আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মৌলিক এবং রাজনৈতিক নীতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মৌলিক এবং রাজনৈতিক নীতি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় ছোটো প্রশ্ন উত্তর | International Relations short question answer | Class 12 4th Semester Political Science First Chapter Short question answer

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মৌলিক এবং রাজনৈতিক নীতি প্রশ্ন উত্তর
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মৌলিক এবং রাজনৈতিক নীতি প্রশ্ন উত্তর

১। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে কখন আত্মপ্রকাশ করে?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বোঝাতে সাহায্য করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

২। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনটি কোন্ ঘটনার পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (1914-1918) পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত প্রতিরোধের জন্য একটি কাঠামোগত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৩। Twenty Years’ Crisis’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন এবং এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: “Twenty Years’ Crisis’ গ্রন্থটি ই.এইচ. কার (E.H. Carr) লিখেছেন। এর গুরুত্ব হল এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি স্থাপন করে। কার আদর্শবাদের সীমাবদ্ধতাগুলি তুলে ধরেছেন এবং ক্ষমতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

৪। ভার্সাই (Versailles) চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনে বিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল?

উত্তর: ভার্সাই চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এই চুক্তি যুদ্ধোত্তর বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আদর্শবাদী ধারণার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীকালে লিগ অফ নেশনস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে।

৫। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনের কী পরিবর্তন আনে?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনের আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। এর ফলে বাস্তববাদের উত্থান ঘটে, যা ক্ষমতা, জাতীয় স্বার্থ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের উপর বেশি জোর দেয়। এটি ডিসিপ্লিনের গবেষণার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনে।

৬। আচরণবাদ (Behaviouralism) পদ্ধতির আগমন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোন দশকে ঘটে?

উত্তর: আচরণবাদ পদ্ধতির আগমন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিসিপ্লিনে ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে ঘটে। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক ঘটনা বিশ্লেষণের জন্য বৈজ্ঞানিক এবং পরিমাণগত পদ্ধতির উপর জোর দেয়, যার ফলে ডিসিপ্লিন আরও সুসংহত এবং পদ্ধতিগত হয়।

৭। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘রাষ্ট্রকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি’ (State-centric approach) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: রাষ্ট্রকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের একটি প্রধান কাঠামো। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হল সার্বভৌম রাষ্ট্র। এটি ধরে নেয় যে রাষ্ট্রগুলি তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি মূলত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ক্ষমতা ও নিরাপত্তার জন্য প্রতিযোগিতা। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতাদের ভূমিকা গৌণ বলে বিবেচিত হয়। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ককে বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখে।

৮। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোন্ কোন সামাজিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্র এবং এটি বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞানের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা ক্ষমতা, শাসন, এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অধ্যয়ন করে। অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতিশীলতা বোঝার জন্য অর্থনীতির জ্ঞান অপরিহার্য।

ইতিহাস: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, পূর্ববর্তী ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিবর্তন বোঝার জন্য ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজবিজ্ঞান: বিশ্বায়ন, সংস্কৃতি, পরিচয় এবং সামাজিক আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহৃত হয়।

৯। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো—

সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের কেন্দ্রীয় ভূমিকা: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান অভিনেতা হলো সার্বভৌম রাষ্ট্র, যাদের নিজস্ব ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সরকার এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামো মূলত এই সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।

অরাজক প্রকৃতি (Anarchic nature): আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনো একক, সর্বজনীন বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই যা রাষ্ট্রগুলির উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রগুলি মূলত স্ব-সহায়ক (self-help) এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য নিজেরাই দায়ী। এই অরাজক প্রকৃতি প্রায়শই ক্ষমতা সংগ্রাম এবং নিরাপত্তা উদ্বেগকে জন্ম দেয়।

১০। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান তিনটি actor কারা?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান তিনটি কারক (actor) হল সার্বভৌম রাষ্ট্র (Sovereign States): এরাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা। যেমন ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ইত্যাদি। এরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, চুক্তি করে, যুদ্ধ করে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ পূরণের চেষ্টা করে।

আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারীয় সংস্থা (Intergovern mental Organizations IGOs): এগুলি বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়। যেমন জাতিপুঞ্জ (UN), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইত্যাদি। এরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিয়মকানুন তৈরিতে সহায়তা করে।

অ-রাষ্ট্রীয় কারক (Non-State Actors): এই কারকরা রাষ্ট্র বা সরকারের অংশ নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে,

আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (International Non-Governmental Organizations INGOs): যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রেড ক্রস।

বহুজাতিক কর্পোরেশন (Multinational Corpora tions – MNCs): যেমন- অ্যাপল, গুগল।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী: যেমন-আল-কায়েদা, আইএসআইএস।

ব্যক্তিবিশেষ: যেমন- বিল গেটস, মালালা ইউসুফজাই।

১১। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সার্বভৌমত্ব (Sovereignty)-এর ধারণার অর্থ কী?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সার্বভৌমত্ব বলতে একটি রাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ এবং একচেটিয়া কর্তৃত্ব বোঝায়। এর অর্থ হল:

অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব: একটি রাষ্ট্র তার নিজস্ব সীমানার মধ্যে আইন তৈরি ও প্রয়োগে স্বাধীন এবং কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই তার অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব: একটি রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে সমান মর্যাদায় আচরণ করে এবং কোনো উচ্চতর আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের অধীন নয়।

সার্বভৌমত্বের ধারণা ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তির (1648) পর থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে, যা রাষ্ট্রগুলিকে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার অধিকার প্রদান করেছে।

১২। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে বাস্তববাদের মূল বক্তব্য কী?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে বাস্তববাদের মূল বক্তব্য হল: ক্ষমতার সংগ্রাম: আন্তর্জাতিক রাজনীতি মূলত ক্ষমতা অর্জনের জন্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একটি নিরন্তর সংগ্রাম। রাষ্ট্রগুলি নিজেদের নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার জন্য ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োগের উপর জোর দেয়।

স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা: রাষ্ট্রগুলি তাদের জাতীয় স্বার্থ (বিশেষত নিরাপত্তা) দ্বারা চালিত হয়। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অরাজক প্রকৃতির কারণে, রাষ্ট্রগুলি স্ব-সহায়ক এবং নিজেদের রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তি অপরিহার্য।

১৩। থুকিডিডিস বাস্তববাদের কোন্ ধারণা প্রবর্তন করেন?

উত্তর: খুকিডিডিস, প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ, তাঁর ‘পেলোপনেশীয় যুদ্ধের ইতিহাস’ (History of the Peloponnesian War) গ্রন্থে বাস্তববাদের যে ধারণাটি প্রবর্তন করেন, তা হল ‘শক্তিই চূড়ান্ত’ (might makes right) বা ‘দুর্বলের উপর সবলের শাসন’ (the strong do what they can and the weak suffer what they must)। তিনি দেখিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নৈতিকতা বা ন্যায়বিচারের চেয়ে ক্ষমতা এবং স্বার্থের বিবেচনা বেশি প্রাধান্য পায়। থুকিডিডিসের মতে, রাষ্ট্রগুলির আচরণ তাদের ক্ষমতা এবং টিকে থাকার ইচ্ছার দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অরাজক প্রকৃতিই এই বাস্তবতার জন্ম দেয়। বিশেষ করে, মেলিয়ান সংলাপ (Melian Dialogue) এই ধারণার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

১৪। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান দুটি মৌলিক উপাদানের নাম লেখো।

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান দুটি মৌলিক উপাদান হল-
ক্ষমতা (Power): আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ক্ষমতা হল একটি রাষ্ট্র বা অভিনেতার অন্য রাষ্ট্র বা অভিনেতাদের আচরণ প্রভাবিত করার বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। এটি সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, সাংস্কৃতিক প্রভাব বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মতো বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে। ক্ষমতা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি কেন্দ্রীয় চালিকা শক্তি।

স্বার্থ (Interest): রাষ্ট্র বা অভিনেতারা তাদের নিজস্ব স্বার্থ দ্বারা চালিত হয়, যা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে। জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সাধারণত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, ভু-রাজনৈতিক প্রভাব এবং আদর্শগত প্রচার অন্তর্ভুক্ত থাকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ প্রায়শই এই স্বার্থগুলির সংঘাত বা সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে হয়।

১৫। হ্যান্স মর্গেনথাউ-এর বাস্তববাদ বিষয়ে প্রধান বইটির নাম কী?

উত্তর: হ্যান্স মর্গেনথাউ এর বাস্তববাদ বিষয়ে প্রধান বইটির নাম হল ‘Politics Among Nations: The Struggle for Power and Peace’ (1948)। এই বইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নে ক্লাসিক্যাল বাস্তববাদের একটি মৌলিক পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি মর্গেনথাউ-এর ‘ছয়টি রাজনৈতিক বাস্তববাদের নীতি’ (Six Principles of Political Realism) তুলে ধরে।

১৬। ‘Security dilemma’ ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কোন তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত?

উত্তর: ‘Security dilemma’ ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদ (Realism), বিশেষ করে নয়া-বাস্তববাদ (Neo-realism) তত্ত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই ধারণাটি ব্যাখ্যা করে যে যখন একটি রাষ্ট্র তার নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয় (যেমন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি), তখন এটি অন্য রাষ্ট্রগুলিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তাহীন বোধ করাতে পারে, যার ফলে তারাও তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। এই পালটাপালটি পদক্ষেপের ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রই বেশি নিরাপদ হয় না, বরং প্রত্যেকের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়, যা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

১৭। বাস্তববাদ কোন ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করে?

উত্তর: বাস্তববাদ একটি অরাজক (Anarchic) আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করে। এর অর্থ হল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো একক, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ব সরকার নেই যা রাষ্ট্রগুলির উপর আইন প্রয়োগ করতে পারে বা তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই অরাজক পরিবেশে, প্রতিটি রাষ্ট্রকেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য স্ব-সহায়ক (self-help) হতে হয় এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। এর ফলে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ক্ষমতা অর্জন এবং নিরাপত্তার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যা প্রায়শই সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

১৮। বাস্তববাদ অনুযায়ী যুদ্ধ অনিবার্য কেন?

উত্তর: বাস্তববাদ অনুযায়ী যুদ্ধ অনিবার্য কারণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অরাজক প্রকৃতি। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই যা রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিরোধ নিষ্পন্ন করতে পারে বা তাদের উপর আইন প্রয়োগ জন্য নিজেরাই দায়ী থাকতে হয়। করতে পারে। এর ফলে, রাষ্ট্রগুলিকে নিজেদের নিরাপত্তার

নিরাপত্তা উভয়সংকট (Security Dilemma): যখন একটি রাষ্ট্র তার নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করে, তখন এটি অন্য রাষ্ট্রগুলিকে অনিরাপদ বোধ করাতে পারে, যার ফলে তারাও সামরিক শক্তি বাড়ায়। এই চক্রটি শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়ায় এবং যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে।

১৯। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে আদর্শবাদের মূল লক্ষ্য কী?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে আদর্শবাদের মূল লক্ষ্য হলো:

যুদ্ধ পরিহার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা: আদর্শবাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ প্রতিরোধ করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।

গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: গণতন্ত্রের বিস্তার এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি আদর্শবাদীরা গুরুত্ব দেয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি কম যুদ্ধপ্রবণ হয়।

২০। আদর্শবাদীরা রাষ্ট্রের কোন দিকটির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন?

উত্তর: আদর্শবাদীরা রাষ্ট্রের নৈতিক এবং আইনগত দিকটির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তারা বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্রপুলি শুধু ক্ষমতা বা স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয় না, বরং তাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন, মানবতাবোধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি। আদর্শবাদীরা আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিস্তারের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব, যদি তারা নৈতিক নীতিগুলি মেনে চলে।

২১। উড্রো উইলসন কোন তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন?

উত্তর: উড্রো উইলসন আদর্শবাদ (Idealism) তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। বিশেষ করে, তিনি উইলসনীয় আদর্শবাদ (Wilsonian Idealism) এর জন্য পরিচিত, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করেছিল। তার মূল ধারণাগুলির মধ্যে ছিল জাতিগুলির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, গোপন চুক্তির বিলোপ, নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন লিগ অফ নেশনস) প্রতিষ্ঠা যার উদ্দেশ্য হবে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যত যুদ্ধ প্রতিরোধ করা।

২২। আদর্শবাদ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়?

উত্তর: আদর্শবাদ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (1914-1918) শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতি রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল, যা ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের নেতৃত্বে ‘লীগ অফ নেশনস’ (League of Nations) গঠনের প্রস্তাব ছিল এই আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাস্তব রূপ, যার লক্ষ্য ছিল সম্মিলিত নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

২৪। লিগ অব নেশনস আদর্শবাদের কোন ধারণার বাস্তব রূপ?

উত্তর: লিগ অব নেশনস (League of Nations) আদর্শবাদের যৌথ নিরাপত্তা (Collective Security) এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠান (International Cooperation and Institutions) ধারণার বাস্তব রূপ ছিল।

আদর্শবাদীরা বিশ্বাস করতেন যে এককভাবে রাষ্ট্রগুলির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার পরিবর্তে, যদি সব রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে কোনো আক্রমণকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যুদ্ধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। লিগ অব নেশনস এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলি একে অপরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিল এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করার কথা ছিল। এটি ছিল প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২৪। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে আদর্শবাদ এবং বাস্তববাদের মধ্যে একটি মূল পার্থক্য লেখো।

উত্তর: রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা। বাস্তববাদে রাষ্ট্রকে ‘unitary’ ও ‘rational actor হিসেবে দেখা হয়, যে সর্বদা জাতীয় স্বার্থের (national interest) অনুসন্ধানে নিয়োজিত। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যেখানে অরাজক (anarchic)-সেখানে কোনো উচ্চতর কর্তৃপক্ষ নেই। আদর্শবাদ এই কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে বলে যে, রাষ্ট্র একমাত্র actor নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা, NGO, আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি ব্যক্তিবিশেষও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা মনে করেন এই actor-দের মধ্যে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নিয়ম ও শৃঙ্খলা আনা সম্ভব।

২৫। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘যৌথ নিরাপত্তা’ (Collective Security) ধারণাটি কোন্ তত্ত্বের অন্তর্গত?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘যৌথ নিরাপত্তা’ (Collective Security) ধারণাটি আদর্শবাদ (Idealism) তত্ত্বের অন্তর্গত। এই ধারণার মূল বক্তব্য হল, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনো একটি রাষ্ট্রের উপর আক্রমণকে সব রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সব রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে সেই আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এর উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে নিবৃত্ত করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। লিগ অফ নেশনস এবং পরবর্তীতে জাতিপুঞ্জের (United Nations) গঠনের মূলে এই যৌথ নিরাপত্তার ধারণাই ছিল।

২৬। আদর্শবাদ কোন্ ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করে?

উত্তর: আদর্শবাদ একটি শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক (Peaceful, Cooperative, and Just) আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করে। বাস্তববাদের অরাজক ব্যবস্থার ধারণার বিপরীতে, আদর্শবাদীরা বিশ্বাস করেন যে আন্তর্জাতিক আইন, নৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসারের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলি সংঘাত পরিহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারে। তারা একটি বিশ্ব সমাজ এবং একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গঠনের কথা ভাবে, যেখানে সাধারণ স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং যেখানে যুদ্ধ একটি অগ্রহণযোগ্য সমাধান।

২৭। আদর্শবাদীরা যুদ্ধরোধের জন্য কোন উপায়গুলি প্রস্তাব করেন?

উত্তর: আদর্শবাদীরা যুদ্ধরোধের জন্য নিম্নলিখিত উপায়গুলি প্রস্তাব করেন:- যৌথ নিরাপত্তা (Collective Security). আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠান, নিরস্ত্রীকরণ, গণতন্ত্রের প্রসার, মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রকাশ্য কূটনীতি, জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ।

২৮। উদারবাদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কোন ধারণা প্রচার করে?

উত্তর: উদারবাদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা (Cooperation), শান্তি (Peace), পারস্পরিক নির্ভরশীলতা (Interdependence) এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (International Institutions) এর ধারণা প্রচার করে। উদারবাদীরা বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্রগুলি শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা করে না, বরং তারা সাধারণ স্বার্থের ভিত্তিতে একে অপরের সাথে সহযোগিতা করতে পারে। তারা মুক্ত বাণিজ্য, গণতন্ত্রের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে।

২৯। উদারবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলে?

উত্তর: উদারবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নীতিতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এর মূল বিষয়গুলি হলো:

গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব (Democratic Peace Theory): উদারবাদীরা বিশ্বাস করেন যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে না। এর কারণ হলো, গণতন্ত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং জনগণ সাধারণত যুদ্ধের বিরোধিতা করে।

আইনের শাসন: যে রাষ্ট্রগুলিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি মেনে চলতে বেশি আগ্রহী হয়, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধের প্রতিফলন: একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উদার মূল্যবোধ (যেমন মানবাধিকার, স্বাধীনতা) প্রায়শই তার আন্তর্জাতিক নীতিতে প্রতিফলিত হয়, যা অন্যান্য উদার রাষ্ট্রগুলির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।

৩০। Interdependence ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে কোন তত্ত্বের ভিত্তি?

উত্তর: Interdependence (পারস্পরিক নির্ভরশীলতা) ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পাঠে উদারবাদ (Liberalism) এবং বিশেষ করে এর আধুনিক সংস্করণ নয়া-উদারবাদ (Neo-liberalism) তত্ত্বের ভিত্তি। এই ধারণাটি বোঝায় যে আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রগুলি অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত এবং প্রযুক্তিগতভাবে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। যখন রাষ্ট্রগুলি একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়, তখন তাদের মধ্যে সংঘাতের ব্যয় বেড়ে যায় এবং সহযোগিতার সুবিধা বেশি হয়। এটি মুক্ত বাণিজ্য, বিশ্বায়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রসারের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সম্পর্ককে আরও জটিল ও নিবিড় করে তোলে, যা যুদ্ধের পরিবর্তে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে।

৩১। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে বিকশিত হয়েছিল?

উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (1914-1918) পর বিকশিত হয়েছিল। ১৯১৯ সালে ওয়েলসে (University of Wales, Aberystwyth) বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ চালু হয়। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (1939-1945) সূত্রপাত এবং লিগ অফ নেশনসের ব্যর্থতা আদর্শবাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বাস্তববাদ (Realism) একটি প্রভাবশালী তত্ত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আচরণবাদ (Behavioralism) এবং নয়া-বাস্তববাদ (Neo-realism) ও নয়া-উদারবাদ (Neo-liberalism) এর মতো তত্ত্বগুলি বিকশিত হয়, যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং কাঠামোগত বিশ্লেষণের উপর জোর দেয়। ঠান্ডাযুদ্ধ পরবর্তীকালে বিশ্বায়ন, মানবাধিকার, পরিবেশগত সমস্যা এবং অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতাদের উত্থানের সাথে সাথে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি আরও বৈচিত্র্যময় এবং আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে নির্মাণবাদ (Constructivism), মার্কসবাদ, নারীবাদ সমালোচনামূলক তত্ত্বের মতো নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এইভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আজ বিশ্ব রাজনীতির জটিল প্রক্রিয়াগুলি বোঝার একটি অপরিহার্য পাঠ্যবিষয় হিসেবে গড়ে উঠেছে।

৩২। মার্কসবাদীদের মতে রাষ্ট্র কী?

উত্তর: মার্কসবাদীদের মতে, রাষ্ট্র হল মূলত শাসক শ্রেণির (Ruling Class) স্বার্থ রক্ষার একটি যন্ত্র। কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের ধারণার উপর ভিত্তি করে, মার্কসবাদীরা বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ সত্তা নয়, বরং এটি একটি শ্রেণির (পুঁজিবাদী সমাজে বুর্জোয়া শ্রেণি) ক্ষমতা এবং সম্পত্তি রক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি পুঁজিবাদের উৎপাদন সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শ্রমজীবী শ্রেণিকে (প্রলেতারিয়েত) শোষণ করতে সাহায্য করে। রাষ্ট্র এবং এর আইন-কানুন সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোর (base) একটি ‘উপরিকাঠামো’ (superstructure)। অর্থাৎ, উৎপাদন পদ্ধতি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কই রাষ্ট্রের প্রকৃতি নির্ধারণ করে। রাষ্ট্র ঐতিহাসিক বিকাশের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে (যেমন শ্রেণি সমাজের উত্থান) উদ্ভূত হয়েছে এবং শ্রেণিগত বিভাজন দূর হলে (যেমন-সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর) এটি ‘বিলুপ্ত’ (wither away) হবে।

আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment