রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Rajnoitik Tottwer Moulik Dharonasomuha Short Queastion Answer | Class 11 2nd Semester Political Science

1. ব্যাপক অর্থে আইন বলতে কী বোঝায়?
ব্যাপক অর্থে আইন: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হল আইন। ব্যাপক অর্থে আইন বলতে বিভিন্ন সামাজিক আইন, নৈতিক আইন, ধর্মীয় আইন এবং প্রাকৃতিক আইনসমূহকে বোঝায়। মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে নিয়মকানুন রয়েছে, তাকে সামাজিক আইন বলে। এইসময় সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নানান ধর্মীয় শাস্ত্রের বিধান দেওয়া হত। তাকেই ধর্মীয় আইন বলা হয়। আবার সমাজে ন্যায়নীতি, সৎ-অসৎ সম্পর্কিত নিয়মাবলিকে বলা হয় নৈতিক আইন।
2. সংকীর্ণ অর্থে আইন বলতে কী বোঝায়?
সংকীর্ণ অর্থে আইন: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘সংকীর্ণ অর্থে আইন’ শব্দটিকে গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন বলতে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইনকেই বোঝায়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন হল সেইসব নিয়মকানুন, যা রাষ্ট্র দ্বারা সৃষ্ট ও প্রযুক্ত হতে পারে এবং যেগুলি অমান্য করলে রাষ্ট্র শাস্তিপ্রদান করে। এইসব আইনের পশ্চাতে কোনো ঐশ্বরিক শক্তির ভূমিকাকে স্বীকার করা হয় না।
3. আইনের উৎসগুলি কী কী?
আইনের উৎসসমূহ: সমাজবিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে আইনের উৎপত্তি ঘটেছে। যেমন- প্রথা (Custom), ধর্ম (Religion), বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত (Judicial Decisions), বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Commentaries), (Equity) এবং ন্যায়নীতি আইনসভা (Lagislature)।
4. মার্কসবাদীদের মতে আইন কী?
মার্কসবাদীদের মতে আইন: মার্কসবাদী তাত্ত্বিক মার্কস ও এঙ্গেলস এর মতে, আইন হল সমাজের শাসক শ্রেণি তথা বিত্তবান শ্রেণির ইচ্ছার প্রকাশ। রাষ্ট্রীয় আইন হল সমাজের উপরিকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত, যা অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাই অর্থনৈতিক কাঠামোতে যে শ্রেণির ক্ষমতা বেশি, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আইন সেই শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করে। তাঁরা মনে করেন, শ্রেণিবিভক্ত সমাজে আইনকে প্রভুত্বকারী শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী বিধি হিসেবে দেখা হয় এবং অন্য সকল শ্রেণির মানুষকে তা মানতে বাধ্য করা হয়। আর্থিক ব্যবস্থার বিন্যাস ও বণ্টনের উপরই আইনের চরিত্র নির্ভরশীল। তাই, কেবলমাত্র শ্রেণিহীন, শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজেই আইন প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
5. ল্যাস্কির মতে আইন কী?
আইনের বিষয়ে অধ্যাপক ল্যাস্কি এর মত: অধ্যাপক ল্যাস্কি মনে করতেন যে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের মানদণ্ডের ভিত্তিতে নয় বরং উচ্চতর কোনো মানদণ্ডের ভিত্তিতে আইনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। কোনো আইনকে যদি ব্যক্তির বিবেক থেকে ন্যায্য বলে না মনে হয়, তাহলে ব্যক্তি তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে না। এইভাবে ব্যক্তির সুবুদ্ধি বা বিবেককে বিচারকের স্থান দিয়ে ল্যাস্কি আইনের গুরুত্ব আলোচনা করে।
6. জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় আইন কাকে বলে?
জাতীয় আইন: রাষ্ট্রের এলাকার মধ্যে সার্বভৌম শক্তি দ্বারা প্রযুক্ত আইনই জাতীয় আইন নামে পরিচিত। এই আইন হল সেই আইন যা জাতির ইচ্ছা, দেশের ইচ্ছা বা স্বার্থে পরিচালিত হয়ে থাকে। জাতীয় আইনের পিছনে শাসকের চিন্তাভাবনা প্রাধান্য পেলেও, জনসাধারণের মতামত ও মূল্যবোধও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে জাতীয় আইনকে বলবৎ করার জন্য আলাদা করে কোনো আইনের প্রয়োজন হয় না।
7. সাংবিধানিক আইন কী? এই আইন কয় প্রকার ও কী কী?
সাংবিধানিক আইনের সংজ্ঞা: প্রতিটি রাষ্ট্রে কতকগুলি নিয়ম- নীতিকে ভিত্তি করে সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে, এগুলিকেই সাংবিধানিক আইন বলা হয়। এই আইন নাগরিকের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সাংবিধানিক আইনকে ‘রাষ্ট্রের যৌথ আইন’ বলে চিহ্নিত করা হয়। সাংবিধানিক আইন দুই প্রকার, যথা- লিখিত আইন এবং ① অলিখিত আইন।
8. অর্পিত ক্ষমতা প্রসূত আইন (Deligated Law) কাকে বলে?
অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইন: বর্তমানে আইনসভার কার্যাবলি বিশেষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলি নির্ধারণের ভার আইনসভা শাসন বিভাগের হাতে অর্পণ করে। শাসন বিভাগ প্রণীত আইনকে অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইন বলে। আধুনিক সময়ে আইনসভার কার্যাবলি বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে আইনসভার একার পক্ষে আইনের বিশ্লেষণ বিস্তারিতভাবে করা সম্ভব হয় না, তাই জাতীয় আইনের অধীনে এই ধরনের আইনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
9. ফৌজদারি আইন কাকে বলে?
ফৌজদারি আইন: নাগরিক জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য যে আইন রচিত হয় অর্থাৎ অপরাধ বিষয়ক মামলা বিচারের আইনকে ফৌজদারি আইন বলা হয়। এই আইনের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত অপরাধীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। চুরি, ডাকাতি, খুন, প্রবঞ্চনা, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ে।
10. আন্তর্জাতিক আইন (International Law) বলতে কী বোঝায়?
আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিক আইন হল আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও তাদের নাগরিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কতগুলি নিয়মের সমষ্টি। ডাচ আইনবিদ হুগো গ্রোটিয়াস ১৬২৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ অন দ্য ল অফ্ ওয়ার অ্যান্ড পিস গ্রন্থে আন্তর্জাতিক আইন সুসংবদ্ধ রূপ লাভ করে। বর্তমান দিনে কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বিশ্বের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যেই অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
11. আন্তর্জাতিক আইনের উৎস (Source of International Law) কী?
আন্তর্জাতিক আইনের উৎসসমূহ: আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সংবিধানের ৩৮ নং ধারায় আন্তর্জাতিক আইনের উৎস সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। যেগুলি হল নিম্নরূপ- বিশেষ বা সাধারণ আন্তর্জাতিক চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট নিয়মকানুন, [ii) আন্তর্জাতিক প্রথাসমূহ যেগুলি বাধ্যতামূলকভাবে স্বীকৃত, iii) আইনের সাধারণ নিয়মাবলি, iv বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত এবং বিখ্যাত আইনজ্ঞদের দ্বারা প্রকাশিত = রচনাসমূহ।
12. আন্তর্জাতিক আইন (International Law) কে আইন বলার পক্ষে যুক্তি দাও।
আন্তর্জাতিক আইনকে আইন বলার পক্ষে যুক্তি: ওপেনহেইম, হেনরি মেইন, স্যাভিনি, লরেন্স, পোলক, হল, ব্রিয়ারলি, ফেনউইক, কেলসেন, প্রমুখ আইনবিদগণ আন্তর্জাতিক আইনকে আইন বলার পক্ষে যে যুক্তির অবতারণা করেছেন, তা হল রাষ্ট্রীয় আইনের মতোই আন্তর্জাতিক আইন ন্যায়নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সার্বভৌমের আদেশ নয়, জনগণের সমর্থন ও সম্মতিই হল আইনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ① আন্তর্জাতিক আইন যেমন সন্ধি-চুক্তি, বিচারলয়ের সিদ্ধান্ত, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, ঠিক তেমনভাবে জাতীয় আইন প্রথা,রীতিনীতি, বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
13. আন্তর্জাতিক আইনকে আইন না বলার পক্ষে যুক্তি দাও।
আন্তর্জাতিক আইনকে আইন না বলার পক্ষে যুক্তি: আন্তর্জাতিক আইনকে বাস্তবে আইন বলা যায় না-এমন যুক্তির অবতারণা করেছেন বিশিষ্ট আইনবিদগণ হবস, অস্টিন, হল্যান্ড, সলস্কেরি প্রমুখ। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আদেশ দান করার মতো কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেই। এখানে সকল রাষ্ট্রই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দিক থেকে সমান এবং সার্বভৌম। রাষ্ট্র আইনকে বলবৎ করতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনকে বলবৎ করার মতো কোনো বলপ্রয়োগমূলক শক্তির প্রভাব নেই। এই কারণে অস্টিন আইনশাস্ত্রে আইনকে অনাথ শিশু (The Orphan Child of Jurisprudence) বলে উল্লেখ করেছেন।
14. স্বাধীনতা কাকে বলে?
স্বাধীনতা বলতে সাধারণত অবাধ বা নিয়ন্ত্রণহীন ইচ্ছার প্রকাশকে বোঝায়। স্বাধীনতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Liberty’ কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘Liber’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল স্বাধীন। অধ্যাপক ল্যাস্কি-র মতে স্বাধীনতা হল সেই পরিবেশের সযত্ন সংরক্ষণ, যে পরিবেশে মানুষ তার ব্যক্তিসত্তাকে পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। তাঁর মতে, স্বাধীনতা হল ‘অধিকারের ফল’। অর্থাৎ বলাই যায়, স্বাধীনতা হল একটি আইনগত ধারণা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট ও সংরক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার আত্মবিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ পায়।
15. স্বাধীনতা সম্পর্কিত ল্যাস্কির ধারণাটি লেখো।
স্বাধীনতা সম্পর্কে ল্যাস্কি-র ধারণা: ল্যাস্কি স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশকে বুঝিয়েছেন, যে পরিবেশের সযত্ন সংরক্ষণ করার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। স্বাধীনতার এই পরিবেশ সৃষ্টি হয় কতগুলি বাহ্যিক অবস্থার সংরক্ষণের দ্বারা। এই বাহ্যিক অবস্থাগুলি অধিকারের দ্বারা সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ অধিকারের দ্বারাই স্বাধীনতার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। তাই তাঁর মতে, ‘স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল’। তবে তিনি ব্যক্তিজীবনে অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে স্বাধীনতার সহায়ক না বলে এর পরিপন্থী বলেছেন। তাই তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার কথা বলেছেন।
16. জাতীয় স্বাধীনতা কাকে বলে?
জাতীয় স্বাধীনতা: জাতীয় স্বাধীনতা বলতে বৈদেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়াকে বোঝায়। এককথায় জাতীয় স্বাধীনতা হল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার স্বাধীনতা। সি ডি বার্নস জাতীয় স্বাধীনতাকে ‘সর্বপ্রকার স্বাভাবিক উন্নতির ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো পরাধীন দেশ যখন মুক্তিলাভ করে, তখন স্বাধীনতার আস্বাদ লাভ করে। ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল ভিত্তি হল জাতীয় স্বাধীনতা। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ জাতীয় স্বাধীনতা লাভ করে।
17. আইনসংগত স্বাধীনতা বলতে কী বোঝো?
আইনসংগত স্বাধীনতা: আইনসংগত স্বাধীনতা প্রকৃতিগত দিক থেকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনসংগত স্বাধীনতা বলে। এই ধরনের স্বাধীনতার পশ্চাতে সংবিধান ও আইনের অনুমোদন স্বীকৃত থাকে। অর্থাৎ, আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকরা আইনসংগত স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
18. ব্যক্তিগত বা পৌর স্বাধীনতা বলতে কি বোঝায়?
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপপৌর স্বাধীনতার ধারণা: পৌর স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হল সেইসব স্বাধীনতা, যার মাধ্যমে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ব্ল্যাকস্টোন-এর মতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গতিবিধি এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির স্বাধীনতা হল পৌর স্বাধীনতার মুখ্য উপাদান। এ প্রসঙ্গে কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন-চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পরিবার গঠনের স্বাধীনতা ইত্যাদি।
19. রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
রাজনৈতিক স্বাধীনতা: রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপরিচালনার প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকে বোঝায়। যেমন- সরকার গঠন, সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়া এবং সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হল রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত। অধ্যাপক ল্যাস্কি এ প্রসঙ্গে বলেন যে, “রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ক্ষমতাই হল রাজনৈতিক স্বাধীনতা।”
20. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হল অভাব অনটন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকার স্বাধীনতা। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের অধিকার, বিশ্রামের অধিকার এই স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়াও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার, বার্ধক্য বা অক্ষম অবস্থায় সরকার কর্তৃক রক্ষিত হওয়ার অধিকার ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। আবার অনেকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে শিল্পক্ষেত্রে, অর্থনীতিতে অবাধ সুযোগসুবিধাকে বোঝায়। বার্কার এবং ল্যাস্কি প্রমুখ রাষ্ট্রতাত্ত্বিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে মত প্রদান করেছেন। বার্কার বলেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরাধীন শ্রমিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্বাধীন হতে পারে না। কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’। মার্কসবাদী তাত্ত্বিকরাও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য বলেছেন।
21. স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলতে কী বোঝায়? এর প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে লেখো।
স্বাধীনতার রক্ষাকবচ: স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত ও সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়। অধ্যাপক ল্যাস্কি বলেছেন যে, সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। প্রয়োজনীয়তা: অনেকসময় মুষ্টিমেয় ব্যক্তিবর্গ দ্বারা গঠিত সরকার নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে থাকে, এমতাবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই কারণে প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা অর্থাৎ স্বাধীনতার রক্ষাকবচ এর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
22. স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলি (Safeguard of Liberty) কী কী?
স্বাধীনতার রক্ষাকবচ: স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য যেসব রক্ষাকবচের ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়ে থাকে, সেগুলি হল সংবিধানে লিপিবদ্ধ মৌলিক অধিকারসমূহ, আইনের অনুশাসন নীতি, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা, গণভোট, গণউদ্যোগ, পদচ্যুতি, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারালয়, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সদাসতর্ক জনমত।
23. সাম্য বলতে কী বোঝায়?
সাধারণভাবে সাম্য বলতে সব মানুষের সমান অধিকারকে বোঝায়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাম্য বা Equality কথাটি অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় সাম্য বলতে বোঝায়, ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য উপযুক্ত সুযোগসুবিধার সমতা লাভ। অর্থাৎ, সাম্য প্রত্যেকটি মানুষের আত্মোপলব্ধিতে বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
24. ল্যাস্কির মতে সাম্য কী?
ল্যাস্কির মতে সাম্য: ল্যাস্কি সাম্য বলতে বিশেষ সুযোগসুবিধার অনুপস্থিতি এবং সকলকে পর্যাপ্ত সুবিধা দান কে বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে, সাম্য হল অসমান অংশকে সমান করার এক প্রক্রিয়া। তিনি সাম্য বলতে সকলের প্রতি সমান ব্যবহারকে বোঝাননি। তাঁর মতে, প্রতিটি ব্যক্তির চাহিদা, দাবি এবং প্রয়োজন ভিন্ন প্রকৃতির। অর্থাৎ ব্যক্তিদের মধ্যে শক্তি, সামর্থ্য, বুদ্ধিতে স্বাভাবিক পার্থক্য থাকে। তাই সাম্য বলতে সমতাকে বোঝায় না।
25. স্বাভাবিক সাম্য কাকে বলে?
স্বাভাবিক সাম্য: স্টোয়িক দার্শনিক, রোমান চিন্তাবিদ ও চুক্তিবাদী দার্শনিকদের রচনায় স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা পাওয়া যায়। স্বাভাবিক সাম্যের মূল কথা হল জন্মগতভাবে সকল মানুষ সমান এবং সমানাধিকারসম্পন্ন। কারণ প্রকৃতি সকল মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করেছে। এই ধারণাকেই স্বাভাবিক সাম্য বলে। রোমান দার্শনিক সিসেরো ও পলিবিয়াস স্বাভাবিক সাম্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।
26. সামাজিক সাম্য বলতে কী বোঝায়?
সামাজিক সাম্য: সামাজিক সাম্য হল মানুষের সামাজিক অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সমতা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ, নারী-পুরুষ ভেদে সমাজে যখন বিভেদ করা হয় না, তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে। অর্থাৎ সমাজের সকল স্তরের প্রত্যেক ব্যক্তি তার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করবে। অবাধ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দ্বারা মানুষের আর্থিক সংগতির সাম্যঞ্জস্য বিধান করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সামাজিক সাম্য দেখতে পাওয়া যায়। ধনতান্ত্রিক সমাজে সাম্যের এই ধারণাটি প্রসার লাভ করে।
27. আন্তর্জাতিক সাম্য কী?
আন্তর্জাতিক সাম্য: সাম্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন হল আন্তর্জাতিক সাম্য। রাষ্ট্রগুলির মধ্যে জনসংখ্যা থেকে শুরু করে ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক বা সামরিক গুরুত্বের ব্যবধান না মেনে সমানভাবে বিবেচনা করাকে আন্তর্জাতিক সাম্য বলা হয়। আন্তর্জাতিক সাম্যের মূল বক্তব্য হল, ক্ষুদ্র-বৃহৎ নির্বিশেষে সমস্ত জাতীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা ও গুরুত্ব সমান। অধ্যাপক জোহারি-র মতে, এর অর্থ – হল বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রকে সমানভাবে দেখা হবে। তবে বাস্তবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বৃহৎ ও অতিবৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির আধিপত্য, সামরিক আগ্রাসন প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার পথে মস্ত বড়ো বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে।
28. ন্যায় কী?
ন্যায়: ন্যায় বা Justice হল রাষ্ট্রতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি হল একটি নৈতিক ধারণা, এমন একটি বন্ধন যা সমাজকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। ন্যায় হল চরম সত্য, বিশুদ্ধতা ও পরিপূর্ণতার প্রতীক। কারণ এর সঙ্গে সততা ও নৈতিকতা, আদর্শবোধ এবং বিশুদ্ধতার মতো ধারণাগুলি বর্তমান। ন্যায়ের ধারণা সদা পরিবর্তনশীল।
29. রাজনৈতিক ন্যায় বলতে কী বোঝো?
রাজনৈতিক ন্যায়: সাধারণভাবে রাজনৈতিক ন্যায় বলতে বোঝায়, দেশের রাজনৈতিক জীবনে জনগণের স্বাধীন ও সংগত অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক ন্যায়ের মূল কথা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সাম্যের মধ্যেই নিহিত থাকে। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার, বাক্ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, অন্যান্য সরকারি নীতি ও কার্যকলাপে বিরোধিতা করার অধিকার প্রভৃতি ছাড়া রাজনৈতিক ন্যায়ের তত্ত্ব বাস্তবায়িত হতে পারে না।
30. সামাজিক ন্যায় বলতে কী বোঝো?
সামাজিক ন্যায়: সামাজিক ন্যায় হল একটি আদর্শগত ধারণা। এর উদ্দেশ্য হল ন্যায়সংগত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণসাধন করা। ব্যাপক অর্থে সামাজিক ন্যায় বলতে ব্যক্তির স্বার্থ ও জনগণের সামাজিক স্বার্থের মধ্যে সামঞ্জস্যবিধানকে বোঝায়। সাধারণভাবে ব্যক্তির অধিকার ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাকেইসামাজিক ন্যায় বলা হয়। একথা অনস্বীকার্য যে, বৈষম্যমূলক সমাজে কখনো সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
আরো পড়ুন : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মৌলিক এবং রাজনৈতিক নীতি প্রশ্ন উত্তর
31. পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কাকে বলে?
পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ: পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে বোঝায়। যখন সরকারের তিনটি বিভাগ অর্থাৎ আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে কার্যসম্পাদন করে এবং কোনো বিভাগই একে অপরের বিভাগীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তখন তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলে। এই নীতিরই কঠোর রূপকে পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলে অভিহিত করা হয়।
32. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কতকগুলি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলিকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এগুলি হল- 1 সরকারের তিনটি বিভাগের পূর্ণ স্বাতন্ত্র্য: ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাতন্ত্র্য। এর অর্থ হল, তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও কাজকর্মের এক্তিয়ার হবে সম্পূর্ণ পৃথক। ② একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করা: ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল, সরকারের তিনটি বিভাগ কেবল স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ কার্যই সম্পাদন করবে না, পাশাপাশি একে অপরের কার্যে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। শাসন, আইন ও বিচার-এই তিন বিভাগ নিজেদের ক্ষমতার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে কাজ করবে।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| HS 3rd Semester Political Science Suggestion 2026-27 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন 2026-27 | Click here |
| বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক প্রভাব লেখো | Click here |
| সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন