মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন পঞ্চম অধ্যায়

Table of Contents

মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন পঞ্চম অধ্যায় Miler Porikkhamulok Onusondhan poddhoti Queastion Answer | Class 12 4th Semester Philosophy

মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর
মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি প্রশ্ন উত্তর

মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান পদ্ধতি রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (মান ৬)

১। অপসারণের চারটি সূত্র উদাহরণ-সহ ব্যাখ্যা করো। অথবা, অপনয় বা অপসারণের সূত্রগুলির আকার ও উদাহরণ-সহযোগে ব্যাখ্যা করো।

অবান্তর বিষয়কে বর্জন করাই অপসারণ নিয়মগুলির একমাত্র কাজ। যেসব সূত্রকে অনুসরণ করে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলিকে বর্জন করা সম্ভব হয় সেই সূত্রগুলিকে একত্রে অপসারণ সূত্র বা অপনয়ন সূত্র বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে মিল-এর অপসারণ সূত্রগুলি কি কোনো নঞর্থক প্রক্রিয়া? অপসারণ সূত্র মোটেই নেতিমূলক কোনো পদ্ধতি নয়। এইগুলির একটি সদর্থক দিকও আছে। নেতিবাচকভাবে অপসারণের সূত্রগুলিকে নিশ্চয়ই অপসারণ পদ্ধতি বলা যায়। কারণ এগুলির প্রধান কাজ হল অবান্তর ঘটনা বা পরিস্থিতিকে বর্জন করা। কিন্তু অপসারণ সূত্রগুলির একটি অতি-আবশ্যক অস্তিত্ববাচক দিক আছে। কারণ অপসারণ সূত্রের আসল উদ্দেশ্য হল কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার ও প্রমাণ করা।

অপসারণের সূত্রাবলি: তর্কবিজ্ঞানী মিল কারণের সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে তিনটি অপসারণের সূত্রের কথা বলেন। পরবর্তীতে তর্কবিদ আলেকজান্ডার বেইন-এর মতে মিল বর্ণিত তিনটি মৌলিক সূত্র ছাড়াও আরও একটি গৌণ সূত্র রয়েছে। নিম্নে এই চারটি সূত্রের আকার ও উদাহরণ-সহযোগে ব্যাখ্যা করা হল-

প্রথম সূত্র: পূর্ববর্তী ঘটনার যে অংশকে বাদ দিলে কার্যের কোনো হানি হয় না, সেই অংশটি কখনও কারণ বা কারণের অংশ হতে পারে না।

সাংকেতিক আকার: ‘ক’ ও ‘খ’ দুটি ঘটনার মধ্যে যদি ‘ক’ না ঘটলেও ‘খ’ ঘটনাটি ঘটে তাহলে ‘ক’ ‘খ’-এর কারণ নয় বা ‘খ’ ‘ক’-এর কার্য নয়।

বাস্তব উদাহরণ: দূষিত জলপান না করলে ম্যালেরিয়া জ্বর হবে না। কিন্তু দূষিত জল পান না করেও যদি ম্যালেরিয়া জ্বর হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, দূষিত জল পান করার সঙ্গে ম্যালেরিয়া জ্বরের কোনো কার্যকারণ সম্বন্ধ নেই।

দ্বিতীয় সূত্র: যে পূর্ববর্তী ঘটনাকে বাদ দিলে কার্যটিও বাদ পড়ে যায়, সেই পূর্ববর্তী ঘটনা সেই কার্যের কারণ বা কারণের অংশ হবে।

সাংকেতিক আকার: ‘ক’ ও ‘খ’ দুটি ঘটনার মধ্যে ‘ক’ ঘটলেও ‘খ’ যদি না ঘটে, তাহলে ‘ক’, ‘খ’-এর কারণ নয় বা ‘খ’, ‘ক’-এর কার্য নয়। আবার ‘ক’ না ঘটলে যদি ‘খ’ না ঘটে তাহলে ‘ক’-কে ‘খ’-এর সম্ভাব্য কারণরূপে ধরা যেতে পারে।

বাস্তব উদাহরণ: অ্যানোফিলিস মশার কামড়কে নিশ্চিতভাবে ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ বলা যায়। কেন-না যেখানে অ্যানোফিলিস মশার কামড় নেই, সেখানে ম্যালেরিয়া জ্বরও থাকে না।

তৃতীয় সূত্র: যদি কোনো এক বিশেষ অনুপাতে পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরবর্তী ঘটনার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়, তাহলে ঘটনা দুটি কার্যকারণ সম্পর্কে আবদ্ধ হবে।

সাংকেতিক আকার: ‘ক’ ও ‘খ’ দুটি ঘটনার মধ্যে যদি ‘ক’ ঘটনার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলেও ‘খ’ অপরিবর্তিত থাকে বা ‘খ’-এর হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলেও ‘ক’ অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে ‘ক’ ও ‘খ’-এর মধ্যে কোনো কার্যকারণ সম্বন্ধ নেই।

বাস্তব উদাহরণ: যত আমি দৌড়াই, তত আমার শরীর উত্তপ্ত হয়ে যায়। এখন দৌড়ানোর পরিমাণ ও শরীর গরম হওয়ার পরিমাণ একইসঙ্গে বাড়তে দেখে সিদ্ধান্ত করা হল যে উভয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ আছে। অতএব দৌড়ানো হল আমার শরীর উত্তপ্ত হওয়ার কারণ।

চতুর্থ সূত্র: যে ঘটনা অপর একটি ঘটনার কারণ, তা ওই নির্দিষ্ট ঘটনা ভিন্ন অন্য কোনো ঘটনার কারণ হতে পারে না।

সাংকেতিক আকার: যদি ‘ক’ ঘটনাকে ‘খ’ ঘটনার কারণরূপে পূর্ব থেকে জানা থাকে তাহলে ‘ক’ ঘটনাকে ‘গ’ ঘটনার কারণ বলা চলে না। অর্থাৎ ‘ক’ ঘটনা যদি ‘খ’ ঘটনার কারণ হয় তাহলে ‘ক’ ঘটনা বা ঘটনা সমুদয় ‘গ’ ঘটনার কারণ হতে পারে না।

বাস্তব উদাহরণ : আমাদের জানা আছে পরীক্ষাগারে পাওয়া নাইট্রোজেন-এর ওজন কত হতে পারে। এখন যদি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে দেখা যায় যে, তার ওজন পরীক্ষাগারে পাওয়া নাইট্রোজেনের ওজনের তুলনায় বেশি, তাহলে ওই বাড়তি ওজনের জন্য কোনো গ্যাস (যেমন-আর্গন গ্যাস) বায়ুতে মিশ্রিত আছে এইরকম অনুমান করা হয়।

২। মিলের অন্বয়ী পদ্ধতি আলোচনা করো। [সংজ্ঞা, আকার, দৃষ্টান্ত, সুবিধা, অসুবিধা ]

সংজ্ঞা : মিল অন্বয়ী পদ্ধতির সূত্রটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন– “যদি আলোচ্য ঘটনার দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তে একটিমাত্র সাধারণ বিষয়ের মিল থাকে, তাহলে যে একমাত্র বিষয়টির মিল আছে সেই বিষয়টিকে আলোচ্য ঘটনার কার্য অথবা কারণ বলা যাবে।”

সাংকেতিক আকার

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
ABCD abcd
AGHI aghi
AFMP afmp
A হল a-এর কারণ, অথবা, a হল A-এর কার্য

মূর্ত উদাহরণ (দৃষ্টান্ত)

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
মশার কামড় + পচাজল + দুর্গন্ধ ম্যালেরিয়া জ্বর + সর্দি + ঝিমুনি
মশার কামড় + পরিষ্কার জল + স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া ম্যালেরিয়া জ্বর + মাথাধরা + অনুৎসাহ
মশার কামড় + গরম আবহাওয়া + কীটনাশক স্প্রে ম্যালেরিয়া জ্বর + কাশি + হাঁফানি
মশার কামড়ই হল ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ

অন্বয়ী পদ্ধতির সুবিধা : অন্বয়ী পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

(১) প্রায়োগিক সুবিধা : অন্বয়ী পদ্ধতি খুবই সহজ ও সরলভাবে প্রয়োগ করা যায়। সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে দুটি ঘটনার একত্র উপস্থিতি লক্ষ করে দুটি ঘটনার মধ্যে কাযকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার করতে পারে।

❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন

  • ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
  • ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
  • ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
  • ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
  • ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
⭐ এতসব সুবিধা পাবেন মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।

(২) আবিষ্কারের সুবিধা : অন্বয়ী পদ্ধতির সাহায্যে কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্য আবিষ্কার করা যায়।

অন্বয়ী পদ্ধতির অসুবিধা : অন্বয়ী পদ্ধতির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়। যেমন—

(১) বহুকারণের সম্ভাবনা : অন্বয়ী পদ্ধতির মধ্যে বহুকারণের সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। অন্বয়ী পদ্ধতিতে দুটি ঘটনার বহুক্ষেত্রে উপস্থিতি লক্ষ করে কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার করা হয়। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে একটি কার্যের একাধিক কারণ থাকে সেইসব ক্ষেত্রে অন্বয়ী পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় না।

আরো পড়ুন : কারণতা প্রশ্ন উত্তর

(২) সহকার্যকে কারণ মনে করার দোষ : অন্বয়ী পদ্ধতি অনুসারে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ঘটনাকে সর্বদা কার্যকারণ সম্বন্ধ বলা হলে সহকার্যকে কারণ মনে করার দোষ ঘটবে। যেমন—দিনকে রাতের কারণ বলা হলে সহকার্যকে কারণ মনে করার দোষ ঘটবে।

মূল্যায়ন : অন্বয়ী পদ্ধতি সুনিশ্চিতভাবে কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার করতে না পারলেও অকারণ ও অকার্য অপসারণের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তা প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩। মূর্ত ও সাংকেতিক উদাহরণ সহযোগে মিলের অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো। [সংজ্ঞা, আকার, দৃষ্টান্ত, সুবিধা (দুটি), অসুবিধা (দুটি)]।

সংজ্ঞা অন্বয়-ব্যাতিরেকী পদ্ধতির সূত্রটিকে তর্কবিদ মিল নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করেছেন— ‘বিচার্য ঘটনাটি যেসব দৃষ্টান্তে উপস্থিত আছে, তাদের ঠিক পূর্বগামী বা অনুগামী ঘটনাগুলির মধ্যে যদি আর-একটি ব্যাপার অবশ্যই উপস্থিত থাকে এবং বিচার্য ঘটনাটি যেসব দৃষ্টান্তে অনুপস্থিত, তাদের ঠিক পূর্বগামী বা অনুগামী ঘটনাগুলির মধ্যে যদি ওই ব্যাপারটি সর্বদাই অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে, সেটি বিচার্য ঘটনার কার্য অথবা কারণ অথবা, কারণের অপরিহার্য অংশরূপে বিবেচিত’।

আকার :

সদর্থক দৃষ্টান্ত                       

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
BCD bcd
CDE cde
EFG efg
A হল a-এর কারণ

 

নঞর্থক দৃষ্টান্ত

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
ABC Abc
APR Apr
ARM Arm

 

দৃষ্টান্ত :

সদর্থক দৃষ্টান্ত                                              

দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
প্রথম অ্যানোফিলিস মশা কামড়েছে (A)

HS Class 12

সেমিস্টার প্রস্তুতি

WhatsApp গ্রুপ

জলে ভিজেছে

ম্যালেরিয়া হয়েছে (a)
দ্বিতীয় অ্যানোফিলিস মশা কামড়েছে (A)

মাংস খেয়েছে

ম্যালেরিয়া হয়েছে (a)
তৃতীয় অ্যানোফিলিস মশা কামড়েছে (A)

বেড়াতে গেছে

ম্যালেরিয়া হয়েছে (a)

 

                    নঞর্থক দৃষ্টান্ত

দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
প্রথম অ্যানোফিলিস কামড়ায়নি (-A)

জলে ভিজেছে

ম্যালেরিয়া হয়নি (-a)
দ্বিতীয় অ্যানোফিলিস কামড়ায়নি (-A)

মাংস খেয়েছে

ম্যালেরিয়া হয়নি (-a)
তৃতীয় অ্যানোফিলিস কামড়ায়নি (-A)

বেড়াতে গেছে

ম্যালেরিয়া হয়নি (-a)
অ্যানোফিলিস মশার কামড় (A) হল ম্যালেরিয়া জ্বরের (a) কারণ

সুবিধা :

(i) অন্বয়ী-ব্যাতিরেকী পদ্ধতি মূলত পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি, তাই এর প্রয়োগক্ষেত্র খুবই ব্যাপক। কারণ যেখানে পরীক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির উপরই নির্ভর করতে হয়।

(ii) অন্বয়ী-ব্যাতিরেকী পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমরা একদিকে যেমন কারণ থেকে কার্যে উপনীত হতে পারি, অপরদিকে তেমনি আবার কার্য থেকে কারণেও যেতে পারি। এর ফলে কার্যকারণ সম্পর্কিত ধারণাটিকে বিস্তৃত ও যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি সুনিশ্চিত না হলেও, সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাটি অনেক বেশি বেড়ে যায়।

অসুবিধা :

(i) পর্যবেক্ষণলব্ধ পদ্ধতি বলে এই পদ্ধতির মধ্যে পর্যবেক্ষণের যেসমস্ত অসুবিধা আছে, সেগুলি যথারীতি উপস্থিত। এই পদ্ধতিটিকে আমরা কখনোই সুনিশ্চিত বলে প্রমাণ করতে পারি না। এই পদ্ধতির মধ্যে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তটি তাই সবসময়ই সম্ভাব্য বলে বিবেচিত, কখনোই নিশ্চিতরূপে গণ্য নয়।

(ii) এই পদ্ধতিটি কার্যকারণকে সহাবস্থানের সম্পর্ক থেকে পরিষ্কারভাবে পৃথক করতে পারে না। এক্ষেত্রে এমন কোনো নিয়ম বা সূত্র দেখা যায় না যার মধ্যমে এরূপ পৃথকীকরণ সম্ভব।

৪। মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি আলোচনা করো। [সংজ্ঞা, আকার, দৃষ্টান্ত, সুবিধা, অসুবিধা]

সংজ্ঞা: মিল সহপরিবর্তন পদ্ধতির সূত্রটিকে ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে— কোনো একটি ঘটনার বিশেষভাবে হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলে তার সঙ্গে সঙ্গে যদি আর-একটি ঘটনারও ওই একইভাবে নিয়মিত হ্রাসবৃদ্ধি ঘটতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে, ওই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো-না-কোনো প্রকারের কার্যকারণ সম্বন্ধ আছে।

সাংকেতিক উদাহরণ:

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
ABC abc
A BC a bc
A BC a bc
A BC a bc
A হয় a-এর কারণ

 

মূর্ত আকার (দৃষ্টান্ত)

পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ) অনুবর্তী ঘটনা (কার্য)
গাড়ির গতিবেগ স্বাভাবিক আছে (A) গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে যাচ্ছে (a)
গাড়ির গতিবেগ বাড়ানো হল (A ) গাড়ি জোরে যাচ্ছে (a )
গাড়ির গতিবেগ আরও বাড়ানো হল (A ) গাড়ি আরও জোরে যাচ্ছে (a )
গাড়ির গতিবেগ সর্বাধিক করা হল (A ) গাড়ি সর্বাধিক গতিতে যাচ্ছে (a )
গাড়ির গতিবেগ বাড়ানো হল গাড়ি জোরে যাওয়ার কারণ।

সহপরিবর্তন পদ্ধতির সুবিধা : সহপরিবর্তন পদ্ধতির সুবিধাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

      (১) কার্যকারণের পরিমাণ নির্ণয় : একমাত্র এই পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকারণের পরিমাণগত স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

      (২) সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা : সহপরিবর্তন পদ্ধতি যদি পরীক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে এর সাহায্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায়।

সহপরিবর্তন পদ্ধতির অসুবিধা : সহপরিবর্তন পদ্ধতি প্রয়োগে যেসব অসুবিধার সৃষ্টি হয়, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

      (১) সীমিত প্ৰয়োগক্ষেত্র এই পদ্ধতি কার্য এবং কারণের গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। সুতরাং এই পদ্ধতির প্রয়োগক্ষেত্র খুবই সীমিত।

      (২) আবশ্যিক শর্তকে কারণ মনে করার দোষ এই পদ্ধতি প্রয়োগে আবশ্যিক শর্তকে কারণ মনে করার দোষ ঘটতে পারে। যেমন—উত্তাপ বৃদ্ধি করলে পদার্থের আয়তন বাড়ে। এক্ষেত্রে চাপের শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। এক্ষেত্রে একটিমাত্র আবশ্যিক শর্তকে সম্পূর্ণ কারণ মনে করার দোষ ঘটেছে।

মূল্যায়ন  কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি সত্বেও সহপরিবর্তন পদ্ধতির গুরুত্বকে একেবারে অস্বীকার করা যায় না। কারণ এই পদ্ধতি অকারণ অপনয়নের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তা স্থায়ী কারণগুলির ক্ষেত্রে কারণ-কার্য অনুসন্ধানের প্রকল্প গঠনে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

৫। মিলের পরিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করো। [সংজ্ঞা, আকার, দৃষ্টান্ত, সুবিধা, অসুবিধা]

বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য তর্কবিদ মিল যে পাঁচটি পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি প্রণয়ন করেন, সেগুলির মধ্যে পরিশেষ পদ্ধতি হল সর্বশেষ পদ্ধতি।

সংজ্ঞা: মিল তাঁর A System of Logic নামক গ্রন্থে পরিশেষ পদ্ধতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে- আরোহ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো ঘটনার যে অংশকে কোনো পূর্ববর্তী ঘটনার কার্য বলে জানা গেছে সেই অংশকে সমস্ত ঘটনা থেকে বাদ দিলে অবশিষ্ট অংশটুকুকে পূর্ববর্তী ঘটনার কার্য বলে গণ্য করা হবে।

সাংকেতিক আকার: পরিশেষ পদ্ধতির সাংকেতিক আকারটি নিম্নরূপ-

পূর্ববর্তী ঘটনা অনুবর্তী ঘটনা
ABC abc
BC bc

∴A হল a-র কারণ।

এই সাংকেতিক দৃষ্টান্তে পূর্ববর্তী ঘটনা ABC থেকে অনুবর্তী ঘটনা abc উৎপন্ন হয়েছে। এখন আরোহী পদ্ধতির সাহায্যে আগেই জানা গেছে bc-র কারণ হল BC। তাহলে পূর্ববর্তী ঘটনায় অবশিষ্ট থাকে A এবং অনুবর্তী ঘটনায় অবশিষ্ট থাকে । কাজেই এর থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেল A হল a-র কারণ।

বাস্তব দৃষ্টান্ত: পরিশেষ পদ্ধতির একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত হল নিম্নরূপ-ঘি সমেত টিনের ওজন কুড়ি কিলো। আগে থেকে জানা আছে শুধু টিনের ওজন দুই কিলো। সুতরাং ঘি সমেত টিনের ওজন থেকে শুধু টিনের ওজন বাদ দিলে জানা যায় ঘি-এর ওজন আঠারো কিলো। দৃষ্টান্তটিকে নিম্নে ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হল-

দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তী ঘটনা অনুবর্তী ঘটনা
প্রথম ক্ষেত্রে ঘি সমেত টিনের ওজন। ২০ কিলো।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে জানা আছে টিনের ওজন। ২ কিলো।

∴ ঘি-এর ওজন ১৮ কিলো।

সুবিধা: পরিশেষ পদ্ধতির সুবিধাগুলির মধ্যে একটি সুবিধা হল-বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পরিশেষ পদ্ধতির মূল্য অপরিসীম। যেমন-এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেই নেপচুন গ্রহ এবং আর্গন নামক গ্যাসের আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। কাজেই বলা যায় যে পরিশেষ পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে সহজ করে।

অসুবিধা: পরিশেষ পদ্ধতির অসুবিধাগুলির মধ্যে একটি অসুবিধা হল- পরিশেষ পদ্ধতিকে শুধুমাত্র সমজাতীয় পদার্থের কার্য সংমিশ্রণ এবং সমজাতীয় কারণ সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। বিষমজাতীয় কোনো পদার্থের কার্য বা কারণ সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রয়োগ সম্ভব হয় না। যেমন- হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সংমিশ্রণের ফলে যে জল উৎপন্ন হয় সেই মিশ্রকার্যরূপ জলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ জলের কোন্ অংশ কোন্ কারণের দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে, তা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে জানা সম্ভব নয়।

আমাদের যে কোনো E-Book সরাসরি WhatsApp-এর মাধ্যমে কিনতে বা কোনো সমস্যা হলে নিচের বাটনে ক্লিক করে মেসেজ করুন -
আরও পড়ুন প্রয়োজনে
সমসাময়িক ভারতীয় চিন্তাধারা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন Click here
কারণতা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন চতুর্থ অধ্যায় Click here
আরোহ অনুমানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন তৃতীয় অধ্যায় Click here
বাক্য থেকে বচনে রূপান্তর | গুণ ও পরিমাণ নির্ণয় | ব্যাপ্য ও অব্যাপ্য নির্ণয় Click here

Our Latest Products

উচ্চমাধ্যমিক

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

একাদশ শ্রেণি

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি সাজেশন SALE

একাদশ শ্রেণি সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

Leave a Comment

PDF সাজেশন নিতে ক্লিক করুন