বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন—কোনো দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি নিজের বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারেন। রাজ্যে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করলে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জন্য প্রতিবেদন পাঠাতে পারেন।
(vi) বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত ভূমিকা : রাজ্যের আইন অনুযায়ী রাজ্যপাল অনেক ক্ষেত্রে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সাংবিধানিক ও আইনগত কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা থাকে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। প্রশাসন, আইন প্রণয়ন, অর্থ, বিচার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় তিনি সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর অধিকাংশ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাই রাজ্যপালের পদটি রাজ্যের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪। ভারতের যে কোনো একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতের রাজ্যগুলির সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন প্রকৃত শাসনপ্রধান। রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান হলেও বাস্তবে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাই রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনা করে। তাই রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি হল—
(i) মন্ত্রিসভা গঠন ও পরিচালনা : রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন এবং প্রয়োজন হলে দপ্তরের পরিবর্তন করতে পারেন। তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।
(ii) প্রশাসনিক ক্ষমতা : মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য প্রশাসনের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি নেতৃত্ব দেন। রাজ্যের প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(iii) রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্ক : মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল ও মন্ত্রিসভার মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং রাজ্য প্রশাসন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি রাজ্যপালকে জানান। রাজ্যপাল কোনো বিষয়ে তথ্য চাইলে মুখ্যমন্ত্রী তা প্রদান করেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাজ্যপালকে অবহিত রাখাও তাঁর দায়িত্ব।
(iv) আইনসভায় ভূমিকা : মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য বিধানসভায় সরকারের নেতা। বিধানসভায় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরা, সরকারি বিল পাস করানো এবং বিরোধী দলের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইন প্রণয়নের সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণেও মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্ব দেন।
(v) রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন সংক্রান্ত ক্ষমতা : মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি করার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়েও তিনি রাজ্যপালকে পরামর্শ দিতে পারেন।
(vi) গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে ভূমিকা : রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে তিনি নেতৃত্ব দেন।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ(vii) নীতি নির্ধারণে ভূমিকা : রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণে তিনি নেতৃত্ব দেন।
(viii) জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা : মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নন, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজ্যের স্বার্থ ও দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরা এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যের প্রকৃত শাসনপ্রধান ও মন্ত্রিসভার নেতা। মন্ত্রিসভা গঠন, প্রশাসন পরিচালনা, আইনসভায় নেতৃত্ব, নীতি নির্ধারণ এবং রাজ্যপালের সঙ্গে সমন্বয় সাধন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই রাজ্যের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫। ভারতীয় পার্লামেন্টের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হল ভারতীয় পার্লামেন্ট বা সংসদ। ভারতীয় সংবিধানের ৭৯ নং ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও রাজ্যসভা—এই তিনটি অংশ নিয়ে ভারতের সংসদ গঠিত। সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন, সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় অর্থব্যবস্থা পরিচালনা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংসদের গঠন
ভারতীয় সংসদ রাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও রাজ্যসভা নিয়ে গঠিত।
① লোকসভা : লোকসভা হল সংসদের নিম্নকক্ষ বা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কক্ষ। সংবিধান অনুযায়ী লোকসভার সর্বাধিক ৫৫০ জন নির্বাচিত সদস্য থাকতে পারেন—এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৩০ জন রাজ্যগুলি থেকে এবং ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হতে পারেন। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি নির্বাচিত আসন রয়েছে। লোকসভার সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে, সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। লোকসভার স্বাভাবিক কার্যকাল ৫ বছর, তবে প্রয়োজন হলে তার আগেই ভেঙে দেওয়া যায়।
② রাজ্যসভা : রাজ্যসভা হল সংসদের উচ্চকক্ষ। সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যসভার সর্বাধিক ২৫০ জন সদস্য থাকতে পারেন। এর মধ্যে সর্বাধিক ২৩৮ জন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এবং ১২ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন। বর্তমানে রাজ্যসভার মোট সদস্যসংখ্যা ২৪৫ জন—২৩৩ জন নির্বাচিত এবং ১২ জন মনোনীত। রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্যদের সাধারণ জনগণ সরাসরি নির্বাচন করেন না। রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে রাজ্যসভার সদস্যদের নির্বাচন করেন। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি মনোনীত ১২ জন সদস্যের সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প বা সমাজসেবার ক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞান বা বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। রাজ্যসভার সদস্যের কার্যকাল ৬ বছর। প্রতি দুই বছর অন্তর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর গ্রহণ করেন। তাই রাজ্যসভা একটি স্থায়ী কক্ষ—এটি কখনও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় না।
সংসদের কার্যাবলি
① আইন প্রণয়ন : সংসদের প্রধান কাজ হল দেশের জন্য আইন তৈরি করা। সাধারণ বিল লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই পাস হতে হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়। দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন, পুরোনো আইন সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতাও সংসদের রয়েছে।
② সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ : সংসদ কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনা, বিতর্ক, বিভিন্ন প্রস্তাব ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাজ পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রিসভা লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ। লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
③ অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা : দেশের অর্থব্যবস্থার উপর সংসদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট সংসদের সামনে পেশ করা হয়। সংসদের অনুমোদন ছাড়া সরকারের পক্ষে ভারতের সঞ্চিত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা যায় না। অর্থবিল কেবল লোকসভায় উত্থাপন করা যায় এবং তা উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি প্রয়োজন। অর্থবিলের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার ক্ষমতা সীমিত।
④ সংবিধান সংশোধন : সংসদ সংবিধানের বিভিন্ন বিধান সংশোধন করতে পারে। সংবিধানের ৩৬৮ নং ধারায় সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি রাজ্যের বিধানসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
⑤ নির্বাচনী কার্যাবলি : সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলীতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যরা অংশ নেন।
⑥ বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা : সংসদের নির্দিষ্ট বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতাও রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণের প্রক্রিয়া সংসদ পরিচালনা করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষেত্রেও সংবিধান নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
⑦ নির্বাহী বিভাগের উপর নজরদারি : সংসদ বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কাজ পরীক্ষা করে। সরকারি হিসাব কমিটি, অনুমান কমিটি ও সরকারি উদ্যোগ সংক্রান্ত কমিটি সরকারি ব্যয়, হিসাব ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে। এর ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে সাহায্য হয়।
⑧ প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যাবলি : সংসদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর মতামত ও সমস্যাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। সাংসদরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা, জনস্বার্থের বিষয় এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংসদে উত্থাপন করেন। ফলে সংসদ জনগণ ও সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে।
⑨ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা : দেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, সামাজিক সমস্যা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং জাতীয় নীতি নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।
⑩ জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে ভূমিকা : জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির জারি করা জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাষ্ট্রপতি শাসন বা আর্থিক জরুরি অবস্থার সাংবিধানিক কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতার উপর সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, ভারতীয় পার্লামেন্ট শুধু আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি গণতন্ত্র, জবাবদিহি, জনমত ও সাংবিধানিক শাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। রাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও রাজ্যসভাকে নিয়ে গঠিত সংসদ আইন প্রণয়ন, অর্থ নিয়ন্ত্রণ, সরকারের উপর নজরদারি, সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা—বহুমুখী কার্য সম্পাদন করে। তাই ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরো পড়ুন : বিশ্বায়ন প্রশ্ন উত্তর
৬। লোকসভার গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ হল লোকসভা বা ‘জনসাধারণের সভা’। এটি জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্বমূলক কক্ষ। ভারতীয় সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় লোকসভার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ। আইন প্রণয়ন, অর্থ নিয়ন্ত্রণ, সরকারের উপর নজরদারি এবং জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে লোকসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লোকসভার গঠন
সংবিধান অনুযায়ী লোকসভায় রাজ্যগুলি থেকে সর্বাধিক ৫৩০ জন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে সর্বাধিক ২০ জন, অর্থাৎ মোট ৫৫০ জন নির্বাচিত সদস্য থাকতে পারেন। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি নির্বাচিত আসন রয়েছে। সদস্যরা সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। লোকসভার সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর। লোকসভার স্বাভাবিক কার্যকাল ৫ বছর। লোকসভার কার্য পরিচালনা করেন স্পিকার, তাঁকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি স্পিকার।
লোকসভার কার্যাবলি
① আইন প্রণয়ন : লোকসভার প্রধান কাজ হল দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা। সাধারণ বিল লোকসভায় উত্থাপন, আলোচনা, বিতর্ক ও ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। সাধারণ বিলের ক্ষেত্রে রাজ্যসভারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উভয় কক্ষে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে বিল আইনে পরিণত হয়। দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন প্রণয়ন এবং পুরোনো আইন সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষেত্রেও লোকসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
② অর্থসংক্রান্ত ও বাজেটের ক্ষমতা : দেশের অর্থব্যবস্থার উপর লোকসভার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অর্থবিল কেবল লোকসভায় উত্থাপন করা যায় এবং তা উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় বাজেটের বিভিন্ন অনুদানের দাবি নিয়ে লোকসভায় আলোচনা ও ভোটগ্রহণ হয়। সরকারি আয়-ব্যয়, কর আরোপ, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের উপর লোকসভার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই লোকসভাকে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বলা যায়।
③ মন্ত্রিসভার উপর নিয়ন্ত্রণ : ভারতের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ। তাই সরকারের কাজকর্মের উপর নজরদারি করা লোকসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রশ্নোত্তর পর্ব, শূন্যকাল, আলোচনা, বিতর্ক, বিভিন্ন প্রস্তাব এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সাংসদরা সরকারের নীতি ও কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। এর ফলে সরকারকে তার সিদ্ধান্ত ও কাজের ব্যাখ্যা দিতে হয় এবং প্রশাসনে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়।
④ অনাস্থা প্রস্তাব ও সরকারকে অপসারণের ক্ষমতা : লোকসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতা হল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করা। কোনো সরকারের বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সেই সরকার আর লোকসভার আস্থা বজায় রাখতে পারে না এবং মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। এর মাধ্যমে লোকসভা সরকারের উপর সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে সবসময় লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বজায় রাখতে হয়।
⑤ সরকারের প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনা : লোকসভা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের প্রশাসনিক কাজের উপর নজর রাখে। বিভিন্ন প্রশ্ন, আলোচনা ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করা হয়। সরকারি প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না এবং প্রশাসনে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়। এর ফলে সরকারের প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পায়।
⑥ সংবিধান সংশোধনে ভূমিকা : ভারতীয় সংবিধানের ৩৬৮ নং ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় আলোচনা ও ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে পারে। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি রাজ্যের বিধানসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তাই সংবিধানের পরিবর্তিত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করার ক্ষেত্রেও লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
⑦ নির্বাচনী ও বিচারসংক্রান্ত কার্যাবলি : লোকসভার নির্বাচিত সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলীর অংশ। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও লোকসভার সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের সদস্য হিসেবে লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
⑧ জনস্বার্থ ও জনগণের সমস্যা তুলে ধরা : লোকসভা জনগণের প্রত্যক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। সাংসদরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, দারিদ্র্য, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা সংসদে উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষের দাবি জাতীয় পর্যায়ে সরকারের কাছে পৌঁছে দেন। এই কারণে লোকসভা জনগণ ও সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
⑨ জাতীয় নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা : দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে লোকসভায় আলোচনা ও বিতর্ক হয়। প্রতিরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের নীতি নিয়ে সাংসদরা মতামত প্রকাশ করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারেন এবং সরকারকে তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে হয়। এর ফলে গণতান্ত্রিক বিতর্কের মাধ্যমে জাতীয় নীতি নির্ধারণের পরিবেশ তৈরি হয়।
⑩ জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা : লোকসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। তাই লোকসভা মূলত জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে। সরকার গঠন, আইন প্রণয়ন, অর্থের ব্যবহার, সরকারি নীতির সমালোচনা এবং জনস্বার্থের বিষয় উত্থাপনের মাধ্যমে লোকসভা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর রাখে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার পরিচালনা করলেও বিরোধী দল সরকারের উপর নজরদারি করে। ফলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, লোকসভা ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কক্ষ আইন প্রণয়ন, অর্থ ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিসভার উপর নজরদারি, অনাস্থা প্রস্তাব, সংবিধান সংশোধন, জনস্বার্থ রক্ষা, জাতীয় নীতি নিয়ে আলোচনা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা—বহুমুখী কার্য সম্পাদন করে। বিশেষত মন্ত্রিসভার উপর নিয়ন্ত্রণ ও অর্থবিলের ক্ষেত্রে লোকসভার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। তাই ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও জনমুখী রাখার ক্ষেত্রে লোকসভার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৭। লোকসভার স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
লোকসভার স্পিকার বা অধ্যক্ষ হলেন লোকসভার প্রধান সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা। ভারতীয় সংবিধানের ৯৩ নং ধারা অনুযায়ী লোকসভা তার সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে। স্পিকার দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে লোকসভার অধিবেশন পরিচালনা, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সভার মর্যাদা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পদটি সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
① লোকসভার অধিবেশন পরিচালনা : স্পিকার লোকসভার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং সংসদের যাবতীয় কার্যক্রম সংবিধান ও কার্যপ্রণালির নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করেন। কোন সদস্য কখন বক্তব্য রাখবেন, কোন বিষয়ে আলোচনা হবে এবং সভার কার্যক্রম কীভাবে এগোবে—এসব বিষয়ে স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি সভার কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাখেন।
② সভায় শৃঙ্খলা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা : লোকসভায় কোনো সদস্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে স্পিকার তাঁকে সতর্ক করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে সভা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারেন। গুরুতর পরিস্থিতিতে তিনি সভা মুলতবি বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করতে পারেন। সংসদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
③ বিতর্ক ও আলোচনার নিয়ন্ত্রণ : লোকসভায় কোনো সদস্য কতক্ষণ বক্তব্য রাখবেন এবং কোন ক্রমে বক্তব্য রাখবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে। কোনো প্রশ্ন, প্রস্তাব বা সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়েও তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সংসদীয় নিয়মের পরিপন্থী বক্তব্য বা শব্দ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিতে পারেন।
④ অর্থবিল নির্ধারণ ও প্রত্যয়ন : স্পিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হল কোনো বিল অর্থবিল বা Money Bill কি না তা নির্ধারণ করা। তিনি কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে প্রত্যয়ন করলে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। অর্থবিলের ক্ষেত্রে লোকসভার বিশেষ ক্ষমতা থাকায় স্পিকারের এই দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
⑤ নির্ণায়ক ভোট প্রদান : স্পিকার সাধারণত ভোটদানে অংশ নেন না। কিন্তু কোনো প্রস্তাব বা বিলের পক্ষে ও বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে তিনি নির্ণায়ক ভোট বা Casting Vote দিতে পারেন। এর মাধ্যমে ভোটের সমতা দূর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ তৈরি হয়।
⑥ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক : লোকসভার বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির কাজের সঙ্গে স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন কমিটির সদস্য নিয়োগ ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। Business Advisory Committee, Rules Committee এবং General Purposes Committee-র সঙ্গে স্পিকারের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
⑦ যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব : লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে কোনো সাধারণ বিল নিয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মতবিরোধ দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি সংসদের যৌথ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। সেই যৌথ অধিবেশনে লোকসভার স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অন্য ব্যক্তি সভাপতিত্ব করেন।
⑧ সংসদের অধিকার ও বিশেষাধিকার রক্ষা : স্পিকার লোকসভা, তার সদস্য এবং সংসদীয় কমিটিগুলির অধিকার ও বিশেষাধিকারের রক্ষক হিসেবে কাজ করেন। কোনো সদস্যের বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং বিশেষাধিকার কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠাতে পারেন।
⑨ দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ভূমিকা : সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী কোনো লোকসভা সদস্য দলত্যাগের কারণে অযোগ্য হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
⑩ সংসদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা : স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল লোকসভার মর্যাদা, স্বাধীনতা, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সদস্যকে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া এবং সকল সদস্যের অধিকার রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব। লোকসভা সচিবালয়ও স্পিকারের সর্বোচ্চ নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, লোকসভার স্পিকার কেবল সভার সভাপতি নন; তিনি লোকসভার শৃঙ্খলা, অধিকার, কার্যপ্রণালি ও মর্যাদার প্রধান রক্ষক। অধিবেশন পরিচালনা, আলোচনা নিয়ন্ত্রণ, অর্থবিল নির্ধারণ, নির্ণায়ক ভোট প্রদান, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম, যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব, বিশেষাধিকার রক্ষা এবং দলত্যাগ-বিরোধী আইনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত। তাই ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু, নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮। ভারতের বিচারব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
ভারতের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচারবিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবিধান অনুযায়ী বিচারবিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেশের আইন মেনে বিচার করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং সংবিধানের মর্যাদা বজায় রাখা হল বিচারব্যবস্থার প্রধান দায়িত্ব। ভারতের বিচারব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—
① একক ও সমন্বিত বিচারব্যবস্থা : ভারতে কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা বিচারব্যবস্থা নেই। সারা দেশের জন্য একটি একক ও সমন্বিত বিচারব্যবস্থা রয়েছে। এর সর্বোচ্চ স্তরে আছে সুপ্রিম কোর্ট, তার নীচে হাইকোর্ট এবং তার নীচে বিভিন্ন নিম্ন আদালত। এইভাবে বিচারব্যবস্থার মধ্যে একটি ধারাবাহিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
② সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ স্থান : ভারতের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদালত হল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের অন্যান্য আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের রায় দেশের অন্যান্য আদালতের কাছে মান্য।
③ বিচারবিভাগের স্বাধীনতা : ভারতের বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর স্বাধীনতা। বিচারপতিরা যাতে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা সরকারের প্রভাব ছাড়াই বিচার করতে পারেন, সংবিধানে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচারপতিদের পদমর্যাদা ও চাকরির নিরাপত্তার জন্যও কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন।
④ বিচারবিভাগীয় পুনর্বিচারের ক্ষমতা : আদালত প্রয়োজন হলে আইনসভা প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের বিরোধী কি না তা বিচার করতে পারে। কোনো আইন সংবিধানবিরোধী বলে প্রমাণিত হলে আদালত সেটিকে বাতিল ঘোষণা করতে পারে। এই ক্ষমতাকে বিচারবিভাগীয় পুনর্বিচার বা Judicial Review বলা হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানের সর্বোচ্চতা বজায় থাকে।
⑤ মৌলিক অধিকার রক্ষা : নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা বিচারবিভাগের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি আদালতের সাহায্য নিতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রিট জারি করে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করতে পারে।
⑥ সংবিধানের অভিভাবক : ভারতের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের কোনো ধারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আদালত তার ব্যাখ্যা দেয়। কোনো আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও আদালত বিচার করতে পারে। এই কারণে বিচারবিভাগকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়।
⑦ কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরোধের নিষ্পত্তি : ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র। তাই কখনও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বা অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের সাংবিধানিক বিরোধের নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
⑧ রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতা : কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বা সাংবিধানিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইতে পারেন। সংবিধানের ১৪৩ নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন। এটি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ক্ষমতা।
⑨ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা : ভারতের বিচারব্যবস্থা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের সাধারণ নাগরিক যেমন আইনের অধীন, তেমনই সরকার ও সরকারি কর্তৃপক্ষও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইন ভঙ্গ করলে আদালত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ফলে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকে।
উপসংহার : সবশেষে বলা যায়, ভারতের বিচারব্যবস্থা শুধু অপরাধের বিচার করার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের সংবিধান, নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান রক্ষাকর্তা। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, একক বিচারব্যবস্থা, বিচারবিভাগীয় পুনর্বিচার, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মতো বৈশিষ্ট্যগুলি ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। তাই একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের বিচারবিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৯। ভারতের অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন ও কার্যাবলি
ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ অংশের পঞ্চম অধ্যায়ে ২১৪ থেকে ২৩১ নং ধারা পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন, এখতিয়ার ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে হাইকোর্টের অবস্থান। রাজ্যের বিচারব্যবস্থা পরিচালনা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হাইকোর্টের গঠন
① গঠন কাঠামো : সংবিধানের ২১৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য একটি করে হাইকোর্ট থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সংবিধানের ২৩১ নং ধারা অনুসারে সংসদ আইন প্রণয়ন করে দুই বা ততোধিক রাজ্য অথবা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ হাইকোর্ট গঠন করতে পারে। যেমন—পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিচারিক দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টের অধীনে রয়েছে।
② বিচারপতিদের নিয়োগ : একজন প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুসারে সময়ে সময়ে যে অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করেন, তাঁদের নিয়ে হাইকোর্ট গঠিত হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়।
③ যোগ্যতা : হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই—
- ভারতের নাগরিক হতে হবে।
- ভারতের ভূখণ্ডে অন্তত ১০ বছর কোনো বিচারবিভাগীয় পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, অথবা
- কোনো হাইকোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
④ কার্যকাল ও অপসারণ : হাইকোর্টের বিচারপতিরা ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মতো একই পদ্ধতিতে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করা যায়। সংসদের উভয় কক্ষে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে বিচারপতিকে অপসারণ করা সম্ভব।
হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
অঙ্গরাজ্যের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং নানা ধরনের বিচারিক কাজ সম্পাদন করে। এর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলিগুলি হল—
১. মূল এলাকা : যেসব মামলা কোনো অধস্তন আদালতে প্রথমে দায়ের না করে সরাসরি হাইকোর্টে দায়ের করা যায়, সেগুলি হাইকোর্টের মূল এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় ও কর সংক্রান্ত বিষয়, উইল, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ, কোম্পানি আইন এবং আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলার বিচার হাইকোর্টে সরাসরি হতে পারে।
২. আপিল এলাকা : হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সর্বোচ্চ আপিল আদালত। জেলা ও অধস্তন দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হাইকোর্টে আপিল করা যায়। দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের মামলায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় পর্যালোচনা করতে পারে। এর ফলে নিম্ন আদালতের বিচারকার্যে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়।
৩. নির্দেশ বা লেখ জারির ক্ষমতা : সংবিধানের ২২৬ নং ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অন্যান্য আইনগত অধিকার কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ বা লেখ জারি করতে পারে। হাইকোর্ট পাঁচ ধরনের লেখ জারি করতে পারে—বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus), পরমাদেশ (Mandamus), প্রতিষেধ (Prohibition), অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto) এবং উৎপ্রেষণ (Certiorari)। এই ক্ষমতার মাধ্যমে হাইকোর্ট নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ক্ষমতা : সংবিধানের ২২৭ নং ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট তার অধিক্ষেত্রের অন্তর্গত অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তবে সামরিক আদালত বা Court Martial এর ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রযোজ্য নয়। হাইকোর্ট অধস্তন আদালতগুলির কার্যপ্রণালি সম্পর্কে নিয়ম নির্ধারণ করতে পারে এবং তাদের কাজকর্মের উপর প্রয়োজনীয় নজরদারি চালাতে পারে।
৫. অভিলেখ আদালত : সংবিধানের ২১৫ নং ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক হাইকোর্ট একটি ‘Court of Record’ বা অভিলেখ আদালত। হাইকোর্টের বিচারপ্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত ও রায় স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত থাকে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেগুলি প্রামাণ্য দলিল ও নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া হাইকোর্ট নিজের আদালত অবমাননার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, অঙ্গরাজ্যের বিচারব্যবস্থায় হাইকোর্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান রক্ষা, নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিম্ন আদালতের উপর তত্ত্বাবধান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে হাইকোর্ট রাজ্যের বিচারব্যবস্থাকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনায় সাহায্য করে। তাই আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের গুরুত্ব অপরিসীম।
১০। ভারতের লোক আদালতের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা করো
ভারতের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। এই দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত, সহজলভ্য ও সুলভ বিচার পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোক আদালত বা People’s Court ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। এখানে মূলত পারস্পরিক আলোচনা, মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। ১৯৮৭ সালের আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন (Legal Services Authorities Act, 1987)-এর মাধ্যমে লোক আদালতকে বিধিবদ্ধ বা আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
লোক আদালতের গঠন
লোক আদালত কোনো স্থায়ী বা প্রচলিত আদালত নয়। সাধারণত রাজ্য, জেলা বা তালুক স্তরের আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (Legal Services Authority) প্রয়োজন অনুযায়ী লোক আদালতের আয়োজন করে।
- গঠন কাঠামো : সাধারণত একটি লোক আদালতের বেঞ্চে একজন সভাপতি বা চেয়ারপার্সন এবং দুজন সদস্য থাকেন।
- চেয়ারপার্সন : তিনি সাধারণত একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক (Judicial Officer) হয়ে থাকেন।
- সদস্যবৃন্দ : দুজন সদস্যের মধ্যে একজন সাধারণত একজন অভিজ্ঞ বা খ্যাতনামা আইনজীবী এবং অপরজন একজন সমাজকর্মী। সমাজকর্মী সাধারণত নারী কল্যাণ বা অন্যান্য সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
- স্থায়ী লোক আদালত (Permanent Lok Adalat) : ২০০২ সালে আইনের সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জল, পরিবহন, ডাক ইত্যাদি জনউপযোগী পরিষেবা (Public Utility Services) সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী লোক আদালত গঠনের ব্যবস্থা করা হয়।
লোক আদালতের এখতিয়ার ও কার্যাবলি
লোক আদালত মূলত দেওয়ানি এবং আপসযোগ্য ফৌজদারি মামলার বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। এর গুরুত্বপূর্ণ এখতিয়ার ও কার্যাবলিগুলি হল—
- মামলার ধরণ :
- আদালতে বিচারাধীন যেকোনো দেওয়ানি মামলা বা আপসযোগ্য ফৌজদারি মামলা লোক আদালতে নিষ্পত্তির জন্য নেওয়া যেতে পারে।
- আদালতে মামলা দায়ের করার আগের পর্যায়ের অর্থাৎ Pre-litigation stage-এর বিরোধও লোক আদালতে নেওয়া যায়। এর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ, জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা, মোটর দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, ব্যাংক ঋণ পুনরুদ্ধার এবং শ্রম বিরোধ উল্লেখযোগ্য।
- আপসমূলক নিষ্পত্তি : লোক আদালতে সাধারণ আদালতের মতো বিচার করে এক পক্ষকে জয়ী এবং অপর পক্ষকে পরাজিত ঘোষণা করা হয় না। বরং উভয় পক্ষের সম্মতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আলোচনা, মধ্যস্থতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা হয়। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
- সিভিল কোর্টের সমতুল্য ক্ষমতা : লোক আদালতের কিছু ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সাক্ষীকে সমন পাঠানো, নথি বা প্রমাণ তলব করা ইত্যাদি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
- দেওয়া সিদ্ধান্তের চূড়ান্ততা : লোক আদালত যে সিদ্ধান্ত বা ‘অ্যাওয়ার্ড’ (Award) প্রদান করে, তা দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি বা রায়ের সমতুল্য আইনি স্বীকৃতি পায়। সাধারণভাবে এই অ্যাওয়ার্ডের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকে না।
লোক আদালতের গুরুত্ব ও সুবিধা
- বিনামূল্যে বিচার : লোক আদালতে সাধারণত কোনো আদালত ফি (Court Fee) দিতে হয় না। আগে আদালতে দায়ের করা মামলাও যদি লোক আদালতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, তাহলে পূর্বে দেওয়া আদালত ফি ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।
- দ্রুত নিষ্পত্তি : আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় অনেক মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলার পরিবর্তে অল্প সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
- সম্পর্ক বজায় রাখা : লোক আদালতে সাধারণত জয়-পরাজয়ের পরিবর্তে পারস্পরিক সমঝোতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে বিরোধ মিটে যাওয়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক, পারিবারিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ থাকে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, লোক আদালত প্রচলিত বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা। কম খরচে, দ্রুত এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে লোক আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব যথেষ্ট।
১১। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের উপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।
ক্রেতা বা উপভোক্তাদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে ক্রেতা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের ভিত্তিতেই ক্রেতাদের অভিযোগের দ্রুত ও আইনসম্মত প্রতিকারের জন্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কমিশন গড়ে উঠেছে।
সংজ্ঞা :
কোনো ক্রেতা কোনো পণ্য ক্রয় করার পর যদি প্রতারণা, নিম্নমানের পণ্য, ত্রুটিপূর্ণ পরিষেবা বা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে তিনি সঠিক পরিষেবা বা উপযুক্ত প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। ক্রেতাদের এই ধরনের অভিযোগের আইনসম্মত নিষ্পত্তি ও তাঁদের অধিকার রক্ষার জন্য যে বিচারব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে সাধারণভাবে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত (Consumer Court) বলা হয়।
গঠন :
ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলি হল—
জেলা স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত :
জেলা স্তরে ক্রেতাদের অভিযোগ ও স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যে সংস্থা গঠন করা হয়, তা জেলা স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন নামে পরিচিত। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রেতাদের অভিযোগের প্রতিকার করার ক্ষেত্রে এই স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজ্য স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত :
ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যবর্তী স্তর হল রাজ্য স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। জেলা স্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এখানে অভিযোগ বা আপিল করা যায় এবং রাজ্য স্তরে ক্রেতাদের বিভিন্ন অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়।
জাতীয় স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত :
ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর হল জাতীয় স্তর। এই স্তরের সংস্থার নাম জাতীয় ক্রেতা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন, যা সংক্ষেপে জাতীয় কমিশন নামে পরিচিত। এটি ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করে।
উদ্দেশ্য :
ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হল ক্রেতাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা। কোনো ক্রেতা পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর অভিযোগের আইনসম্মত প্রতিকার করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
বৈশিষ্ট্য :
ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কমিশনের নিজস্ব কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন—
- ত্রিস্তর বিন্যস্ত : ক্রেতারা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা পণ্য বা গ্রহণ করা পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় পড়লে দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা করার জন্য ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে তিনটি স্তরে—জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে—বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর ফলে অভিযোগের গুরুত্ব ও স্তর অনুযায়ী তার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
- আইন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই : ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, সাধারণ ক্রেতা নিজেই তাঁর অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য সবসময় কোনো আইন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি :
- উপভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত করা : ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কমিশনের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হল উপভোক্তার স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত করা। কোনো ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণ করে প্রতারিত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর অভিযোগের দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়। এই উদ্দেশ্যে জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনগুলি প্রয়োজনীয় আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
- উপভোক্তাদের সচেতন করা : ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সাধারণ উপভোক্তাদের তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। অসৎ ব্যবসায়ী বা নিম্নমানের পণ্য ও পরিষেবার হাত থেকে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা শিবির, প্রচার ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উপসংহার :
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান সময়ে ক্রেতা বা উপভোক্তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। পণ্য ও পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রতিকার, উপভোক্তার অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের সচেতন করে তোলার মাধ্যমে এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন উত্তর (মান ২)
১। ভারতের রাষ্ট্রপতি কাদের দ্বারা নির্বাচিত হন?
অথবা, ভারতের রাষ্ট্রপতিকে কারা নির্বাচন করেন?
উঃ ভারতীয় সংবিধানের ৫৪নং ধারায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচকমণ্ডলীতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্য এবং রাজ্য আইনসভার নির্বাচিত সদস্যরা থাকেন। এছাড়া দিল্লি ও পুদুচেরির নির্বাচিত বিধানসভা সদস্যরাও এই নির্বাচকমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত।
২। ভারতের রাষ্ট্রপতিকে কি কারণে অপসারণ করা যায়? ইমপিচমেন্ট পদ্ধতি কী?
উঃ সংবিধানের ৬১নং ধারা অনুযায়ী সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংসদের যে-কোনো একটি কক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।
ইমপিচমেন্ট: রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণের সাংবিধানিক পদ্ধতিকে ইমপিচমেন্ট পদ্ধতি বলা হয়।
৩। চরম ভিটো বলতে কী বোঝায়?
উঃ অর্থবিল বা সংবিধান-সংশোধনী বিল ছাড়া অন্য কোনো বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানালে এবং বিলটি বাতিল হয়ে গেলে তাকে চরম ভিটো বলা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতার ফলে সংশ্লিষ্ট বিলটি আর কার্যকর হওয়ার সুযোগ পায় না। মন্ত্রীপরিষদশাসিত ব্যবস্থায় সাধারণত রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন না।
৪। স্থগিত ভিটো কাকে বলে?
উঃ সংসদে পাস হওয়া কোনো বিলকে রাষ্ট্রপতি সরাসরি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান না করে পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদের কাছে ফেরত পাঠালে তাকে স্থগিত ভিটো বলা হয়। তবে সংসদ পুনরায় বিলটি পাস করলে রাষ্ট্রপতি সেই বিলে সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন।
৫। পকেট ভিটো কাকে বলে?
উঃ সংসদে কোনো বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে সংবিধানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁর সম্মতি বা অসম্মতি জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে রাষ্ট্রপতি চাইলে বিলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য নিজের কাছে আটকে রাখতে পারেন। রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতাকেই পকেট ভিটো বলা হয়।
৬। অর্ডিন্যান্স কাকে বলে? রাষ্ট্রপতি কখন অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারে?
উঃ অর্ডিন্যান্সের অর্থ বিশেষ আদেশ। সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি সংসদের আইন প্রণয়নের আওতাভুক্ত বিষয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারেন।
৭। সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য বলে কাকে অভিহিত করা হয়?
উঃ প্রধানমন্ত্রীকে ‘সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য’ বলা হয়। কারণ তিনি মন্ত্রীসভা বা ক্যাবিনেটের সভাপতিত্ব করেন এবং সরকারের নীতি নির্ধারণ ও কার্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের নিয়োগ ও পদচ্যুত করতে পারেন।
৮। ভারতের মন্ত্রীসভার দুইটি কাজ লেখো।
অথবা, ভারতের ক্যাবিনেটের যে-কোনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অতি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উঃ ভারতের মন্ত্রীসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল—
১. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ করা।
২. শাসনবিভাগের কাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা।
৯। ভারতীয় সংবিধানে মন্ত্রীসভার যৌথ দায়িত্বশীলতা বলতে কী বোঝো?
উঃ সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রীসভা সমষ্টিগতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে। লোকসভায় মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলে শুধু একজন মন্ত্রী নয়, সমগ্র মন্ত্রীসভাকেই পদত্যাগ করতে হয়। মন্ত্রীসভার এই সমষ্টিগত দায়বদ্ধতাকেই যৌথ দায়িত্বশীলতা বলা হয়।
১০। রাজ্যপালের ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ বলতে কী বোঝো? ভারতের অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের যে-কোনো একটি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা উল্লেখ করো।
উঃ রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলতে এমন ক্ষমতাকে বোঝায়, যা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীসভার পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য নন। রাজ্যপালের একটি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা হল—তিনি রাজ্য আইনসভার কোনো বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন (২০১নং ধারা)।
১১। ভারতের অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা থাকা আবশ্যক?
উঃ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রার্থীকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সি হতে হবে। তাঁকে রাজ্য আইনসভার যে-কোনো একটি কক্ষের সদস্য হতে হবে। তবে নিয়োগের সময় তিনি আইনসভার সদস্য না হলে নিয়োগের ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে আইনসভার সদস্য হতে হবে; অন্যথায় মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব নয়।
১২। মুখ্যমন্ত্রীর দুটি কাজ লেখো।
উঃ মুখ্যমন্ত্রীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল—
১. মন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন দফতর বণ্টন করা এবং দফতরগুলির কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা তদারক করা।
২. মন্ত্রীসভার বৈঠক আহ্বান করা এবং সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করা।
১৩। কাদের আমলা বলা হয়? অথবা, আমলাতন্ত্রকে কেন স্থায়ী প্রশাসনের অংশ বলা হয়?
উঃ যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিযুক্ত অরাজনৈতিক স্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের আমলা বা রাষ্ট্রকৃত্যক বলা হয়। তাঁরা নির্বাচনি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এবং রাজনৈতিক নেতাদের মতো নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য পদে থাকেন না। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসনে কাজ করেন বলেই আমলাতন্ত্রকে স্থায়ী প্রশাসনের অংশ বলা হয়।
১৪। আমলাতন্ত্রের দুটি বৈশিষ্টা লেখো।
উঃ আমলাতন্ত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—
১. চাকরির স্থায়িত্ব: নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী নিযুক্ত হয়ে আমলারা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন।
২. নিরপেক্ষতা: সরকারি আমলাদের রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
১৫। আমলাতন্ত্রের দুটি ত্রুটি উল্লেখ করো।
উঃ আমলাতন্ত্রের দুটি উল্লেখযোগ্য ত্রুটি হল—
১. উদাসীনতা: অনেক সময় আমলারা জনসাধারণের সমস্যা ও স্বার্থের প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
২. রুটিনমাফিক কাজ: নিয়ম ও প্রচলিত পদ্ধতির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
১৬। রাজ্যসভাকে কেন স্থায়ী কক্ষ বলা হয়?
উঃ রাজ্যসভাকে সংসদের স্থায়ী কক্ষ বলা হয়, কারণ লোকসভার মতো রাজ্যসভাকে ভেঙে দেওয়া যায় না। রাজ্যসভার একজন সদস্যের কার্যকালের মেয়াদ ৬ বছর। প্রতি ২ বছর অন্তর মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ অবসর গ্রহণ করেন এবং তাঁদের স্থানে নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।
১৭। লোকসভার সদস্য হতে গেলে প্রয়োজনীয় যে-কোনো দুটি যোগ্যতার উল্লেখ করো।
উঃ লোকসভার সদস্য হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী তাঁকে কোনো সরকারি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা যাবে না।
১৮। সুপ্রিমকোর্ট কীভাবে গঠিত হয়?
উঃ মূল সংবিধানের ১২৪নং ধারায় সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একজন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত হয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে একজন প্রধান বিচারপতি ও ৩৩ জন সহকারী বিচারপতি মিলিয়ে মোট ৩৪ জন বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত।
১৯। বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ কী?
উঃ বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ বা Habeas Corpus একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ বন্দিকে সশরীরে আদালতে হাজির করা। কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে তাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে আদালত আটক ব্যক্তিকে তার সামনে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারে।
২০। বিচারবিভাগীয় অতি সক্রিয়তা বলতে কী বোঝায়?
উঃ বিচারবিভাগীয় অতি সক্রিয়তা বলতে বিচার বিভাগের এমন সক্রিয় ভূমিকা বোঝায়, যেখানে বিচারপতিরা প্রয়োজনবোধে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কার্যকলাপের বিষয়ে নির্দেশ জারি করেন।
২১। হাইকোর্টের বিচারপতিদের দুটি যোগ্যতা লেখো।
উঃ হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। এছাড়া তাঁকে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো বিচারবিভাগীয় পদে কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করতে হবে।
২২। হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত দুটি প্রধান বিচারের এলাকা উল্লেখ করো। হাইকোর্টের মূল এলাকায় কী ধরনের মামলার বিচার হয়?
উঃ হাইকোর্টের বিচারিক এক্তিয়ারের দুটি প্রধান এলাকা হল—মূল এলাকা এবং আপিল এলাকা। হাইকোর্টের মূল এলাকায় রাজস্ব-সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হয়।
২৩। জনস্বার্থ মামলা বা Public Interest Litigation বলতে কী বোঝো?
উঃ জনস্বার্থ মামলা বা Public Interest Litigation হল এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ, বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায়। এই ধরনের মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার ফলে জনগণ বা কোনো সম্প্রদায়ের স্বার্থ লঙ্ঘিত হলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই মামলা করা যেতে পারে।
২৪। জনস্বার্থ মামলার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
উঃ জনস্বার্থ মামলার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য হল—
১. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: সরকারি সিদ্ধান্ত বা নিষ্ক্রিয়তার ফলে কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে আদালতের মাধ্যমে তার প্রতিকার করা।
২. সামাজিক সমস্যার সমাধান: পরিবেশদূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ইত্যাদি সামাজিক সমস্যা আদালতের সামনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা।
২৫। জনস্বার্থ মামলার দুটি সুফল লেখো।
উঃ জনস্বার্থ মামলার দুটি উল্লেখযোগ্য সুফল হল—
১. মানবাধিকার রক্ষায় সহায়ক: প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
২. সরকারি সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীন প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে আইন ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে কাজ করতে বাধ্য করতে এটি সহায়তা করে।
২৬। ক্রেতা সুরক্ষা আদালত কী? ক্রেতা সুরক্ষা আদালতকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উঃ ক্রেতা সুরক্ষা আদালত হল এমন একটি বিশেষ আদালত বা বিচারব্যবস্থা, যেখানে ক্রেতাদের সমস্যা ও অভিযোগের বিচার করা হয় এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়—জেলা স্তর, রাজ্য স্তর এবং জাতীয় স্তর।
২৭। উপভোক্তা আদালতের দুটি কাজ লেখো।
উঃ উপভোক্তা আদালতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল—
১. উপভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত করা: কোনো পণ্য বা পরিষেবা নিয়ে ক্রেতা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর অভিযোগের প্রতিকার করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. প্রয়োজনীয় বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ: অভিযোগের শুনানি করে প্রয়োজনীয় নথি ও দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার ব্যবস্থা করা।

২৮। ভারতের বিচারব্যবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ ভারতের বিচারব্যবস্থার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—
১. এক ও অখণ্ড বিচারব্যবস্থা: সারা দেশের জন্য একটি সমন্বিত বিচারব্যবস্থা রয়েছে, যার শীর্ষে সুপ্রিমকোর্ট এবং তার অধীনে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্ট রয়েছে।
২. অভিন্ন আইনভিত্তিক বিচার: সারা দেশে প্রায় একই ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন অনুসরণ করে বিচারকার্য পরিচালিত হয়।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতিসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন