শিখন এবং শিখন কৌশল প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার শিক্ষাবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় | Shikhon ebong Shikhon Koushol Question Answer Class 12 Semester 4th Education 1st Chapter

১। শিখনের সংজ্ঞা দাও।
অথবা, কয়েকজন মনোবিজ্ঞানীর ধারণা বিশ্লেষণ করে শিখনের একটি কার্যকরী সংজ্ঞা দাও। শিখনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
শিখনের সংজ্ঞা: শিখন একটি মানসিক প্রক্রিয়া যা পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে দৈহিক ও মানসিকভাবে সংগতিবিধানে সাহায্য করে ও জন্মের পর থেকে এই শিখন আমৃত্যু চলতে থাকে।
(i) মনোবিদ উডওয়ার্থ (Woodworth): মনোবিদ উডওয়ার্থ-এর মতে, চাহিদার বস্তু বা লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার সঠিক বন্ধন সৃষ্টির কৌশলই হল শিখন।
(ii) এইচ পি স্মিথ (HP Smith): এইচ পি স্মিথ-এর মতে, শিখন হল অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি হিসেবে নতুন আচরণ আয়ত্তীকরণ অথবা পুরাতন আচরণের দৃঢ়ীকরণ বা শিথিলকরণের প্রক্রিয়া।
(iii) ক্রো এবং ক্রো (Crow & Crow): ক্রো এবং ক্রো-এর মতে, শিখন হল অভ্যাস, মনোভাব গঠন এবং জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া।
কার্যকরী সংজ্ঞা: পরিবর্তিত পরিবেশ- পরিস্থিতির সঙ্গে সার্থক সংগতিবিধানের উদ্দেশ্যে অতীত অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণধারার পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হল শিখন।
শিখনের বৈশিষ্ট্য:
(i) বিকাশের প্রক্রিয়া : শিখন বলতে কোনো আচরণ সম্পাদনের ক্ষমতাকে বোঝায় না। শিখন হল ব্যক্তি বা শিশুর এমন এক বিকাশের প্রক্রিয়া, যার দ্বারা তার আচরণের উৎকর্ষ সাধন হয়।
(ii) অভিজ্ঞতানির্ভর ও অভিযোজনমূলক : বর্তমান শিখনের মূল ভিত্তি হল অতীতের অভিজ্ঞতা। আর এই শিখনলব্ধ অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীকে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনে সাহায্য করে।
(iii) চাহিদানির্ভর ও উদ্দেশ্যমুখী : শিখন প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তির চাহিদাপূরণ হয়। আর যেহেতু কোনো উদ্দেশ্য সিদ্ধ করার জন্য আমরা শিখতে চাই, তাই এটি উদ্দেশ্যমুখী প্রক্রিয়া।
(iv) অনুশীলননির্ভর: শিখনের জন্য অভিজ্ঞতার অনুশীলন খুব জরুরি। অনুশীলন যত বেশি শিখনলব্ধ হবে, অভিজ্ঞতার সংরক্ষণ তত বেশি হবে।
(v) প্রেষণানির্ভর ও আত্মসক্রিয়তাকেন্দ্রিক: ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ ইচ্ছা হল প্রেষণা, যা ব্যক্তিকে কোনো কাজে প্রেরণা দেয় ও সে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে ব্যক্তি তথা শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মসক্রিয়তা দেখা যায় ও সে নতুন আচরণ আয়ত্ত করতে নানান প্রচেষ্টা চালায়। ফলে শিখন সম্ভব হয়।
(vi) নিরবচ্ছিন্ন: শিশুর জন্মের পর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং চলে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত। অর্থাৎ শিখন হল জীবনব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।
(vii) সঞ্চালনমূলক ও স্থায়ী পরিবর্তন: শিখনলব্ধ অভিজ্ঞতা এক পরিস্থিতি থেকে অন্য পরিস্থিতিতে সঞ্চালিত হয়। আর শিখনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আচরণের স্থায়ী পরিবর্তন হয়।
(viii) সর্বজনীন: মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল প্রাণী শিখনের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করতে সমর্থ হয় এবং তারা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তাই শিখন হল একটি সর্বজনীন প্রক্রিয়া।
(ix) আচরণের উৎকর্ষসাধন : শিখনের ফলে কর্মসম্পাদনের ক্ষমতা উন্নততর হয়। পুরাতন আচরণ সমস্যাসমাধানে বা পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত হয়ে পড়লে, সমস্যাসমাধানের জন্য বা সার্থক অভিযোজনের জন্য পুরাতন আচরণের পরিবর্তনসাধন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। অর্থাৎ আচরণের উৎকর্ষসাধন ঘটে শিখনের মাধ্যমে।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, শিখন হল উদ্দেশ্যমূলক, সচেতন এবং ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া।
২। শিখন ও পরিণমনের মধ্যে সম্পর্ক কীরূণ? শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের ভূমিকা আলোচনা করো।
শিখন ও পরিণমনের সম্পর্ক:
(i) পারস্পরিক সম্পর্ক : শিখন ও পরিণমন দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। পরিণমনের অর্থ স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ, যা শিখনের উপর নির্ভর করে না, কিন্তু শিখন পরিণমনের উপর নির্ভরশীল। শিখন তখনই হয়, যখন পরিণমনের উপযোগী বয়সে শিশু পৌঁছোয়।
(ii) বিকাশমূলক প্রক্রিয়া: পরিণমন ও শিখন উভয়ই বিকাশমূলক প্রক্রিয়া। পরিণমন শিখন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, কিন্তু শিখন পরিণমন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে শিশুর বিকাশে সহায়তা করে।
(iii) শিক্ষাবিদদের মতামত : শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুর শিক্ষাদানে নতুন শিখনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিণমনের দরকার।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের ভূমিকা:
(i) দৈহিক ও মানসিক প্রক্রিয়া : শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশের দ্বারা তার পরিণমনের প্রকাশ ঘটে। এর ফলে শিশুর ভাষার বিকাশ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশ ঘটে। শিশু পাঠগ্রহণে সক্ষম হয়।
(ii) শিখনের গতি ও সীমা নির্ধারণ: শিখনের গতি ও সীমা নির্ধারণে পরিণমনের ভূমিকা লক্ষ করা যায়। নির্দিষ্ট পরিণমনের পর শিশুর শিখন শুরু হয় এবং তা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলতে থাকে। পরিণমনই ঠিক করে দেয় কোন্ সময়ে কোন্ ধরনের শিখন সার্থক ও সফল হবে।
(iii) ভাষাবিকাশ: শিক্ষার্থীর ভাষাবিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিণমন। উপযুক্ত পরিণমন ছাড়া কখনোই শিক্ষার্থীর ভাষাবিকাশ সম্ভব নয়।
(iv) জ্ঞানেন্দ্রিয় ও কার্যন্দ্রিয়ের সমন্বয়: শিক্ষার্থীর সার্থক বিকাশের উপর নির্ভর করে জ্ঞানেন্দ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয়ের সমন্বয়সাধন, যা শিক্ষার্থীকে যে-কোনো বিষয় শিখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
(v) পরিণমনের ধরন নির্ধারণ : অনেকক্ষেত্রে শিখন পরিণমনের ধরন নির্ধারণ করে। যেমন- কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাঠ্যের বিষয় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শিশুদের ইন্দ্রিয়সমূহকে পরিমার্জনের শিক্ষা দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে পরিণমন শিখন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
(vi) জীবনবিকাশ: শিক্ষার্থীদের জীবনবিকাশে শিখন গুরুত্বপূর্ণ। আর শিখনকে ফলপ্রসূ করতে পরিণমনের বিকাশ আবশ্যক।
(vii) পরিকল্পনামাফিক পাঠ ও শিক্ষা পরিকল্পনা: সঠিক পরিণমন না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে সমস্যা হয়। তাই উপযুক্ত পরিণমনের উপর নির্ভর করে পাঠক্রম রচনা ও শিক্ষা পরিকল্পনা করা হয়।
(viii) পরিণমনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা: শৈশব, বয়ঃসন্ধি এইসব পর্যায়ে সঠিক পাঠক্রম রচনার জন্য পরিণমনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন।
৩। প্রেষণা কাকে বলে সংক্ষেপে প্রেষণাচক্র বর্ণনা করো।
প্রেষণা: প্রেষণা কথাটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Motivation’। এটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘Movere’ থেকে, যার অর্থ হল ‘To Move’ বা ‘চলা’। অর্থাৎ মনের অভ্যন্তরীণ যে চালিকাশক্তি আমাদের কর্মোদ্যম সৃষ্টি করে, তাকে বলে প্রেষণা। মনোবিদ উডওয়ার্থ (Woodworth)-এর মতে, প্রেষণা হল ব্যক্তির এমন একটি প্রক্রিয়া, যা কোনো লক্ষ্যপূরণ ও আচরণ সম্পন্ন করার জন্য ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে। প্লেটোর (Plato) মতে, প্রেষণা হল এমন একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি, যার মূলে মানুষের স্বাধীন চিন্তা থাকে।
প্রেষণাচক্র: প্রেষণাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি পর্যায়ের সন্ধান পাওয়া যায়। এই চারটি স্তর পর্যায়ক্রমে চক্রাকার পথে আবর্তন করতে থাকে একেই বলে প্রেষণাচক্র।
(i) চাহিদা (Need): এটি প্রেষণাচক্রের প্রথম পর্যায়। কোনো বস্তুর অভাব বা চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তির মধ্যে প্রেষণা জাগ্রত হয়। যেমন- ক্ষুধা, তৃয়া, অভ্যন্তরীণ স্পৃহা, স্বীকৃতি, আত্মপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ইত্যাদি।
(ii) তাড়না (Drive): কোনো বস্তুর অভাব থেকে ব্যক্তি বা প্রাণীর মধ্যে একধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। একে তাড়না বলে। এই অস্বস্তিকর অনুভূতি ব্যক্তি বা প্রাণীকে উদ্দেশ্যমুখী আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। এই তাড়না হল প্রেষণাচক্রের দ্বিতীয় পর্যায়।
(iii) সহায়ক বা যান্ত্রিক আচরণ (Instrumental Behaviour): এটি হল প্রেষণাচক্রের তৃতীয় পর্যায়। চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি বা প্রাণীর মধ্যে যে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তা নিবারণের জন্য ব্যক্তি উদ্দেশ্যমুখী যে আচরণ করে, তাকে সহায়ক আচরণ বলে, যা যান্ত্রিক প্রকৃতির হয়।
(iv) লক্ষ্যপ্রাপ্তি (Goal): প্রেষণাচক্রের সর্বশেষ স্তর হল লক্ষ্যপ্রাপ্তি বা উদ্দেশ্যপূরণ বা ফলপ্রাপ্তি। দেখা যায় যে, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারলে ব্যক্তির অস্বস্তিকর অনুভূতি দূরীভূত হয় এবং সে পরিতৃপ্তি লাভ করে।
৪। স্মৃতি বলতে কী বোঝো? স্মৃতির চারটি স্তরের বর্ণনা করো।
স্মৃতি: “পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।”
চোখের দেখা, আমাদের জানা পুরানো জিনিসকে আমাদের মনের ঝুলি থেকে বের করে আনতে পারাই হল না ভোলা তথা স্মৃতি। অর্থাৎ অতীত বিষয়কে মনে করতে পারা। মনোবিদ Woodworth-এর মতে, অতীতে শেখা কোনো কাজকে অনুরূপভাবে সমাধান করতে পারার প্রক্রিয়াই হল স্মৃতি।
স্মৃতি বলতে জীবের তথ্য অর্জন, সঞ্চয়, ধরে রাখা এবং প্রয়োজনে পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
স্মৃতির পর্যায়: স্মৃতির পর্যায়গুলি হল-শিখন (Learning), সংরক্ষণ (Retention) এবং পুনরুত্থাপন (Reproduction)
(i) শিখন (Learning): স্মরণের প্রথম স্তর হল শিখন। কোনো বিষয় বা বস্তু স্মরণ করতে হলে প্রথমে তার শিখন হওয়া প্রয়োজন। এই শিখন হল পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণধারার পরিবর্তন। আর এই অভিজ্ঞতাকে মনের মধ্যে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হলে তাকে বারবার উপস্থাপন করতে হয় এবং প্রত্যেক উপস্থাপনে অভিজ্ঞতাটি একটু একটু করে সংরক্ষিত হয়। এইভাবে পুনরাবৃত্তি ঘটলে একসময় সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাটি মনে স্থান পায়। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উপস্থাপনের শিখনের পরিমাপকে ছক কাগজে স্থাপন করলে যে লেখচিত্র পাওয়া যায়, তাকে শিখনের লেখচিত্র বলে।
(ii) সংরক্ষণ (Retention): স্মরণের দ্বিতীয় স্তর হল সংরক্ষণ বা ধারণ। এটি এমন এক প্রক্রিয়া, যার দ্বারা মনের নানাপ্রকার অভিজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিবর্তিত হয়। বাস্তবে মানুষ শিখন প্রচেষ্টার দ্বারা যে-সমস্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করে, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অনেকাংশই তা স্মৃতি থেকে মুছে যায়। কিছু অংশ স্মৃতিতে থেকে যায়- যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সংরক্ষণ বলে।
(iii) পুনরুত্থাপন (Reproduction): অর্জিত অভিজ্ঞতাকে বা সংরক্ষিত ধারণাকে পুনরায় স্মরণের মাধ্যমে উপস্থাপনকে বলে পুনরুত্থাপন। এটি দু-প্রকার- পুনরুদ্রেক ও প্রত্যভিজ্ঞা।
পুনরুদ্রেক (Recall): স্মরণের তৃতীয় স্তর হল পুনরুদ্রেক। এর অর্থ হল মনে করা। সংরক্ষণের ভান্ডার থেকে শিখনলব্ধ অভিজ্ঞতাকে সক্রিয় চেতন মনে পুনরুত্থাপিত করার প্রক্রিয়াই হল পুনরুদ্রেক।
এটি দু-প্রকার, যথাক্রমে- প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পুনরুদ্রেক। পুনরুদ্রেক প্রক্রিয়ার তিনটি সূত্র হল-
- (a) সান্নিধ্যের সূত্র: পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে যখন একটি ঘটনা অপর একটি ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তখন তাকে সান্নিধ্যের সূত্র বলে।
- (b) সাদৃশ্যের সূত্র: দুটি বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলে প্রথম বিষয়টি মনে পড়তেই দ্বিতীয় বিষয়টিও সহজে মনে পড়ে যায়।
- (c) বৈসাদৃশ্যের সূত্র: এক্ষেত্রে অনেকসময় দুটি বিষয়ের মধ্যে অমিল থাকলেও তা সহজেই মনে পড়ে।
প্রত্যভিজ্ঞা (Recognition): স্মরণের সর্বশেষ স্তর হল প্রত্যভিজ্ঞা। প্রত্যভিজ্ঞা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্রেকের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যভিজ্ঞা কথার অর্থ হল চিনে নেওয়া। পূর্বে প্রত্যক্ষণ করা কোনো অভিজ্ঞতাকে বর্তমানে চিনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে প্রত্যভিজ্ঞা। এটি ছাড়া স্মরণক্রিয়া অসফল হয়।
৫। Dr. Murray Hunter কল্পনাকে কটি ভাগে ভাগ করেছেন এবং কী কী? শিক্ষাক্ষেত্রে – কল্পনার গুরুত্ব আলোচনা করো।
Dr. Murray Hunter কল্পনাকে ৮টি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- কার্যকরী কল্পনা, বৌদ্ধিক কল্পনা, কাল্পনিক কল্পনা, সমানুভূতিমূলক কল্পনা, কৌশলগত কল্পনা, স্মৃতির পুনর্গঠনজনিত কল্পনা, প্রাক্ষোভিক কল্পনা, স্বপ্ন।
শিক্ষাক্ষেত্রে কল্পনার গুরুত্ব:
মানব সভ্যতার মূলে রয়েছে মানুষের উন্নত ধরনের কল্পনা। – শিক্ষাক্ষেত্রে কল্পনার গুরুত্বগুলি হল-
(i) কৃষ্টি ও সংস্কৃতি : মানুষের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তার জন্য মানুষের কল্পনাশক্তিকে কার্যকর করা হয়েছে। এই বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানলাভের জন্য প্রয়োজন কৃষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান। এই সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করতে প্রয়োজন কল্পনাশক্তির উন্মেষ।
(ii) সামাজিক বিকাশ : কল্পনার সাহায্যে সামাজিক বিকাশ সম্ভব। কারণ যুগে যুগে যেসব বিশেষ ব্যক্তিত্ব তাঁদের কর্মধারার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাদের কর্মপদ্ধতি জানতে বিশ্বাসযোগ্য কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হয়।
(iii) বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার বিকাশ : বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নতি যেভাবে ঘটছে, তাতে বিভিন্ন বিজ্ঞানীর কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই যুক্তিভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য কল্পনাকে বুঝতে গেলে দরকার শিক্ষার।
(iv) জীবনবিকাশ: শৈশবে শিক্ষার্থীরা প্রধানত কল্পনাপ্রবণ হয়। তাদের কল্পনা বিভিন্ন ধরনের বস্তুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। শিক্ষার দ্বারা কল্পনার বিকাশকে যদি যথাযোগ্য করে তোলা যায়, তা শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনবিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(v) প্রেষণা সৃষ্টি: শিখনকে সার্থক রূপ দিতে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেষণা সৃষ্টি করা দরকার। এই প্রেষণা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন মানসিক সক্রিয়তা। কল্পনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক সক্রিয়তা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কল্পনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পথের সন্ধান দেয়, যা তাদেরকে বিভিন্ন কাজে প্রেষণা সঞ্চার করে।
(vi) সৃজনশীল চিন্তাভাবনা: কল্পনাশক্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশে সাহায্য করে।
(vii) মানসিক বিকাশ: শিক্ষার আরেকটি উদ্দেশ্য হল শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়তা করা। কল্পন প্রক্রিয়াও শিশুর মানসিক বিকাশে নানা দিক থেকে সহায়তা করতে পারে। বৌদ্ধিক কল্পনা, সৌন্দর্যবোধক কল্পনা ও কার্যকরী কল্পনা শিশুর মানসিক বিকাশে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে থাকে।
এই প্রত্যেক মানসিক বৈশিষ্ট্যের বিকাশ শিক্ষার কাছ থেকে কাম্য। তাই বলা যায়, শিক্ষার্থীর কল্পনা তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করে, শিক্ষার কাজকে সহজ করে দেয়।
সুতরাং শিক্ষাক্ষেত্রে কল্পনার বিকাশ অভি গুরুত্বপূর্ণ।
৬। মনোযোগের বিভাজন কাকে বাল? শিক্ষাক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকার মূল্যায়ন করো।
মনোযোগের বিভাজন: একই সময়ে সৈ অনেকগুলি উদ্দীপকের প্রতি মনোযোগ দেওয়াকে মনোযোগের বিভাজন বলে। যেমন- কোনো ছাত্র বা ছাত্রী অঙ্ক করছে আবার গানও শুনছে বা কোনো বাসের চালক গান শুনছে আবার বাসও চালাচ্ছে। তবে, মনোযোগের বিভাজন ও তার প্রভাব বিষয়ে অনেক পরীক্ষা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকা ও শিক্ষকের দায়িত্ব:
(i) ব্যক্তিগত বৈষম্য: মনোযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়, তাই ব্যক্তিগত বৈষম্যের নীতি অনুসরণে শিক্ষাক্ষেত্রে বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়।
(ii) মনোযোগের নির্ধারকের ব্যবহার : মনোযোগের বিভিন্ন নির্ধারকসমূহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে শিক্ষক শিক্ষিকা কাজে লাগান। যেমন-রঙিন পাঠ্যপুস্তকের ব্যবহার, শিক্ষাসহায়ক চার্ট ব্যবহার ইত্যাদি।
(iii) উন্নত বিদ্যালয় পরিবেশ : শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ করতে উন্নত বিদ্যালয় পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। মনোরম পরিবেশ মনোনিবেশের অন্যতম হাতিয়ার।
(iv) ইচ্ছাসাপেক্ষ মনোযোগ ও শিক্ষা: শিক্ষককে শিখনের উদ্দেশ্য ও ব্যাবহারিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করে, সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে, উপদেশ দিয়ে, প্রয়োজন হলে লঘু শাসনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণে সচেষ্ট হতে হবে।
(v) বিষয় বৈচিত্র্য : শিক্ষাদানের সময় পাঠ্যসূচির বিষয়টি নীরস হওয়ার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি দেখা যায়। তাই নিরবচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু দীর্ঘ সময় ধরে এ আলোচনা না করে, মাঝে মাঝে শিক্ষক অন্য বিষয়ে না চলে যাবেন। কঠিন ও নীরস পাঠে মনোযোগ আসে না।
(vi) প্রক্ষোভ অনুসরণ : মনোযোগের ব্যক্তিগত নির্ধারক, যেমন-শিক্ষার্থীর প্রক্ষোভ, প্রবণতা, কৌতূহল প্রভৃতির দিকে লক্ষ রেখে শিক্ষাদান করা হলে শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হয়, ফলে শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলির বিকাশ ঘটে এবং শিক্ষা ফলপ্রসূ হয়।
(vii) বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মনোযোগ : বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাপ্রণোদিত মনোযোগ সৃষ্টি হয়। এই অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের বিমূর্ত ভাবনার প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন। এই ইচ্ছাপ্রণোদিত মনোযোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবেন।
(viii) মনোযোগের ক্ষেত্রসীমা: শিশুর মনোযোগের পরিসীমা যেহেতু সীমিত, তাই শিক্ষক-শিক্ষিকা লক্ষ রাখবেন যাতে পাঠক্রম দীর্ঘ না হয় এবং বিষয়বস্তুকে খন্ডীকরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন।
পরিশেষে বলা যায়, মনোযোগ পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান শর্ত। শিক্ষার্থীর জৈব-মানসিক সংগঠনের উপর শিক্ষককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুর প্রতি তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক মনোযোগ সৃষ্টি হয়।
৭। আগ্রহের প্রকৃতি সম্পর্কে লেখো। শিক্ষাক্ষেত্রে শিশু তথা শিক্ষার্থীর আগ্রহের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করো।
আগ্রহের প্রকৃতি বা স্বরূপ:
আগ্রহ বা অনুরাগের প্রকৃতি বা স্বরূপগুলি হল- আগ্রহ একটি স্থায়ী মানসিক সংগঠন। আগ্রহের ফলে ব্যক্তি বহির্জগতের বিভিন্ন বিষয়, বস্তু বা ধারণা বা অবস্থার প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকে। আগ্রহ হল পরিবর্তনশীল। আগ্রহের উপর সামাজিক পরিবেশের প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। আগ্রহ বা অনুরাগ বিভিন্ন চাহিদা সৃষ্টির সহায়ক। এটি একটি বিকাশমূলক প্রক্রিয়া। আগ্রহ ব্যক্তিগত ও বস্তুগত উভয় ধরনেরই হতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা:
আধুনিক শিক্ষায় শিশুর সামগ্রিক জীবনবিকাশে আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলি হল-
(i) সক্রিয়তা বৃদ্ধি: আগ্রহ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাগ্রহণে সক্রিয় করে তোলে, যে সক্রিয়তা জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
(ii) নতুন কর্মে অনুপ্রেরণা: আগ্রহ শিক্ষার্থীকে নতুন নতুন কর্মে অনুপ্রেরণা জোগায়, নতুন সৃষ্টির প্রতি শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করে।
(iii) প্রেষণা সঞ্চার : আগ্রহ শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাভিমুখী প্রেষণা সঞ্চার করে শিখন প্রক্রিয়াকে অধিক ফলপ্রসূ করে।
(iv) নির্দেশনা প্রদান : শিক্ষার্থীর আগ্রহ অনুশীলন করে তার ভবিষ্যৎ বৃত্তি নির্বাচনে নির্দেশনা প্রদান হয়। যার ফলস্বরূপ শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনপথ সুগম হয়।
(v) অনুশীলনে সহায়তা: শিশুর আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে অনুশীলনে সহায়ক হয়, এই অনুশীলন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
(vi) দক্ষতা বৃদ্ধি: আগ্রহের মাধ্যমে শেখা বিষয় শিক্ষার্থীর বিষয়জ্ঞান নিখুঁত করে এবং তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। ব্যক্তির কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পেলে সে যে-কোনো কাজ সাবলীলভাবে করতে পারে।
(vii) সৃজনশীলতার বিকাশ: অনুরাগ শিশুর অন্তর্নিহিত সৃজনাত্মক ক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে অনুসন্ধানমূলক কাজে অনুপ্রেরণা জোগায়।
৮। প্রাচীন অনূবর্তন কাকে বলে?
অথবা, প্রাচীন অনুবর্তনের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। প্রাচীন অনুবর্তন সংক্রান্ত প্যাভলভের পরীক্ষাটি বর্ণনা করো।
প্রাচীন অনুবর্তন: রাশিয়ান শারীরতত্ত্ববিদ আইভান প্যাভলভের (Ivan Pavlov) মতানুযায়ী প্রাণীর স্বাভাবিক উদ্দীপকের উপস্থিতিতে বা কৃত্রিম উদ্দীপকের দ্বারা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে প্রাচীন অনুবর্তন বলে।
প্যাভলভের পরীক্ষা:
প্রাচীন অনুবর্তনের পরীক্ষাটি করার আগে প্যাভলভ একটি কুকুরকে কয়েক সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দেন। পরীক্ষাটি করার সময় ওই ক্ষুধার্ত কুকুরটির সামনে কিছু খাবার রেখে প্যাভলভ দেখেন কুকুরটির লালাক্ষরণ হচ্ছে। এখানে খাদ্যবস্তুটি হল স্বাভাবিক উদ্দীপক আর লালাক্ষরণ হল স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এরপর প্রতিদিন প্যাভলভখাদ্যবস্তু উপস্থাপনের পূর্বে কিছু সময় ধরে ঘণ্টাধ্বনি করেন এবং শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে খাদ্যবস্তু উপস্থাপন করেন। এখানে ঘণ্টাধ্বনি কৃত্রিম উদ্দীপক।
প্রথম দিকে দেখা যায় ঘণ্টাধ্বনি কুকুরটিকে সজাগ করছে। এই সজাগভাবটি হল ঘণ্টাধ্বনির প্রতি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। প্যাভলভ আরও দেখেন ঘণ্টাধ্বনি শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে খাদ্যবস্তু দেওয়ার ফলে কুকুরের লালাক্ষরণ হচ্ছে। এই লালাক্ষরণের পরিমাণটি প্যাভলভ কাইমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করেন। এই ঘটনাটির পুনরাবৃত্তির ফলে খাদ্যবস্ত উপস্থাপনের পূর্বে ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে সম কুকুরটির লালাক্ষরণ হতে দেখা যায়।
সিদ্ধান্ত:
এ থেকে প্যাভলভ সিদ্ধান্ত নেন ও স্বাভাবিক উদ্দীপক (S₁) খাদ্যবস্তুর পরিবার ঘণ্টাধ্বনিরূপ কৃত্রিম উদ্দীপকের (S₂) দ্বারা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া অর্থাৎ লালাক্ষরণ ঘটেছে। এই কৃত্তিম। উদ্দীপকের দ্বারা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়াটিকেই প্যাভলভ অনুবর্তন বলেছেন এক ঘণ্টাধ্বনিকে অনুবর্তিত উদ্দীপক ও লালাক্ষরণরে। অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়া বলেছেন। অন্যদিকে খাদ্যবস্তু হল অনাবর্তিত উদ্দীপক আর সজাগভাব হল অনাবর্তিত প্রতিক্রিয়া।
৯। সক্রিয় বা অপারেন্ট অনুবর্তন কাকে বলে? সংক্ষেপে স্কিনার বক্সের পরীক্ষাটি বর্ণনা করো।
অপারেন্ট অনুবর্তন: বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিদ বি এফ স্কিনার (BF Skinner) অপারেন্ট অনুবর্তনের স্রষ্টা। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে 1930 সালে একটি পত্রিকার একটি প্রবন্ধে অপারেন্ট অনুবর্তনের ধারণা দেন।
Operant কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘ফলোৎপাদনের জন্য প্রতিক্রিয়া’। স্কিনারের মতে প্রতিক্রিয়া করার ক্ষেত্রে সবসময় উদ্দীপকে প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যে অনুবর্তন প্রক্রিয়া কোনো উদ্দীপক ছাড়া প্রতিক্রিয়া সম্ভব এবং প্রাণী সক্রিয়তা যেখানে আবশ্যক, তাকে বলে সক্রিয়। অপারেন্ট অনুবর্তন। যেমন- চাহিদা, আগ্রগ্র তৃপ্তিদায়ক ও বেদনাদায়ক অনুভূতি প্রভৃতি প্রাণী মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ সৃষ্টি করে। এই আচরণই। সক্রিয় অনুবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট আচরণ।
অপারেন্ট অনুবর্তন সংক্রান্ত স্কিনারে পরীক্ষা:
মনোবিদ স্কিনার সক্রিয় অনুবর্তন Operant Conditioning সংক্রান্ত পরীক্ষাটির জন্য উপকরণ হিসেবে স্কিনার বক্স, ক্ষুধার্ত ইঁদুর, খাদ্যবস্তু ব্যবহার করেন।
পরীক্ষা: স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তনের পরীক্ষার পর্যায়গুলি হল-
(i) প্রথম পর্যায়: স্কিনার পরীক্ষার জন্য প্রথমে একটি ক্ষুধার্ত ইঁদুরকে তাঁর তৈরি স্কিনার বক্স এর মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। ওই বক্সের মধ্যে থাকা ট্রে-তে আগে থেকেই খাবার রাখা ছিল। ইঁদুরটি খাদ্যগ্রহণ করে এবং এইভাবে পরীক্ষামূলক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হয়।
(ii) দ্বিতীয় পর্যায়: অন্য একদিন ইঁদুরটিকে বক্সে ঢোকানোর পর স্কিনার নিজেই লিভারে চাপ দিয়ে যান্ত্রিক কৌশলের সাহায্যে ট্রে-তে খাদ্যবস্তু নিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে ইঁদুরের কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। বক্সের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইঁদুরকে পরিচয় করানো হল।
(iii) তৃতীয় পর্যায়: আবার আর একদিন ক্ষুধার্ত ইঁদুরটিকে বক্সে ঢোকানো মাত্র স্কিনার দেখলেন ইঁদুরটি খাবার খাওয়ার জন্য ট্রে-র দিকে দৌড়ে যায় কিন্তু ট্রে-তে খাদ্যবস্তু না থাকায় ইঁদুর তা সংগ্রহ করতে পারল না। খাদ্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক আচরণ করতে থাকে। এইভাবে একসময় যখন তার লিভারে পা পড়ে যায়, তখন ট্রে-তে খাদ্যবস্তু এসে পড়ে এবং ইঁদুরটি সেই খাদ্যগ্রহণ করে।
(iv) চতুর্থ পর্যায়: এই পর্যায়ে স্কিনার ইঁদুরটিকে নিয়ে পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন এবং পর্যবেক্ষণ করলেন পুনরাবৃত্তির ক্রম অনুযায়ী লিভারে চাপ দিয়ে ট্রে-তে খাদ্যবস্তু আনতে ক্রমশ সময় কম লাগছে। এইভাবে – একসময় এল যখন ইঁদুরটিকে বক্সে ঢোকানোমাত্র সে – লিভারে চাপ দিয়ে খাদ্যবস্তুকে ট্রে-তে আনল এবং – খাদ্যবস্তু খেলো। এইভাবে ইঁদুরটি খাদ্য পাওয়ার কৌশলটি আয়ত্ত করল।
সিদ্ধান্ত: উপরোক্ত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের এল মাধ্যমে স্কিনার সিদ্ধান্তে আসলেন প্রাণীর আচরণ দুধরনের – রেসপনডেন্ট, অপারেন্ট।
(i) রেসপনডেন্ট: যে আচরণসমূহ ইঁদুর সম্পাদন এ করে সেগুলিকে বিশেষ বস্তুধর্মী উদ্দীপক (খাদ্য) দ্বারা জন সৃষ্টি করা হয়, তাকে বলে রেসপনডেন্ট আচরণ কারণ খাদ্যবস্তু সম্পর্কে ইঁদুরের পূর্ব জ্ঞান রয়েছে।
(ii) অপারেন্ট: ইঁদুরটির এমন আচরণ লক্ষ করা যায় যেগুলি বস্তুধর্মী উদ্দীপকের সাহায্যে ঘটে না কারণ পরীক্ষা চলাকালীন ইঁদুরটি কোনো খাবার দেখতে পাচ্ছে না। এই আচরণ ঘটে প্রত্যাশামূলক উদ্দীপকের দরুন। একেই স্কিনার বলেছেন অপারেন্ট আচরণ।
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার শিক্ষাবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর
When will other chapters of education be uploaded?
খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে।