জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান

জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Jati O Jatiyotabad Short Queastion Answer | Class 11 2nd Semester Political Science

জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

১. জনসমাজ বলতে কী বোঝো?

একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী ঐক্যবদ্ধ জনসমষ্টিকে জনসমাজ (People) বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, রাজনীতি, আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য প্রভৃতি কারণে মানুষের মধ্যে এই ঐক্য গড়ে উঠতে পারে। ম্যাৎসিনি, লর্ড বায়রন ও লিকক প্রমুখ চিন্তাবিদ জনসমাজের ক্ষেত্রে উদ্ভবগত ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ঐক্যের উৎস যা-ই হোক, তা একটি জনসমষ্টিকে জনসমাজে পরিণত করতে সাহায্য করে। জনসমাজই জাতীয় জনসমাজ গঠনের পূর্ববর্তী স্তর।

২. জনসমাজের দুটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

জনসমাজের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো—
1. ভূখণ্ডগত ঐক্য: জনসমাজ গঠনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসের ঐক্য প্রয়োজন। বিষয়গত ও ভাবগত ঐক্য ছাড়াও জনসমাজ গড়ে উঠতে পারে।
2. জীবনযাত্রার সাদৃশ্য: জনসমাজের মানুষের জীবনযাত্রায় মিল থাকে। তাদের ভাষা, ঐতিহ্য, প্রথা ও আচার-আচরণের মধ্যেও সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে।

৩. জাতীয় জনসমাজ বলতে কী বোঝো?

জাতীয় জনসমাজ হলো জনসমাজের একটি উন্নত স্তর। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন এমন এক জনসমষ্টি, যাদের মধ্যে বংশগত, ভাষাগত, ধর্মগত, কৃষ্টিগত ও ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দেখা যায়, তাদের জাতীয় জনসমাজ বলা হয়।

৪. জাতীয় জনসমাজ সম্পর্কে জে. এইচ. রোজের সংজ্ঞাটি লেখো। জাতীয় জনসমাজের দুটি উপাদান উল্লেখ করো।

জে. এইচ. রোজের সংজ্ঞা: জে. এইচ. রোজের মতে, “জাতীয় জনসমাজ হলো জনসমাজ এবং জাতির মধ্যবর্তী স্তর।”
জাতীয় জনসমাজের দুটি উপাদান হলো—
1. বাহ্যিক উপাদান।
2. ভাবগত উপাদান।

৫. ভৌগোলিক ঐক্য কীভাবে জাতীয় জনসমাজ গঠনে সহায়তা করে?

একই ভৌগোলিক অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করার ফলে মানুষের মধ্যে গভীর একাত্মবোধ গড়ে ওঠে। এই একাত্মবোধ মানুষকে স্বাদেশিকতাবোধে জাগ্রত করে। ভৌগোলিক ঐক্য মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ভাবের আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করলেও তাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় ছিল।

৬. জাতীয় জনসমাজ গঠনে ভাবগত উপাদানের গুরুত্ব আলোচনা করো।

জাতীয় জনসমাজ গঠনে ভাবগত উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো জনসমাজের মানুষের মধ্যে যখন এই ধারণা গড়ে ওঠে যে তাদের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, গৌরব-গ্লানি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন অভিন্ন, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঞ্চার ঘটে।
অতীতের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। এই ঐক্য জাতীয় জনসমাজ গঠনে সহায়তা করে। তাই জাতীয় জনসমাজ গঠনের ক্ষেত্রে ভাবগত উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।

৭. জাতীয়তাবাদের মূল নীতিটি উল্লেখ করো। জাতীয়তাবাদের জনক কাকে বলা হয়?

জাতীয়তাবাদের মূলনীতি: জাতীয়তাবাদের মূলনীতি হলো—নিজে বাঁচো এবং অপরকে বাঁচতে দাও। এই নীতির মাধ্যমে স্বাজাত্যবোধ, দেশপ্রেম ও ঐক্যবোধের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হয়।
জাতীয়তাবাদের জনক: ম্যাৎসিনিকে জাতীয়তাবাদের জনক বলা হয়।

৮. জাতীয়তাবাদের সপক্ষে দুটি যুক্তি লেখো।

জাতীয়তাবাদের সপক্ষে দুটি যুক্তি হলো—
1. একটি মহান আদর্শ: জাতীয়তাবাদ জাতীয় জীবনের একটি মহান আদর্শ ও গভীর অনুপ্রেরণা। এটি সমগ্র জাতিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হলে জাতির সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব হয়।
2. মুক্তির দিশারি: পরাধীন জাতির কাছে জাতীয়তাবাদ মুক্তির দিশারি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরাধীন জাতিগুলি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

৯. জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে দুটি যুক্তি লেখো।

জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে দুটি যুক্তি হলো—
1. বিকৃত জাতীয়তাবাদের জন্ম: জাতীয়তাবাদ যখন অন্ধ জাত্যভিমানে পরিণত হয় এবং কোনো জাতি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও অন্য জাতিগুলিকে নিকৃষ্ট মনে করে, তখন বিকৃত বা উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। এর ফলে অন্য জাতির প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও হিংসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
2. বিশ্বশান্তির বিঘ্ন: উগ্র জাতীয়তাবাদ বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে এবং অন্য রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বাড়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে হিটলারের জার্মানি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

১০. বিভিন্ন প্রকার জাতীয়তাবাদের নাম উল্লেখ করো।

জাতীয়তাবাদ জাতির স্বাজাত্যবোধ, স্বাধীনতা ও ঐক্যবোধের প্রতীক। জাতীয়তাবাদের বিভিন্ন প্রকার হলো—
1. রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ।
2. সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ।
3. নৃ-কুলগত জাতীয়তাবাদ।
4. রাজতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদ।
5. বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদ।

❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন

  • ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
  • ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
  • ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
  • ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
  • ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
⭐ এতসব সুবিধা পাবেন মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।

১১. জাতীয়তাবাদ গঠনের পথে দুটি সহায়ক উপাদানের নাম লেখো।

জাতীয়তাবাদ একটি ভাবগত ধারণা, যা বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করে। জাতীয়তাবাদ গঠনের দুটি সহায়ক উপাদান হলো—
1. সাধারণ বাসস্থান।
2. সাধারণ ঐতিহাসিক পটভূমি।

১২. জাতীয়তাবাদ গঠনের পথে দুটি অন্তরায় উল্লেখ করো।

জাতীয়তাবাদ জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করে। তবে এর বিকাশের পথে দুটি প্রধান অন্তরায় হলো—
1. আবেগিক সংহতির অভাব।
2. সাম্প্রদায়িকতা।

১৩. বিকৃত জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো? বিকৃত জাতীয়তাবাদের দুজন প্রবক্তার নাম লেখো।

যে জাতীয়তাবাদ মিথ্যা জাত্যভিমান সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য জাতির প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অবজ্ঞার মনোভাব পোষণ করে, তাকে বিকৃত জাতীয়তাবাদ বলা হয়। এই জাতীয়তাবাদ অন্য রাষ্ট্র আক্রমণ ও আধিপত্য বিস্তারে ইন্ধন জোগায়।
বিকৃত জাতীয়তাবাদের দুজন প্রবক্তা হলেন—
1. মুসোলিনি — ইতালীয় জাতীয়তাবাদ।
2. হিটলার — জার্মান জাতীয়তাবাদ।

১৪. আদর্শ জাতীয়তাবাদ কাকে বলে? আদর্শ জাতীয়তাবাদের একজন সমর্থকের নাম লেখো।

যে জাতীয়তাবাদ সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি প্রভৃতি এক বা একাধিক উপাদানের ভিত্তিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে, তাকে আদর্শ জাতীয়তাবাদ বলা হয়।
আদর্শ জাতীয়তাবাদের একজন প্রবক্তা হলেন ম্যাৎসিনি।

১৫. বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ কাকে বলে?

যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেশের উৎপাদন ও মূলধনের ওপর ধনিক শ্রেণির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশের অর্থনীতি মূলত তাদের স্বার্থে পরিচালিত হয়, তাকে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ বলা হয়। এই ব্যবস্থায় গণমাধ্যম শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এবং ধনী শ্রেণি শ্রমজীবী মানুষের ওপর শোষণ ও অত্যাচার চালায়।

১৬. প্রলেতারীয় জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়?

যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সম্পদ ও উৎপাদনব্যবস্থা সর্বহারা শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেশের সম্পদ, উৎপাদন ও মূলধন শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রলেতারীয় জাতীয়তাবাদ বলা হয়। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

১৭. উগ্র জাতীয়তাবাদ কীভাবে সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দেয়?

উগ্র জাতীয়তাবাদ একটি জাতির মধ্যে অতিরিক্ত জাত্যভিমান ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা সৃষ্টি করে। এর ফলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি দুর্বল রাষ্ট্রগুলিকে হেয় করে এবং তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। জাতীয় স্বার্থের নামে অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ও সম্পদ দখলের প্রবণতা দেখা দেয়। এভাবেই উগ্র জাতীয়তাবাদ সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দেয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার জার্মান জাতিকে উগ্র ও বিকৃত জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে সাম্রাজ্যবাদী নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন।

১৮. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কাকে বলে? এই তত্ত্বের বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন এমন প্রবক্তাদের নাম লেখো।

HS Class 12

সেমিস্টার প্রস্তুতি

WhatsApp গ্রুপ

আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার: প্রত্যেক জাতীয় জনসমাজের নিজস্ব পৃথক সত্তা রয়েছে। সেই সত্তার পূর্ণ বিকাশের জন্য নিজস্ব রাষ্ট্র গঠন এবং নিজেদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলা হয়।
এই তত্ত্বের বিরোধী প্রবক্তা: লর্ড কার্জন ও লর্ড অ্যাক্টন আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিরোধিতা করেছিলেন।

১৯. জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নীতির সপক্ষে যুক্তি লেখো। অথবা, ‘এক জাতি এক রাষ্ট্র’ নীতির সপক্ষে দুটি যুক্তি লেখো।

জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সপক্ষে দুটি যুক্তি হলো—
1. গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে উপযুক্ত: জন স্টুয়ার্ট মিল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাফল্যের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকার করার পক্ষে মত দেন। তাঁর মতে, বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগুরু জাতীয় জনসমাজ সংখ্যালঘু জাতীয় জনসমাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর ফলে পারস্পরিক সমতা ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হলে জাতিগুলি নিজেদের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার সুযোগ পায়।
2. বিশ্বসভ্যতার বিকাশে সহায়ক: প্রত্যেক জাতির নিজস্ব কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হলে জাতিগুলি নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটাতে পারে। এর ফলে জাতীয় গুণাবলির বিকাশ এবং জাতির অগ্রগতি সম্ভব হয়।

২০. জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিপক্ষে দুটি যুক্তি দাও। অথবা, ‘এক জাতি এক রাষ্ট্র’ নীতির বিপক্ষে দুটি যুক্তি লেখো।

জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিপক্ষে দুটি যুক্তি হলো—
1. সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হবে: ‘এক জাতি এক রাষ্ট্র’ নীতি স্বীকৃত হলে পৃথিবীর সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলি বহু ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও জটিল সমস্যার সৃষ্টি হবে। ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলির পক্ষে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে। ফলে তারা বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলির শিকারে পরিণত হতে পারে।
2. বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্র সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক: ইংরেজ দার্শনিক লর্ড অ্যাক্টনের মতে, বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্র সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে উন্নত হতে পারে। বিভিন্ন জাতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করলে তারা পরস্পরের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। অন্যদিকে, একটি রাষ্ট্রে কেবল একটি জাতি বসবাস করলে তার সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

আরো পড়ুন : রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

২১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বৈশ্যরাজকতন্ত্র’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমি ধাঁচের জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদ ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিরোধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দিয়েছিল। এর ফলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি দুর্বল রাষ্ট্রগুলিকে গ্রাস করতে থাকে।
সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত ধনতান্ত্রিক সভ্যতার আধিপত্যবাদী রূপকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বৈশ্যরাজকতন্ত্র’ নামে অভিহিত করেছেন। তিনি পশ্চিমি জাতীয়তাবাদের এই আধিপত্যকারী রূপের তীব্র নিন্দা করেছিলেন।

২২. রবীন্দ্রনাথ জাতিপূজার বিরোধিতা করেছিলেন কেন? অথবা, রবীন্দ্রনাথ মানবতাবাদের আদর্শকে কীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে মানবধর্মই ছিল শ্রেষ্ঠ। তাঁর মানবতাবাদী আদর্শে জাতি বা রাষ্ট্রের চেয়ে মানুষের মর্যাদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি জাতিপূজার বিরোধিতা করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, জাতীয়তাবাদের প্রভাবে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং মনুষ্যত্বের অবক্ষয় ঘটে। জাতীয় গৌরবের অন্ধ আবেগে মানুষ অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শুরু করে। এর ফলে ব্যক্তিমানুষ স্বাধীন চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে রাষ্ট্রের অধীন যন্ত্রে পরিণত হয়।
তাঁর মতে, জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণতা মানুষের শুভচিন্তা ও শুভচেতনাকে ধ্বংস করতে পারে এবং মানবসভ্যতার সংকট ডেকে আনে। তাই তিনি জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণতার পরিবর্তে মানবপ্রেম, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবতার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

২৩. কে, কেন পশ্চিমি সভ্যতাকে ‘জন্তুর সভ্যতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন?

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমি সভ্যতাকে ‘জন্তুর সভ্যতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
কারণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থে পশ্চিমি সভ্যতার বিকৃত, উগ্র ও স্বার্থান্বেষী দিকটি তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, পশ্চিমি ধাঁচের জাতীয়তাবাদ যন্ত্রনির্ভর এবং তা ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিরোধ ও বিচ্ছেদের জন্ম দেয়। এর ফলে বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও ঈর্ষা বৃদ্ধি পায়। একটি জাতি অন্য জাতির শত্রুতে পরিণত হয়। এই অমানবিক ও স্বার্থকেন্দ্রিক প্রবণতার কারণেই রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমি সভ্যতাকে ‘জন্তুর সভ্যতা’ বলেছেন।

আমাদের যে কোনো E-Book সরাসরি WhatsApp-এর মাধ্যমে কিনতে বা কোনো সমস্যা হলে নিচের বাটনে ক্লিক করে মেসেজ করুন -
আরও পড়ুন প্রয়োজনে
রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান Click here
HS 3rd Semester Political Science Suggestion 2026-27 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন 2026-27 Click here
বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক প্রভাব লেখো Click here
সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান Click here

Our Latest Products

উচ্চমাধ্যমিক

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

একাদশ শ্রেণি

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি সাজেশন SALE

একাদশ শ্রেণি সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

Leave a Comment

PDF সাজেশন নিতে ক্লিক করুন