ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Organs of the Indian Governments (4th Chapter) Question Answer Class 12 Semester IV

১। অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করো।
ভারতের যে-কোনো একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।
ভূমিকা: ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার রীতি অনুসারে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর এবং রাজ্য প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
অঙ্গরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা:
অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে তাঁকে রাজ্য আইনসভার সদস্য হতে হয়। সংবিধানের ১৬৪ (১) নং ধারানুযায়ী রাজ্যপাল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা বা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকালের স্থায়িত্ব ৫ বছর।
নিম্নে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি এবং পদমর্যাদা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল-
① মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি: মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলিগুলি আলোচনা করা হল-
- মুখ্যমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারণ, নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর করার মূল দায়িত্ব পালন করেন।
- মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের মাধ্যমে রাজ্য আইনসভার অধিবেশন আহবান করতে ও স্থগিত রাখতে পারেন।
- মুখ্যমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদীয় শাখার মধ্যে ঐকা বজায় রাখা, দলীয় নীতিকে জনপ্রিয় করে ব্যাখ্যা করা ও তার রূপায়ণ ঘটানো প্রভৃতি।
- মন্ত্রীসভায় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখা, সরকারি নীতির সমন্বয়সাধন ঘটানো প্রভৃতি কাজগুলি মুখ্যমন্ত্রী দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন।
② মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা : রাজ্য আইনসভার প্রকৃত শাসক হলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপালকে তাঁর কার্যপরিচালনার জন্য সর্বদা মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর পদচ্যুতি সংক্রান্ত বিষয়টি রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত হলেও বাস্তবে এবিষয়ে তিনি তাঁর স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী যে দলের সেই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের উপর মুখ্যমন্ত্রীর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে রাজ্যপাল কোনোভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করতে পারেন না। তবে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কতখানি ক্ষমতাশালী হবে তা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন-
- মুখ্যমন্ত্রী যে রাজনৈতিক দলের নেতা বা নেত্রী সেই দলের দলীয় শৃঙ্খলা ও সংহতি।
- সেই রাজনৈতিক দলের নিজেদের মধ্যে কোনো উপদলীয় বা গোষ্ঠীগত কোন্দল আছে কি না।
- কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন কি না।
- কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমমতাদর্শ উপস্থিত কি না।
- কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় আছে কি না।
- মুখ্যমন্ত্রী জোট সরকারের সদস্য কি না।
- মুখ্যমন্ত্রীর যোগ্যতা ও গুণাবলি।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা বহুলাংশে তাঁর কর্মদক্ষতা ও গুণগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। পদাধিকারী ব্যক্তি যদি যোগ্য, বিজ্ঞ ও সুদক্ষ প্রশাসক হন তাহলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রভৃত মর্যাদার অধিকারী হন। রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, বিচক্ষণতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা মুখ্যমন্ত্রীর প্রভাবের পরিধিকে প্রসারিত করে।
২। রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বর্ণনা করো।
অথবা, ভারতের কোন রাজনৈতিক প্রধান স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ভোগ করেন?
রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
রাজ্যপালের নিজস্ব বিচারবিবেচনা অনুসারে কাজ করার ক্ষমতাকে বলা হয় স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীসভার পরামর্শ গ্রহণ করতে হয় না। কিন্তু স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে সংবিধানে বিস্তারিতভাবে কোনোকিছুর উল্লেখ নেই। যেসব ক্ষেত্রে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে। পারে সেগুলি হল-
(i) অসমের উপজাতি অঞ্চাল প্রশাসন পরিচালনা:
অসমের উপজাতি অঞ্চলে প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ভোগ করেন। অসম সরকার কর্তৃক জেলাপরিষদকে প্রদেয় খনিজ লাইসেন্স-এর রয়্যালটি সংক্রান্ত নিষ্পত্তির ব্যাপারে রাজ্যপাল স্ববিবেচনামতো সেই বিরোধের মীমাংসা করে থাকেন।
(ii) পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসক :
সংবিধানের ২৩৯(২) নং ধারানুসারে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীসভার পরামর্শ ছাড়াই কোনো রাজ্যের রাজ্যপালকে পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করেন। সাধারণত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোনো উপযুক্ত প্রশাসক না থাকলে রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করেন। এক্ষেত্রেও রাজ্যপাল মন্ত্রীসভার সহযোগিতা ও পরামর্শ ছাড়াই স্বেচ্ছাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারেন।
(iii) নাগাল্যান্ডে আঞ্চলিক পরিষদ গঠন:
নাগাল্যান্ড বিদ্রোহী নাগাদের কার্যকলাপ যতদিন চলবে ততদিন ওই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাগাল্যান্ডের রাজ্যপালের বিশেষ দায়িত্ব থাকবে। সংবিধানের ৩৭১ (ক) নং ধারানুযায়ী নাগাল্যান্ডের তিয়েনসান জেলার আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের ব্যাপারে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে রাজ্যপালকে মন্ত্রীপরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হয়। মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করা বা না করা সম্পূর্ণ রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ব্যাপার। এই বিষয়ে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
(iv) মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চলের কমিটির তত্ত্বাবধান: সংবিধানের ৩৭১ (গ) নং ধারা অনুসারে মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চল থেকে নির্বাচিত বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি পার্বতা অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে পারেন। এই কমিটির কাজকর্ম তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের উপর ন্যস্ত করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির অনুরোধে রাজ্যপাল ওই অঞ্চলের প্রশাসন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করে থাকেন। এক্ষেত্রেও রাজ্যপাল স্ববিবেচনামতো কার্য সম্পাদন করেন।
(v) গুজরাট ও মহারাষ্ট্র রাজ্যের আঞ্চলিক উন্নয়ন: রাষ্ট্রপতি গুজরাট ও মহারাষ্ট্র রাজ্য দুটির আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য দুটির রাজ্যপালকে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন [৩৭১(২) নং ধারা]। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন।
(vi) রাষ্ট্রপতির কাছে পাক্ষিক প্রতিবেদন: রাজ্য প্রশাসন সম্পর্কে রাজ্যপাল যে পাক্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন, তা তিনি নিজের বিবেচনা অনুসারে প্রেরণ করে থাকেন।
উপসংহার: পরিশেষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিচারবিশ্লেষণ করে বলা যায় কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির মতোই তিনিও প্রভৃত ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হয়। অবশ্য রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা কিছুটা হলেও তাকে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী করে তুলেছে একথা অস্বীকার করার অবকাশ নেই।
৩। ভারতীয় পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
অথবা, ভারতের সংসদের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।
অথবা, পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি আলোচনা করো।
ভারতীয় পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি: ভারতীয় সংবিধানের Part-V অংশে পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলিগুলি হল-
(i) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা : ভারতীয় সংবিধানের সপ্তম তফসিলে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতাকে তিনটি তালিকার মধ্য দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। যথা- কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজা তালিকা ও যুগ্ম তালিকা। কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয় পার্লামেন্ট এককভাবে আইন প্রণয়ন করতে পারে। রাজা তালিকাভুক্ত দুই বা ততোধিক রাজ্যের অনুরোধে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করতে পারে এবং যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয় কেন্দ্র ও রাজ্য আইনসভা যুগ্মভাবে আইন প্রণয়নের অধিকারী।
(ii) অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা: সংবিধান অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত লোকসভার সদস্যদের হাতে অর্পিত হয়েছে। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার কার্যত কোনো ক্ষমতা নেই। যাইহোক সরকারি আয়ব্যয় ব্যবস্থা পার্লামেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য লোকসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি রয়েছে। এগুলি হল সরকারি গাণিতিক কমিটি এবং আনুমানিক ব্যয় পরীক্ষা কমিটি।
(iii) শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ : সংবিধান অনুসারে সমগ্র মন্ত্রীসভাকে তার নীতি ও কাজকর্মের জন্য পার্লামেন্টের কাছে বিশেষত লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। পার্লামেন্ট আরও যেসব উপায়ে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে রয়েছে অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, রাষ্ট্রপতির ভাষণে উল্লিখিত সরকারি নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে তর্কবিতর্ক, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের ত্রুটিবিচ্যুতির উপর সমালোচনা, বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রস্তাব উত্থাপন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিষয়ে আলোচনার জন্য মূলতুবি প্রস্তাব আনা, দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপন, নিন্দাসূচক প্রস্তাব বা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা, পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির পেশ করা রিপোর্টের উপর বিতর্ক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।
(iv) বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা : আইনসভার অবমাননা অথবা অধিকার ভঙ্গের অভিযোগে পার্লামেন্টের সদস্য বা সদস্য নন এমন যে-কোনো ব্যক্তিকে সংসদ শাস্তি দিতে পারে। পার্লামেন্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হাইকোর্ট স্থাপন, কোনো অধস্তন আদালতকে হাইকোর্টের মর্যাদায় উন্নীত করতে এবং কোনো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত হাইকোর্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।
(v) নতুন রাজ্য গঠন ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে উভয় কক্ষই সমক্ষমতার অধিকারী। সংবিধানের ৩নং ধারা অনুসারে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন রাজ্য গঠন করতে পারে, প্রয়োজন হলে কোনো রাজ্যের পুনর্গঠন করতে পারে বা কোনো রাজ্য থেকে কোনো অংশকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং দুই ও তার অধিক রাজ্যকে যুক্ত করতে পারে। এ ছাড়া রাজ্যের সীমানার হ্রাসবৃদ্ধি বা নাম পরিবর্তনের ক্ষমতাও পার্লামেন্টের রয়েছে।
অন্যান্য ক্ষমতা: সংবিধানের ১৬৯(১) নং ধারা অনুসারে পার্লামেন্ট কোনো রাজ্য আইনসভার দ্বিতীয় কক্ষের প্রবর্তন বা বিলোপ সাধন করে থাকে। সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বিধানসভার মোট সদস্যের অধিকাংশ এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে পাস হওয়া প্রস্তাবের উপর। ভিত্তি করে পার্লামেন্ট এই সিদ্ধান্ত নেয়।
৪। লোকসভার অধ্যক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
অথবা, লোকসভার স্পিকারের ক্ষমতা আলোচনা করো।
স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি: স্পিকার হলেন লোকসভার সভাপতি। সাধারণভাবে তাঁকে যেসমস্ত দায়িত্বগুলি পালন করতে হয়, সেগুলি হল-
লোকসভার প্রশাসনিক কার্যপরিচালনা
লোকসভায় কোন্ প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করা হবে, কোন্ নোটিশ আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হবে, কী ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন্ সংশোধনী প্রস্তাব বৈধ বলে বিবেচিত হবে ইত্যাদি বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এ ছাড়াও সভার কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত সমস্ত নিয়মকানুনের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান, কোনো আলোচনা বন্ধ করার প্রস্তাব প্রভৃতি ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে স্পিকারের কোনো সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো যায় না। এই বিষয়ে আদালতের কোনো এক্তিয়ার নেই।
সভা পরিচালনা
সুশৃঙ্খলভাবে সভা পরিচালনা করা স্পিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। সভায় বক্তৃতা দেওয়ার ব্যাপারে এবং দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য প্রতি সদস্যদের অবশ্যই স্পিকারের কাছে অনুমতি নিতে হয়। সদস্যদের বক্তৃতায় একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, অপ্রাসঙ্গিক বা অশালীন মন্তব্য এবং আপত্তিকর আচরণ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি স্পিকার বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখেন। সভায় সব সদস্য যাতে সমান সুযোগ পেতে পারেন সেই দিকেও স্পিকারের লক্ষ থাকে। সংসদীয় রীতিবিরোধী আচরণ দেখলে তিনি কোনো সদস্যকে তিরস্কার করতে এমনকি শাস্তি প্রদানও করতে পারেন। লোকসভায় বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য যে-কোনো সদস্যকে সভা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ স্পিকার দিতে পারেন। সভায় তুমুল বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে স্পিকার সাময়িকভাবে সভা মুলতুবি করে দিতে পারেন।
অর্থবিল সম্পর্কিত ক্ষমতা
অর্থবিল নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে থাকেন। তাছাড়া লোকসভায় অনুমোদনের পর অর্থবিলটিকে যখন রাজ্যসভায় পাঠানো হয় তখন ওই বিলটি যে অর্থবিল সেসম্পর্কে স্পিকার একটি প্রমাণপত্র দিয়ে থাকেন।
লোকসভা ও রাষ্ট্রপতির সংযোগরক্ষা
লোকসভা ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে তিনিই সংযোগ রক্ষা করে থাকেন। রাষ্ট্রপতির দেওয়া বাণী, বক্তব্য, বার্তা ইত্যাদি স্পিকার নিজে লোকসভায় উপস্থাপিত করেন। অন্যদিকে আবার রাষ্ট্রপতির কাছে লোকসভার যাবতীয় তথ্য স্পিকারের মাধ্যমেই পেশ করা হয়।
কোরাম সংক্রান্ত ক্ষমতা লোকসভার কার্য
পরিচালনা করার জন্য আবশ্যিক সর্বনিম্ন সদস্যদের উপস্থিতি তথা মোট সদস্যের মধ্যে থেকে এক-দশমাংশ সদস্য উপস্থিত না থাকলে লোকসভার কার্য স্পিকার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন।
যৌথ অধিবেশান সভাপতিত্ব
লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে কোনো বিল সম্পর্কে বিরোধ দেখা দিলে এই বিরোধ মীমাংসার জন্য রাষ্ট্রপতি যৌথ অধিবেশন আহবান করেন এবং স্পিকার সেই অধিবেশনগুলিতে সভাপতিত্ব করে থাকেন।
উপসংহার
উক্ত কার্যাবলির প্রেক্ষিতে বলা যায় ভারতের স্পিকার প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। তবে তিনি দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারেন না।
৫। ভারতের সুপ্রিমকোর্টের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
অথবা, ভারতের সুপ্রিমকোর্টের গঠন ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
সুপ্রিমকোর্টের গঠন: মূল সংবিধানের ১২৪নং ধারা অনুসারে সুপ্রিমকোর্ট ১ জন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য কয়েকজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমানে ১ জন প্রধান বিচারপতি এবং সর্বাধিক ৩৩ জন অন্যান্য বিচারপতি-সহ মোট জন বিচারপতি নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট গঠিত বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচাপতি হলেন-ভূষণ গাভাই।
সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
সুপ্রিমকোর্টের কর্মক্ষেত্রের মূলত চারটি এলাকা রয়েছে। এই এলাকাগুলির মধ্য দিয়েই সুপ্রিমকোর্ট তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে। এই এলাকাগুলি হল যথাক্রমে-
① মূল এলাকা: ভারতীয় সংবিধানের ১৩১নং ধারা অনুসারে সুপ্রিমকোর্টের মূল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত বিরোধের মীমাংসা হয়ে থাকে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনোরকম বিরোধ সৃষ্টি হলে তার নিষ্পত্তির ক্ষমতা সুপ্রিমকোর্টের মূল এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
② আপিল এলাকা: ভারতের যে-কোনো রাজ্যের হাইকোর্টের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা যায়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল এলাকাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়- সংবিধানের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত আপিল, দেওয়ানি আপিল, ফৌজদারি আপিল এবং বিশেষ অনুমতিসূত্রে আপিল।
③ পরামর্শদান এলাকা : সংবিধানের ১৪৩ (১) নং ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বজনীন গুরুত্ব।। রয়েছে এমন কোনো আইন বা তথ্য সংক্রান্ত প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন। তবে সরকার সুপ্রিমকোর্টের অভিমত অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকেন না।
④ নির্দেশ, আদেশ বা লখ জারি করার এলাকা: সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি সংরক্ষণের দায়িত্ব সুপ্রিমকোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা বলবৎ ও কার্যকর করার জন্য নাগরিকরা সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করতে পারে।
উপসংহার: ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনার শেষে এর ক্ষমতার পরিধি সহজেই অনুমেয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আল্লাদি কৃত্বস্বামী আয়ারের ভাষায় বলা যায় যে, কাজের পরিধি ও ক্ষমতার বৈচিত্র্যের দিক থেকে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের অবস্থান এক ও অদ্বিতীয়।
৬। জনস্বার্থ মামলার সুফলগুলি আলোচনাকরো।
অথবা, জনস্বার্থ মামলার গুরুত্ব বা তাৎপর্য আলোচনা করো।
জনস্বার্থ মামলার সুফল: ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় জনস্বার্থ মামলার কিছু সুফল লক্ষণীয়। যথা-
(i) মানবাধিকার রক্ষার সহায়ক: জনস্বার্থ মামলা মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে সমাজের প্রান্তিক মানুষজনের অধিকার লঙ্ঘিত হলে জনস্বার্থ মামলায় বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। যেমন, হুসেনারা খাতুন বনাম বিহার রাজ্য মামলায় বিচারাধীন বন্দিদের দুর্দশার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
(ii) সামাজিক পরিবর্তন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার: অনেকে মনে করেন, PIL বা জনস্বার্থ মামলা সামাজিক পরিবর্তন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। যেমন- পরমানন্দ কাটারা বনাম ভারতীয় ইউনিয়ন মামলায় আদালত রায় দেয় যে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বাধ্যতামূলক কর্তব্য। এক্ষেত্রে পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করলে হবে না।
(iii) বিনামূল্যে ন্যায়বিচার পৌঁছ দেওয়া: জনস্বার্থ বিষয়ক মামলা সাধারণ মানুষের কাছে একরকম বিনাখরচে বা ন্যূনতম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এমন দৃষ্টান্তও দেখা গেছে যেখানে শুধুমাত্র একটি পোস্টকার্ডে পাঠানো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়েছে।
(iv) সরকারি সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ: জনস্বার্থ মামলা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে তাদের ক্ষমতার সীমানার মধ্যে থেকে কাজ করতে বাধ্য করে।
(v) সরকারি দফতারর উপর নজরদারি : জনস্বার্থ বিষয়ক মামলায় বিচার বিভাগ কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি দফতরগুলির কাজকর্মের উপরে। নজর রাখতে পারে। তাছাড়া সরকারি দফতরগুলির কাজকর্ম যাতে সঠিক পথে চালিত হতে পারে। সেসম্পর্কে নির্দেশিকাও জারি করতে পারে।
(vi) সরকারি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করা: জনস্বার্থ মামলায় বিচার বিভাগ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রশাসনকে তাদের কাজকর্ম যথাযথভাবে পালন করতে নির্দেশ দেয়। তার পাশাপাশি জনগণের উপরে সরকারি প্রশাসনের যে একটা দায়বদ্ধতা আছে তাও মনে করিয়ে দেয়। এ ছাড়া তা পালন করতেও বাধ্য করে।
উপরোক্ত সুফলগুলি ছাড়াও জনস্বার্থ মামলার ফলে সরকারি দুর্নীতির বিরোধিতা করা যায় এবং জনসাধারণের মধ্যে আইনি ও সামাজিক সচেতনতার প্রসার ঘটানো যায়।
সুতরাং বলা যায়, জনস্বার্থ মামলা একটি কার্যকর আইনগত হাতিয়ার যা সমাজে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের উপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।
কনজিউমার বা উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য ক্রেতা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়, সেই আইন অনুযায়ী ক্রেতা আদালত গঠিত হয়।
সংজ্ঞা: যদি কোনো ক্রেতা কোনো সামগ্রী ক্রয়ের পর প্রতারিত হয়, তাহলে সেই ক্রেতা সঠিক পরিসেবা পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়। ক্রেতা যাতে সঠিক পরিসেবা পায় তার জন্য ভারত সরকার যে আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে তাকে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত (Consumer Court) রূপে চিহ্নিত করা হয়।
গঠন: ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষার জন্য তিনটি স্তরে তিন ধরনের ক্রেতা আদালত গঠন করা হয়েছে।
জেলা স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত: রাজ্য সরকার জেলা স্তরের ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যে সংস্থা গঠন করে, তা জেলা ক্রেতা আদালত নামে পরিচিত।
রাজ্য স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত : ক্রেতা আদালতের মধ্যবর্তী স্তরটি হল রাজ্য স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।
জাতীয় স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত : ক্রেতা আদালতের সর্বোচ্চ স্তরটি হল-জাতীয় স্তর। এই স্তরের আদালতের নাম হল জাতীয় ক্রেতা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন, যা জাতীয় কমিশন নামে পরিচিত।
উদ্দেশ্য: ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের মূল উদ্দেশ্য হল ক্রেতাদের সুরক্ষা প্রদান। এককথায় কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতার অভিযোগের আইনসম্মত প্রতিকার বা নিষ্পত্তি বিধানই হল ক্রেতা আদালতের প্রধান উদ্দেশ্য।
বৈশিষ্ট্য: ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের নিজস্ব কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
- ত্রিস্তর বিন্যস্ত : ক্রেতারা বিক্রেতার নিকট থেকে ক্রয় করা পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে, সত্বর তার প্রতিবিধানের জন্য ক্রেতা সুরক্ষা আইনে ত্রিস্তরবিশিষ্ট আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
- আইন বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন নেই: ক্রেতারা এইরূপ আদালতে এককভাবে নালিশ জানানোর অধিকার ভোগ করে থাকে। অর্থাৎ অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য কোনো আইন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয় না।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- উপাভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত করা: ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হল উপভোক্তার স্বার্থকে সুরক্ষিত করা। ক্রেতাগণ বিক্রেতার নিকট থেকে কোনো জিনিস বা পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের করলে সত্বর তার প্রতিবিধানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে ক্রেতা সুরক্ষা আইন (ত্রিস্তরীয় আইন) যথা-কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- উপভোক্তাদের সচেতন করা: ক্রেতারা কীভাবে অসৎ ব্যবসায়ীদের কবল থেকে মুক্ত থাকতে পারে, সেবিষয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত সচেতনতা শিবির ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষদের সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমানে ক্রেতাদের সুরক্ষার্থে এই আদালত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর