সত্যাপেক্ষক ও সত্যসারণি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন প্রথম অধ্যায় | Sotyapekkhok O Sotyosaroni Queastion Answer | Class 12 4th Semester Philosophy

১। সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা কী
সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য: যে যুক্তিবিজ্ঞান মূলত সংকেত বা প্রতীকের সাহায্যে যুক্তির আকার ও বৈধতা বিচার করে, তাকে সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
1. সংকেত বা প্রতীকের ব্যবহার: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে যুক্তি ও বচন প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন সংকেত বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়।
2. গ্রাহক বা চলকের ব্যবহার: এখানে গ্রাহক বা চলকের সাহায্যে যুক্তি ও বচনের আকার প্রকাশ করা হয়।
3. ধ্রুবকের ব্যবহার: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে বিভিন্ন ধ্রুবক বা নির্দিষ্ট অর্থবোধক প্রতীক ব্যবহার করা হয়।
4. আকারসর্বস্ব বিজ্ঞান: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান মূলত আকারসর্বস্ব বিজ্ঞান। কারণ, এখানে যুক্তির আকারগত সত্যতা বা বৈধতা বিচার করা হয়; বস্তুগত বা বাস্তব সত্যতা নয়।
সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা: গতানুগতিক বা অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিজ্ঞানে মূলত নিরপেক্ষ বচনের সত্যতা এবং নিরপেক্ষ ন্যায়ের বৈধতা বিচার করা হয়। কিন্তু সাপেক্ষ যুক্তির বৈধতা নির্ণয় এবং সাধারণ ভাষার অস্পষ্টতা দূর করার ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। এটি গতানুগতিক যুক্তিবিজ্ঞানের পরিশীলিত, পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত রূপ। এর প্রয়োজনীয়তাগুলি হল—
1. যুক্তির স্পষ্টতা ও নির্ভুলতা: সাধারণ ভাষায় যুক্তি প্রকাশ করলে ভাষার অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থতার কারণে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে। সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে এই অস্পষ্টতা দূর করে এবং যুক্তিকে স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করে।
2. যুক্তির গঠনগত বিশ্লেষণ: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের সাহায্যে যুক্তির গঠন বা কাঠামো সঠিক কি না, তা নির্ণয় করা যায়। ফলে যুক্তির বৈধতা বিচার করা সহজ হয়। কারণ, একটি বৈধ যুক্তিকাঠামোর অন্তর্গত সমস্ত যুক্তিই বৈধ হয়।
3. গণিত ও কম্পিউটারে প্রয়োগ: গণিত ও কম্পিউটারের বিভিন্ন যুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানে সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অ্যালগরিদম তৈরি, প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা গঠন এবং ডেটাবেসের যুক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
4. আন্তর্জাতিক ভাষা বিনিময়ের মাধ্যম: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান প্রতীকের সাহায্যে জটিল যুক্তিকে সংক্ষেপে ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করে। প্রতীকের অর্থ নির্দিষ্ট থাকায় ভাষাগত পার্থক্য সত্ত্বেও যুক্তির অর্থ সহজে বোঝা যায়। তাই এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহায়ক।
উপসংহার: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান যুক্তির আকারগত বৈধতা নির্ণয়, ভাষার অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং গণিত ও কম্পিউটারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তির সঠিক প্রয়োগে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি গতানুগতিক যুক্তিবিজ্ঞানের একটি উন্নত ও পরিমার্জিত রূপ।
২। সংকেত কাকে বলে? সংকেতের প্রকারভেদগুলি আলোচনা করো।
সংকেত: সংকেত বা প্রতীক হল প্রতিনিধিত্বকারী চিহ্ন। যখন কোনো বাক্য, বচন বা বাক্য কিংবা বচনের কোনো অংশকে নির্দেশ বা প্রকাশ করার জন্য একটি লিখিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তখন সেই লিখিত চিহ্নকে সংকেত বা প্রতীক বলে। যেমন—লাল আলো দেখলে ট্রেন থেমে যায় এবং সবুজ আলো দেখলে ট্রেন চলে। এখানে ‘লাল আলো’ ট্রেন থামার এবং ‘সবুজ আলো’ ট্রেন চলার সংকেত বা প্রতীক।
সংকেতের প্রকারভেদ: সংকেত বা প্রতীককে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা— (১) শাব্দিক প্রতীক এবং (২) অশাব্দিক প্রতীক।
১. শাব্দিক প্রতীক: যে প্রতীকের সাহায্যে কোনো বিষয়, বস্তু, গুণ বা ক্রিয়াকে বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয়, তাকে শাব্দিক প্রতীক বলে। যেমন—বই, টেবিল, চেয়ার প্রভৃতি হল বস্তুবাচক প্রতীক। সততা, শঠতা, নিষ্ঠুরতা প্রভৃতি হল গুণবাচক প্রতীক। আবার দৌড়ানো, খেলা, বসা প্রভৃতি হল ক্রিয়াবাচক প্রতীক। বাস্তব জীবনে আমরা এই ধরনের প্রতীক সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি।
২. অশাব্দিক প্রতীক: শব্দ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত প্রতীককে অশাব্দিক প্রতীক বলে। যেমন—ইংরেজি বর্ণমালার p, q, r, s অথবা বাংলা বর্ণমালার প, ফ, ব, ভ প্রভৃতি বর্ণ হল অশাব্দিক প্রতীক। এ ছাড়া গণিতের ‘+’, ‘−’, ‘×’, ‘÷’ প্রভৃতি চিহ্নও অশাব্দিক প্রতীক। অশাব্দিক প্রতীককে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা— (ক) গ্রাহক প্রতীক এবং (খ) ধ্রুবক প্রতীক।
(ক) গ্রাহক প্রতীক: কোনো পদ বা বচনের পরিবর্তে যে প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে গ্রাহক প্রতীক বলে। একে সংক্ষেপে গ্রাহক বা চলকও বলা হয়। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে এর অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে বলে একে অস্থায়ী সংকেতও বলা হয়। যুক্তিবিজ্ঞানে গ্রাহক প্রতীক তিন প্রকার। যথা—
1. পদগ্রাহক প্রতীক: যে প্রতীক কোনো পদের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়, তাকে পদগ্রাহক প্রতীক বলে। যেমন—‘সকল মানুষ হয় বিচারশীল’ বচনে ‘মানুষ’ পদের পরিবর্তে S এবং ‘বিচারশীল’ পদের পরিবর্তে P ব্যবহার করা যায়। তাই এখানে S ও P হল পদগ্রাহক প্রতীক।
2. সংখ্যাগ্রাহক প্রতীক: গণিতে যেসব গ্রাহক প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তাদের সংখ্যাগ্রাহক প্রতীক বলে। যেমন—a, b, x, y, z প্রভৃতি। বিভিন্ন গাণিতিক সূত্রেও এই প্রতীক ব্যবহৃত হয়। যেমন—\(a^2+2ab+b^2\)।
3. বচনগ্রাহক প্রতীক: কোনো বচনের পরিবর্তে যে প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বচনগ্রাহক প্রতীক বলে। সরল বচন প্রকাশ করার জন্য সাধারণত ইংরেজি বর্ণমালার বড়ো হাতের অক্ষর ব্যবহার করা হয়। যেমন—‘রাম সৎ’ বচনের পরিবর্তে R ব্যবহার করা যায়।
(খ) ধ্রুবক প্রতীক: যেসব প্রতীকের অর্থ সুনির্দিষ্ট এবং স্থান, কাল ও পাত্রভেদে পরিবর্তিত হয় না, তাদের ধ্রুবক প্রতীক বলে। এগুলিকে স্থায়ী সংকেতও বলা হয়। গণিতে ‘+’, ‘−’, ‘×’, ‘÷’ প্রভৃতি ধ্রুবক প্রতীক। যুক্তিবিজ্ঞানে ‘~’, ‘∨’, ‘.’, ‘’, ‘’ প্রভৃতি প্রতীকও ধ্রুবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধ্রুবক প্রতীককে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
1. একক ধ্রুবক বা একক স্থায়ী সংকেত: যে ধ্রুবক প্রতীক একটি মাত্র বচনের ওপর কাজ করে, তাকে একক ধ্রুবক বলে। যেমন—‘~’ (নঞর্থক চিহ্ন)।
2. দ্বি-ধ্রুবক বা দ্বি-স্থায়ী সংকেত: যে ধ্রুবক প্রতীক দুটি বচনের ওপর কাজ করে, তাকে দ্বি-ধ্রুবক বলে। যেমন—‘∨’ , ‘.’, ‘’, ‘’।
উপসংহার: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে বিভিন্ন সংকেত বা প্রতীকের সাহায্যে পদ, বচন ও যুক্তিকে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়। গ্রাহক ও ধ্রুবক প্রতীকের ব্যবহার যুক্তির গঠন বিশ্লেষণ এবং বৈধতা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩। সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে প্রতীক ব্যবহারের গুরুত্ব কী? আধুনিক যুক্তিবিজ্ঞানে প্রতীক ব্যবহারের সুবিধাগুলি লেখো।
প্রতীকের গুরুত্ব: যুক্তি বিভিন্ন বচনের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যুক্তি বা বচনে ব্যবহৃত সাধারণ ভাষার শব্দ অনেক সময় অস্পষ্ট, অনির্দিষ্ট ও দুর্বোধ্য হয়। ফলে যুক্তির আকার নির্ধারণ এবং তার বৈধতা বিচার করতে অসুবিধা হয়। এই সমস্যাগুলি দূর করার জন্য সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে যৌক্তিক সংকেত বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। প্রতীকের সাহায্যে সাধারণ ভাষাকে আরও স্পষ্ট, সুশৃঙ্খল ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা যায়।
আধুনিক যুক্তিবিজ্ঞানে প্রতীক ব্যবহারের সুবিধা: প্রতিটি বিজ্ঞানেই বিষয়বস্তু প্রকাশের জন্য কমবেশি প্রতীক ব্যবহার করা হয়। যে বিজ্ঞান যত বেশি বিমূর্ত, সেই বিজ্ঞানে প্রতীকের ব্যবহার তত বেশি। গণিতশাস্ত্রের বিষয়বস্তু বিমূর্ত, বিস্তৃত ও জটিল হওয়ায় সেখানে প্রতীকের ব্যবহার অপরিহার্য। একইভাবে সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানেও প্রতীকের ব্যবহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান সুবিধাগুলি হল—
1. যুক্তির সরলীকরণ: প্রতীক ব্যবহারের ফলে দীর্ঘ ও জটিল বাক্যকে সংক্ষেপে প্রকাশ করা যায়। এর ফলে যুক্তির মূল বক্তব্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয় এবং যুক্তির কাঠামো সহজে বোঝা যায়।
2. বচনাকারের স্পষ্টীকরণ: প্রতীকের সাহায্যে বিভিন্ন বচনকে নির্দিষ্ট আকারে প্রকাশ করা যায়। এর ফলে জটিল বুদ্ধি প্রয়োগ না করেও নিয়ম অনুসারে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হয়।
3. ভাষাগত অস্পষ্টতা দূরীকরণ: সাধারণ ভাষায় অনেক সময় একই শব্দের একাধিক অর্থ হতে পারে। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষার এই অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূর করা যায়। ফলে বচনের অর্থ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হয়।
4. যুক্তির বৈধতা বিচার: সাধারণ ভাষার অস্পষ্টতা যুক্তির বৈধতা নির্ণয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন সত্যাপেক্ষক যোজক এবং বচনগ্রাহক প্রতীক (p, q, r, s) ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তির বৈধতা সহজে বিচার ও প্রমাণ করা যায়।
উপসংহার: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে প্রতীকের ব্যবহার যুক্তিকে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও নির্ভুল করে তোলে। পাশাপাশি ভাষার অস্পষ্টতা দূর করে যুক্তির গঠন বিশ্লেষণ এবং তার বৈধতা নির্ণয়কে সহজ করে।
৪। বচন থেকে কীভাবে বচনাকার পাওয়া যায়? আলোচনা করো। বচন ও বচনাকারের পার্থক্য লেখো।
বচন থেকে বচনাকার: প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর দুটি দিক রয়েছে। একটি হল আকারগত দিক এবং অন্যটি হল উপাদানগত দিক। একইভাবে, প্রতিটি বচনেরও দুটি দিক রয়েছে। একটি হল আকার এবং অন্যটি হল উপাদান। কোনো বচনের আকার বলতে তার গঠন বা কাঠামোকে বোঝায়। অন্যদিকে, উপাদান বলতে বচনটির অর্থ বা বিষয়বস্তুকে বোঝায়।
যেমন—‘সকল মানুষ হয় বুদ্ধিমান’ একটি বচন। এখানে ‘মানুষ’ হল উদ্দেশ্য পদ এবং ‘বুদ্ধিমান’ হল বিধেয় পদ। ‘মানুষ’-এর পরিবর্তে S এবং ‘বুদ্ধিমান’-এর পরিবর্তে P বর্ণপ্রতীক বসালে বচনটির আকার হয়—‘সকল S হয় P’। এখানে S ও P যথাক্রমে উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের প্রতীক। সাধারণত বর্ণপ্রতীকের সাহায্যে বচনাকার গঠিত হয় এবং বর্ণপ্রতীকের স্থানে নির্দিষ্ট পদ বসালে বচন পাওয়া যায়। তাই এই বর্ণপ্রতীকগুলিকে পদগ্রাহক বলা হয়।
সুতরাং, একটি বচন থেকে একটি বচনাকার পাওয়া যায়, কিন্তু একটি বচনাকার থেকে অসংখ্য বচন পাওয়া সম্ভব।
বচন ও বচনাকারের পার্থক্য: বচন ও বচনাকারের পার্থক্যগুলি হল—
| পার্থক্যের বিষয় | বচন | বচনাকার |
| ১. সংজ্ঞাগত দিক | বচন হল একটি বিবৃতিমূলক বাক্য। | বচনাকার হল বচনের উপাদানহীন কাঠামো। |
| ২. পদসংখ্যা | বচনে দুটি পদ থাকে—উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ। | বচনাকারে কোনো নির্দিষ্ট পদ থাকে না। |
| ৩. আকার ও উপাদান | বচনের আকার ও উপাদান উভয়ই থাকে। | বচনাকারে কেবল আকার থাকে, উপাদান থাকে না। |
| ৪. সত্য-মিথ্যা | বচন সত্য অথবা মিথ্যা হয়। | বচনাকার নিজে সত্য বা মিথ্যা হয় না। |
৫। যৌক্তিক ধ্রুবকের বৈশিষ্ট্য কী? বিভিন্ন প্রকার সত্যাপেক্ষক বচনগুলির যোজক সম্পর্কে লেখো।
যৌক্তিক ধ্রুবকের বৈশিষ্ট্য: যৌক্তিক ধ্রুবকের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ1. সংযোগ সাধন: যৌগিক বচনের উপাদান অর্থাৎ সরল বচনগুলির মধ্যে যৌক্তিক ধ্রুবক সংযোগ স্থাপন করে। তাই যৌক্তিক ধ্রুবককে যৌক্তিক সংযোজকও বলা হয়।
2. যৌগিক বচন গঠন: নিষেধক চিহ্ন ‘না’ বা ‘নয়’ ছাড়া অন্যান্য যৌক্তিক ধ্রুবক বিভিন্ন সরল বা যৌগিক বচনকে যুক্ত করে নতুন যৌগিক বচন গঠন করে।
3. বচনের সংখ্যা: সাধারণত প্রতিটি যৌক্তিক সংযোজক দুটি বচনকে যুক্ত করে। তবে নিষেধক ধ্রুবক এর ব্যতিক্রম, কারণ এটি একটি বচনের ওপর কাজ করে।
বিভিন্ন প্রকার সত্যাপেক্ষক বচনের যোজক: সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানে পাঁচ প্রকার সত্যাপেক্ষক বচন রয়েছে। এই বচনগুলির যোজক ও প্রতীকগুলি হল—
১. নিষেধক বচনের যোজক: ‘নয়’, ‘না’, ‘নহে’, ‘নি’, ‘এমন নয় যে’, ‘এটি সত্য নয় যে’, ‘এটি মিথ্যা যে’ (Not, It is not the case that, It is false that, No one, Never, Nowhere) প্রভৃতি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ নিষেধক বচন প্রকাশ করে। একে ‘~’ (Negation বা Curl) প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২. সংযৌগিক বচনের যোজক: ‘এবং’, ‘ও’, ‘কিন্তু’, ‘যদিও’, ‘তথাপি’, ‘আর’, ‘তা ছাড়া’, ‘তার উপর’, ‘সত্ত্বেও’, ‘তবুও’, ‘অধিকন্তু’ (And, But, Whereas, Also, Although, Yet, Still, However, Nevertheless, Not only… but also, In spite of the fact that) প্রভৃতি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ সংযৌগিক বচনের যোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে ‘•’ (Dot) প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
৩. বৈকল্পিক বচনের যোজক: ‘বা’, ‘অথবা’, ‘হয়—অথবা’, ‘নতুবা’, ‘না হলে’, ‘নয়তো’, ‘কিংবা’ (Or, Either—or, Else, Otherwise, Neither—nor, Unless) প্রভৃতি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বৈকল্পিক বচনের যোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে ‘∨’ (Vel) প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
৪. প্রাকল্পিক বচনের যোজক: ‘যদি—তবে’ এবং ‘কেবল যদি’ প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ প্রাকল্পিক বচনের যোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে ‘⊃’ (Horse-shoe বা Implies) প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
৫. দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের যোজক: ‘যদি এবং কেবল যদি’ শব্দগুচ্ছ দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের যোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে ‘≡’ (Triple-bar বা Equivalence) প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
উপসংহার: যৌক্তিক ধ্রুবক ও সত্যাপেক্ষক যোজক সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলির সাহায্যে বিভিন্ন বচনকে প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় এবং যুক্তির গঠন ও বৈধতা বিচার করা সহজ হয়।
৬। সত্যসারণির সাহায্যে সত্যাপেক্ষক বচনগুলির সংজ্ঞা দাও।
সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচনগুলি হল—নিষেধক বচন, সংযৌগিক বচন, বৈকল্পিক বচন, প্রাকল্পিক বচন এবং দ্বিপ্রাকল্পিক বচন। সত্যসারণির সাহায্যে এই বচনগুলির সংজ্ঞা নিম্নে আলোচনা করা হল।
১. নিষেধক বচন : কোনো বক্তব্য বা বচনে যে বিষয়কে স্বীকার করা হয়, সেই বচনকে অস্বীকার করে অথবা মিথ্যা মেনে যে নতুন বচন গঠিত হয়, তাকে নিষেধক বচন বলে। নিষেধক বচনের বচনগ্রাহককে ‘~’ যোজক দ্বারা যুক্ত করে বচনাকার প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ:
নিষেধক বচন : এমন নয় যে, রাম আসবে।
নিষেধক বচনাকার : ~p
২. সংযৌগিক বচন : যে যৌগিক বচনের দুটি উপাদান বচন ‘এবং’ বা ওই জাতীয় অর্থবোধক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়, তাকে সংযৌগিক বচন বলে। সংযৌগিক বচনের বচনগ্রাহকগুলি ‘•’ যোজক দ্বারা যুক্ত হয়ে বচনাকার গঠন করে।
উদাহরণ:
সংযৌগিক বচন : রাম আসবে এবং শ্যাম আসবে।
সংযৌগিক বচনাকার : p • q
৩. বৈকল্পিক বচন : যে যৌগিক বচনের দুটি উপাদান বচন ‘হয়—অথবা’ বা অনুরূপ অর্থবোধক শব্দ দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে বৈকল্পিক বচন বলে। বৈকল্পিক বচনের বচনগ্রাহকগুলি ‘∨’ যোজক দ্বারা যুক্ত হয়ে বচনাকার গঠন করে।
উদাহরণ:
বৈকল্পিক বচন : হয় রাম আসবে অথবা শ্যাম আসবে।
বৈকল্পিক বচনাকার : p ∨ q
৪. প্রাকল্পিক বচন : যে যৌগিক বচনের দুটি অঙ্গবচন ‘যদি—তবে’ বা অনুরূপ অর্থবোধক শব্দ দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে প্রাকল্পিক বচন বলে। প্রাকল্পিক বচনের বচনগ্রাহকগুলি ‘⊃’ যোজক দ্বারা যুক্ত হয়ে বচনাকার গঠন করে।
উদাহরণ:
প্রাকল্পিক বচন : যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে মাটি ভিজবে।
প্রাকল্পিক বচনাকার : p ⊃ q
৫. দ্বিপ্রাকল্পিক বচন : যে যৌগিক বচনের দুটি উপাদান বচন ‘যদি এবং কেবল যদি’ বা অনুরূপ অর্থবোধক শব্দ দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বিপ্রাকল্পিক বচন বলে। দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের বচনগ্রাহকগুলি ‘≡’ যোজক দ্বারা যুক্ত হয়ে বচনাকার গঠন করে।
উদাহরণ:
দ্বিপ্রাকল্পিক বচন : বৃষ্টি হবে যদি এবং কেবল যদি মেঘ করে।
দ্বিপ্রাকল্পিক বচনাকার : p ≡ q
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান ৩)
১। একটি বৈকল্পিক বচনের নিষেধ কী বচন হয়?
বৈকল্পিক বচনের নিষেধ বোঝাতে এটাও নয়-ওটাও নয় এমন কথা ব্যবহার করা হয়। যেমন- একটি বৈকল্পিক বচন হল- রাম অথবা শ্যাম বুদ্ধিমান। এই বৈকল্পিক বচনটির নিষেধ হল- ‘রাম অথবা শ্যাম কেউই বুদ্ধিমান নয়। অর্থাৎ রাম বুদ্ধিমান নয় এবং শ্যাম বুদ্ধিমান নয়। এখন ‘রাম’-এর বর্ণপ্রতীক হিসেবে ‘R’ এবং ‘শ্যাম’-এর বর্ণপ্রতীক হিসেবে ‘S’ ব্যবহার করা হল। সুতরাং বৈকল্পিক বচনটির সাংকেতিক আকার হবে- (RvS)। আর নিষেধক বৈকল্পিক বচনের সাংকেতিক আকার হবে- ~(RvS)। এই প্রতিকায়িত বচনটির অর্থ হল- ‘এমন নয় যে R এবং এমন নয় যে S’ অর্থাৎ ~R•~S। সুতরাং বৈকল্পিক বচনের নিষেধ হল একটি সংযৌগিক বচন।
২। দুটি চলক বিশিষ্ট একটি বস্তুগত সংশ্লেষক বচনের সত্যসারণি রচনা করো।
বস্তুগত সংশ্লেষক বচনের পূর্বগ ও অনুগ কোনো যৌক্তিক বা সংজ্ঞামূলক কিংবা কার্যকারণ সম্বন্ধ দ্বারা আবদ্ধ হয় না। শুধুমাত্র বস্তুগত দিক থেকে পূর্বগ ও অনুগ ‘যদি-তবে’ দ্বারা যুক্ত হয়। যেমন- ‘যদি হিটলার মিলিটারিরূপে সুদক্ষ হন তাহলে আমি বাঁদরের কাকা’। ধরা যাক,
হিটলার মিলিটারিরূপে সুদক্ষ হন = H
আমি বাঁদরের কাকা = M
বচনটির সাংকেতিক রূপ = H⊃M
বচনটির বচনাকার = p⊃q তা
হলে বস্তুগত সংশ্লেষক বচনের সত্যসারণিটি হল-
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | p⊃q |
| T | T | T |
| T | F | F |
| F | T | T |
| F | F | T |
সুতরাং উপরোক্ত সত্যসারণি থেকে বলা যায় যে দুটি চলকবিশিষ্ট (p, q) বস্তুগত সংশ্লেষক বচনাকারের সত্যমূল্য আপতিক হয়। কেন-না মূলস্তম্ভে সত্য (T) ও মিথ্যা (F) উভয়ই বর্তমান।
৩। সমমান বা সমার্থক বচনকে কেন দ্বিপ্রাকল্পিক বচন বলা হয়?
সমার্থক বচনকে দ্বিপ্রাকল্পিক বচন বলা হয়। কারণ সমার্থক বচন হল দুটি প্রাকল্পিক বচনের সংযুক্তরূপ। প্রতিপত্তিমূলক বচনের ক্ষেত্রে একটি বচন যখন অন্য একটি বচনকে প্রতিপাদন করে তবে এর অর্থ এটা নয় যে, দ্বিতীয় বচনটিও প্রথম বচনটিকে প্রতিপাদন করবে। যেমন-‘p q’ বলার অর্থ হল ‘p’, ‘q’-কে প্রতিপাদন করে কিন্তু ‘q’, ‘p’-কে প্রতিপাদন করে না।
তবে দুটি পরস্পর সমার্থক বচনের ক্ষেত্রে প্রথম বচনটি দ্বিতীয় বচনটিকে এবং দ্বিতীয় বচনটি প্রথম বচনটিকে প্রতিপাদন করে। এই প্রকার বচনকে বিশ্লেষণ করলে দুটি প্রাকল্পিক বচন পাওয়া যায়। তার মধ্যে একটি হল প্রাকল্পিক বচনের পর্যাপ্ত শর্ত এবং অন্যটি প্রাকল্পিক বচনের আবশ্যিক শর্ত। যেমন- (p q) = [(p q) . (q p)]
এক্ষেত্রে ‘p’, ‘q’-এর সমার্থক বলার অর্থ ‘p’, ‘q’-কে প্রতিপাদন করে এবং ‘q’, ‘p’-কে প্রতিপাদন করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে সমার্থক বচন দুটি প্রাকল্পিক বচনের সংযুক্তরূপ। আর এই কারণেই সমার্থক বচনকে বলা হয় দ্বিপ্রাকল্পিক বচন।
৪। একটি বচনকে কীভাবে আমরা স্বতঃসত্য ও স্বতঃমিথ্যা বলে চিহ্নিত করতে পারি?
যদি কোনো একটি যৌগিক বচনের প্রতিটি অঙ্গবাক্য সত্য হয় অর্থাৎ কখনোই মিথ্যা না হয় তখন সেই বচনটিকে স্বতঃসত্য বচন বলা হয়। যেমন- শিক্ষার্থীটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে অথবা শিক্ষার্থীটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে না।
ধরা যাক, শিক্ষার্থীটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে = S
বচনটির সাংকেতিক রূপ = Sv~S
বচনটির বচনাকার = pv~p
তাহলে স্বতঃসত্য বচনাকারের সত্যসারণিটি হল-
| p | ~p | pv~p |
| T | F | T |
| F | T | T |
∴ বচনাকারটি স্বতঃসত্য।
অনুরূপভাবে যদি কোনো একটি যৌগিক বচনের প্রতিটি অঙ্গবাক্য মিথ্যা হয় অর্থাৎ কখনোই সত্য না হয়, তখন সেই বচনটিকে স্বতঃমিথ্যা বচন বলা হয়। যেমন- বৃষ্টি হবে এবং বৃষ্টি হবে না।
ধরা যাক, বৃষ্টি হবে = R
বচনটির সাংকেতিক রূপ = R • ~R
বচনটির বচনাকার = p • ~p
তাহলে স্বতঃমিথ্যা বচনাকারের সত্যসারণিটি হল-
| p | ~p | p·~p |
| T | F | F |
| F | T | F |
∴ বচনাকারটি স্বতঃ মিথ্যা।
সুতরাং বলা যায় যে কোনো বচন স্বতঃসত্য বা স্বতঃমিথ্যা কিনা তা জানার জন্য বচনটিকে বচনাকারে রূপান্তরিত করে সত্যসারণির সাহায্যে প্রকাশ করতে হয়।
৫। নির্দেশক স্তম্ভ ও ফলস্তম্ভ কাকে বলে?
নির্দেশক স্তম্ভ: সত্যসারণির যে স্তম্ভে গ্রাহক প্রতীকের (পদগ্রাহক বা বচনগ্রাহক) সত্যমূল্য আরোপ করা হয় তাকে নির্দেশক স্তম্ভবলে। এই স্তম্ভ অঙ্গবচনগুলির সকল স্তম্ভ নিয়ে গড়ে ওঠে।
ফলস্তম্ভ: সত্যসারণির যে স্তম্ভে মূল বচনের সত্যমূল্য নির্ণয় করা হয় তাকে ফলস্তম্ভ বলে।
সত্যসারণির ডান দিকের শেষ স্তম্ভকে বলা হয় ফলস্তম্ভ। আর ফলস্তম্ভের বামদিকের সবকটি স্তম্ভকে বলা হয় নির্দেশক স্তম্ভ। উল্লেখ্য সত্যসারণিতে নির্দেশক স্তম্ভের সংখ্যা একাধিক হতে পারে কিন্তু ফলস্তম্ভের সংখ্যা কেবলমাত্র একটিই হয়। নিম্নে বিষয়টিকে ছকের সাহায্যে বোঝানো হল-
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | P · q |
| T | T | T |
| T | F | F |
| F | T | F |
| F | F | F |
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান ২)
১। সাংকেতিক যুক্তিবিজ্ঞান কাকে বলে?
যে যুক্তিবিজ্ঞান সংকেত বা প্রতীক নিয়ে আলোচনা করে অথবা সংকেত বা প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তির প্রকাশ ঘটায় ও যুক্তির বৈধতা বিচার করে তাকে সাংকেতিক বা প্রতীকি যুক্তিবিজ্ঞান বলে।
২। গ্রাহক প্রতীক কাকে বলে?
যে প্রতীক বা চিহ্নের স্থানে আমরা যে-কোনো পদ বা বচন বসাতে পারি তাকে গ্রাহক প্রতীক বলে। এটিকে সংক্ষেপে গ্রাহক বা চলকও বলা হয়। যেমন- ‘p’, ‘q’, ‘r’, ‘s’ বা ‘P’, ‘Q’, ‘R’, ‘S’ ইত্যাদি হল গ্রাহক। যে-কোনো যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত উপাদান বাক্যের পরিবর্তে ‘p’, ‘q’, ‘r’, ‘s’ বা ‘P’, ‘Q’, ‘R’, ‘S’ প্রভৃতিকে বর্ণপ্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৩। অস্থায়ী সংকেত কাকে বলে এবং কেন?
গ্রাহক বা চলককে অস্থায়ী সংকেত বলা হয়। কারণ এই সংকেতগুলির অর্থ স্থান, কাল ও পাত্রভেদে পরিবর্তিত হয়। যেমন- ‘p’, ‘q’, ‘r’, ‘s’ হল অস্থায়ী সংকেত।
৪। ধ্রুবক কাকে বলে?
যেসব প্রতীকের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকে সেইসব প্রতীকগুলিকে বলা হয় ধ্রুবক। যুক্তিবিজ্ঞানে আমরা পাঁচ ধরনের ধ্রুবকের আলোচনা পাই। সেগুলি হল-
i. ‘~’ (curl)-এর অর্থ হল ‘এমন নয় যে’, ‘নয়’ ইত্যাদি। এটি নিষেধক বচনের ধ্রুবক।
ii. ‘v’ (vel)-এর অর্থ হল ‘হয়-অথবা’। এটি বৈকল্পিক বচনের ধ্রুবক।
iii. ‘•’ (Dot)-এর অর্থ হল ‘এবং’, ‘কিন্তু’। এটি সংযৌগিক বচনের ধ্রুবক।
iv. ‘⊃ ‘ (Implies or Horse-shoe)-এর অর্থ হল ‘যদি-তবে’। এটি প্রাকল্পিক বচনের ধ্রুবক।
v. ‘≡’(Triple bar)-এর অর্থ হল ‘যদি এবং কেবল যদি’। এটি দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের ধ্রুবক।
৫। স্থায়ী সংকেত কাকে বলে এবং কেন?
ধ্রুবকগুলিকে স্থায়ী সংকেত বলা হয়। কারণ স্থান, কাল, পাত্রভেদে এগুলি, অপরিবর্তনীয়। যেমন- ‘~’, ”, ‘v’ প্রভৃতি স্থায়ী সংকেত।
৬। একক স্থায়ী ধ্রুবক কাকে বলে?
যে ধ্রুবক একটিমাত্র সরল বচন বা বাক্যের পূর্বে বসে যৌগিক বচন বা বাক্য গঠন করে এবং বাক্যটির পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তাকে একক ধ্রুবক বা একক স্থায়ী সংকেত বলে। যেমন-‘~’ (এমন নয় যে) এটি একটি একক স্থায়ী ধ্রুবক, যা সরল বচন বা বাক্যের পূর্বে বসে এবং সরল বচনকে যৌগিক বচনে বা বাক্যে পরিণত করে। যেমন- ‘শ্যাম বুদ্ধিমান’- এটি একটি সরল বাক্য। কিন্তু ‘এমন নয় যে শ্যাম বুদ্ধিমান’-এটি একটি যৌগিক বাক্য। এই বাক্যটির সাংকেতিক রূপ হবে- ‘~ p’।
৭। দ্বি-স্থায়ী ধ্রুবক কাকে বলে?
যে ধ্রুবক কমপক্ষে দুটি সরল বচন বা বাক্যের মাঝে বসে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে সেই ধ্রুবককে দ্বি-স্থায়ী বা দ্বি-ধ্রুবক বলে। যেমন-(এবং), ‘v’ (অথবা), ‘⊃’ (যদি-তবে), ‘≡’ (যদি এবং কেবল যদি) প্রভৃতি দ্বি-স্থায়ী ধ্রুবক, যা দুটি সরল বচনের মাঝে বসে। যেমন- ‘যদি বৃষ্টি হয় তবে মাটি ভিজবে’। এখানে ‘বৃষ্টি হয়’ এবং ‘মাটি ভিজবে’- এই দুটি সরল বচন, যা ‘যদি-তবে’ ধ্রুবক (যোজক) দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
৮। যুক্তিবিজ্ঞানে সংকেত ব্যবহারের দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।
যুক্তিবিজ্ঞানে সংকেত ব্যবহারের দুটি সুবিধা হল-
i. সংকেত ব্যবহারের ফলে যুক্তি বা বচনের আকার সহজে নির্ধারণ করা যায় এবং যুক্তি বা বচনকে সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়।
ii. সংকেত ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ ভাষার অস্পষ্টতা, দুর্বোধ্যতা ও দ্ব্যর্থকতা জাতীয় দোষ-ত্রুটি এবং ভাষার সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়।
৯। বচন কাকে বলে?
অবধারণের ভাষায় প্রকাশিত রূপকে বলা হয় বচন। বচনের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বীকার বা অস্বীকার করা যায়, যা একমাত্র ঘোষক বাক্যের দ্বারা সম্ভব হয়। সুতরাং বলা যায় যার মাধ্যমে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের বিষয় প্রকাশ পায় তাই হল বচন।
১০। উপাদান বচন বা অঙ্গবচন কাকে বলে?
সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচনগুলি দুই বা ততোধিক সরল বচন নিয়ে গঠিত। এই সরল বচনগুলিকেই উপাদান বচন বা অঙ্গবচন বলে। অর্থাৎ যৌগিক বচনগুলির অংশগুলিকেই উপাদান বচন বলে।
আরো পড়ুন : সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
১১। যৌগিক বচন কয় প্রকার ও কী কী?
যুক্তিবিজ্ঞানে যৌগিক বচন পাঁচ প্রকার। সেগুলি হল- নিষেধক বচন, সংযৌগিক বচন, বৈকল্পিক বচন, প্রাকল্পিক বচন এবং ও দ্বিপ্রকাল্পিক বচন।
১২। বচনাকার কাকে বলে?
বচনের বক্তব্য বিষয়টিকে যেভাবে বা যে ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয় তাকে বচনের আকার বা বচনাকার বলে। যেমন- ‘p এবং ৭’, ‘যদি p তাহলে q’ প্রভৃতি।
১৩। নিবেশন দৃষ্টান্ত কাকে বলে?
কোনো বচনাকারের অন্তর্গত বচনগ্রাহকের পরিবর্তে কোনো বচনকে নিবেশন করলে যে সত্যাপেক্ষক বচন পাওয়া যায় তাকে বলে নিবেশন দৃষ্টান্ত। যেমন- ‘যদি p তাহলে q’ হল একটি বচনাকার। এখানে ‘p’-এর পরিবর্তে ‘বৃষ্টি হয়’ এবং ‘q’-এর পরিবর্তে ‘মাটি ভিজবে’ এই বচন দুটি নিবেশন করলে (বসালে) ফলস্বরূপ পাওয়া যায়, ‘যদি বৃষ্টি হয় তাহলে মাটি ভিজবে’ এই বচনটিকে। সুতরাং ‘যদি বৃষ্টি হয় তাহলে মাটি ভিজবে’ হল ‘যদি p তাহলে q’ বচনাকারের নিবেশন দৃষ্টান্ত।
১৪। সত্যাপেক্ষক কাকে বলে?
একাধিক উপাদান বা অঙ্গবচনকে কোনো যৌক্তিক যোজকের সাহায্যে যুক্ত করে যে যৌগিক বচনের উদ্ভব হয় তাকে সত্যাপেক্ষক বলে। এটি একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দ, যা সত্য ও অপেক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত।
১৫। সত্যাপেক্ষ বচন কাকে বলে? অথবা, সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন কাকে বলে?
যে যৌগিক বাক্যের সত্যমূল্য তার অঙ্গবাক্যের সত্যমূল্যের উপর নির্ভর করে এবং তার ভিত্তিতে সমগ্র বাক্যটির সত্যমূল্য নির্ণয় করা যায়, তাকে সত্যাপেক্ষ যৌগিক বাক্য বলা হয়। যেমন- ‘যদি সে উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করে তাহলে তাকে একটি উপহার দেওয়া হবে’। এক্ষেত্রে তার ‘ভালো ফল’ করার উপর ‘উপহার পাওয়া’ নির্ভর করছে এবং এর ভিত্তিতে সমগ্র বাক্যটির সত্যমূল্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
১৬। সত্যাপেক্ষ যোজক কাকে বলে?
সত্যাপেক্ষ বচনের যোজককে বলা হয় সত্যাপেক্ষ যোজক। অর্থাৎ সত্যাপেক্ষ বচনে ব্যবহৃত ‘এবং’, ‘অথবা’, ‘যদি-তাহলে’, ‘যদি এবং কেবল যদি’ প্রভৃতি যোজককে বলা হয় সত্যাপেক্ষ যোজক। কিন্তু এমন নয় যে যোজককে সত্যাপেক্ষ যোজক বলা হয় না। কারণ এই নিষেধক চিহ্ন (~) দুটি বচনকে একত্রে যুক্ত করতে পারে না।
১৭। সত্যাপেক্ষক বা সত্যাপেক্ষ যুক্তি কাকে বলে?
যে যুক্তিতে অন্তত একটি অবয়ব বাক্য সত্যাপেক্ষ বচন হয় তাকে সত্যাপেক্ষক যুক্তি বলে। যেমন-
‘যদি জনগণ সচেতন হয় তাহলে দূষণের মাত্রা হ্রাস পাবে’।
জনগণ সচেতন হয়েছে।
∴ দূষণের মাত্রা হ্রাস পাবে।
সাংকেতিক আকার:
যদি p তাহলে q
p
∴ q
১৮। নিষেধক বচন কাকে বলে?
কোনো বচনে যা ব্যক্ত করা হয়েছে তাকে নিষেধ বা অস্বীকার করলে যে বচন পাওয়া যায় তাকে নিষেধক বা নঞর্থক বচন বলে। একে বিরুদ্ধ বচনও বলা হয়। নিষেধক বচনকে প্রকাশ করার জন্য ‘নয়’, ‘এমন নয় যে’, ‘এটা সত্য নয়’, ‘না’ ইত্যাদি শব্দ বা এর সমজাতীয় শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়। যুক্তিবিজ্ঞানীরা নঞর্থক প্রতীক হিসেবে ‘~’ (curl) চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, যা মূল বচনের পূর্বে বসে। যেমন- বিদিশা আজ মামা বাড়ি যাবে না।
১৯। নিষেধক বচনকে সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন বলা হয় কেন?
নিষেধক বচনকে সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন বলা হয়। কারণ যে-কোনো নিষেধক বচনকে বিশ্লেষণ করলে অন্তত একটি সরল বচন পাওয়া যায় তাই নিষেধক বচনকে যৌগিক বচন বলা হয়। আর এই মূল বচন বা সরল বচনের সত্যমূল্য জানা থাকলে নিষেধক বচনের সত্যমূল্য সুনিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায় বলে নিষেধক বচনকে সত্যাপেক্ষক বচনও বলা হয়।
২০। নিষেধের নিষেধ বলতে কী বোঝো?
কোনো বাক্য বা বচনকে নিষেধ করলে নিষেধক বাক্য বা বচন পাওয়া যায়। আবার নিষেধক বাক্য বা বচনকে যদি পুনরায় নিষেধ করা হয় তাহলে মূল বচনটিকে পাওয়া যায়। একেই নিষেধের নিষেধ বা দ্বি-নিষেধ বলা হয়। যেমন- ‘p’ নামক বচনকে নিষেধ করলে ‘~ p’ পাওয়া যায়। আবার ‘~ p’ বচনকে নিষেধ করলে ‘~ ~p’ অর্থাৎ মূলবচন p-কেই পাওয়া যায়।
২১। একটি সংযৌগিক বচন কখন সত্য ও কখন মিথ্যা হয়ে থাকে?
সংযৌগিক বচনের সত্যতার নিয়মে বলা হয়েছে যে যখন সংযৌগিক বচনের দুটি সংযোগী একসঙ্গে সত্য হয় তখন সংযৌগিক বচন সত্য হয়। বিপরীতক্রমে সংযৌগিক বচনের একটি সংযোগী মিথ্যা হলে সমগ্র সংযৌগিক বচন মিথ্যা হয়। যেমন- ‘p • q’-এর সত্যমূল্য হবে-
নির্দেশক স্তম্ভ ফলস্তম্ভ
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | P · q |
| T | T | T |
| T | F | F |
| F | T | F |
| F | F | F |
২২। বৈকল্পিক বচন কাকে বলে?
দুটি বা তার বেশি সরল বচনকে যখন ‘অথবা’, ‘কিংবা’ ইত্যাদি শব্দ বা এর সমজাতীয় কোনো শব্দ দ্বারা যুক্ত করে একটি যৌগিক বচন গঠন করা হয় তখন তাকে বৈকল্পিক বচন বলে। যেমন- ‘হয় রাম বুদ্ধিমান অথবা শক্তিশালী’। বৈকল্পিক বচনের উপাদান বচনগুলিকে বলে বিকল্প।
২৩। একটি বৈকল্পিক বচনে সর্বনিম্ন ও সর্বাধিক কয়টি বিকল্প থাকতে পারে?
একটি বৈকল্পিক বচনে সর্বনিম্ন দুটি বিকল্প এবং সর্বাধিক দুই-এর অধিক অর্থাৎ একাধিক বিকল্প থাকতে পারে।
২৪। একটি বৈকল্পিক বচন কখন সত্য ও কখন মিথ্যা হয়ে থাকে?
বৈকল্পিক বচনের সত্যতার নিয়মে বলা হয়েছে যে যখন বৈকল্পিক বচনের সবকটি উপাদান বচন বা বিকল্পগুলি মিথ্যা হয় তখন বৈকল্পিক বচন মিথ্যা হয়। বিপরীতক্রমে বৈকল্পিক বচনের অন্তত একটি উপাদান বচন বা বিকল্প যদি সত্য হয় তাহলে বৈকল্পিক বচনটি সত্য হয়। যেমন-‘p v q’-এর সত্যমূল্য হবে-
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | P v q |
| T | T | T |
| T | F | T |
| F | T | T |
| F | F | F |
২৫। প্রাকল্পিক বচন কাকে বলে?
যে যৌগিক বচনের দুটি অঙ্গবচন বা উপাদান বচন ‘যদি-তবে’ বা এই জাতীয় অর্থযুক্ত কোনো শব্দের দ্বারা যুক্ত হয় তাকে প্রাকল্পিক বচন বলে। এক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি প্রথম অঙ্গবচনের পূর্বে এবং ‘তবে’ শব্দটি দ্বিতীয় অঙ্গবচনের পূর্বে বসিয়ে একটি যৌগিক বচন গঠন করা হয়। ‘যদি’-এর পরের অংশকে বলা হয় পূর্বগ এবং ‘তবে’-এর পরের অংশকে বলা হয় অনুগ। যেমন- ‘যদি বৃষ্টি হয় তবে ফসল ভালো হবে।’
২৬। একটি প্রাকল্পিক বচন কখন সত্য ও কখন মিথ্যা হয়?
প্রাকল্পিক বচনের সত্যতার নিয়মে বলা হয়েছে যে যখন প্রাকল্পিক বচনের পূর্বগ সত্য এবং অনুগ মিথ্যা হয় তখন প্রাকল্পিক বচন মিথ্যা হয়। বাকি সব ক্ষেত্রে পূর্বগ ও অনুগ-এর সত্যমূল্য যাই হোক না কেন প্রাকল্পিক বচন সত্য হবে। যেমন- ‘p ⊃ q’-এর সত্যমূল্য হবে-
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | P ⊃ q |
| T | T | T |
| T | F | F |
| F | T | T |
| F | F | T |
২৭। বস্তুগত সমমানতা বলতে কী বোঝো?
যদি দুটি বচন বা বচনাকারের সত্যমূল্য এক হয় অর্থাৎ যদি উভয়ই একইসঙ্গে সত্য কিংবা মিথ্যা হয়, তাহলে বলা হয় যে উক্ত বচন বা বচনাকার দুটির বস্তুগত সমমানতা আছে। যেমন- ‘এ পি জে আবদুল কালাম হন ঔপন্যাসিক’ এবং ‘রামকৃয়দেব হন শিবের ভক্ত’- এই দুটি বাক্য বস্তুগতভাবে সমার্থক। কারণ এই দুটি বচনেরই সত্যমূল্য মিথ্যা।
২৮। দ্বিপ্রাকল্পিক বচনকে কেন সত্যাপেক্ষক বচন বলা হয়?
দ্বিপ্রাকল্পিক বচনকে সত্যাপেক্ষক বচন বলা হয়। কারণ দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের উপাদান বা অঙ্গবচনগুলির সত্যমূল্যের (সত্যতা বা মিথ্যাত্ব) উপর সেই দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের সত্যমূল্য নির্ভর করে। যেমন- ‘ভালো ফসল হবে যদি এবং কেবল যদি উপযুক্ত বৃষ্টিপাত হয়’- এই দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের দুটি অঙ্গবচন অর্থাৎ একটি হল ‘ভালো ফসল হবে’ এবং অপরটি হল ‘উপযুক্ত বৃষ্টিপাত হয়’। যদি জানা থাকে যে, অঙ্গবচন দুটির উভয়ই একসঙ্গে সত্য অথবা একসঙ্গে মিথ্যা তাহলে সমগ্র দ্বিপ্রাকল্পিক বচনটি সত্য হবে। অন্যথায় বচনটি মিথ্যা হবে। সুতরাং ‘ভালো ফসল হবে যদি এবং কেবল যদি উপযুক্ত বৃষ্টিপাত হয়’- এই দ্বিপ্রাকল্পিক বচনটি একটি সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন।
২৯। দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের সত্যমূল্য নির্ণয়ের নিয়মটি লেখো।
দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের সত্যমূল্য নির্ণয়ের নিয়মটি হল-অঙ্গবচনগুলির সত্যমূল্য যদি পরস্পর সত্য হয় তবে মূল বচনটির সত্যমূল্য সত্য হবে। অঙ্গবচনগুলির সত্যমূল্য যদি পরস্পর মিথ্যা হয় তবে মূল বচনটির সত্যমূল্য সত্য হবে।
৩০। একটি দ্বিপ্রাকল্পিক বচন কখন সত্য ও কখন মিথ্যা হয়ে থাকে?
দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের সত্যতার নিয়মে বলা হয়েছে- দ্বিপ্রাকল্পিক বচনের দুটি অঙ্গবচন বা উপাদান বচন একইসঙ্গে সত্য বা একইসঙ্গে মিথ্যা হলে দ্বিপ্রাকল্পিক বচনটি সত্য হয়। অন্যথায় একটি সত্য ও অন্যটি মিথ্যা বা একটি মিথ্যা ও অন্যটি সত্য হলে দ্বিপ্রাকল্পিক বচনটি মিথ্যা হয়। যেমন- ‘p ≡ q’-এর সত্যমূল্য হবে-
| নির্দেশক স্তম্ভ | ফলস্তম্ভ | |
| p | q | P ≡ q |
| T | T | T |
| T | F | F |
| F | T | F |
| F | F | T |
৩১। কোন্ কোন্ প্রকার সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন অনন্য মূল্যে সত্য হয়? অথবা, কোন্ কোন্ প্রকার সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচন একটি মাত্র শর্তে সত্য হয়?
সংযৌগিক এবং নিষেধক সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচনগুলি অনন্য মূল্যে সত্য হয়। অনন্য মূল্যে সত্য হওয়ার অর্থ হল একটি মাত্র শর্তে সত্য হওয়া। সংযৌগিক বচন একটি মাত্র শর্তে বা অনন্য মূল্যে সত্য হয় যখন তার সব অঙ্গবচনগুলি সত্য। যেমন- p এবং q উভয়ই সত্য হলে p • q -এই সত্যাপেক্ষক যৌগিক বচনটি অনন্য মূল্যে সত্য হবে। আবার নিষেধক বচন একটি মাত্র শর্তে বা অনন্য মূল্যে সত্য হবে যখন মূলবচনটি মিথ্যা হয়। যেমন- p মিথ্যা হলে ~p-এর সত্যমূল্য হবে অনন্য মূল্যে সত্য।
৩২। সত্যসারণি কাকে বলে?
কোনো সত্যাপেক্ষ বচন বা বচনাকার কোন্ কোন্ শর্তে সত্য এবং কোন্ কোন্ শর্তে মিথ্যা হয় তা সারণির সাহায্যে লিপিবদ্ধ করাকে সত্যসারণি বলা হয়। যে-কোনো সত্যসারণি দুটি স্তম্ভের সমন্বয়ে গঠিত হয়। সেগুলি হল- নির্দেশক স্তম্ভ ও ফলস্তম্ভ।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| জ্ঞানের উৎসসমূহ MCQ PDF | Class 11 1st Semester Philosophy | Click here |
| দর্শনের স্বরূপ ও শাখাসমূহ MCQ PDF | Class 11 1st Semester Philosophy | Click here |
| ন্যায় দর্শনের অনুমান সম্পর্কে বক্তব্য MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 11 Philosophy PDF | Click here |
| নির্বিকল্পক ও সবিকল্পক প্রত্যক্ষের পার্থক্য MCQ প্রশ্ন উত্তর PDF | Class 11 Philosophy PDF | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন