সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Somokalin Varote Nagorik Somajer Andolon somuha (5th Chapter) Question Answer Class 12 Semester IV

সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (মান ৪)
১। নাগরিক সমাজের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় রাষ্ট্র ও সরকারের বাইরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, অধিকারভিত্তিক গোষ্ঠী, শ্রমিক সংগঠন, পরিবেশ আন্দোলন প্রভৃতি নাগরিক সমাজের অংশ। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক পরিবর্তন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যকলাপের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলি যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাকে নাগরিক সমাজের আন্দোলন বলা হয়। গণতন্ত্রকে কার্যকর ও জনমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
নাগরিক সমাজের আন্দোলনের উদ্দেশ্য
① অধিকার প্রতিষ্ঠা : নাগরিক সমাজের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের বিভিন্ন নাগরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘিত হলে আন্দোলনের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করা হয়।
② সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা : সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ আন্দোলন গড়ে তোলে। নারী, শিশু, শ্রমিক, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
③ সরকারি নীতিতে প্রভাব বিস্তার : নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলি বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক বিষয়ে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সরকারের ভালো কাজকে সমর্থন এবং জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।
④ জনসচেতনতা বৃদ্ধি : মানুষকে তাদের অধিকার, কর্তব্য ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা নাগরিক সমাজের আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিভিন্ন সভা, প্রচার, আন্দোলন ও গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
⑤ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন : অন্যায় সামাজিক প্রথা, বৈষম্য ও বৈরিতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা নাগরিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। একইভাবে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা পালন করে।
নাগরিক সমাজের আন্দোলনের গুরুত্ব
① গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে : নাগরিক সমাজের আন্দোলন সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। ফলে গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক না থেকে আরও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে।

② সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি : নাগরিক সমাজ সরকারের কাজকর্মের উপর নজর রাখে এবং প্রয়োজন হলে সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। এর ফলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা কমে এবং প্রশাসনের মধ্যে জবাবদিহি বৃদ্ধি পায়।
③ জনমত গঠনে সাহায্য করে : বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নাগরিক সমাজ সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর ফলে কোনো বিষয়ে শক্তিশালী জনমত গড়ে ওঠে এবং সরকারও সেই জনমতের গুরুত্ব বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
④ দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায় : সমাজের যে সমস্ত মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একা লড়াই করতে পারে না, নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলি তাদের হয়ে কথা বলে। ফলে দরিদ্র, প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষের সমস্যাগুলি বৃহত্তর সমাজ ও সরকারের নজরে আসে।
⑤ সামাজিক পরিবর্তনে সহায়তা করে : নাগরিক সমাজের বিভিন্ন আন্দোলন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। এর ফলে সামাজিক সংস্কার ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।
⑥ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করে : সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কাজকর্ম সম্পর্কে নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তোলে এবং স্বচ্ছতা দাবি করে। এর ফলে প্রশাসনের উপর জনসাধারণের নজরদারি বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, নাগরিক সমাজের আন্দোলন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি যেমন মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে, তেমনই সরকারকে জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে সাহায্য করে। তাই একটি সচেতন, সক্রিয় ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রের সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
২। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মূল কারণ আলোচনা করো।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও মানবাধিকার আন্দোলন। নর্মদা নদীর ওপর বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিবেশের ক্ষতি এবং বহু মানুষের বাসস্থান ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। মেধা পাটকরসহ বহু সমাজকর্মী, আদিবাসী ও স্থানীয় মানুষ এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মূল কারণগুলি হল—
১. বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ : নর্মদা নদীর ওপর সর্দার সরোবরসহ একাধিক বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বাঁধ নির্মাণের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
২. মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা : বাঁধের জলাধারের কারণে বহু গ্রাম ও বসতি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে আদিবাসী ও দরিদ্র কৃষকদের নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতো। তাই তাঁরা পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা দাবি করেন।
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
৩. জীবিকা হারানোর সমস্যা : বাস্তুচ্যুত মানুষের অনেকেই কৃষিকাজ, বনজ সম্পদ ও নদীর ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করতেন। বাঁধ নির্মাণের ফলে তাঁদের চাষের জমি, বন ও জীবিকার উৎস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
৪. পরিবেশের ক্ষতি : বৃহৎ জলাধার তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর ফলে জীববৈচিত্র্য এবং নদী-নির্ভর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
৫. অপর্যাপ্ত পুনর্বাসন : আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য উপযুক্ত জমি, বাসস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা না করেই তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
৬. উন্নয়নের বিকল্প ধারণা : আন্দোলনকারীরা উন্নয়নের বিরোধিতা না করে এমন উন্নয়ন চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষের অধিকার ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকবে। তাঁদের মতে, উন্নয়নের সুফল যেমন মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার, তেমনই উন্নয়নের ক্ষতির বোঝাও সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
উপসংহার : সুতরাং, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মূল কারণ ছিল বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানো, পরিবেশের ক্ষতি এবং যথাযথ পুনর্বাসনের অভাব। এই আন্দোলন উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
৩। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান দাবি ও উদ্দেশ্য আলোচনা করো
ভূমিকা : নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ছিল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও মানবাধিকারভিত্তিক গণআন্দোলন। নর্মদা নদীর ওপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিবেশের ক্ষতি, মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং জীবিকা হারানোর আশঙ্কা থেকেই এই আন্দোলনের বিকাশ ঘটে। আন্দোলনকারীরা উন্নয়নের বিরোধিতা না করে মানুষের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষা করে উন্নয়ন করার দাবি জানান।
প্রধান দাবি ও উদ্দেশ্য
১. বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ বা পুনর্বিবেচনা : নর্মদা নদীর ওপর বিশেষত সর্দার সরোবর বাঁধ নির্মাণের ফলে ব্যাপক পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই আন্দোলনকারীরা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি বন্ধ অথবা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
২. ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন : বাঁধের কারণে যাঁরা বাস্তুচ্যুত হবেন, তাঁদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, তাঁদের বসবাস ও জীবিকার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
৩. কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষা : আদিবাসী, কৃষক ও নদীনির্ভর মানুষের জমি ও জীবিকা রক্ষা করা ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তাঁদের জীবনের ওপর উন্নয়ন প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব কমানোই ছিল এর লক্ষ্য।
৪. পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ : বাঁধ নির্মাণের ফলে বনভূমি, নদী, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি রোধ করা আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
৫. আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা : নর্মদা উপত্যকার বহু আদিবাসী মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নদী, বন ও জমির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁদের নিজস্ব জীবনধারা, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার রক্ষা করা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল।
৬. বিকল্প উন্নয়ন নীতির দাবি : আন্দোলনকারীরা এমন উন্নয়ন নীতির দাবি করেন, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৭. সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা : বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে তার সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল।
উপসংহার : সুতরাং, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়নের নামে মানুষের উচ্ছেদ ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরোধিতা করা এবং ন্যায়সঙ্গত পুনর্বাসন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই আন্দোলন ভারতে পরিবেশ রক্ষা, আদিবাসী অধিকার এবং উন্নয়ন নীতির মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
৪। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
ভূমিকা : নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও মানবাধিকারভিত্তিক গণআন্দোলন। নর্মদা নদীর ওপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিবেশের ক্ষতি, আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং জীবিকা হারানোর আশঙ্কা থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলন উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য
১. পরিবেশকেন্দ্রিক আন্দোলন : নর্মদা উপত্যকার নদী, বন, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রশ্নটি এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।
২. মানবাধিকারভিত্তিক আন্দোলন : বাঁধ নির্মাণের ফলে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন এমন কৃষক, আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৩. গণভিত্তিক আন্দোলন : স্থানীয় মানুষ, বিশেষত আদিবাসী ও কৃষকদের পাশাপাশি সমাজকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। ফলে এটি একটি বৃহৎ গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
৪. অহিংস আন্দোলন : আন্দোলনকারীরা মূলত মিছিল, সভা, অবস্থান, সত্যাগ্রহ ও গণপ্রচারের মতো অহিংস পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনের গুরুত্ব
১. পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি : এই আন্দোলন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
২. আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা : আন্দোলনটি দেখিয়ে দেয় যে উন্নয়নের নামে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জমি ও জীবিকা কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। তাঁদের পুনর্বাসন ও অধিকারকে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার দাবি জোরালো হয়।
৩. উন্নয়নের ধারণায় পরিবর্তন : নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন প্রশ্ন তোলে—শুধু বড় বাঁধ বা বৃহৎ প্রকল্প নির্মাণই কি উন্নয়নের একমাত্র পথ? এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও মানবিক উন্নয়ন সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
৪. সরকারের নীতির উপর প্রভাব : বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের আগে তার পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব বিচার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়।
৫. গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দৃষ্টান্ত : আন্দোলনটি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ সংগঠিত হয়ে গণতান্ত্রিক ও অহিংস পদ্ধতিতে সরকারি নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
উপসংহার : সুতরাং, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন কেবল একটি বাঁধবিরোধী আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার, আদিবাসী অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নের দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন। ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৫। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে মেধা পাটকরের অবদান কী ছিল?
ভূমিকা : নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী ছিলেন মেধা পাটকর। নর্মদা নদীর ওপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন এবং পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে, তার বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
মেধা পাটকরের প্রধান অবদান
১. আন্দোলনের নেতৃত্বদান : মেধা পাটকর নর্মদা উপত্যকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সংগঠিত করে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন সারা দেশে পরিচিতি লাভ করে।
২. বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার রক্ষা : বাঁধ নির্মাণের ফলে যেসব কৃষক ও আদিবাসী তাঁদের জমি ও বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন, তাঁদের অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি উপযুক্ত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
৩. পরিবেশ রক্ষার প্রচার : বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে বনভূমি, কৃষিজমি, নদী ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি তিনি দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেন। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা তিনি প্রচার করেন।
৪. অহিংস আন্দোলনের পথ অনুসরণ : মেধা পাটকর আন্দোলনে সত্যাগ্রহ, অবস্থান, মিছিল ও গণআন্দোলনের মতো অহিংস পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের দাবি গণতান্ত্রিকভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরেন।
৫. জনমত গঠন : তিনি নর্মদা প্রকল্পের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলনের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
৬. বিকল্প উন্নয়নের দাবি : মেধা পাটকর শুধু বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করেননি; তিনি এমন উন্নয়ন নীতির পক্ষে মত দেন, যেখানে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
উপসংহার : সুতরাং, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে মেধা পাটকরের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, পুনর্বাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক উন্নয়নের দাবি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব লাভ করে। তাঁর ভূমিকার ফলে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবেশ ও মানবাধিকার আন্দোলনে পরিণত হয়।
৬। চিপকো আন্দোলন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
ভূমিকা : চিপকো আন্দোলন ছিল ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও বন রক্ষার গণআন্দোলন। ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের গাড়ওয়াল অঞ্চলে (বর্তমানে উত্তরাখণ্ড) এই আন্দোলনের সূচনা হয়। গাছ কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা গাছকে জড়িয়ে ধরে প্রতিবাদ করতেন। ‘চিপকো’ শব্দের অর্থ হল জড়িয়ে ধরা বা আঁকড়ে ধরা।
আন্দোলনের প্রধান কারণ : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছিল। এর ফলে মাটিক্ষয়, ভূমিধস, জলের উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। তাই বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দাবিতে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভূমিকা : চিপকো আন্দোলনের সঙ্গে সুন্দরলাল বহুগুণা, চণ্ডীপ্রসাদ ভট্ট প্রমুখ পরিবেশকর্মী যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় মহিলারাও আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে।
আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব : চিপকো আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অহিংস পদ্ধতিতে গাছ রক্ষা করা। আন্দোলনটি শুধু গাছ কাটার বিরোধিতা করেনি; বন, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। এর ফলে ভারতে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং বন সংরক্ষণের গুরুত্ব নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপসংহার : সুতরাং, চিপকো আন্দোলন ছিল বন ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অধিকার ও জীবিকা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন। ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৭। চিপকো আন্দোলনের সামাজিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব আলোচনা করো।
ভূমিকা : চিপকো আন্দোলন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশভিত্তিক গণআন্দোলন। ১৯৭০-এর দশকে বর্তমান উত্তরাখণ্ডের গাড়ওয়াল অঞ্চলে বনভূমি রক্ষার দাবিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। গাছ কাটার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, গাছকে জড়িয়ে ধরে গাছ রক্ষা করতেন। তাই এই আন্দোলন ‘চিপকো’ নামে পরিচিত হয়।
সামাজিক গুরুত্ব
১. স্থানীয় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা : চিপকো আন্দোলন বনজ সম্পদের ওপর স্থানীয় মানুষের অধিকার ও নির্ভরতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। বন থেকে জ্বালানি, পশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ করে বহু মানুষ জীবনযাপন করতেন।
২. মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি : এই আন্দোলনে গ্রামীণ মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তাঁরা সামনে থেকে গাছ রক্ষার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সামাজিক আন্দোলনে নারীর ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
৩. জনসচেতনতা বৃদ্ধি : চিপকো আন্দোলনের মাধ্যমে বন ধ্বংসের ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
৪. গণআন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি : স্থানীয় মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অহিংস পদ্ধতিতে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এর ফলে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে গণআন্দোলনের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিবেশগত গুরুত্ব
১. বন সংরক্ষণ : চিপকো আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা এবং বনভূমি রক্ষা করা। এর ফলে বন সংরক্ষণের গুরুত্ব বিশেষভাবে সামনে আসে।
২. মাটি ক্ষয় ও ভূমিধস রোধ : বনভূমি ধ্বংস হলে মাটির ক্ষয় এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই বন রক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আন্দোলনটি তুলে ধরে।
৩. জলসম্পদ সংরক্ষণ : বনভূমি জলধারণ ও জলসংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বন রক্ষার মাধ্যমে নদী, ঝরনা ও অন্যান্য জলসম্পদের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণের ধারণা শক্তিশালী করা : চিপকো আন্দোলন দেখিয়ে দেয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে ভারতে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে বৃহত্তর জনসচেতনতা তৈরি হয়।
উপসংহার : সুতরাং, চিপকো আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু গাছ রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি স্থানীয় মানুষের অধিকার, নারীর অংশগ্রহণ, বন সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে আসে। তাই ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে চিপকো আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
৮। চিপকো আন্দোলনে সুন্দরলাল বহুগুণার অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
ভূমিকা : চিপকো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও প্রচারক ছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা। তিনি হিমালয় অঞ্চলের বনভূমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেন। তাঁর নেতৃত্ব, প্রচার ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে চিপকো আন্দোলন আঞ্চলিক আন্দোলন থেকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে।
সুন্দরলাল বহুগুণার প্রধান অবদান
১. চিপকো আন্দোলনের নেতৃত্ব : সুন্দরলাল বহুগুণা চিপকো আন্দোলনকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেন।
২. বন সংরক্ষণের প্রচার : তিনি নির্বিচারে গাছ কাটার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ, মাটি ও জলসম্পদ রক্ষার জন্য বনভূমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. অহিংস পদ্ধতির ব্যবহার : বহুগুণা গান্ধিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি সত্যাগ্রহ, পদযাত্রা, অনশন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে বন রক্ষার দাবি তুলে ধরেন।
৪. ‘হিমালয় বাঁচাও’ আন্দোলন : চিপকো আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষার জন্য ব্যাপক প্রচার চালান। তাঁর ‘হিমালয় বাঁচাও’ প্রচেষ্টা বন ধ্বংস, ভূমিক্ষয় ও পরিবেশের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৫. স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ : তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের, বিশেষ করে মহিলাদের, বন রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বনকে শুধু সরকারি সম্পদ নয়, স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে দেখার ধারণা শক্তিশালী হয়।
৬. পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্যের দাবি : সুন্দরলাল বহুগুণা উন্নয়নের বিরোধিতা করেননি; বরং তিনি পরিবেশের ক্ষতি না করে উন্নয়নের পক্ষে মত দেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্বার্থকে স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
৭. জনসচেতনতা সৃষ্টি : পদযাত্রা, সভা ও বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে তিনি বন ধ্বংসের ক্ষতিকর প্রভাব মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাঁর প্রচেষ্টায় চিপকো আন্দোলনের পরিবেশগত বক্তব্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়।
উপসংহার : সুতরাং, চিপকো আন্দোলনে সুন্দরলাল বহুগুণার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অহিংস নেতৃত্ব, পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি, বন সংরক্ষণের প্রচার এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চিপকো আন্দোলনকে শক্তিশালী করে। ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে তাই সুন্দরলাল বহুগুণার নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
সমকালীন ভারতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর [Type 2] (মান ২)
১। নাগরিক সমাজ বলতে কী বোঝো?
উঃ নাগরিক সমাজ বলতে এমন কিছু স্বাধীন সংগঠন বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা সরকার, রাজনৈতিক দল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য কাজ করে। রাষ্ট্র কোনো কারণে জনগণের সব চাহিদা পূরণ করতে না পারলে নাগরিক সমাজ সেই চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসে। এছাড়া নাগরিক সমাজ গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২। সমাজে নাগরিক আন্দোলানর দুটি গুরুত্ব কী?
উঃ নাগরিক আন্দোলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—
① জনসচেতনতা বৃদ্ধি: নাগরিক আন্দোলন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেদের অধিকার ও দাবিদাওয়া সম্পর্কে সচেতন হয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমও এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
② দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা: নাগরিক আন্দোলন সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
৩। নাগরিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দুটি সমালোচনা লেখো।
উঃ নাগরিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দুটি প্রধান সমালোচনা হল—
① সুদক্ষ নেতৃত্বের অভাব: অনেক নাগরিক আন্দোলনে সুসংগঠিত ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাব দেখা যায়। এর ফলে কখনও কখনও আন্দোলন চরমপন্থী বা হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে।
② রাজনৈতিক চাপ: অনেক সময় রাজনৈতিক দল বা সরকার নাগরিক আন্দোলনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের স্বার্থে আন্দোলনকে ব্যবহার করে। ফলে আন্দোলন তার স্বতন্ত্রতা হারাতে পারে।
৪। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন কবে শুরু হয়েছিল এবং কেন?
উঃ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়েছিল। নর্মদা নদীর উপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। বাঁধ নির্মাণের ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য।
৫। মূলত কোন দুটি বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন গড়ে উঠেছিল?
অথবা, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারি কয়েকজন সদস্যের নাম লেখো।
উঃ মূলত সর্দার সরোবর বাঁধ এবং নর্মদা সাগর বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন মেধা পাটেকর ও বাবা আমতে। এছাড়াও লালবিহারী মুকাতি, মোহন ভাই, যোগিনী বাই, ঊর্মিলা দেবী ও কমলা দেবী প্রমুখ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
৬। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? অথবা, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মূল কারণ কী?
উঃ নর্মদা নদীর উপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পের বিরোধিতা করাই ছিল নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য। বাঁধ নির্মাণের ফলে নদী অববাহিকার বহু গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও ছিল। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে জনমত গড়ে তোলাও এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল।
৭। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের দুটি জোগান কী ছিল? বাবা আমতে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের জন্য কত দিন অনশন করেছিলেন?
উঃ নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের দুটি প্রধান স্লোগান ছিল—
① ‘উন্নয়ন চাই, ধ্বংস নয়।’
② ‘আমরা নড়ব না, বাঁধ নির্মাণ হবে না।’
বাবা আমতে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের সমর্থনে ২২ দিন অনশন করেছিলেন।
৮। নর্মদা আন্দোলনের দুটি প্রভাব বা ফলাফল আলোচনা করো।
উঃ নর্মদা আন্দোলনের দুটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হল—
① আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ: আদিবাসী, কৃষক, পরিবেশকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণের ফলে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। এর ফলে দেশ-বিদেশে এই আন্দোলন ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে।
② আইনি লড়াই: আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অনশন ও বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমেও বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন বনাম ভারত সরকার এবং অন্যান্যদের মতো একাধিক মামলা আদালতে ওঠে। এর ফলে বাঁধ নির্মাণ, পরিবেশ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলি জাতীয় স্তরে গুরুত্ব লাভ করে।
৯। নমর্দা আন্দোলনের দুটি গুরুত্ব আলোচনা করো।
উঃ নর্মদা আন্দোলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—
① সুস্থায়ী উন্নয়নের উপর গুরুত্ব: এই আন্দোলন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের স্বার্থের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানায়। এর ফলে সুস্থায়ী ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের ধারণা আরও গুরুত্ব পায়।
② অহিংস আন্দোলনের দৃষ্টান্ত: নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন অহিংস পদ্ধতিতে বাস্তুচ্যুত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে মেধা পাটেকর ও বাবা আমতের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের আন্দোলন অহিংস প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
১০। কে নর্মদা উপতাকা উন্নয়ন প্রকল্পটি পরিকল্পনা করেছিলেন এবং ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে কে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন?
উঃ ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নর্মদা উপত্যকা উন্নয়ন প্রকল্পটি পরিকল্পনা করেছিলেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে জওহরলাল নেহরু এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
আরো পড়ুন : ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ প্রশ্ন উত্তর
১১। কোন অঞ্চলে চিপকো আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল? চিপকো আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের গাড়োয়াল অঞ্চলে চিপকো আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ করা, বনভূমি ও পরিবেশ রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।
১২। ‘চিপকো কথাটির অর্থ কী?
উঃ ‘চিপকো’ শব্দটি হিন্দি ‘চিপকানা’ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হল জড়িয়ে ধরা বা আলিঙ্গন করা। গাছ কাটার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলনকারীরা গাছকে জড়িয়ে ধরতেন। এই পদ্ধতির থেকেই আন্দোলনের নাম ‘চিপকো আন্দোলন’ হয়েছে।
১৩। চিপকো আন্দোলনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা দুটি সংগঠনের নাম লেখো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দুটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন হল—
① উত্তরাখণ্ড সর্বোদয় মণ্ডল — গান্ধিবাদী নেত্রী সরলা বেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে।
② দাশোলি গ্রাম স্বরাজ্য মণ্ডল (DGSM) — ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে গোপেশ্বরে চণ্ডী প্রসাদ ভাটের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে।
১৪। কোন কোন অঞ্চলে চিপকো আন্দোলন বিস্তার লাভ করেছিল?
উঃ চিপকো আন্দোলনের সূত্রপাত হিমালয়ের গাড়োয়াল অঞ্চলের মণ্ডল গ্রামে হলেও পরে তা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের গোপেশ্বর, চামোলি-সহ গাড়োয়াল হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় এই আন্দোলনের প্রভাব বিস্তার লাভ করে।
১৫। চিপকো আন্দোলনে গৌরা দেবীর ভূমিকা কী ছিল?
উঃ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে উত্তরাখণ্ডের রেণী গ্রামে বনাঞ্চলের গাছ কাটার জন্য ঠিকাদারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় গ্রামের পুরুষেরা অনুপস্থিত থাকায় ঠিকাদাররা গাছ কাটতে আসে। গৌরা দেবী অন্যান্য গ্রামবাসী মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে গাছকে জড়িয়ে ধরে বৃক্ষচ্ছেদন প্রতিরোধ করেন। তাঁর এই সাহসী ভূমিকার ফলে গাছ কাটা বন্ধ করা সম্ভব হয়।
১৬। চিপকো আন্দোলনে সুন্দরলাল বহুগুণার ভূমিকা লেখো।
উঃ সুন্দরলাল বহুগুণা চিপকো আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি গ্রামবাসীদের বৃক্ষচ্ছেদন ও বন ধ্বংসের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন এবং আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি অনশনও করেছিলেন। তাঁর প্রচার ও নেতৃত্বের ফলে চিপকো আন্দোলন বৃহত্তর জনসমর্থন লাভ করে এবং পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়।
১৭। চিপকো আন্দোলনের দুটি পদ্ধতি লেখো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের দুটি প্রধান পদ্ধতি হল—
① অহিংস পদ্ধতি: গান্ধিবাদী আদর্শ অনুসরণ করে আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ও অহিংসভাবে পরিচালিত হয়েছিল। গাছ কাটা বন্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীরা গাছকে জড়িয়ে ধরতেন।
② অনশন: সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনকারীরা অনশনের পথ গ্রহণ করেছিলেন।
১৮। চিপকো আন্দোলনের দুটি গুরুত্ব লেখো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—
① বনভূমি সংরক্ষণ: এই আন্দোলন বনভূমি রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে বৃক্ষচ্ছেদন নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
② স্থানীয় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা: এই আন্দোলন বনজ সম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকার ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
১৯। চিপকো আন্দোলনের দুটি প্রভাব আলোচনা করো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের দুটি প্রধান প্রভাব হল—
① পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি: এই আন্দোলনের ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলি নতুন গুরুত্ব লাভ করে। এর ফলে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
② স্থানীয় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা: বনভূমির উপর স্থানীয় অধিবাসীদের নির্ভরশীলতা এবং তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সরকার ও সমাজের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। ফলে বন সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
২০। চিপকো আন্দোলন সফল করার জন্য দুটি সরকারি পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা উল্লেখ করো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের দাবির পর সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
① তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হেমবতী নন্দন বহুগুণা গাছ কাটার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি দেখান।
② ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি হিমালয় অঞ্চলে ১৫ বছরের জন্য বৃক্ষচ্ছেদনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর ফলে চিপকো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি কার্যকর হয়।
২১। চিপকো আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ চিপকো আন্দোলনের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—
① অহিংস আন্দোলন: এই আন্দোলন গান্ধিবাদী অহিংস আদর্শ অনুসরণ করেছিল। গাছকে জড়িয়ে ধরে বৃক্ষচ্ছেদন প্রতিরোধ করা ছিল এর অন্যতম প্রধান পদ্ধতি।
② নারী অংশগ্রহণ: চিপকো আন্দোলনে গ্রামীণ মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। গৌরা দেবী-সহ বহু নারী বৃক্ষরক্ষার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এটি একটি উল্লেখযোগ্য নারী-নেতৃত্বাধীন পরিবেশ আন্দোলন হিসেবেও পরিচিত।

২২। চিপকো আন্দোলনের কারণ কী ছিল?
উঃ ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের গাড়োয়াল অঞ্চলে চিপকো আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। নির্বিচারে গাছ কাটা, বনভূমি ধ্বংস এবং এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান কারণ। স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে বনভূমির গভীর সম্পর্ক থাকায় বন রক্ষা এবং বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ করার দাবিতে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতিসমূহ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
| সরকারের বিভিন্ন রূপ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Click here |
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন