নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Nirbacan O Protinidhitwa Short Queastion Answer | Class 11 2nd Semester Political Science

১. FPTP-র পুরো নাম কী? ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? অথবা, ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ শব্দের অর্থ লেখো।
FPTP-র পুরো নাম হল First Past the Post (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট)।
অর্থ: ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট হল একপ্রকার নির্বাচনি ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা একজন মাত্র প্রার্থীকে ভোট দেন। একাধিক প্রার্থীর মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই নির্বাচনে জয়ী হন। এই কারণে ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থাকে সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যবস্থা বলা হয়।
২. প্রশ্ন: ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থা বা সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যবস্থার দুটি সুবিধা আলোচনা করো।
ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থার দুটি সুবিধা হল—
১) সরলতা: এই পদ্ধতি সহজ ও জটিলতামুক্ত। রাজনীতি বা নির্বাচন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলেও সাধারণ ভোটাররা সহজেই এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে এবং নির্বাচনি ফলাফল বুঝতে পারেন। প্রত্যেক ভোটার নিজের নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন প্রার্থীকে গোপন ভোট দেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচিত হন।
২) ফলাফলের সহজবোধ্যতা: এই পদ্ধতিতে ফলাফল সহজে বোঝা যায়। প্রত্যেক ভোটার একজন প্রার্থীকে ভোট দেন এবং যিনি সর্বাধিক ভোট পান, তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পদ্ধতিটি সরল হওয়ায় ভোটগণনা ও ফলাফল নির্ধারণও তুলনামূলকভাবে সহজ।
৩. ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থা বা সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যবস্থার দুটি অসুবিধা লেখো।
ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থার দুটি অসুবিধা হল—
১) সংখ্যালঘু মতামতের গুরুত্বহীনতা: এই ব্যবস্থায় বিজয়ী প্রার্থী বা দল ক্ষমতা লাভ করে। ফলে সংখ্যালঘু মতামত যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব নাও পেতে পারে। ভোটের শতাংশে সামান্য পার্থক্য থাকলেও আসনসংখ্যায় বড়ো অসমতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়।
২) আঞ্চলিকতাবাদ: এই পদ্ধতি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলিকে উৎসাহিত করতে পারে। ফলে অখণ্ড রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে রাজনীতি খণ্ডিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং জাতীয় সমস্যার তুলনায় আঞ্চলিক বিষয় বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
৪. ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য হল—
১) নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচন: এই ব্যবস্থায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ফলে ভোটাররা নিজেদের এলাকার প্রতিনিধিকে সহজে চিহ্নিত করতে পারেন।
২) স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার গঠনের সম্ভাবনা: এই পদ্ধতিতে কোনো একটি রাজনৈতিক দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়।
৫. ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থাকে সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতি বলা হয় কেন?
ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে দেশকে কয়েকটি নির্বাচনি এলাকায় ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি এলাকা থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রার্থী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও অন্য প্রার্থীদের তুলনায় সর্বাধিক ভোট পেলে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই কারণেই পদ্ধতিটিকে সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতি বলা হয়।
৬. আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের দুটি সুবিধা বা গুণ লেখো।
আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের দুটি সুবিধা হল—
১) এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক ভোটদাতার একটি ভোট থাকে এবং সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচিত হন।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
২) ভৌগোলিক ভিত্তিতে নির্বাচনি এলাকা নির্ধারিত হয়। নির্বাচনি এলাকাগুলি সমান বা তুলনামূলকভাবে ছোটো হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা প্রার্থীর সঙ্গে জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
৭. সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দুটি সুবিধা বা গুণ আলোচনা করো।
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দুটি সুবিধা হল—
১) এই ব্যবস্থা বহুদলীয় ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করে।
২) রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীরা প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আইনসভায় প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ পায়। ফলে সংখ্যালঘু দল, জাতি ও গোষ্ঠীগুলিও আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ লাভ করে।
৮. সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দুটি অসুবিধা বা দোষ আলোচনা করো।
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দুটি অসুবিধা হল—
১) কোনো একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে একাধিক দলের সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠিত হতে পারে। ফলে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২) এই ব্যবস্থা শ্রেণিস্বার্থমূলক আইন প্রণয়নে উৎসাহিত করতে পারে। এর ফলে ক্ষমতাসীন শ্রেণি ছাড়া অন্য শ্রেণির স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৯. হেয়ার পদ্ধতি কাকে বলে? বর্তমানে এই পদ্ধতি কোন কোন দেশে প্রচলিত আছে?
হেয়ার পদ্ধতি: ইংরেজ লেখক টমাস হেয়ারের নামানুসারে এই পদ্ধতির নাম হেয়ার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটি কেন্দ্র থেকে একাধিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেন, যদিও ভোটদাতার একটি ভোট থাকে। ভোটদাতারা আসনসংখ্যা অনুযায়ী প্রার্থীদের নামের পাশে ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি সংখ্যা লিখে নিজেদের পছন্দের ক্রম প্রকাশ করেন।
হেয়ার পদ্ধতি সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশে প্রচলিত আছে।
১০. তালিকা পদ্ধতি কাকে বলে? এই পদ্ধতি কোন কোন দেশে প্রচলিত আছে?
তালিকা পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচকদের সামনে উপস্থাপন করে এবং নির্বাচকেরা দলভিত্তিক ভোট দেন, তাকে তালিকা পদ্ধতি বলে।
এই পদ্ধতি নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশে প্রচলিত রয়েছে।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ১১. সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার বলতে কী বোঝো?
সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে বোঝায়। বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এই অধিকার একটি স্বীকৃত নীতি হিসেবে বিবেচিত।
১২. দ্বিতীয় ব্যালট পদ্ধতি কী?
দ্বিতীয় ব্যালট পদ্ধতি: এটি একটি দ্বি-পর্যায়ের (two-round) ভোটপদ্ধতি। প্রথম পর্যায়ে ভোটাররা দুই বা ততোধিক প্রার্থীর মধ্যে একজনকে ভোট দেন। প্রথম পর্যায়ে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশ নেন এবং অন্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন, তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
১৩. ব্যালট পেপার কী? NOTA শব্দের অর্থ কী?
ব্যালট পেপার: প্রার্থীর নাম ও প্রতীক-সহ যে ভোটপত্রে ভোটার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন, তাকে ব্যালট পেপার বলে।
NOTA: NOTA-র পূর্ণরূপ হল None of the Above। এর অর্থ, তালিকাভুক্ত কোনো প্রার্থীই ভোটারের পছন্দ নয়। EVM-এ এই বিকল্পটি নির্বাচন করে ভোটার জানাতে পারেন যে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাউকেই পছন্দ করছেন না। একে ’না-সূচক ভোট’ও বলা হয়।
১৪. ভোটার তালিকা বলতে কী বোঝায়? ভোটার তালিকার মূলনীতি কী?
ভোটার তালিকা: সংসদ বা বিধানসভার নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য ভোটারদের নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক নামের তালিকাকে ভোটার তালিকা বলে।
মূলনীতি: ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে যেন নির্বাচনি এলাকার ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করাই ভোটার তালিকার মূলনীতি।
১৫. ডাক ব্যালট বা পোস্টাল ব্যালট কী?
ডাক ব্যালট: যে ব্যবস্থায় নির্বাচনকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে অক্ষম ব্যক্তিদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হয়, তাকে ডাক ব্যালট বা পোস্টাল ব্যালট বলে। এই ব্যবস্থায় ভোটারকে একটি ব্যালট পেপার, নির্দেশাবলি, ঘোষণাপত্র এবং ফেরত পাঠানোর খাম দেওয়া হয়। নির্দেশাবলি অনুসরণ করে ভোটার নিজের ভোট প্রদান করেন।
১৬. প্রক্সি (Proxy) ভোটিং কী?
প্রক্সি ভোটিং: প্রক্সি ভোটিং ব্যবস্থায় একজন মনোনীত ব্যক্তি ভোটারের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এই ব্যবস্থা মূলত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীদের মতো নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের জন্য চালু করা হয়েছে। এতে ভোটার একজন প্রক্সি নিয়োগ করেন, যিনি নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে তাঁর হয়ে ভোট দেন।
১৭. মোবাইল ভোটিং বুথ কী?
প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে ভ্রাম্যমাণ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, তাকে মোবাইল ভোটিং বুথ বলে। এর উদ্দেশ্য হল সব যোগ্য ভোটারের, বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের, ভোটদান নিশ্চিত করা।
১৮. ক্রস ভোটিং (Cross Voting) কী?
ক্রস ভোটিং: কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা সমর্থক যখন দলীয় পছন্দ বা নির্দেশের বিরুদ্ধে অন্য দল বা প্রার্থীকে ভোট দেন, তখন তাকে ক্রস ভোটিং বলে। এটি সাধারণ দলীয় ভোটদানের প্রবণতার বিপরীত। প্রদত্ত পাঠ্যে উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ ও কর্ণাটকের রাজ্যসভা নির্বাচনে বিভিন্ন দলের বিধায়কদের ক্রস ভোটিংয়ের উল্লেখ রয়েছে।
১৯. ধ্বনিভোট কী?
ধ্বনিভোট (Voice Vote): আইনসভায় ভোটদানের যে পদ্ধতিতে সদস্যরা মৌখিকভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করেন, তাকে ধ্বনিভোট বলে। রুটিন বা সহজে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটি সহজবোধ্য হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
২০. বর্তমানে ভারতে নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা কত? ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
ভারতে নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা ৩ জন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীন ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সুকুমার সেন।
আরো পড়ুন : সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
২১. ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কীভাবে অপসারণ করা যায়?
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের পদ্ধতির মতোই অভিশংসন (Impeachment) পদ্ধতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে অপসারণ করা যায়। সংবিধানের ৩২৪(৫) নং ধারা অনুসারে, সংসদের উভয় কক্ষে নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনে প্রস্তাব গৃহীত হলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে অপসারণ করতে পারেন। প্রস্তাবটি পাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কক্ষে মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।
২২. ভারতে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের কে নিয়োগ করেন?
রাষ্ট্রপতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে সংবিধানের ৩২৪(৪) নং ধারা অনুসারে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করেন। পাঠ্যটিতে তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ ছয় মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের তিন মাস আগে থেকে তিন মাস পর পর্যন্ত তাঁদের কার্যপরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
২৩. নির্বাচন কমিশনের দুটি কাজ উল্লেখ করো।
নির্বাচন কমিশনের দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ হল—
১) ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা: সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনের আগে নির্ভুল ভোটার
তালিকা তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা।
২) নির্বাচনি প্রতীক প্রদান: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনি প্রতীক প্রদান ও
দলগুলিকে নথিভুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাঙন
দেখা দিলে প্রতীক নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে
বিবেচিত হয়।
২৪. প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলতে কী বোঝো?
নির্বাচন পদ্ধতি সাধারণত দুই প্রকার—প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন।
প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি: যখন জনগণ সরাসরি ভোটদানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তখন তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলে। সুইজারল্যান্ডে এই পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে নির্বাচকমণ্ডলী প্রথমে একটি নির্বাচক সংস্থার সদস্যদের নির্বাচন করে। পরে সেই নির্বাচক সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করে।
২৫. ‘কোটা’ পদ্ধতি কী?
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য যে মান নির্ধারণ করা হয়, তাকে কোটা বলা হয়। কোটা নির্ধারণের দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে—
১) প্রথম পদ্ধতি: নির্বাচনি কেন্দ্রের মোট বৈধ ভোটসংখ্যাকে ওই কেন্দ্রের আসনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায়, তাকে কোটা হিসেবে গণ্য করা হয়।
২) দ্বিতীয় পদ্ধতি—ড্রুপ কোটা (Droop Quota): মোট বৈধ ভোটসংখ্যাকে আসনসংখ্যার সঙ্গে ১ যোগ করে ভাগ করা হয়; এরপর ভাগফলের সঙ্গে ১ যোগ করে কোটা নির্ধারণ করা হয়।
২৬. আদর্শ আচরণবিধি কী?
নির্বাচনের সময় বুথ দখল, হিংসাত্মক ঘটনা ও জাল ভোটদান-সহ অপরাধমূলক ঘটনা প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের আগে যে আচরণবিধি প্রকাশ করে, তাকে আদর্শ আচরণবিধি বা Model Code of Conduct বলে।
২৭. EVM কী? ব্রেইল EVM কী?
EVM: EVM-এর পূর্ণরূপ Electronic Voting Machine, অর্থাৎ বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে কেরালার নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীকালে ২০০৪ সালের চতুর্দশ লোকসভা নির্বাচনে সার্বিকভাবে বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।
ব্রেইল EVM: দৃষ্টিহীন ভোটারদের সাহায্যের জন্য ব্রেইল সংখ্যাযুক্ত EVM প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দৃষ্টিহীন ভোটাররা স্বাধীন ও গোপনীয়ভাবে ভোট দিতে পারেন।
২৮. EPIC কী?
EPIC-এর পূর্ণরূপ Electors Photo Identity Card। এটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটারদের জন্য প্রদত্ত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র। এতে ব্যক্তির ছবি, স্বাক্ষর এবং নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত বিবরণ থাকে।
২৯. ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল বা VVPAT কী?
VVPAT: নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য EVM-এর পাশাপাশি VVPAT মেশিন ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি ভোট দেওয়ার পর প্রার্থীর নাম ও নির্বাচনি প্রতীক-সহ একটি কাগজের স্লিপ তৈরি করে, যার মাধ্যমে ভোটার নিজের ভোট যাচাই করতে পারেন।
৩০. নির্বাচনি আচরণবিধি বা Code of Conduct কী?
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, নির্বাচনি প্রার্থী, সরকার, সরকারি কর্মচারী ও ভোটারদের জন্য যে নিয়মাবলি নির্ধারণ করে, তাকে নির্বাচনি আচরণবিধি বা Code of Conduct বলে। এই নিয়মগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আচরণবিধি অমান্য করা হলে কমিশন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে পারে।
৩১. ভারতের নির্বাচন কমিশনের দুটি ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা লেখো।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের দুটি ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা হল—
১) নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হলেও অনেক রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় করে এবং খরচের হিসাব দেওয়ার সময় অনিয়ম করতে পারে। প্রদত্ত পাঠ্যে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কমিশন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
২) ভোটার তালিকা প্রণয়নের ত্রুটি: ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের পরও নানা ভুল দেখা যায়। মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যেতে পারে, নতুন ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে, জীবিত ব্যক্তির নাম বাদ যেতে পারে এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার নথিভুক্ত হতে পারে।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতিসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন