ডাকঘর নাটকের প্রশ্ন উত্তর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা | Class 12 dakghor natoker long question answer | WBCHSE

১। কেউ বলে ‘সময় বয়ে যাচ্ছে” কেউ বলে ‘সময় হয় নি।” আলোচ্য নাটক অবলম্বনে ‘সময় বয়ে যাচ্ছে’ এবং ‘সময় হয় নি’- এই আপাত স্ববিরোধী কথা দুটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। ৫
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ডাকঘর’ নাটকে প্রশ্নোদ্ভূত কথা দুটি উঠে এসেছে অমলের উক্তিতে। কথাগুলি তার নিজের নয়, লোকেরা বিভিন্ন সময়ে এমন স্ববিরোধী কথা বলে থাকে। ছোট্ট অমল বুঝতে পারে না, কেন কেউ বলে ‘সময় বয়ে যাচ্ছে’ আবার কেউ বলে ‘সময় হয় নি’।
সময় বয়ে যাচ্ছে: রাজার প্রহরী ঘণ্টা বাজায়। প্রহরে প্রহরে ঘণ্টা বাজে। ঘণ্টাধ্বনি এই বলে সবাইকে সচেতন করে দেয় যে সময় থেমে থাকে না, সময় নিত্য প্রবহমান। যার যা কাজ আছে তা তাকে করে নিতে হবে কারণ ‘সময় বয়ে যাচ্ছে’ আর সময়ের এই বয়ে যাওয়া তথা প্রবহমানতা সম্পর্কে সচেতন অমল।
সময় হয়নি: আবার, বিশ্বসংসারে সমস্ত ক্রিয়াকর্মের সময় পূর্বনির্ধারিত। যখন যে-কাজের জন্য যে-সময় নির্দিষ্ট তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই বলা হয় ‘সময় হয়নি’।
অমল যখন প্রহরীকে বলে, “তুমি ঘণ্টা বাজাবে না প্রহরী?” প্রহরী বলে, “এখনো সময় হয় নি।” প্রবহমান সময়ের বুকে প্রতিটি কর্মের সময় পৃথকভাবে ধার্য করা থাকে- আর সেই ধার্য সময়ের মধ্যেই আমাদের কার্য সম্পন্ন করতে হয় কারণ সময় প্রবহমান, সঠিক সময় একবার অতিবাহিত হলে তা আর ফিরে আসবে না। তাই ‘সময় বয়ে যাচ্ছে’ আর ‘সময় হয়নি’ এই দুটি কথার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই।
জন্ম-মৃত্যু ও জীবৎকালের সময়সীমা নির্দিষ্ট। জীবনকাল শেষ হলে রাজারূপী ঈশ্বরের ঘণ্টা বাজে। সেই ঘণ্টা বাজায় তাঁর প্রতিনিধি প্রহরী। ডাক আসে অমৃতলোকের। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবনের পথে পাড়ি দেয় মানুষ। এই আধ্যাত্মিক গূঢ় তত্ত্বকথা বালক অমলের পক্ষে অনুধাবন – করা সম্ভব হয়নি। তাই আলোচ্য মন্তব্য দুটি তার আপাত বিরোধী বলে মনে হয়েছে এবং সে বিস্মিত হয়ে বলেছে প্রহরী ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেই সময় হবে।
২। কোনদিন কবিরাজই হয়তো স্বয়ং হাতে ধরে নিয়ে যাবেন!”-কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে বক্তার এমন মনে হয়েছে? কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো। ২+৩
অথবা, “সে দেশে সবাইকে যেতে হবে বাবা!”- সে দেশে কে, কীভাবে যাবে তা আলোচ্য নাটক অবলম্বনে ব্যাখ্যা করো। ৫
প্রসঙ্গ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ডাকঘর’ নাটকে প্রহরীর এমন কথা মনে হয়েছে। প্রহরীর ঘণ্টাধ্বনি, সময়ের প্রবহমানতার কথা সবাইকে জানান দেয়। সময় যে-দেশে চলে যাচ্ছে সেই অজানা দেশে অমলও যেতে যায়। কিন্তু তার কঠিন অসুখ। কবিরাজ তাই তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। ফলত, এই গৃহবন্দি জীবনে সে হাঁপিয়ে উঠছে। অমলের অস্থিরতা দেখে প্রহরী এই বলে প্রবোধ দেয় যে দূরদেশে একদিন সবাইকে যেতে হবে। কিন্তু কবিরাজের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে অমলের যাওয়া সম্ভব হবে কি। এই সংশয় দূর করতেই বক্তা জানিয়েছে একদিন হয়তো স্বয়ং কবিরাজই বাধ্য হবেন অমলকে সেই দেশে নিয়ে যেতে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: প্রহরী বর্ণিত যে দেশে সবাইকেই একদিন যেতে হবে বাস্তবে সে দেশ হল, মৃত্যুর দেশ। যে কবিরাজ অমলকে বাইরে না যাওয়ার নিদান দিয়েছেন, তিনি ওষুধে-পথ্যে অমলকে সুস্থ করে তুলতে পারলে তার বাইরে বেরোনো সম্ভব হবে। অমল সুস্থ হলে কবিরাজই স্বয়ং হাতে ধরে তাকে বাইরে নিয়ে যাবেন। আর, তা যদি না হয়, জাগতিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অমলের অজানা-অসীমে যাত্রার পথ সূচিত হবে। বিশ্বস্রষ্টা তথা ঈশ্বর কবিরাজকে দূত করে পাঠাবেন অমলকে তাঁর কাছে অমৃতলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে এ কথাও ঠিক যে অমলের কবিরাজ যিনি মনের মুক্তিকে শাস্ত্রের বেড়াজালে, ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে আবদ্ধ করে রাখতে চান, স্বাধীনতার ইচ্ছা যার কাছে ব্যাধির সমান সেই কবিরাজের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। বিশ্বাত্মার সঙ্গে অমলের মানবাত্মার মিলন ঘটাতে তাই আবির্ভাব ঘটে রাজার কবিরাজের। যিনি এলে দরজার আগল খসে পড়বে, বেজে উঠবে মুক্তির গান, যার কাছে মনের মুক্তিই সুস্থতার লক্ষণ। শারীরিক রোগমুক্তির ঊর্ধ্বে চিরমুক্ত নবজীবনের দ্বারে অমলকে পৌঁছে দেবেন সেই অপার্থিব কবিরাজ। ঘুচে যাবে সীমা-অসীমের দ্বন্দ্ব। মিটে যাবে সমস্ত রোগযন্ত্রণা। অমল পার্থিব বন্ধন কাটিয়ে পাড়ি দেবে সেই দেশে।
৩। “ওখানে নতুন ডাকঘর বসেছে।”- এই ডাকঘরকে কেন্দ্র করে বালক অমলের আশা, অপেক্ষা ও পরিণতির পরিচয় দাও। ৫
অমলের আশা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর’ নাটকের প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটিতেই ‘ডাকঘর’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে, উক্তিটি – করেছে প্রহরী। অমলের ঘরের জানালার কাছে রাস্তার ওপারে নিশান উড়িয়ে রাজার ডাকঘর স্থাপিত হয়েছে। প্রহরীর কাছে এ খবর জেনে বালকের প্রশ্ন, “রাজার ডাকঘরে রাজার কাছ থেকে সব চিঠি আসে?” প্রহরী যখন জানায় অমলের নামেও চিঠি আসবে, হোক সে ছেলেমানুষ, ছোটোদের জন্য রাজা এতটুকু-টুকু ছোট্ট ছোট্ট চিঠি লেখেন- তখন সেসব কথা শুনে অমলের মনে জেগে ওঠে রাজার চিঠি পাওয়ার আশা। অপেক্ষারত অমল: রাজা ছোটো ছেলেদের চিঠি লেখেন এ কথা জানা ইস্তক রাজার চিঠির জন্য শুরু হয় অমলের প্রতীক্ষা। রাজার চিঠির পথ চেয়ে সে উৎসুক হয়ে থাকে। প্রহরীর কাছ থেকে অমল জানতে পারে তাকে চিঠি লিখবেন বলেই নাকি তারই জানালার সামনের রাস্তার ওপারে ডাকঘর খুলেছেন রাজা। রাজার ডাকহরকরাদের মধ্যে কেউ এসে তাকে চিঠি দিয়ে যাবে। ছেলের দল ডাকহরকরাদের চেনে। তাদের কারো নাম বাদল হরকরা, কারো নাম শরৎ। ছেলেরা বলে চিঠিতে অমলের নাম দেখেই হরকরা তাকে চিনে নেবে। তবু তাদের একজনকে ডেকে ছেলেরা যেন অমলকে চিনিয়ে দেয়, সেই আবদারও করে অমল। অপেক্ষা যেন তার বাঁধ মানে না। ফকিররূপী ঠাকুরদা অমলকে জানায় রাজার চিঠি রওনা দিয়েছে। রাজার চিঠির স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকে অমলের দু’চোখ। ফকির, মাধব দত্ত, প্রহরী, ছেলের দল সকলের কাছে কেবল রাজার চিঠির খবরই জানতে চায় অপেক্ষায় কাতর অমল। তার মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই যেন রাজার চিঠির নাম ধারণ করে।
অমলের পরিণতি: অবশেষে ঘোরতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে অমল। মুমূর্ষু বালকের হাতে ঠাট্টা করে অক্ষরশূন্য কাগজ দিয়ে মোড়ল বলে এটা রাজার চিঠি, ফকিরও বালকের মন রাখতে সে কথায় সায় দেয়। তবে রাজার চিঠি পড়ার জন্য প্রয়োজন হয় অন্তর্দৃষ্টির, যা অমলের আছে। তাই অক্ষরশূন্য কাগজেও রাজার আগমনবার্তা ফুটে ওঠে। সেই খবর পেয়েই চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়ে অমল অর্থাৎ মানবাত্মার সহিত বিশ্বাত্মার এই মিলনখেলার সূত্রধর রাজার ‘ডাকঘর’ ও ‘রাজার চিঠি’ যা অমলকে তার কাঙ্ক্ষিত পরিণামের দিকে পৌঁছে দেয়।
৪। “সে ভারি মস্ত কাজ!”- কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এই কথা বলেছে? মন্তব্যটির কারণ কী? ২+৩
অথবা, “সে খুব জবর কাজ!”- বক্তা কোন্ কাজকে জবর কাজ বলেছে? বক্তার এমন বলার কারণ কী? ২+৩
জবর কাজ: আলোচ্য নাটকে অমল, প্রহরীর কাছে রাজার ডাকহরকরার কথা জানতে পেরে সেও ডাকহরকরা হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে প্রহরী সেই কাজকেই একবার ‘মস্ত কাজ’ এবং আর-একবার { ‘জবর কাজ’ বলে উল্লেখ করেছে। ডাকহরকরা হলে প্রকৃতির সঙ্গে লগ্ন হয়ে থাকা যায়, রাজার বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানবাত্মাকে জাগিয়ে তোলার কাজটিই এক মহৎ কাজ।
কারণ: ‘ডাকঘর’ নাটকের প্রহরী হল রাজার প্রহরী, সময়ের বয়ে চলাকেই সে ঘণ্টা বাজিয়ে নির্দিষ্ট করে, যে সময়ের মূলে রয়েছেন বিশ্বাত্মা রাজা, রাজার কর্মচারী প্রহরীর কাছেও তাই মুক্ত প্রাণের আভাস পাওয়া যায়। অমলের ‘ডাক-হরকরা’ হওয়ার ইচ্ছা শুনে তাই সে দইওয়ালার মতো বিস্মিত হয়নি, মাধব দত্তের মতো তাকে ‘খ্যাপা’ বলে ঠাট্টা করেনি, তাকে পণ্ডিত হতেও বলেনি বরং হাসিমুখে তাকে ডাকহরকরা হতে উৎসাহিত করেছে। প্রহরী জানিয়েছে রোদে-বৃষ্টিতে, বড়োমানুষ-গরিব সকল মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি বিলি করে বেড়ানোটা ভারি জবর কাজ। মানুষের কাছে বিশ্বাত্মার ডাক পৌঁছে দেওয়া মস্ত দায়িত্বের কাজও বটে। ডাকহরকরা হলে অমলের বন্দিজীবন ঘুচে যাবে। তার বাইরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে। দেশে-দেশে, ঘরে-ঘরে ঘুরে বেড়াতে পারবে অমল তাই তা বড়ো জবর কাজ। অমলের ছকভাঙা কিছু কাজের দ্বারা প্রাণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে প্রবোধ দিতেই মন্তব্যটি করেছে রাজার প্রহরী।
৫। কীভাবে রাজার চিঠি অমলের কাছে এসে পৌঁছালো ‘ডাকঘর’ নাটক অবলম্বনে তা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো। ৫
রাজার চিঠি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর’ নাটকে মাধব দত্তের পালিত পুত্র অমল অসুস্থ বলে কবিরাজ তাকে বাইরে যেতে বারণ করেছেন। কিন্তু সংবেদনশীল কল্পনাপ্রবণ বালক অমলের মন চায় দূর অজানা দেশে পাড়ি দিতে, প্রকৃতির রূপ-রস-সৌন্দর্যের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। নিরুপায় বালক জানালা দিয়ে পথচারীদের ডেকে ডেকে কথা বলে। এভাবেই সে প্রহরীর কাছে খবর পায় তার বাড়ির অদূরে রাজা ডাকঘর খুলেছেন। “ছেলেমানুষকে রাজা এতটুকু-টুকু ছোট্ট ছোট্ট চিঠি লেখেন।” অতএব রাজা অমলকেও চিঠি লিখবেন এই আশা মুক্তিকামী অমলের মনে সঞ্চারিত হয়। রাজার ডাক এলেই বন্ধজীবন থেকে মুক্তি ঘটবে- এই বিশ্বাসে বুক বাঁধে অমল।
অপেক্ষা ও প্রাপ্তি: অমল রাজার চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় আকুল হয়ে থাকে। মোড়ল, ছেলের দল সকলের কাছেই সে ডাকহরকরাদের খবর জানতে চায়। ফকিরবেশী ঠাকুরদা জানায় রাজার চিঠি রওনা হয়ে এখন পথে। অমল কল্পনায় দ্যাখে অনেক দূরের পাহাড় থেকে চিঠির বোঝা নিয়ে রাজার হরকরা নেমে আসছে তো আসছেই। মোড়ল পরিহাস করে মুমূর্ষু অমলের হাতে অক্ষরশূন্য একটা কাগজ দিয়ে বলে এই রাজার চিঠি। বালক অমল, শূন্য কাগজকেই রাজার চিঠিরূপে গ্রহণ করে।
তাৎপর্য: মোড়লের পরিহাস জেনেও সাদা-শূন্য কাগজটিকে সত্যিকারের চিঠির স্বীকৃতি দিয়ে ঠাকুরদা বলে রাজা লিখেছেন, তিনি অমলকে দেখতে রাজকবিরাজকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন। ঠাকুরদা অধ্যাত্মজ্ঞানী। তিনি জানেন রাজারূপী ঈশ্বরের বার্তা লিপিহীন, অদৃশ্যই হয়। রাজার চিঠি আসলে মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনবার্তা। সবাই সে বার্তা, সে ডাক শুনতে পায় না। মানবাত্মার অংশ হতে চলা অমল ঘরে বসেই রাজার ডাক শুনতে পায়। তাই সাদা কাগজেও অক্ষর ফুটে উঠতে দেখতে পায় সে। আসলে গভীর ঘুমের মধ্য দিয়ে, পার্থিব মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানবাত্মার প্রতীক অমল নবজীবন লাভ করতে চলেছে। পার্থিব বন্ধনমুক্ত হয়ে অমর্ত্যলোকে যাত্রার বার্তা এইভাবে তাই রাজার চিঠিরূপে অমলের কাছে এসে পৌঁছেছিল।
৬। মাধব দত্তের বড়ো বাড় হয়েছে দেখছি। বক্তার এরূপ মন্তব্যের কারণ কী? এর থেকে বক্তার মানসিকতার কী পরিচয় পাওয়া যায়? ৩+২
অথবা, “ওহে মাধব দত্ত, আজকাল তোমাদের যে খুব বড়ো বড়ো লোকের সঙ্গে সম্বন্ধ!”- মন্তব্যটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো। ৫
মন্তব্যের কারণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ডাকঘর’ নাটকে এ কথা বলেছে গ্রামের মোড়ল। সাধারণ গৃহস্থ নিঃসন্তান মাধব দত্ত অমল নামের একটি বালককে পোষ্যপুত্র নিয়েছে। ছেলেটি অসুস্থ। কবিরাজ তাকে বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছেন। আর সেই বালকের জানালার কাছেই রাজা তাঁর নতুন ডাকঘর বসিয়েছেন। অমলের বিশ্বাস রাজা তাকে চিঠি পাঠাবেন। প্রহরী তাকে সে কথা জানিয়েছে। ভাবুক প্রকৃতির বালকের এই খেয়ালি-কথাকে পঞ্চানন শিশুর সরলতা বা কল্পনাপ্রবণতা হিসেবে সহজভাবে নিতে পারেনি। ভেবেছে এটা মাধব দত্তের পরিবারের অহংকার। মাধবই হয়তো অমলকে এসব কথা শিখিয়েছে। বিশিষ্ট লোকদের সঙ্গে এমনকি রাজার সঙ্গেও মাধবের যোগাযোগ আছে-এটা জাহির করে সে নিজের সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়াতে চায়। আসলে মোড়লের দৃষ্টিভঙ্গি এমনই, সে নিজে যেরূপ স্ব-ঘোষিত মোড়ল হয়ে সকলের কাছ থেকে সম্মান আদায়ের চেষ্টায় সদা তৎপর থাকে তেমনই সে ভাবে অমলের, রাজার চিঠির আকাঙ্ক্ষাও আদতে মাধব দত্তের ছল। – এমন মনে করেই মোড়ল বিদ্রুপের সুরে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছে।
বক্তার প্রকৃত মনোভাব: পঞ্চানন হল প্রবাদের সেই ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’। রাজা তাকে মোড়ল বানায়নি, সে নিজে থেকেই মোড়লি করে। সব যুগেই এমন মাতব্বর গোছের কিছু লোক থাকে সমাজে। বক্তা পঞ্চানন সেরকমই হিংসুটে, সংকীর্ণমনা একজন মানুষ। তার হীন স্বভাবের জন্য তাকে সবাই এড়িয়ে চলে আর সে ভাবে তার অনেক ক্ষমতা, সে একজন কেউকেটা। ছোটো ছেলে অমলের নিষ্পাপ মনের সরল বিশ্বাসকে বোঝার মতো বোধ বা উদারতা পঞ্চাননের নেই। তাই মাধব দত্তকে ব্যঙ্গ -বিদ্রুপ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, বালক অমলের সঙ্গেও পরিহাস করেছে এবং তাকেও বিদ্রূপাত্মক কথা বলেছে।
৭। “আমার কি দাঁড়াবার জো আছে! বেলা বয়ে যায় যে।”- বক্তার দাঁড়াবার জো নেই কেন? পরবর্তী কথোপকথনে অমলের সঙ্গে তার যেরূপ সখ্য স্থাপন হতে দেখা গিয়েছিল তার পরিচয় দাও। ২+৩
ত্বরার কারণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর’ নাটকের অন্তর্গত প্রশ্নোধৃত উক্তিটি সুধার। সুধা, শশী মালিনীর মেয়ে। তাকে রোজ এত এত ফুল তুলে মালা গাঁথতে হয়। বেলা হয়ে গেলে ফুল আর থাকবে না তাই তার দাঁড়াবার জো নেই।
অমল-সুধার বাক্যালাপ: অমল অসুস্থতার কারণে বাইরে বেরোতে পারে না তাই সে, সুধার ফুল তুলতে যাওয়া থামিয়ে তার সঙ্গে গল্প করতে চায়। অমলের ম্লান মুখ দেখে সুধার মনে হয় যেন ‘সকালবেলাকার তারা’। সে অমলকে কবিরাজের কথা মেনে চলারই পরামর্শ দেয়, বরং অমলের আধ-খোলা জানলাটিও বন্ধ করে দিতে চায়। পার্থিব জগতের বেচা-কেনার সঙ্গে সম্পর্কিত সুধা, তাই সে অমলের ‘মুক্তিচেতনা’-কে ‘দুরন্তপনা’ আখ্যা দেয়। অমলের মনে হয়, সেও যদি সুধার সঙ্গে ফুল তুলতে যেতে পারত তবে উঁচু ডাল থেকে ফুল পেড়ে দিত। ঘরবন্দি বালক অমল ফুলের খবরও জানে শুনে মালিনীর মেয়ে অবাক হয়।
অমলের কাছে ফুলের অনুষঙ্গ ধরা দেয় রূপকথার মাধ্যমে। ‘সাতভাই চম্পা’-র গল্প অমল শুনেছে। সরু ডালের আগায় বসে যেখানে মনুয়া পাখি দোল খায় সেইখানে সে চাঁপা হয়ে ফুটতে চায় আর সুধাকে সে তার পারুলদিদি করতে চায়। অমল প্রকৃতির অংশ হয়ে উঠতে পারলে সুধাকেও নিজের সঙ্গে নিতে চায়- কিন্তু সুধা তার দার্শনিক মনের ভাব বুঝতে পারে না বরং সে অমলের মতো ঘরে বাঁধা পড়তে চায়। এখানে অমলের সঙ্গে সুধার মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ। অমল তবুও সুধার কাছে একমুঠো প্রকৃতি তথা ফুল চায়, বাস্তবের মাটিতে পা রেখে সুধা প্রকৃতির জিনিসের উপরেও দামের তকমা লাগায়। তবে চলে যাওয়ার সময় সুধা বলে যায়, “আমি ফুল তুলে ফেরবার পথে তোমার সঙ্গে গল্প করে যাব।” অমল তাকে না ভোলার আর্জি জানালে সুধা তাকে আশ্বাস দিয়ে বলে সে তাকে ভুলবে না। এভাবেই অমল ও সুধার মধ্যে ক্ষণিকের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে, তাদের মধ্যস্থিত ব্যবধানটি নাট্যকার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। বাইরের অসীমে পাড়ি দিতে চায় অমল, আর সুধা চায় সীমায় বাঁধা পড়তে কারণ সে ‘মর্ত্যসুধা’, বিশ্বাত্মার সঙ্গে তার যোগস্থাপন হয়নি।
৮। “তুমি তা হলে ফুল তুলে আসবে?” অথবা “আমাকে ভুলে যাবে না?”- সুধার কাছে অমলের এই আকুল জিজ্ঞাসার কারণ কী? এর গভীরে নিহিত দার্শনিক সত্যটি কী? ২+৩
অমলের জিজ্ঞাসার কারণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর’ নাটকে বালক অমলের স্থিতিশীল সময়-যাপনে একঝলক খুশির বাতাস নিয়ে আসে সুধা। সে শশী মালিনীর মেয়ে। মল ঝমঝমিয়ে সে চলেছিল ফুল তুলতে। তার ক্ষণিকের উপস্থিতি আর দু-চারটে কথাবার্তা অমলকে উদ্দীপ্ত করে, জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করায়। অসুস্থ অমল যেন কবিরাজের নির্দেশ মতো স্থির হয়ে ঘরে বসে থাকে, ফুল তুলে ফেরার পথে সুধা তার সঙ্গে গল্প করে যাবে- এই প্রতিশ্রুতি পেয়ে অমল শান্তি পায়। তবু প্রতিশ্রুতিভঙ্গের একটা আশঙ্কা তাকে অস্থির করে তোলে। তাই আকুল জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে সে আশ্বস্ত হতে চায়। সুধার, তাকে মনে রাখা অমলকে এক বিশেষ অনুভূতি দেয়। মুক্তিসন্ধানী অমল, সুধার স্মৃতিতে বাঁধা পড়তে চেয়েছে কেবল, তাই এই আকুলতা।
দার্শনিক সত্য: কেউ কথা রাখে না। প্রতিশ্রুতি ভেঙে যায়, প্রিয়জন ছেড়ে যায়। অমলের মা-বাবা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে অন্যলোকে। তাই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে অমল সন্দিগ্ধ। এখানে বালিকা সুধা গতিচঞ্চলতা ও কর্মচঞ্চলতার প্রতীক। সে কি আসবে স্থিতিশীলতার কাছে? সুধা মানে তো অমৃত। অমল কি পাবে সেই অমৃতলোকের সন্ধান। যেখানে সীমার বাঁধন নেই, যেখানে অনন্ত মুক্তি- সুধা কি তার পারুলদিদি হয়ে নিয়ে যাবে অমলকে সেই দেশে? বস্তুত, সীমাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কল্পনাপ্রবণ মানবমনকে অস্থির করে রাখে। সে চায় সীমা-অসীমের দ্বন্দ্ব থেকে উত্তরণ। অমলের জিজ্ঞাসার মধ্যে যে আকুলতা, তার গভীরে নিহিত আছে সেই দার্শনিক সত্যই। অমল আসলে সীমা এবং অসীমের মধ্যে স্থাপন করতে চায় সুধাকে। মানবাত্মা, বিশ্বাত্মায় উন্নীত হওয়ার পরেও পার্থিব জগতের স্মৃতিসুধায় বিরাজ করে, অমলকেও তাই সুধা মনে রাখবে, ভুলে যাবে না।
৯। অমল ও সুধার সম্পর্ক কীভাবে ‘ডাকঘর’ নাটকের মূলভাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে আলোচনা করো। ৫
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল ও সুধার ক্ষণিকের আলাপন তথা সখ্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অসুস্থতার কারণে ঘরবন্দি অমলের সম্বল হল স্থিতি ও অখন্ড অবসর। অন্যদিকে সুধার সম্বল গতি ও কর্মচঞ্চলতা। এই বিপরীত দুই সত্তার দ্বন্দ্ব ও তা থেকে উত্তরণই আলোচ্য নাটকের মূলভাব।
শশী মালিনীর মেয়ে সুধা ফুল তুলতে যাওয়ার সময় অমল তার সঙ্গে আলাপ জমায়। অমল অসুস্থ। কবিরাজ তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন শুনে সুধা সমব্যথী হয়। অমল যদি সুধার সঙ্গে ফুল তুলতে যেতে পারত তবে আড়ালে থাকা অদৃশ্য উঁচু ডাল থেকে ফুল পেড়ে দিত, কারণ ফুলের খবর সুধার চেয়ে কিছু কম জানে না অমল। সে সাতভাই চম্পার খবর জানে। মনুয়া পাখি দোল খায় যে সরু ডালের আগায় সেখানে অমল চাঁপা হয়ে ফুটতে পারে। সুধাকে সে তার পারুলদিদি করতে চায়।
কিন্তু সুধা তো মর্ত্যসুধা। বাস্তব-সংসারে হাজার কাজের সীমায় আবদ্ধ সে, আর সেই সীমায় থেকে অসীম-অর্মত্যসুধার জন্য ব্যাকুল অমল। ‘অমল’ চরিত্রে যে সীমা-অসীমের টানাপোড়েন তারই মাঝে ক্ষণিকের শান্তিপ্রদানকারী অংশ যেন সুধা-চরিত্রটি।
সুধার কাছে ফুল চেয়েছিল অমল। কিন্তু ফিরতিপথে সুধা যখন ফুল নিয়ে এল, অমল তখন গভীর ঘুমে, অর্থাৎ মর্ত্যসীমা পেরিয়ে চলেছে সে। কিন্তু সুধা, অমলকে ভুলবে না- তার স্মৃতিতে থেকে যাওয়াই যেন অমলের জীবনের সার্থকতা যা বিশ্বাত্মার সঙ্গে তার মিলিত হওয়াকে ফুলের সজ্জায় সাজিয়ে তুলেছে। অমল-সুধার সখ্য এখানেই সার্থকতা পেয়েছে।
১০। “পিসেমশায়, আজ আর আমার সেই জানলার কাছেও যেতে পারব না?”- এই আকুল প্রশ্নে অমলের যে মানসিক অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো। ৫
অমলের অবস্থার অবনতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ডাকঘর’ নাটকের মূল চরিত্র অমল নামের একটি বালক। অসুস্থতার জন্য তাকে কবিরাজ বাইরে বেরোতে মানা করেছেন। ঘরের জানালার ধারে বসে পথচারীদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে তার সময় কাটে। কিন্তু পীড়া আরও গভীর হয়ে ওঠায় তাকে শয্যাশায়ী হতে হয়। জানালার কাছে যাওয়াও বারণ হয় তার। কিন্তু সেই এক টুকরো জানালাই তার গৃহবেষ্টনী থেকে আপাত মুক্তির একমাত্র উপায় ছিল। জানালা দিয়ে তার মন চলে যেত সুদূরে, পাহাড়-ঝরনা পেরিয়ে অজানা দেশে। পথ দিয়ে যাতায়াত করা মানুষ, যেমন-দইওয়ালা ও প্রহরী, মোড়ল, ফকির, সুধা, ছেলের দল সবার সঙ্গে সে – আলাপ জমাত এই জানালা দিয়েই। এই কথোপকথনের মাধ্যমেই সে বাইরের বৃহত্তর জগতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারত, পেত মুক্তির আভাস।
অমলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার একমাত্র মুক্তির অবকাশ জানালার পাশে বসার উপায়টিও আর রইল না। অমল আদতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য, মুক্তির দিকে, বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পথে- আর সেই মুক্তিকেই কবিরাজ আর মাধব দত্ত ব্যাধির বেড়ে ওঠা বলে গণ্য করে। ফলত বাইরের হাওয়া ঘরে ঢোকার অবকাশও থাকে না, বন্ধ হয়ে যায় আধ-খোলা জানলাটিও। অমলের মাথায় চিন্তা ঘোরে যে, ফকির হয়তো তাকে জানলার কাছে না দেখতে পেয়ে ফিরে যাবে। ফিরে যাবে আরও অনেকেই। বাইরে তো সে যেতে পারেই না, এবার থেকে জানলার কাছে যাওয়ার অনুমতিও সে আর পাবে না? তাই পিসেমশাইকে করা এই প্রশ্নে অমলের হৃদয়ের ব্যাথাতুর ব্যাকুলতাই ফুটে উঠেছে। অমলের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠে তার মনকে অস্থির করে তুলেছে- প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি তারই প্রমাণ।
সমুদ্রের ধারে নীল পাহাড়ে ক্রৌশ্বদ্বীপের সেই পাখিদের বাসা। সন্ধের মুখে যখন পাহাড়ের ওপর সূর্যাস্তের আলো এসে পড়ে তখন সবুজ-পাখিরা বাসায় ফেরে। আকাশের, পাখিদের, পাহাড়ের রঙে অপরূপ দৃশ্যের জন্ম হয়। সেখানে গলিত হিরের মতো ঝরনা পাহাড়ের গা বেয়ে নেচে নেচে নেমে আসে। ঠুং ঠাং শব্দে নুড়িপাথরগুলোকে বাজাতে বাজাতে কল কল ঝর ঝর করে ঝরনার জল অবিরাম ঝাঁপিয়ে পড়ে সমুদ্রে। এসব শুনে অমলের মনে হয় সে যদি পাখি হত তবে প্রকৃতির বুকে ক্রৌঞ্চদ্বীপে অগাধ সৌন্দর্যের মাঝে একটা মুক্ত জীবন পেত। কিন্তু তার অসুখ। কবিরাজ তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেননি। তাই সে সীমায় আবদ্ধ। আলোচ্য নাটকে ক্রৌঞ্চদ্বীপের ওই পাখি-ঝরনা-পাহাড় অসীম-অনন্তের প্রতীক। ফকির পেয়েছে সেই অসীমের স্বাদ। অমলও সেই স্বাদ পেতে চায়।
ক্রৌঞ্চ মানে একধরনের পাখি বা কোঁচবক। আরেকটি অর্থ হিমালয়ের অংশ। আবার, ক্রৌঞ্চদ্বীপ হল পৃথিবীর আদিমতম দ্বীপগুলির একটি। কথিত আছে, ব্যাধের তিরে নিহত ক্রৌন্তের শোক থেকে প্রথম শ্লোক উচ্চারিত হয়েছিল ঋষি বাল্মীকির কণ্ঠে। তাই পাহাড়-ঝরনাময় পাখিদের দেশটির ক্রৌঞ্চদ্বীপ নামটিও তাৎপর্যপূর্ণ।
১১। “তা হলে একটা ভারি মুশকিল হত।”- কোন্ মুশকিলের কথা বলা হয়েছে? মুশকিল কীসের? ২+৩
মুশকিল: আলোচ্য ‘ডাকঘর’ নাটকে দেখা যায় যা কিছু অমলকে বাহিরপানে টানে, সে তাই-ই হতে চায়। যেমন- কাঠবেড়ালি বা দইওয়ালা। প্রশ্নোদ্ভূত প্রসঙ্গটিতে ক্রৌঞ্চদ্বীপের পাখি হতে চেয়েছে অমল, কারণ পাখি হলে আর কোনো ভাবনা থাকে না, মুক্ত আকাশে কেবল গান গেয়ে উড়ে যেতে পারত ক্রৌঞ্চদ্বীপে। কিন্তু পাখি হলে তো আর দইওয়ালা হওয়া যাবে না কারণ পাখিদের দেশে দইয়ের ব্যাবসা চলে না। ঠাকুরদা এই মুশকিলের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অমলকে।
মুশকিলের অন্তর্নিহিত কারণ: অমল ইতিমধ্যেই দইওয়ালাকে বড়ো হয়ে দই বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। তাই ফকিরের বর্ণনায় ক্রৌঞ্চদ্বীপের কথা শুনে মুগ্ধ অমল আবার পাখি হতে চাইলেই মুশকিলের সৃষ্টি হয় কারণ পাখিদের দেশে অমলের দইয়ের ব্যাবসা চলবে না, তাতে তার লোকসানই হবে।
আলোচ্য অংশটি একটি বালক ও ঠাকুরদার ছেলেভোলানো কথোপকথন বলে মনে হলেও পাখিদের দেশ হল সেই মুক্তির দেশ যেখানে, মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার মিলন ঘটতে পারে। তাই সেই দেশে দইয়ের ব্যাবসা অর্থাৎ কোনো লাভক্ষতির হিসাবই চলে না। পার্থিব হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে সে দেশ। অমলের সে দেশে যাওয়া তখনই সম্ভব হবে যখন সে আরও স্থির হতে পারবে, যখন একমাত্র বিশ্বাত্মার সহিত মিলনই হবে তার লক্ষ্য তখনই স্থিতধী অমল পাখিদের দেশে যাওয়ার ছাড়পত্র পাবে- এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতই রয়েছে ঠাকুরদার বর্ণিত এই মুশকিলের নেপথ্যে।
আরো পড়ুন : হলুদ পোড়া গল্পের বড়ো প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : প্রার্থনা কবিতার বড়ো প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : হারুন সালেমের মাসি গল্পের প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : কেন এল না কবিতার প্রশ্ন উত্তর