সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান : প্রাক ১৯১৭ ও উত্তর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস

Table of Contents

সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান : প্রাক ১৯১৭ ও উত্তর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস | তৃতীয় অধ্যায় ইতিহাস দ্বাদশ শ্রেণি

সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান প্রশ্ন উত্তর
সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান প্রশ্ন উত্তর

১। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কংগ্রেসের নরমপন্থীদের দাবিদাওয়াগুলি কী কী ছিল তা লেখো।

অথবা, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছরের কার্যাবলির মূল্যায়ন করো।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কুড়ি বছর (১৮৮৫-১৯০৫ খ্রি.) কংগ্রেসের ইতিহাসে আদিপর্ব নামে পরিচিত। এই সময়কালে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কোনোরূপ গণ আন্দোলন সংগঠিত করে প্রশাসনকে বিব্রত করতে চাননি। তাঁরা প্রধানত নিয়মতান্ত্রিক পথে এবং আবেদন-নিবেদন তথা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয়দের অভাব-অভিযোগ সরকারের সামনে আনতে সচেষ্ট ছিলেন।

১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কার্যাবলি:

কংগ্রেসের প্রথম পর্বের নেতাগণ বিশ্বাস করতেন যে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ইংরেজরা ভারতীয়দের ন্যায্য দাবি অবশ্যই মেনে নেবেন। তাই দাবি আদায়ের জন্য তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পক্ষপাতী ছিলেন না। কংগ্রেসের প্রথম বা আদিপর্বের এই সকল নেতারা নরমপন্থী (Moderates) নামে পরিচিত ছিলেন। এই পর্বের কয়েকজন উল্লেযোগ্য নরমপন্থী নেতারা হলেন- উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, বদরউদ্দিন তায়েবজী, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। আলোচ্য পর্বে নরমপন্থীদের আন্দোলন আবেদন-নিবেদন (A Policy of 3P’s Prayer, Petition & Protest) নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কংগ্রেস যেসকল দাবি উত্থাপন করে, সেগুলি হল নিম্নরূপ-

অর্থনৈতিক দাবি: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম দিককার নেতাগণ ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণের ভয়াবহ রূপটি তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল্যায়ন ও সেই সম্পর্কিত দাবিদাওয়ার উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যেমন-

  • ভারতের দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের কারণ
  • অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা,
  • ভারতের সর্বত্র চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন,
  • রাজস্ব আদায়ের কঠোরতা হ্রাস ইত্যাদি দাবি করা,
  • অবাধ বাণিজ্যনীতি রদ করা ও ভারতীয় শিল্পকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা,
  • বিদেশি কাপড়ের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করা,
  • ভারতের শুল্ক ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা,
  • ভূমিরাজস্বের হার কমানো,
  • লবণ শুল্ক তুলে দেওয়া,
  • আবগারি শুল্ক হ্রাস করা।

প্রশাসনিক দাবি: জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন অধিবেশনে প্রশাসনের ভারতীয়করণ-এর দাবি উত্থাপন করেন। বস্তুত, কংগ্রেস মনে করত যে-প্রশাসনিক উচ্চপদগুলিতে অ-ভারতীয়দের নিয়োগের দরুন অর্থনৈতিক এবং নৈতিক দুই দিক থেকেই ভারতের ক্ষতি হচ্ছে। আলোচ্য পর্বে তাই জাতীয় কংগ্রেস শাসন বিভাগের উচ্চপদগুলিতে যোগ্য ভারতীয়দের নিয়োগের দাবি তোলে।

পাশাপাশি কংগ্রেস আই সি এস (ICS) পরীক্ষার ভারতীয়করণ, ইংল্যান্ড ও ভারতে একই সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গ্রহণ, এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের বয়স বাড়িয়ে ২৩ বছর করা, স্ট্যাটুটারি সিভিল সার্ভিসের অবসান ইত্যাদি প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিপত্রও পেশ করে।

তাছাড়া শাসন ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, বিচারের ক্ষেত্রে জুরিদের ক্ষমতা হ্রাস না করা, অস্ত্র আইন প্রত্যাহার, উচ্চ সামরিক পদে তথা পূর্ত, রেল, শুল্ক বিভাগে ভারতীয়দের নিয়োগ, পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার, ভারতীয়দের সামরিক শিক্ষাদান-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কংগ্রেস নেতারা দাবি জানান।

সাংবিধানিক বা শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সংক্রান্ত দাবি: কংগ্রেসের প্রধান দাবি ছিল ভারতবাসীর স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের বিষয়টি। এই লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতারা বিভিন্ন অধিবেশনে বেশকিছু সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

  • ১৮৬১-র ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট-এর মনোনয়নের ভিত্তিতে আইনসভার কিছু পদ ভারতীয়দের জন্য দেওয়া হয়।
  • কংগ্রেস দাবি করে যে, নির্বাচনের ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। আইনসভাকে বাজেট ও দৈনন্দিন প্রশাসন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার অধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া কংগ্রেসের অন্যান্য দাবিদাওয়াগুলি ছিল-
  • ভাইসরয়ের আইন পরিষদ এবং প্রাদেশিক আইন পরিষদগুলির সম্প্রসারণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক নির্বাচিত ভারতীয় সদস্য নিয়োগ করা।
  • সংখ্যক ভারতীয় সদস্য নিয়ে একটি রাজকীয় কমিশন গঠন করে ভারতের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে উপযুক্ত অনুসন্ধান করা।
  • নিখিল ভারতীয় শাসন পরিষদে অন্ততপক্ষে দুজন এবং বোম্বাই ও মাদ্রাজের প্রাদেশিক গভর্নরের শাসন পরিষদে একজন ভারতীয় সদস্য গ্রহণ করা।
  • ভারত-সচিবের মন্ত্রণা পরিষদ (ইন্ডিয়া কাউন্সিল)-এর বিলুপ্তি ঘটানো।
  • ব্রিটিশ কমন্স সভায় ভারতের প্রতিটি প্রদেশ থেকে অন্তত দুজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ করা ইত্যাদি।

নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত দাবি: জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ভারতীয়দের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করতে থাকেন। যেমন-

  • ভারতীয়দের বাস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদান করার দাবি জানানো হয়।
  • তাছাড়া ফৌজদারি আইনের কঠোরতার বিরুদ্ধেও জাতীয় কংগ্রেস প্রতিবাদ জানায়।
  • সেইসঙ্গে মিউনিসিপ্যাল আইন (১৮৯৯ খ্রি.), বিশ্ববিদ্যালয় আইন (১৯০৪ খ্রি.) প্রভৃতি অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক আইনগুলির বিরুদ্ধেও তাঁরা সরব হন।

মূল্যায়ন: আদিপর্বে কংগ্রেসের আন্দোলন খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতাদের উচ্চবর্গীয় আদবকায়দা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্কহীনতা, ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অগাধ আস্থা ইত্যাদি বিষয় বিশেষভাবে দায়ী ছিল। তবে প্রথম পর্বের কংগ্রেসের কার্যাবলির মধ্যে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বলা যায় যে, কংগ্রেস জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীকালে এই কংগ্রেস নরমপন্থী মোড়ক থেকে বেরিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।

২। ভারতে চরমপন্থী রাজনীতির উদ্ভবের কারণগুলি আলোচনা করো।

অথবা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

উনবিংশ শতকের শেষদিকে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নরমপন্থীদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা স্পষ্টরূপ ধারণ করে। এমতাবস্থায়, নরমপন্থার বিকল্প হিসেবে যে বাস্তববাদী ও কার্যকরী প্রতিরোধ আন্দোলনের ধারার বিকাশ ঘটে, তাই সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদ বা চরমপন্থা (Extremism) নামে পরিচিত। আর এই নতুন ধারার অনুগামীরা অভিহিত হন চরমপন্থী (Extremists) নামে। মহারাষ্ট্রে বাল গঙ্গাধর তিলক, বাংলায় বিপিনচন্দ্র পাল ও অরবিন্দ ঘোষ, পাঞ্জাবে লালা লাজপত রায় প্রমুখ নেতার মাধ্যমে ভারতে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ে। ে

সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদ/ চরমপন্থী রাজনীতি-র উদ্ভবের প্রেক্ষাপট/কারণসমূহ:

নরমপন্থী রাজনীতির দুর্বলতা: জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কুড়ি বছর কংগ্রেসের নেতৃত্ব নরমপন্থী নেতাদের হাতে ন্যস্ত ছিল। নরমপন্থী নেতারা ব্রিটিশ সরকার ও ইংরেজ জাতির উদারতা মানবতা, সংস্কৃতির প্রতি গভীর আস্থাশীল ছিলেন। কিন্তু এক দশকের মধ্যেই প্রমাণিত হয় যে, ব্রিটিশ সরকার নরমপন্থী নেতৃত্ব এবং ভারতবাসীর দাবিদাওয়া নস্যাৎ করে দিতেই বেশি তৎপর। অন্যদিকে, জাতীয় কংগ্রেসের প্রতি সরকারের আদৌ আস্থা ছিল না। সাধারণ জনগণের মধ্যে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পেলে সরকার কংগ্রেসের বিরূপ সমালোচনা শুরু করে। একের পর এক দমনমূলক আইন জারি করে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে অগ্রাহ্য করতে থাকে। এমতাবস্থায় কংগ্রেসের একাংশ মনে করেন যে, নরমপন্থা বা আবেদন-নিবেদন নীতি দ্বারা ভারতবাসীর দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। নরমপন্থীদের আপস নীতির পরিবর্তে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ এবং গণ আন্দোলন সংগঠিত করে অধিকার প্রতিষ্ঠার ভাবনা চরমপন্থার জন্ম দেয়।

কংগ্রেসের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ক্ষমতা দখলের লড়াই: কেমব্রিজ গোষ্ঠীর ঐতিহাসিকেরা, যেমন- জুডিথ ব্রাউন, অনিল শীল প্রমুখ চরমপন্থার উৎস হিসেবে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ক্ষমতা দখলের লড়াইকে চিহ্নিত করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁরা বাংলায় অমৃতবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর সঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ ও তাঁর বেঙ্গলী পত্রিকা গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব: মহারাষ্ট্রে গোখলে-র সঙ্গে বাল গঙ্গাধর তিলক-এর দ্বন্দ্বের উল্লেখ করেছেন।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে অনুকরণের প্রতিবাদ: ড. অমলেশ ত্রিপাঠী তাঁর The Extremist Challenge গ্রন্থে চরমপন্থার উদ্ভবের প্রাথমিক কারণ হিসেবে পশ্চিমি সভ্যতার প্রতি নরমপন্থীদের অন্ধ আনুগত্যের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। ইউরোপের ভোগবাদী ও যান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার প্রতি আকর্ষণ এবং জাতীয় ঐতিহ্যকে অগ্রাহ্য করার অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে চরমপত্রী আদর্শ উপস্থাপন করা হয়েছিল। এই মতবাদে স্বদেশ ও সংস্কৃতিকে উচ্চাসনে তুলে ধরার কথা বলা হয়।

ভাবজাগতিক পরিবর্তন: ড. অমলেশ ত্রিপাঠি চরমপন্থার উদ্ভবের প্রেক্ষাপটে ভাবজাগতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে (১৮৮২ খ্রি.) ভারতের যুবসমাজকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্‌বুদ্ধ করেছিল। তাঁর বন্দেমাতরম্ সংগীত ছিল ব্রিটিশবিরোধী ভারতীয়দের অন্যতম প্রেরণা। অন্যদিকে স্বামী বিবেকানন্দ দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের মন্ত্রে যুবসমাজকে উজ্জীবিত করে তোলেন। আবার আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী-র মতাদর্শও চরমপন্থা উদ্ভবের অন্যতম প্রেরণা ছিল। অর্থনৈতিক কারণ: অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রবল শোষণ, ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক করব্যবস্থা তথা দেশীয় শিল্পের ধ্বংসসাধন, সামরিক খাতে ক্রমাগত ভারতীয় সম্পদের অপচয় ইত্যাদি বিষয়গুলির দরুন ভারতীয়রা আর্থিকভাবে বিপর্যন্ত হতে থাকে, যা চরমপন্থী রাজনীতির উদ্ভবের পটভূমি রচনায় সাহায্য করেছিল।

দুর্ভিক্ষ ও ব্রিটিশ সরকারের অনাচার: ব্রিটিশ সরকারের বিমাতৃসুলভ অর্থনীতির ফলস্বরূপ ১৮৯৬ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এ সময় বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে দেখা দেয় ভয়াবহ প্লেগ মহামারি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্রিটিশ সরকার কোনোরকম ত্রাণের ব্যবস্থা না করে মহারানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসন আরোহণের হীরক জয়ন্তী উৎসব পালন করে। সরকারের এই অনাচার জনমানসে প্রবল হতাশা ও ঘৃণার জন্ম দেয়, যা চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের উন্মেষের পথ প্রশস্ত করে।

সরকারের উদাসীনতা: ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পিত উদাসীনতা এবং কঠোরতা চরমপন্থী মতাদর্শ বিকাশের পথ প্রশস্ত করে। আইন পরিষদে ভারতীয়দের নিয়োগ, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স বৃদ্ধি, নির্বাচন প্রথার প্রচলন জাতীয় কংগ্রেসের এসকল দাবির প্রতি সরকারের মনোভাব ছিল আগাগোড়া নেতিবাচক। পাশাপাশি লর্ড লিটন কর্তৃক দেশীয় সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের পরিকল্পনা (১৮৭৬ খ্রি.), লর্ড কার্জন কর্তৃক ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (১৯০৪ খ্রি.) ও ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন (১৯০৪ খ্রি.) পাস করা ছিল ব্রিটিশ প্রতিক্রিয়াশীল নীতির নগ্ন প্রকাশ। এসবেরই পরিণতি ছিল চরমপন্থার আবির্ভাব ও জনপ্রিয়তা লাভ।

৩। বাংলার বিপ্লববাদী আন্দোলনের বিবরণ দাও। অথবা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাংলার বিপ্লবী কর্মসূচির পরিচয় দাও।

অথবা, ১৯০৫-১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন সম্পর্কে লেখো।

বিংশ শতকের সূচনায় ভারতবর্ষে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল বাংলা। মূলত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলনের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাংলার বিপ্লববাদী আন্দোলন/ বাংলার বিপ্লবী কর্মসূচি:

বাংলায় প্রথমদিকে মূলত সমিতি প্রতিষ্ঠা করে বৈপ্লবিক কাজকর্ম শুরু হয়। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর সোসাইটি এবং সরলা ঘোষাল স্থাপিত বালিগঞ্জ-সার্কুলার রোডের ব্যায়াম সমিতি এই কাজের সম্প্রসারণ ঘটায়। ক্রমে আরও নানান গুপ্ত সমিতি গড়ে ওঠে, যেগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপ সংঘটিত হয়।

গুপ্ত সমিতি গঠন:

অনুশীলন সমিতি: বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিল অনুশীলন সমিতি। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে কলকাতায় প্রথম অনুশীলন সমিতি স্থাপিত হয়। সতীশচন্দ্র বসু-র উদ্যোগে ও সহায়তায় ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র (পি মিত্র) অনুশীলন সমিতির কার্য পরিচালনা শুরু করেন এবং এই সমিতির সভাপতি হন। এই সমিতির সহকারী সভাপতি ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ ও অরবিন্দ ঘোষ, সম্পাদক ছিলেন সতীশচন্দ্র বসু এবং কোশাধ্যক্ষ ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সমিতির আদর্শ ও শিক্ষা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অনুশীলন তত্ত্ব’ অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের সমন্বয়ে আদর্শ মানব ও মানবচরিত্র গঠন-ই ছিল এই সমিতির আদর্শ। শারীরিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য এখানে নিয়মিত শরীরচর্চা, লাঠিখেলা অনুশীলন করা হত। এখানকার সদস্যদের দেশ-বিদেশের স্বাধীনতার কাহিনি, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বামী বিবেকানন্দের জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ-এর মতো রচনাসমূহ ইত্যাদি পাঠ করতে হত। তাদের অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ ছিল গীতা ও আনন্দমঠ।

যুগান্তর দল: অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিন পর, এই সমিতির কর্মপন্থা নিয়ে পি মিত্র-এর সঙ্গে সমিতির তরুণ বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষ-সহ অনেকেরই বিরোধ বাধে। এই সকল তরুণ বিপ্লবীরা ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে যুগান্তর নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তাঁরা সশস্ত্র পথে গেরিলা পদ্ধতিতে সংঘর্ষের আদর্শ প্রচার করতে থাকেন। এই গোষ্ঠীর সদস্যরাই ক্রমে যুগান্তর গোষ্ঠী বা যুগান্তর দল নামে পরিচিত হন।

উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি: যুগান্তর দল অস্ত্র সংগ্রহ, বিপ্লবী ভারতীয় যুবকদের বিদেশে প্রেরণ করে অস্ত্র নির্মাণের কৌশল আয়ত্ত করা, ভবিষ্যতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করে। পাশাপাশি, বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্বদেশি ডাকাতি শুরু হয়।

সশস্ত্র বিপ্লবী কার্যকলাপ:

গুপ্তহত্যার প্রথম প্রচেস্টা : যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা পূর্ববঙ্গ ও আসাম-এর স্বৈরাচারী লেফটেন্যান্ট গভর্নর ব্যামফিল্ড ফুলার, তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যার অ্যান্ড্রু ফ্রেজার, ঢাকার প্রাক্তন ম্যাজিস্ট্রেট অ্যালেন সাহেব প্রমুখ-কে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেন।

কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রয়াস : বাংলার বিপ্লবীদের ব্যক্তিহত্যার তালিকায় এক বিশেষ নাম ছিল কলকাতার অত্যাচারী প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট মি. কিংসফোর্ড। তিনি অতি সামান্য অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। তাঁকে হত্যা করার জন্য মুজফ্ফরপুরে যান ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি। কিন্তু ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল তাঁরা ভুলবশত জনৈকা মিসেস কেনেডি ও তাঁর কন্যার গাড়িতে বোমা ছোঁড়েন। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগেই প্রফুল্ল চাকি মোকামা স্টেশনে নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে ক্ষুদিরাম বসু-র ফাঁসি হয় (১১ আগস্ট, ১৯০৮ খ্রি.)।

আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা : মুজফ্ফরপুরের ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং অরবিন্দ ঘোষ-সহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে। এঁদের বিরুদ্ধে বুজু হয় বিখ্যাত আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা (১৯০৮ খ্রি.)। বিপ্লবীদের পক্ষে ওকালতি করেন চিত্তরঞ্জন দাশ। মামলার বিচারে অরবিন্দ ঘোষ মুক্তিলাভ করলেও অধিকাংশ বিপ্লবীর দীর্ঘ কারাদণ্ড স্বরূপ দ্বীপান্তরে নির্বাসন হয়।

বাঘা যতীন ও বুড়িবালামের যুদ্ধ: বিপ্লবী বাঘা যতীন বা যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবীরা জার্মান সরকারের সহযোগিতায় প্রচুর অস্ত্র ভারতে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। এর মধ্যে মাভেরিক জাহাজের অস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য বাঘা যতীন ও তাঁর সঙ্গীরা ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে বুড়িবালাম নদীর তীরে পৌঁছান। কিন্তু ব্রিটিশদের কাছে এই খবর ফাঁস হয়ে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে বিপ্লবীদের খন্ডযুদ্ধ শুরু হয়। এই লড়াইয়ে বাঘা যতীন গুরুতর আহত হয়ে বালেশ্বর হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সরকারি দমননীতি: সরকার কঠোর হাতে বিপ্লবী আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালায়। পুলিনবিহারী দাস, অশ্বিনীকুমার দত্ত, শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, সুবোধ চন্দ্র মল্লিক-সহ অনেক বিপ্লবীকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দল-কে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়। অবশ্য দমনপীড়ন সত্ত্বেও বাংলায় বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া যায়নি।

[সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান : প্রাক ১৯১৭ ও উত্তর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ৪ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর]

১। ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যাবলি বা পদক্ষেপগুলি উল্লেখ করো।

অথবা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতসভার প্রতিবাদ আন্দোলনগুলি উল্লেখ করো।

১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী ও সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (Indian Association) প্রতিষ্ঠিত হয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতসভার প্রতিবাদ আন্দোলনগুলি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারতসভা পরিচালিত প্রতিবাদ আন্দোলনসমূহ:

(i) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলন: লর্ড লিটন-এর আমলে সিভিল সার্ভিস-এ পরীক্ষার্থীদের বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করা হলে (১৮৭৬ খ্রি.) ভারতসভা দেশব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করে। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মার্চ কলকাতার টাউন হলে নরেন্দ্রকৃয় দেব-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত হয় এক বিরাট জনসভা। সেখানে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যারিস্টার লালমোহন ঘোষ সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত ভারতীয়দের আবেদনপত্র ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পেশ করার জন্য লন্ডন যাত্রা করেন। অতঃপর সরকার কিছুটা নম্র হয় এবং স্ট্যাটুটারি সিভিল সার্ভিস প্রবর্তন করে ভারতীয়দের নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করে।

(ii) দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন সংক্রান্ত আন্দোলন : ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বড়োলাট লর্ড লিটন দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) চালু করেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ভারতসভা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলে। পরে সরকার এই আইন প্রত্যাহার করে নেয় (আনুমানিক ১৮৮২ খ্রি.)।

(iii) অস্ত্র আইনের বিরোধিতা: বড়োলাট লর্ড লিটন ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ত্র আইন জারি করে সরকারের অনুমতি ছাড়া ভারতীয়দের কোনও অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতসভা এর বিরুদ্ধেও প্রবল প্রতিবাদ জানায়।

(iv) ইলবার্ট বিল আন্দোলন: ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপন-এর আইনসচিব কোর্টনি ইলবার্ট ইলবার্ট বিল (llbert Bill) নামক একটি আইনের খসড়া তৈরি করেন। এতে বৈষম্য দূর করে ভারতীয় ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমক্ষমতা দান করার কথা বলা হয়। এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট ইংরেজরা ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে, ইলবার্ট বিলকে সমর্থন করে ভারতসভা এক প্রতি-আন্দোলন গড়ে তোলে।

২। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক আয়োজিত সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের গুরুত্ব বর্ণনা করো।

অথবা, ‘জাতীয় কংগ্রেসের মহড়া কোন্ অধিবেশনকে, কেন আখ্যা দেওয়া হয়?

১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত ভারতসভা-র আন্দোলন তৎকালীন জনসমাজে এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায়। তবে এই সভার বিশিষ্ট সদস্য সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় উপলব্ধি করেন যে, সর্বভারতীয় কোনও প্রতিষ্ঠান ছাড়া ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকরী আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই উদ্দেশ্যে ভারতসভার উদ্যোগে আহ্বান করা হয় সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন।

সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন: ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২৮-৩০ ডিসেম্বর সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবনাথ শাস্ত্রী ও আনন্দমোহন বসু-র উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস) All India National Conference বা সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের প্রথম বসে। বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, লাহোর, মিরাট-সহ ভারতের নানা অঞ্চলের প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগদান করেন।

প্রস্তাবসমূহ: তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনে বেশকিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেমন-

  • স্বায়ত্তশাসন প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করা,
  • বৃহত্তর কর্মসংস্থান গড়ে তোলা,
  • চাকুরিতে ও উচ্চপদে অধিক সংখ্যক ভারতীয় নিয়োগ করা,
  • অস্ত্র আইন রোধ করা,
  • আইন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
  • সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা জাতীয় আন্দোলন পরিচালনা করার জন্য জাতীয়
  • ধনভান্ডার গড়ে তোলা,
  • ইংল্যান্ডে ও ভারতে একইসঙ্গে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গ্রহণ,
  • আই সি এস (ICS) পরীক্ষার বয়স ২২ বছর করা ইত্যাদি।

গুরুত্ব: সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন নানা দিক থেকে ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

(i) আনন্দমোহন বসু জাতীয় সম্মেলন-কে জাতীয় পার্লামেন্ট গঠনের প্রথম পর্যায় বলেছেন।

(ii)ঐতিহাসিক ড. তারাচাঁদ-এর মতে, ইলবার্ট বিল সম্পর্কে ইউরোপীয়দের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এই সম্মেলন ছিল শিক্ষিত ভারতবাসীর যোগা প্রত্যুত্তর।

(iii) ড. অমলেশ ত্রিপাঠী সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনকে ‘জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মহড়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই সম্মেলনের অনুকরণেই পরবর্তীতে জাতীয় কংগ্রেসে নানা প্রস্তাব পাস করা হয়। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন যে, জাতীয় সম্মেলন প্রদর্শিত মডেলকে ভিত্তি করেই দুবছর পরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদবোধন হয়েছিল’।

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং ব্রিটিশবিরোধী ভারতের জাতীয় আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের অবদান ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ সেমিস্টার সব অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment