সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Constitutional Amendment and Local Self-Government Question Answer Class 12 Semester IV

সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর [Type 1] (মান ৪)
১। ৭৩তম সংবিধান-সংশোধনী আইনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
৭৩তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের নবম অংশে (Part IX) পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
① গ্রামসভা: ৭৩তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে প্রতিটি গ্রামে গ্রামসভা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার তালিকায় নাম থাকা সকল ব্যক্তিকে নিয়ে গ্রামসভা গঠিত হয়। রাজ্য আইনসভা নির্ধারিত পঞ্চায়েত-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষমতা ও কার্যাবলি গ্রামসভা সম্পাদন করে।
② ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা: এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর হল—গ্রাম স্তর, মধ্যবর্তী স্তর এবং জেলা স্তর। তবে যে রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ২০ লক্ষের কম, সেই রাজ্যে মধ্যবর্তী স্তরের পঞ্চায়েত গঠন না করার ব্যবস্থা রয়েছে।
③ বিশেষ আসন সংরক্ষণ: পঞ্চায়েতের প্রতিটি স্তরে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মোট জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতির (ST) জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সংরক্ষিত আসনগুলির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ আসন SC ও ST-র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া পঞ্চায়েতের মোট আসনসংখ্যার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এই সংরক্ষণের মধ্যে SC ও ST মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
④ কার্যকালের মেয়াদ: প্রত্যেক পঞ্চায়েতের কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন পঞ্চায়েত গঠনের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো পঞ্চায়েতকে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে দিতে হলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে তার বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। কোনো পঞ্চায়েত ভেঙে দেওয়া হলে সাধারণভাবে ভেঙে দেওয়ার তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচিত নতুন পঞ্চায়েত পূর্ববর্তী পঞ্চায়েতের অবশিষ্ট কার্যকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
⑤ রাজ্য নির্বাচন কমিশন: পঞ্চায়েতগুলির নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এই কমিশনের প্রধান হলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার, যিনি রাজ্যপাল কর্তৃক নিযুক্ত হন। রাজ্য আইনসভা প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের চাকরির শর্ত ও কার্যকালের মেয়াদ নির্ধারণ করেন।
উপসংহার : সুতরাং, ৭৩তম সংবিধান সংশোধনী আইন পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে ভারতের গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছে।
২। পৌরসভা সংক্রান্ত ৭৪তম সংবিধান সংশোধন আইনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
বৈশিষ্ট্য : পৌরসভা সংক্রান্ত ৭৪তম সংবিধান সংশোধন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
① পৌরসভার শ্রেণিবিভাজন : ৭৪তম সংবিধান সংশোধনী আইনে শহরাঞ্চলের জন্য তিন ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এগুলি হল—
- নগর পঞ্চায়েত (Nagar Panchayat)
- পৌর পরিষদ (Municipal Council)
- পৌরনিগম (Municipal Corporation)
তবে এর একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। কোনো শহুরে অঞ্চলে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজস্বভাবে পৌর পরিষেবা প্রদান করে, তাহলে রাজ্যপাল সেই অঞ্চলকে শিল্প পৌরসভা (Industrial Township) হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।
② ওয়ার্ড কমিটিসমূহ : এক বা একাধিক ওয়ার্ড নিয়ে একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়। যে পৌর এলাকার জনসংখ্যা তিন লক্ষ বা তার বেশি, সেখানে একটি বা একাধিক ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজ্য আইনসভা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই কমিটিগুলির গঠন ও কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করে। একটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন।

③ অন্যান্য কমিটি : রাজ্য আইনসভা প্রয়োজন মনে করলে পৌরসভার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্যান্য কমিটিও গঠন করতে পারে। এই কমিটিগুলির সভাপতিদের পৌরসভার সদস্যদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত বা নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।
④ হিসাবনিরীক্ষা : পৌরসভাগুলির আর্থিক হিসাব পরীক্ষা ও নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্য আইনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজ্য আইনসভা প্রণীত আইনের মাধ্যমে পৌরসভার হিসাব সংরক্ষণ, পরীক্ষা ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়।
৩। গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতাগুলি আলোচনা করো।
অথবা, গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যাবলি আলোচনা করো।
গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কার্যাবলির পরিধি বেশ বিস্তৃত। এর বিভিন্ন দায়িত্ব ও কার্যাবলিকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। সেগুলি হল—
① আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ : গ্রাম পঞ্চায়েতের বাধ্যতামূলক কাজগুলির মধ্যে রয়েছে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বার্ষিক পরিকল্পনার সঠিকভাবে রূপায়ণ। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, পশ্চাৎপদ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বয়স্ক শিক্ষার প্রসার ঘটানো গ্রাম পঞ্চায়েতের আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
② স্বেচ্ছাধীন কর্তব্যসমূহ : জনসাধারণের স্বার্থে গ্রাম পঞ্চায়েত নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাধীন কাজ সম্পাদন করতে পারে। যেমন—রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করা, বৃক্ষরোপণ ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, কূপ, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয় খনন বা সংস্কার করা। এছাড়া বাজার, হাট ও মেলার ব্যবস্থা করা এবং হস্তশিল্পজাত সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রির সুযোগ তৈরি করাও এর স্বেচ্ছাধীন কাজের মধ্যে পড়ে।
③ হস্তান্তরিত কর্তব্যসমূহ : রাজ্য সরকার গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে কোনো জনহিতকর কাজের দায়িত্ব অর্পণ করলে পঞ্চায়েত সেই কাজ পরিচালনা ও সম্পাদন করে। এছাড়া রাজ্য সরকারের অনুমোদিত কোনো কর্তৃপক্ষ যদি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতকে দেয়, তাহলে পঞ্চায়েত সেই দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করে।
④ আরোপিত ক্ষমতাসমূহ : গ্রাম পঞ্চায়েতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কাজের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রসূতিসদন ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করা। এছাড়া পতিত জমি উদ্ধার করে সেখানে চাষের ব্যবস্থা করা, সামাজিক বনসৃজন ও কৃষি খামার তৈরি করা এবং সামাজিক, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করাও এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েত গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
৪। পৌরসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি
১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬৩ থেকে ৬৬নং ধারায় পৌরসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হল— বাধ্যতামূলক কাজ, স্বেচ্ছাধীন কাজ এবং অর্পিত কাজ। এই তিন ধরনের কার্যাবলি হল—
① বাধ্যতামূলক কাজ : ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের ৬৩নং ধারায় পৌরসভার বাধ্যতামূলক কার্যাবলির উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে পূর্তকাজ, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক কাজ এবং জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ উল্লেখযোগ্য। পৌরসভার বাধ্যতামূলক কাজের মধ্যে রয়েছে—জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার, রাস্তাঘাট, সেতু ও সাবওয়ে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, স্বাস্থ্যকর পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, টিকাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিকল্পিত উন্নয়ন সাধন করা। এছাড়া পৌরসভার প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও পরিসংখ্যান সংকলন এবং সংরক্ষণ করাও এর বাধ্যতামূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত।
② স্বেচ্ছাধীন কাজ : পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের ৬৪নং ধারায় পৌরসভার স্বেচ্ছাধীন কাজের কথা বলা হয়েছে। জনকল্যাণ, শিক্ষা এবং উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যেমন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদির সময় পৌর এলাকার মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা, জনসাধারণের স্বার্থে ডেয়ারি স্থাপন করা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মূর্তি, প্রতিকৃতি ও চিত্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা, গৃহহীন মানুষদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা।
③ অর্পিত কাজ : রাজ্য সরকার পৌরসভাকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের দায়িত্ব অর্পণ করে থাকে। এই কাজগুলিকে পৌরসভার অর্পিত কাজ বলা হয়। অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পৌরসভাকে অর্থ ও কর্মী সরবরাহ করে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে পৌরসভাকে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জল সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি তৈরি এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণের ব্যবস্থা করতে হয়।
উপসংহার : সুতরাং, বাধ্যতামূলক, স্বেচ্ছাধীন ও অর্পিত—এই তিন ধরনের কাজের মাধ্যমে পৌরসভা নগর এলাকার জনস্বাস্থ্য, নাগরিক পরিষেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫। পৌরসভার আয়ের উৎসগুলি কী?
পৌরসভার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ ও নাগরিক পরিষেবা পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। পৌরসভা বিভিন্ন উৎস থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করে। পৌরসভার প্রধান আয়ের উৎসগুলি হল—
① কর থেকে আয় : পৌরসভার অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস হল বিভিন্ন ধরনের কর। যেমন—সম্পত্তি কর, পেশা কর, বিজ্ঞাপন কর ইত্যাদি। পৌর এলাকার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে এই কর সংগ্রহ করা হয়।
② সরকারি অনুদান : কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পৌরসভাকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অনুদান প্রদান করে। এই সরকারি অনুদান পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।
③ বিভিন্ন ফি ও মাশুল : পৌরসভা বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার বিনিময়ে ফি ও মাশুল আদায় করে। যেমন—জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য ফি, লাইসেন্সের ফি, জল সরবরাহের মাশুল ইত্যাদি।
④ সম্পত্তি থেকে আয় : পৌরসভার নিজস্ব জমি, বাড়ি, দোকান, বাজার বা অন্যান্য সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় করা হয়। এই আয় পৌরসভার নিজস্ব রাজস্বের একটি উৎস।
⑤ পৌর ঋণ : বড় ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার জন্য পৌরসভা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সরকারি বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
⑥ জরিমানা ও অন্যান্য আয় : পৌরসভার বিভিন্ন আইন ও নিয়ম ভঙ্গ করলে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তা থেকেও পৌরসভার আয় হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনুমোদন ও পরিষেবা থেকে পাওয়া অর্থও এর আয়ের অন্তর্ভুক্ত।
উপসংহার : সুতরাং, কর, সরকারি অনুদান, বিভিন্ন ফি ও মাশুল, পৌর সম্পত্তি থেকে আয়, ঋণ এবং জরিমানা—এই সমস্ত উৎসের মাধ্যমে পৌরসভা অর্থ সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ নাগরিক পরিষেবা ও নগর উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করে।
৬। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার গঠন সম্পর্কে লেখো।
ভারতের গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ৭৩তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। এই ব্যবস্থায় সাধারণত গ্রাম, মধ্যবর্তী এবং জেলা—এই তিনটি স্তর রয়েছে।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ① গ্রাম স্তর—গ্রাম পঞ্চায়েত : ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হল গ্রাম পঞ্চায়েত। একটি বা একাধিক গ্রাম নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গঠিত হয়। পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা বা ওয়ার্ড থেকে জনগণ সরাসরি সদস্য নির্বাচন করেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে সাধারণত প্রধান বলা হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত গ্রামের রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে।
② মধ্যবর্তী স্তর—পঞ্চায়েত সমিতি : ত্রিস্তর ব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তর হল মধ্যবর্তী স্তর, যা সাধারণত পঞ্চায়েত সমিতি নামে পরিচিত। একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে এই স্তর গঠিত হয়। এটি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যেসব রাজ্যের জনসংখ্যা ২০ লক্ষের কম, সেখানে এই মধ্যবর্তী স্তরের পঞ্চায়েত গঠন না করার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।
③ জেলা স্তর—জেলা পরিষদ : ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর হল জেলা পরিষদ। একটি জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়। জেলা পরিষদ জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সমন্বয় এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলির কাজের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধন করে।
উপসংহার : সুতরাং, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ—এই তিনটি স্তরকে কেন্দ্র করে ভারতের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গঠিত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
৭। কলকাতা কর্পোরেশনের আয়ের উৎসগুলি লেখো।
কলকাতা কর্পোরেশনের বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কর্পোরেশন বিভিন্ন উৎস থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করে। কলকাতা কর্পোরেশনের প্রধান আয়ের উৎসগুলি হল—
① কর থেকে আয় : কলকাতা কর্পোরেশনের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হল বিভিন্ন ধরনের কর। সম্পত্তি কর, পেশা কর, বিজ্ঞাপন কর প্রভৃতি কর থেকে কর্পোরেশনের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়।
② সরকারি অনুদান : রাজ্য সরকার ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে কলকাতা কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অনুদান পেয়ে থাকে। এটিও কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।
③ ফি ও মাশুল : বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা প্রদানের বিনিময়ে কর্পোরেশন ফি ও মাশুল আদায় করে। যেমন—জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র, লাইসেন্স, জল সরবরাহ এবং বিভিন্ন অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হয়।
④ সম্পত্তি থেকে আয় : কর্পোরেশনের নিজস্ব জমি, বাড়ি, দোকান, বাজার ইত্যাদি ভাড়া দিয়ে আয় করা হয়। বিভিন্ন পৌর সম্পত্তি ব্যবহারের জন্যও নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করা হয়।
⑤ জরিমানা থেকে আয় : কর্পোরেশনের বিভিন্ন নিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের জন্য যে জরিমানা আদায় করা হয়, তা থেকেও কর্পোরেশনের আয় হয়।
⑥ ঋণ ও অন্যান্য উৎস : বিভিন্ন বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কর্পোরেশন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পরিষেবা ও অনুমোদন থেকেও কর্পোরেশনের আয় হয়।
উপসংহার : সুতরাং, কর, সরকারি অনুদান, ফি ও মাশুল, পৌর সম্পত্তি থেকে আয়, জরিমানা এবং ঋণ প্রভৃতি হল কলকাতা কর্পোরেশনের প্রধান আয়ের উৎস। এই অর্থ মূলত নাগরিক পরিষেবা ও কলকাতা শহরের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
৮। সপরিষদ চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও কার্যাবলী উল্লেখ করো।
পৌরসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে সপরিষদ চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি পৌরসভার পরিষদের প্রধান হিসেবে পৌরসভার প্রশাসন ও বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালনা ও সমন্বয় করেন। তাঁর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলিগুলি হল—
① পৌরসভার সভায় সভাপতিত্ব : সপরিষদ চেয়ারম্যান পৌরসভার সাধারণ ও বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
② পরিষদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা : পৌরসভার সভায় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে কার্যকর করার ব্যবস্থা করেন। পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মীদের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।
③ পৌর প্রশাসনের তদারকি : পৌরসভার প্রশাসনিক কাজকর্মের ওপর তিনি নজর রাখেন। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করেন।
④ অর্থসংক্রান্ত কার্যাবলি : পৌরসভার বাজেট, আয়-ব্যয় এবং আর্থিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পৌরসভার অর্থ যথাযথভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখেন।
⑤ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ : পৌরসভার বিভিন্ন কর্মচারীর কাজের সমন্বয় ও তদারকি করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের কাজের নির্দেশ দেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ভূমিকা পালন করেন।
⑥ উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা : রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, আলো প্রভৃতি নাগরিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
⑦ জনস্বার্থ রক্ষা : পৌর এলাকার নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের দিকে নজর দেন এবং সেগুলির সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জনস্বার্থে পৌরসভার কাজকে আরও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করেন।
⑧ সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ : পৌরসভার সঙ্গে রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার যোগাযোগ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পৌরসভার বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন।
উপসংহার : সুতরাং, সপরিষদ চেয়ারম্যান পৌরসভার প্রশাসনিক, আর্থিক, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যাবলির প্রধান সমন্বয়কারী। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব ও তদারকির ওপর পৌরসভার সুষ্ঠু পরিচালনা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ২)
১। ৩৬৮ নং ধারায় উল্লিখিত সংবিধান সংশোধনের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ করো।
১) আংশিক জটিল পদ্ধতি: ৩৬৮ নং ধারায় উল্লিখিত সংবিধান সংশোধনের এই পদ্ধতি অনুযায়ী সংবিধানের কিছু নির্দিষ্ট অংশের সংশোধনের ক্ষেত্রে, পৃথকভাবে পার্লামেন্টের দুটি কক্ষের মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দুটি কক্ষে অনুমোদিত হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবটিতে সম্মতি জানালে সংশোধনী আইনটি কার্যকরী হয়।
২) জটিল পদ্ধতি: এই পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রথমে সংশোধনী প্রস্তাবটিকে পৃথকভাবে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মোট সদস্যদের অর্ধেকের বেশি এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়। এরপর প্রস্তাবটিকে সকল রাজ্য আইনসভাগুলির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে রাজ্য আইনসভাগুলিতে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অধিকাংশের সমর্থনে সংশোধনী প্রস্তাবটি পাস করাতে হয়। অর্ধেক রাজ্য আইনসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রস্তাবটিকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি বিলটি স্বাক্ষর করলে তা সংশোধিত হয়।
২। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো?
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: স্বায়ত্তশাসন বলতে স্বশাসন বা নিজেদের শাসনকে বোঝায়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনব্যবস্থার মূলকথা হল, স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা জেলা, শহর, গ্রাম প্রভৃতির মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের শাসনব্যবস্থার পরিচালনা করা। এই শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় মানুষের দ্বারা আঞ্চলিক শাসন পরিচালিত হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের স্থানীয় সমস্যাদি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
৩। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব: স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দুটি গুরুত্ব হল—
১. নাগরিক চেতনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
২. স্বায়ত্তশাসনের ফলে গণতন্ত্রে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের তত্ত্বটির বাস্তবায়ন ঘটে।
৪। ভারতীয় সংবিধানের ৭৩তম সংবিধান-সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ভারতীয় সংবিধানের ৭৩তম সংবিধান-সংশোধনী আইন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই আইনের ফলে গ্রামসভা প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক হয় যা পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সামাজিক ভিত্তিকে অনেক বেশি সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। রাজ্য আইনসভা কর্তৃক নির্ধারিত পঞ্চায়েত সম্পর্কিত নানা ক্ষমতা গ্রামসভার দ্বারা সম্পন্ন হয়।
৫। গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে গঠিত হয়?
গ্রাম পঞ্চায়েতের গঠন: ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চায়েত আইন অনুসারে, একটি মৌজা বা মৌজার কোনো অংশ কিংবা পরস্পর সংলগ্ন কয়েকটি মৌজার সমষ্টি বা তাদের অংশগুলিকে নিয়ে এক-একটি গ্রাম গঠিত হয়। এক বা একাধিক গ্রাম নিয়ে একটি গ্রাম পঞ্চায়েত গঠিত হয়। রাজ্য সরকার প্রত্যেকটি গ্রামের নামানুসারে এক-একটি গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন করে।
৬। গ্রাম পঞ্চায়েত কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হতে পারে? গ্রাম পঞ্চায়েতের সভায় কে সভাপতিত্ব করেন?
গ্রাম পঞ্চায়েত ন্যূনতম ৫ জন এবং সর্বাধিক ৩০ জন সদস্য দিয়ে গঠিত হতে পারে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের সভায় গ্রামপ্রধান সভাপতিত্ব করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপপ্রধান সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
৭। গ্রামপ্রধান ও উপপ্রধান কীভাবে নির্বাচিত হন? নির্বাচনের পর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা কে আহবান করেন?
গ্রামপ্রধান ও উপপ্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভায় উপস্থিত সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের পর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা আহবান করেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO)।
৮। গ্রাম সংসদ কী? অথবা, গ্রাম সংসদ কাদের নিয়ে গঠিত হয়?
গ্রাম সংসদের গঠন: ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে ৭৩তম সংবিধান-সংশোধনী আইন অনুসারে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচনি এলাকার সকল ভোটদাতাদের নিয়ে গ্রাম সংসদ গঠিত হয়।
৯। গ্রাম সংসদের অধিবেশন বছরে কত বার বসে? গ্রাম সংসদের সভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
গ্রাম সংসদের অধিবেশন বছরে দু-বার অর্থাৎ বার্ষিক সভা এবং ষান্মাসিক সভা (মে মাসে এবং নভেম্বর মাসে) বসে।
গ্রাম সংসদের সভাপতি গ্রাম সংসদের সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রামপ্রধান। যদি কোনো কারণবশত গ্রামপ্রধান অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে উপপ্রধান গ্রাম সংসদের সভায় সভাপতিত্ব করে থাকেন।
১০। গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি কাজ লেখো।
গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি কাজ হল—
১. পানীয় জল সরবরাহ করা।
২. জলাধার পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত রাখা।
৩. গ্রাম পঞ্চায়েতের দলিল দস্তাবেজ, নথিপত্র প্রভৃতি সংরক্ষণ করা।

১১। গ্রাম পঞ্চায়েতের আয়ের দুটি উৎস লেখো।
গ্রাম পঞ্চায়েতের আয়ের উৎস: গ্রাম পঞ্চায়েতের আয়ের উল্লেখযোগ্য দুটি উৎস হল—
১. কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।
২. জমি ও ঘরবাড়ির উপর আরোপিত খাজনা বা কর থেকে আদায়ীকৃত অর্থ।
১২। কতজন সদস্যকে নিয়ে ন্যায় পঞ্চায়েত গঠিত হয়? ন্যায় পঞ্চায়েতের কাজ কী?
ন্যায় পঞ্চায়েত সাধারণত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। ন্যায় পঞ্চায়েতের কাজ হল—দেওয়ানি ও ফৌজদারির ছোটোখাটো মামলাগুলির বিচার করা।
১৩। পঞ্চায়েত সমিতি কাদের নিয়ে গঠিত?
পঞ্চায়েত সমিতির গঠন: পঞ্চায়েত সমিতি গঠিত হয় যেসকল সদস্যদের নিয়ে, তারা হলেন—
১. ব্লকের অন্তর্গত প্রতিটি গ্রাম থেকে নির্বাচিত অনধিক ৩ জন সদস্য।
২. ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের নিয়ে।
৩. ব্লক এলাকায় বিধানসভা ও লোকসভার নির্বাচিত সদস্য (মন্ত্রীরা বাদে)।
৪. ব্লক এলাকায় বসবাসকারী রাজ্যসভার সদস্যবৃন্দ।
৫. ব্লক এলাকায় নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
১৪। পঞ্চায়েত সমিতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ উল্লেখ করো।
পঞ্চায়েত সমিতির কাজ: সমিতির উল্লেখযোগ্য দুটি কাজ হল—
১. কৃষি, মৎস্যচাষ, কুটির শিল্প, খাদি, পশুপালন, জনস্বাস্থ্য, পানীয় জল সরবরাহ, গ্রামীণ ঋণ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বয়স্ক শিক্ষা, ছাত্রকল্যাণ, সামাজিক বনসৃজন, গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণ, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন, সামাজিক সমৃদ্ধি ও সর্বজনীন জনহিতকর উদ্দেশ্যসাধন প্রভৃতি ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ।
২. সামর্থ্যহীন শ্রেণিভুক্ত সকল মানুষকেই দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা।
১৫। পঞ্চায়েত সমিতির আয়ের দুটি উৎস লেখো।
পঞ্চায়েত সমিতির আয়ের উৎস: পঞ্চায়েত সমিতির আয়ের দুটি উল্লেখযোগ্য উৎস হল—
১. পঞ্চায়েত সমিতি কর্তৃক আরোপিত পথকর, অভিকর, ফি প্রভৃতি।
২. জেলা পরিষদ বা মহকুমা পরিষদ অথবা অন্যান্য স্থানীয় সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত দান বা অনুদান।
১৬। জেলা পরিষদের চারটি কাজ লেখো।
জেলা পরিষদের কাজ: জেলা পরিষদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল—
১. কৃষি ও পশুপালন, কুটির শিল্প, সমবায় আন্দোলন, ঋণের ব্যবস্থা, জলসেচ ইত্যাদি বিষয়ে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ।
২. আর্তদের ত্রাণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা।
৩. জেলাস্থিত পঞ্চায়েত সমিতিগুলির বাজেট পরীক্ষা ও অনুমোদন করা।
৪. গ্রামপঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে রাজ্য সরকারকে পরামর্শদান।
আরো পড়ুন : সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
১৭। জেলা পরিষদের আয়ের দুটি উৎসের উল্লেখ করো। অথবা, জেলা পরিষদের আয়ের উৎসগুলি কী কী? অথবা, জেলা পরিষদের দুটি প্রধান আয়ের উৎস উল্লেখ করো।
জেলা পরিষদের আয়ের উৎস: জেলা পরিষদের আয়ের উৎসগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হল—
১. জেলা পরিষদ কর্তৃক আরোপিত পথ কর, পূর্ত কর প্রভৃতি।
২. পঞ্চায়েত সমিতি অথবা অন্য যে-কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা আরোপিত দান ও অনুদান।
১৮। পৌরসভার ওয়ার্ড কাকে বলে?
ওয়ার্ড: প্রত্যেকটি পৌর এলাকাকে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করতে হয়। এই আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকাগুলিকে ‘ওয়ার্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়ে থাকে।
১৯। ওয়ার্ড কমিটি কাকে বলে?
ওয়ার্ড কমিটি: এক বা একাধিক ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়। তিন লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরাঞ্চলের পৌরসভার জন্য একটি বা তার বেশি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হয়। একটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিরা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হিসেবে নির্ধারিত হন।
২০। ৭৪তম সংবিধান-সংশোধনী আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
বৈশিষ্ট্য: ৭৪তম সংবিধান-সংশোধনী আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো—
১. এক বা একাধিক ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়। তিন লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরাঞ্চলের পৌরসভার জন্য একটি বা তার বেশি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হবে।
২. এই সংশোধনী অনুযায়ী পৌরসভায় তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
২১। কাউন্সিলার পদপ্রার্থীর দুটি যোগ্যতা লেখো।
কাউন্সিলার পদের যোগ্যতা: পৌরসভার কাউন্সিলারগণ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পৌরাঞ্চলের ভোটার কর্তৃক পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। নতুন পৌর আইনে কাউন্সিলার পদপ্রার্থীদের কতকগুলি যোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলি হল—
১. অন্তত ২১ বছর বয়স্ক হতে হবে।
২. পৌরসভার কোনো লাভজনক পদে বা চাকরিতে থাকা যাবে না এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার অথবা পৌরসভা থেকে বেতন গ্রহণ করা যাবে না।
২২। পৌরসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ কত বছর? পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার নির্বাচিত প্রধানের পদের নাম লেখো।
পৌরসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর।
পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার নির্বাচিত প্রধানের পদের নাম হল চেয়ারম্যান।
২৩। পৌরসভার চেয়ারম্যানের দুটি কাজ আলোচনা করো।
চেয়ারম্যানের কাজ: পৌরসভার প্রধান হিসেবে চেয়ারম্যানকে যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। এর মধ্যে দুটি কাজ হলো—
১. চেয়ারম্যান ‘স-পরিষদ চেয়ারম্যানের’ ভাইস চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়াও নিয়োজিত সদস্যদের মধ্যে তিনি দায়িত্ব বণ্টন করে দেন।
২. পৌরসভা বা কাউন্সিলার পরিষদ এবং স-পরিষদ চেয়ারম্যানের সভায় তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২৪। বরো কমিটি কীভাবে গঠিত হয়?
তিন লক্ষ বা তার অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরসভাগুলিতে একটি করে বরো কমিটি গঠন করা হয়। পৌরসভা নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলারদের প্রথম সভায় ওয়ার্ডগুলিকে ৫টি বরোতে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি বরোর জন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের নিয়ে একটি করে বরো কমিটি গঠন করা হয়।
২৫। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বরো কমিটির সদস্য কারা? বরো কমিটির কাজ কী?
কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বরো কমিটি যে সমস্ত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়, সেই সমস্ত ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলাররা বরো কমিটির সদস্য হয়।
বরো কমিটির কাজ: নিজ এলাকার পৌর কার্যাবলি দেখাশোনা করা এবং স-পরিষদ মেয়রের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করা।
২৬। পৌরসভার দুটি আবশ্যিক কাজ উল্লেখ করো। অথবা, পৌরসভার অবশ্যকরণীয় দুটি কাজ উল্লেখ করো।
পৌরসভার আবশ্যিক কাজগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
১. বেআইনি গৃহনির্মাণ বন্ধ করা।
২. পয়ঃপ্রণালী ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
২৭। পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভার আয়ের দুটি উৎস উল্লেখ করো।
আয়ের উৎস: ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন অনুযায়ী কয়েকটি বিষয়ের উপর কর আরোপের মাধ্যমে পৌরসভা অর্থ উপার্জন করতে পারে। পৌরসভার দুটি আয়ের উৎস হল—
১. জমি, বাড়ির উপর আরোপিত সম্পত্তি কর।
২. ছোটো যানবাহন, ঠেলাগাড়ি, পশুবাহিত গাড়ি, রিক্সা প্রভৃতির রেজিস্ট্রেশনের উপর ধার্য কর।
২৮। কর্পোরেশনের কাউন্সিলার হতে গেলে কোন কোন যোগ্যতা থাকতে হবে?
কাউন্সিলারদের যোগ্যতা: কর্পোরেশনের কাউন্সিলার পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থীর বিশেষ কিছু যোগ্যতা থাকতে হয়, যেমন—
১. প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে।
২. নির্বাচন তালিকায় প্রার্থীর নাম অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে।
২৯। কর্পোরেশনের সভা কে পরিচালনা করেন?
কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কর্পোরেশনের সভা পরিচালনা করেন।
৩০। স-পরিষদ মেয়রের মোট সদস্যসংখ্যা কত?
স-পরিষদ মেয়রের মোট সদস্যসংখ্যা হল ১২ জন।
৩১। স-পরিষদ মেয়র কাদের নিয়ে গঠিত হয়? কর্পোরেশনের স-পরিষদ মেয়রের সদস্যদের কে মনোনীত করেন?
স-পরিষদ মেয়র গঠিত হয়— একজন মেয়র, একজন ডেপুটি মেয়র এবং কর্পোরেশনের অনধিক ১০ জন নির্বাচিত সদস্যকে নিয়ে।
কর্পোরেশনের স-পরিষদ মেয়রের সদস্যদের মনোনীত করেন মেয়র। মেয়র কর্তৃক ডেপুটি মেয়র এবং কাউন্সিলারদের মধ্যে থেকেই ১০ জন মেয়র পরিষদের সদস্যগণ নির্বাচিত হন।

৩২। মেয়রকে কে নির্বাচন করেন? মেয়রের কার্যকালের মেয়াদ কত?
নির্বাচিত কাউন্সিলাররা কর্পোরেশনের প্রথম সভায় নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে মেয়র হিসেবে নির্বাচন করে থাকে।
একজন মেয়রের কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর। তবে মৃত্যু, অপসারণ, পদত্যাগ নানা কারণে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই মেয়রের পদ শূন্য হতে পারে।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতিসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| জাতি এবং জাতীয়তাবাদ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন