বৃদ্ধি ও বিকাশের অর্থ প্রশ্ন উত্তর Class 11

একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়ে মোট 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে বৃদ্ধি ও বিকাশ অধ্যায় থেকে মোট 14 নম্বর আসবে। পরীক্ষায় এখান থেকে একটি বড়ো প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। বড়ো প্রশ্নের ধরন হবে গোটা 10 নম্বরের এবং ছোটো প্রশ্নের ধরন হবে গোটা ২ নম্বরের। আজকের এই প্রশ্নোত্তর পর্বে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার শিক্ষাবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য বৃদ্ধি ও বিকাশ অধ্যায়ের প্রথম টপিক বৃদ্ধি ও বিকাশের অর্থ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরসহ তুলে ধরা হল।

বৃদ্ধি ও বিকাশের অর্থ প্রশ্ন উত্তর

মানবজীবনের শুরু হয় কোথা থেকে? অথবা, জীবের বৃদ্ধি শুরু হয় কোথা থেকে? শিশু বড়ো হয় ক-টি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এবং কী কী?

মানবজীবনের শুরু হয় মাতৃজঠর থেকে।

শিশু বড়ো হয় প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, এই তিনটি প্রক্রিয়া হল- বৃদ্ধি, পরিণমন এবং বিকাশ।

বৃদ্ধি বলতে কী বোঝো? 

ব্যক্তি জীবনের নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক দৈহিক আয়তন, উচ্চতা, ওজন, স্নায়ুতন্ত্রের গঠনের স্বতঃস্ফূর্ত ও স্থায়ী পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি বলে। মনোবিদ গেসেল-এর মতে, ‘পরিবেশে অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাজই হল বৃদ্ধি।’

মনোবিদ ক্রো এবং ক্রো-এর মতে বৃদ্ধি কী? মাতৃগর্ভে ভূণ যে প্রক্রিয়ায় শিশুতে পরিণত হয় তাকে কী বলা হয়?

মনোবিদ ক্রো এবং ক্রো-এর মতে, দৈহিক উচ্চতা, ওজন ও গঠনের পরিবর্তনকে বলে বৃদ্ধি।

মাতৃগর্ভে ভূণ যে প্রক্রিয়ায় শিশুতে পরিণত হয় তাকে বলে বৃদ্ধি ও বিকাশ।

বৃদ্ধির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। 

বৃদ্ধির দুটি বৈশিষ্ট্য হল –

  • পরিমাপযোগ্য: শিশুর বৃদ্ধি পরিমাপযোগ্য। আধুনিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দ্বারা বৃদ্ধি সহজেই পরিমাপ করা যায়।
  • দৈহিক পরিবর্তন: বৃদ্ধি হল নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক আকার এবং আয়তনগত পরিবর্তন।

বৃদ্ধি কী ধরনের প্রক্রিয়া? বৃদ্ধির সমাপ্তি কখন হয়?

বৃদ্ধি হল জৈবিক প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে বৃদ্ধি সমাপ্ত হয়, অর্থাৎ পরিণমনের পর্যায়ে এসে গেলে শিশুর বৃদ্ধির সমাপ্তি ঘটে।

আর্নেস্ট জোন্স এবং পেজ ও থমাসের মতে, বৃদ্ধি কী?

মনোবিদ আর্নেস্ট জোনেন্সর মতে, “দেহের উচ্চতা ও ওজন বেড়ে যাওয়াই হল বৃদ্ধি।”

মনোবিদ পেজ ও থমাস-এর মতে, “মানুষের দৈহিক কাঠামো ও আকৃতির স্বাভাবিক পরিবর্তনকে বলা হয় বৃদ্ধি”।

বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকটি উপাদানের নাম লেখো। বৃদ্ধির ফলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হয়?

বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলি হল- বংশগতিমূলক – উপাদান, বয়স, লিঙ্গ, পুষ্টি, স্বাস্থ্য প্রভৃতি।

বৃদ্ধির ফলে জীবদেহে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে।

আর্নল্ড গেসেল-এর মতে বৃদ্ধি কী? বৃদ্ধির দুটি শর্ত লেখো। 

আর্নল্ড গেসেলের মতে, “Growth is a function of the organ- ism rather than that of environment as such.” অর্থাৎ পরিবেশ অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাজই হল বৃদ্ধি।

বৃদ্ধির দুটি শর্ত হল- বৃদ্ধি বংশগতি এবং পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার ফলে ঘটে এবং বৃদ্ধি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের নীতিতে বিশ্বাসী।

বৃদ্ধির দুটি শিক্ষাগত প্রভাব বা গুরুত্ব লেখো।

বৃদ্ধির দুটি শিক্ষাগত প্রকাশ বা গুরুত্ব হল- বৃদ্ধি শিশুকে সঠিক প্রত্যক্ষণে সাহায্য করে ফলে, যে কোনো বিষয় সহজে আয়ত্ত করতে পারে।

যেহেতু শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধির হারের পার্থক্য দেখা যায় তাই শিক্ষক সেই হারের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে শিক্ষা পরিকল্পনা রচনা করবেন।

পরিণমন (Maturation) কাকে বলে?পরিণমনের কয়েকটি উদাহরণ লেখো।

পরিণমন হল এমন একটি স্বাভাবিক জৈবিক বিকাশের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রাণীর জন্মগত সম্ভাবনাগুলির স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ ঘটে এবং সেইসঙ্গে তার আচরণের গুণগত ও পরিমাণগত উভয় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।

পরিণমনের কয়েকটি উদাহরণ যথাক্রমে দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধি, আয়তনের পরিবর্তন, ওজনের পরিবর্তন, স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ইত্যাদি।

স্বকীয় এবং অন্তর্জাত বৃদ্ধিকে বা পরিবর্তন ঘটাকে এককথায় কী বলে? পরিণমনের সূচনা হয় কখন? 

স্বকীয় এবং অন্তর্জাত বৃদ্ধিকে বা পরিবর্তনকে এককথায় বলে পরিণমন।

পরিণমনের সূচনা হয় মাতৃগর্ভে ভূণ সঞ্চারের সময় থেকে।

স্কিনার (BF Skinner) এবং বল্ডউইনের মতে পরিণমন কী?

স্কিনারের মতে, পরিণমন হল এক ধরনের বিকাশ, যা পরিবেশগত অবস্থার ব্যাপক তারতম্য থাকলেও মোটামুটিভাবে নিয়মিত সংঘটিত হয়।

বল্ডউইনের মতে, পরিণমন হল যোগ্যতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।

মনোবিদ গেসেল (Gesell) এবং মারকুইসের মতে পরিণমন কী?

মনোবিদ গেসেলের মতে, স্বকীয় ও অন্তর্জাত বৃদ্ধিই হল পরিণমন। ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্র নিজস্ব অন্তর্জাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যেভাবে বৃদ্ধি পায় সেভাবেই প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই কোনোরকম বাহ্যিক উদ্দীপনা এবং পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না।

মনোবিদ মারকুইসের মতে, পরিণমন হল একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আর্থিক সংগঠনের পরিবর্তন ঘটে।

কোলেসনিক (Kolesnik) এবং থম্পসনের মতে পরিণমন কী?

মনোবিদ কোলেসনিক জন্মগত সম্ভাবনাগুলি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার ফলে শিশুর আচরণের গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে পরিণমন বলেছেন।

থম্পসনের মতে, পরিণমন প্রক্রিয়া হল একটি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন শিশু পরিণত মানুষ রূপে গড়ে ওঠে।

বার্নার্ড-এর মতে পরিণমন কী? পরিণমন কথাটির অর্থ কী?

মনোবিদ বার্নার্ড এর মতে, জৈবিক ক্রিয়ার ফসল হল পরিণমন।

পরিণমন কথাটির অর্থ বেড়ে ওঠা। এক্ষেত্রে ব্যক্তি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনা প্রচেষ্টায় সুনির্দিষ্ট পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।

পরিণমনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। 

  • স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়া: পরিণমন হল স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়া। এই বিকাশ প্রক্রিয়ায় প্রাণীর আচরণের যে পরিবর্তন হয়, তার জন্য পরিবেশ বা উদ্দীপক পরিস্থিতির কোনো বিশেষ শর্তের প্রয়োজন হয় না।
  • সর্বজনীন প্রক্রিয়া: পরিণমন প্রক্রিয়া প্রতিটি স্বাভাবিক শিশুর মধ্যেই প্রায় সমানভাবে ঘটে থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি বয়ঃস্তরে প্রতিটি ব্যক্তির প্রায় একই রকমের পরিণমন ঘটে থাকে। তাই এটি সর্বজনীন প্রক্রিয়া।

পরিণমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে যে বহিঃআচরণের পরিবর্তন হয় তার মূলে কোন্ উপাদান রয়েছে? পরিণমনের একটি উপযোগিতা লেখো।

পরিণমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে যে বহিঃআচরণের পরিবর্তন হয়, তার মূলে আছে জৈবিক কেন্দ্রগুলির সক্রিয়তা।

পরিণমনের একটি উপযোগিতা হল- পরিণমন দৈহিক ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে এবং উন্নত ধরনের আচরণ সম্পাদনে সহায়তা করে। যেমন শিশুর হাঁটতে পারা তার পরিণমনের ফল।

পরিণমনকে কে এবং কেন জৈবিক ক্রিয়ার ফসল বলেছেন? পরিণমনকে জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া বলা হয় না কেন?

মনোবিজ্ঞানী বার্নার্ড পরিণমনকে জৈবিক ক্রিয়ার ফসল বলেছেন। কারণ দেহের জৈবিক কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতার উপর পরিণমন নির্ভরশীল।

পরিণমন জীবনের একটি বিশেষ পর্যায়ে শুরু হয় এবং একটি বিশেষ পর্যায়ে শেষ হয়। সেই কারণে পরিণমনকে জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া বলা হয় না।

হান্টের মতে, পরিণমন কী? পরিণমন হল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তা ব্যাখ্যা করো।

হান্টের মতে, পরিণমন হল একটি বিকাশমূলক প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন সময় দেখা যায় এবং যার প্রকাশ ঘটে, ব্যক্তির বিভিন্ন আচরণে।

পরিণমন ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা প্রভৃতির উপর নির্ভর করে না। এটি হল জৈবিক ধর্মের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। তাই পরিণমনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলা হয়।

বিকাশ কাকে বলে? মনোবিদ হারলক-এর মতে, বিকাশ কী?

বিকাশ একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া যা মাতৃগর্ভে ভ্রুণ সঞ্চারের মুহূর্ত থেকে আমৃত্যু ঘটতে থাকে, ব্যক্তির মধ্যে কর্মক্ষমতার পরিবর্তন আনে। মনোবিদ হারলকের মতে, বিকাশ হল সারা জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া যার সঙ্গে পরিণমন এবং অভিজ্ঞতা যুক্ত থাকে।

লিবার্ট (Robert M Liebert), পল (R W Paul), মারমর (G S Marmor) প্রমুখের মতে, বিকাশ কী? বিকাশ প্রক্রিয়ায় কটি মৌলিক উপাদান বর্তমান ও কী কী?

বিখ্যাত মনোবিদ লিবার্ট, পল, মারমর প্রমুখের মতে, বিকাশ বলতে বোঝায় পরিণমন এবং পরিবেশের সঙ্গে পারস্পরিক বৃদ্ধি ও সামর্থ্যের প্রতিনিয়ত কার্যাবলির পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।

মনোবিদ পিয়াজের মতে, বিকাশ প্রক্রিয়ায় চারটি মৌলিক উপাদান বর্তমান। যেমন  বৃদ্ধি, পরিণমন, অভিজ্ঞতা, সঞ্চালন। 

মনোবিদ ই বি হারলক এবং ফ্রাঙ্ক-এর মতে, বিকাশ কী?

মনোবিদ ই বি হারলকের মতে, বিকাশ হল একটি প্রক্রিয়া যার ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে পরিণমন ও অভিজ্ঞতার ফলাফল হিসেবে। মনোবিদ ফ্রাঙ্ক-এর মতে, বিকাশ বলতে সার্বিক পরিবর্তনকে বোঝায়।

বিকাশের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। 

  • নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া: বিকাশ হল নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। যা মাতৃগর্ভ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে থাকে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা বিরামমুক্ত ঘটনা নয়।
  • মিথস্ক্রিয়ার ফল: বিকাশ আসলে মানুষের সঙ্গে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়ার ফল।
  • ধারাবাহিকতা: বিকাশের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে যদিও প্রত্যেক ব্যক্তির সার্বিক বিকাশের হার সর্বদাই পৃথক হয়, তবুও সব মানুষেরই বিকাশ একটি ধারাবাহিকতাকে মেনে চলে।

বিকাশের শর্তগুলি লেখো এবং প্রত্যেকের উদাহরণ দাও।

বিকাশের শর্ত তিনটি হল- জৈবিক প্রভাবক, মনোবৈজ্ঞানিক প্রভাবক এবং সামাজিক প্রভাবক। উপরোক্ত শর্তগুলির উদাহরণগুলি হল-

  • জৈবিক প্রভাবক (Biological factors): পানীয়, পুষ্টি, হরমোন, লিঙ্গ, বংশগতি ইত্যাদি।
  • মনোবৈজ্ঞানিক প্রভাবক (Psychological factors) : নিরাপত্তা, অনুসন্ধান, অনুকরণ, আত্মপ্রকাশ, আত্মোপলব্ধি ইত্যাদি।
  • সামাজিক প্রভাবক (Social factors): সমবেদনা, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, দলবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি।

সেফালোকডাল (Cephalocaudal) এবং প্রক্সিমোডিস্টাল (Proximodistal) বলতে কী বোঝো?

বিকাশ শুরু হয় সর্বপ্রথম শিশুর মাথার দিকে এবং ক্রমে তা ধাবিত হয় গোড়ালির দিকে। একে সেফালোকডাল বলা হয়।

জীবদেহের বিকাশ যখন দেহের মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে শুরু করে ক্রমশ বহিরঙ্গের দিকে অগ্রসর হয়। তখন একে প্রক্সিমোডিস্টাল বলে।

দৈহিক বিকাশ এবং বৌদ্ধিক বিকাশ বলতে কী বোঝো?

জন্মের পর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার পাশাপাশি অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে সম্পূর্ণভাবে হওয়ার প্রয়োজনে দেহ কাঠামোর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকেই বলা হয় দৈহিক বিকাশ (Physical Development)।

যে প্রক্রিয়া দ্বারা ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতার উন্নতি ঘটে ও বিকাশ সাধিত হয়, ব্যক্তির জ্ঞানমূলক, বিচারমূলক, ধারণামূলক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে তাকে বৌদ্ধিক বিকাশ বলে।

সঞ্চালনমূলক বিকাশ কাকে বলে?

মানুষের সক্রিয়তার মূলে আছে তার কর্মেন্দ্রিয়গুলির তৎপরতা এবং পেশিতন্ত্রের সামঞ্জস্যপূর্ণ সঞ্চালন। শিশুর জীবনে তার কর্মেন্দ্রিয়গুলির ও পেশিতন্ত্রের যে বিকাশ হয়, তাকেই বলা হয় সঞ্চালনমূলক বিকাশ (Motor Development)। অর্থাৎ সঞ্চালনমূলক বিকাশ বলতে বোঝায় শিশুর শক্তি ও গতির বিকাশ এবং কত নিখুঁতভাবে ও উৎকর্ষতার সঙ্গে সে তার হাত, পা ও শরীরের অন্যান্য পেশি ব্যবহার করতে পারছে।

বৌদ্ধিক বিকাশের ফলে জীবদেহে কোন্ কোন্ দিকের পরিবর্তন হয়? পিয়াজেঁ বৌদ্ধিক বিকাশের ক-টি স্তরের উল্লেখ করেছেন ও কী কী?

বৌদ্ধিক বিকাশের ফলে জীবদেহের ধারণা, প্রত্যক্ষণ, স্মৃতি, চিন্তন, কল্পনা, বুদ্ধি প্রভৃতি দিকের পরিবর্তন হয়।

পিয়াজেঁ বৌদ্ধিক বিকাশের চারটি স্তরের উল্লেখ করেছেন- সংবেদন ও সঞ্চালনমূলক স্তর, প্রাক্-ক্রিয়াগত স্তর, বাস্তব সক্রিয়তার স্তর, নিয়মতান্ত্রিক সক্রিয়তার স্তর।

বিকাশ বৃক্ষ কী? এর কটি অংশ ও কী কী? 

UNICEF-এর পর্যবেক্ষণের অধীনে ইটালিয়ান কমিটি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের উন্নতির জন্য 1990 সালে রোমে আয়োজিত একটি কর্মশালায় বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যেসব অধিকার তুলে ধরে সেগুলিকে বৃক্ষের আকারে প্রস্তুত করা হয়। সেই বৃক্ষটিকে বলে বিকাশ বৃক্ষ বা Development Treel

বিকাশ বৃক্ষের তিনটি অংশ। মূল (Root), কান্ড (Trunk) এবং শাখা-প্রশাখা (Branches)।

বিকাশ বৃক্ষের মূল, কান্ড এবং শাখাপ্রশাখা-এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

বিকাশ বৃক্ষ মূল দ্বারা খাদ্য, জল, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসচেতনতা, প্রতিরোধ, পরিবার, সামাজিক নিরাপত্তা-সহ শিশুর প্রাথমিক চাহিদাপূরণের অধিকারকে বোঝানো হয়েছে।

বিকাশ বৃক্ষের কান্ড দ্বারা শিশুর বিকাশের অধিকার ও অস্তিত্বের অধিকারকে বোঝানো হয়। যেমন- সুষম বৃদ্ধির অধিকার, নিরাপত্তার আইনগত অধিকার, বাল্যের অধিকার ইত্যাদি।

বিকাশ বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা দ্বারা ব্যক্তির জীবন বিকাশের সম্পূরক অধিকারকে বোঝানো হয়।

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে সম্পর্ক এবং দুটি সাদৃশ্য লেখো। 

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বর্তমান। বৃদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে। শরীরের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিভিন্ন গুণগত পরিবর্তন যেমন- শক্তি, কর্মক্ষমতা ইত্যাদি ক্রমশ বিকশিত হয়।

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য হল—

[1] দুটি প্রক্রিয়াই ব্যক্তিজীবনে পরিবর্তন আনে।

[2] বৃদ্ধি ও বিকাশ উভয়ই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে একটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

অথবা, বৃদ্ধি ও বিকাশের তিনটি পার্থক্য লেখো।

  • সময়ভিত্তিক: বৃদ্ধি মানবজীবনের একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত – ঘটে। আর বিকাশ মানবজীবনে আমৃত্যু ঘটে।
  • সম্পর্ক স্থাপন: বৃদ্ধির ধারণা কেবলমাত্র দৈহিক ও শারীরিক; কিন্তু বিকাশের ধারণায় দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক, নৈতিক প্রভৃতি যুক্ত থাকে।
  • পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ: বৃদ্ধিকে সহজে পরিমাপ করা যায়; – অপরদিকে বিকাশ পর্যবেক্ষণযোগ্য কিন্তু পরিমাপযোগ্য নয়।

বিকাশের প্রধান নীতিগুলি উল্লেখ করো।

বিকাশের প্রধান নীতিগুলি হল –

  • বিকাশ হল মিথস্ক্রিয়ার ফল। বংশগতি ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই বিকাশ ঘটে।
  • বিকাশ ধারাবাহিকতা মেনে চলে।
  • বিকাশ উপর দিকে (মস্তিষ্ক) শুরু হয়ে নীচের দিকে ঘটে।
  • বিকাশ কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে অগ্রসর হয়। 
  • বিকাশের ফলে যে চলন ঘটে তার ধারাবাহিকতা বিশ্বের সব শিশুর ক্ষেত্রেই দেখা যায়। 
  • বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 
  • ভবিষ্যদ্বাণীর নীতি। 
  • সরল রৈখিক বনাম স্পাইরাল নীতি।

বিকাশের প্রকারভেদগুলি লেখো। বিকাশের একটি শিক্ষাগত গুরুত্ব লেখো।

বিকাশের প্রকারভেদগুলি হল- সামাজিক বিকাশ, মানসিক বিকাশ, ভাষাগত বিকাশ,  বৌদ্ধিক বিকাশ,  দৈহিক বিকাশ,  সৃজনশীলতার বিকাশ,  প্রাক্ষোভিক বিকাশ,  সঞ্চালনমূলক বিকাশ,  অহংবোধের বিকাশ, সৌন্দর্যবোধের বিকাশ, নৈতিক বিকাশ।

বিকাশের একটি শিক্ষাগত তাৎপর্য হল-

স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক বিকাশ শিশুকে ধারাবাহিকভাবে শিখতে সাহায্য করে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।

বৃদ্ধি ও বিকাশের নীতিগুলির তিনটি শিক্ষাগত তাৎপর্য লেখো।

বৃদ্ধি ও বিকাশের নীতিগুলির শিক্ষাগত তাৎপর্য হল-

  1. বৃদ্ধি ও বিকাশের নীতি অনুযায়ী শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের একটি ধারা (Trend) আছে। এর থেকে আমরা শিশুর আগামী দিনের বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি। 
  2. সাধারণ থেকে বিশেষ এবং সামান্যীকরণের নীতি শিশুর শিখন প্রক্রিয়া এবং শিখন অভিজ্ঞতা বিন্যাসে সাহায্য করে। 
  3. মানুষের জীবনবিকাশের বিভিন্ন স্তরে বিকাশ বিরতিহীন এবং নিরবচ্ছিন্ন। তাই কোনো কারণেই যেন আমরা ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন বিকাশের প্রচেষ্টা থেকে বিরত না হই। 

বৃদ্ধি ও বিকাশের অভ্যন্তরীণ উপাদান এবং বাহ্যিক উপাদানগুলি লেখো।

বৃদ্ধি ও বিকাশের অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলি হল- জন্মগতসূত্রে প্রাপ্ত উপাদান (Hereditory factors), জৈবিক ও গঠনগত উপাদান (Biological and Constructional factors), প্রাক্ষোভিক উপাদান (Emotional factors), সামাজিক উপাদান (Social factors), বুদ্ধিগত উপাদান (Intelligence factors)। 

বাহ্যিক উপাদানগুলিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথা-

  • মাতৃগর্ভে থাকাকালীন পরিবেশ: (i) মায়ের শারীরিক স্বাস্থ্য। (ii) মায়ের পুষ্টি, খাদ্যগ্রহণ, আচার ব্যবহার। (iii) সন্তান প্রসবের ধরন স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক।
  • জন্মগ্রহণের পরবর্তী পরিবেশ: (i) জীবনে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটা। (ii) পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক পরিবেশ। (iii) চিকিৎসার সুযোগসুবিধা। (iv) সামাজিক ও কৃষ্টিগত সুযোগসুবিধা এবং গুণগত মান উন্নয়ন (v) ভাষা।

বিকাশকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলা হয় কেন? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

বিকাশ হল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া (Orderly Process)। ব্যক্তির জীবনবিকাশের ক্ষেত্রে একটি সুবিন্যস্ত ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায়। বিকাশ প্রক্রিয়া কখনোই এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে হঠাৎ বা আকস্মিকভাবে উন্নীত হয় না। ধারাবাহিকতার সঙ্গেই এটি ঘটে থাকে। যেমন- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মানবশিশু একমাস বয়সে মাথা তোলার চেষ্টা করে। আবার বসতে শেখার পর হামাগুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর সে দাঁড়াতে শেখে। তাপর ক্রমশ হাঁটতে ও ছুটতে শেখে। এই সকল কাজগুলি ধারাবাহিকভাবেই ঘটে থাকে। তাই বলা যায়, বিকাশ হল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া – ব্যাখ্যা করো।

মানবজীবনের বিকাশ একটি উন্নত জটিল প্রক্রিয়া। বিকাশের ধারায় দেখা যায়, কোনো বিশেষ সময়ে মানসিক বিকাশের তুলনায় দৈহিক বিকাশের হার বেশি হয়। আবার কোনো সময় দৈহিক বিকাশের তুলনায় মানসিক বিকাশ অনেক বেশি হয়। কোনো কোনো সময় বিভিন্ন দিকের বিকাশ বিভিন্ন দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হারে হয়। এই বিকাশের হার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে না।

বিকাশকে নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?

ভ্রুণ সঞ্চারের মুহূর্ত থেকে আমৃত্যু বিকাশের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বয়সভেদে এই প্রক্রিয়ার ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে নষ্ট করে না। এটা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বিভিন্ন মনোবিদ বিকাশের স্তরগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন। তবে জোন্স-এর মত অনুযায়ী শৈশব, বাল্য, কৈশোর, প্রাপ্তবয়স্ক এই স্তরগুলি ক্রম অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘটে। সুতরাং বিকাশ একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

বিকাশ ও পরিণমনের মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য কী? 

বিকাশ ও পরিণমনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যগুলি হল- 

  1. বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাব ছাড়াই ব্যক্তির আচরণধারা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হল পরিণমন অর্থাৎ ব্যক্তির দক্ষতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে প্রক্রিয়া দ্বারা অর্জিত হয় তাই হল পরিণমন। অন্যদিকে বিকাশ হল নিয়ম অনুযায়ী সুষম ক্রমোন্নতিমূলক পরিবর্তন যা পরিণমনের মাধ্যমে ঘটে। 
  2. পরিণমন সম্পর্কে ব্যক্তি সচেতন থাকে না কিন্তু বিকাশ হল সচেতনমূলক প্রক্রিয়া।

বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর দারিদ্র্যের কীরূপ প্রভাব লক্ষ করা যায়?

বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর দারিদ্র্যের প্রভাবগুলি হল-

  • পুষ্টিকর খাদ্যের অভ্যাস: দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পায় না, ফলে তাদের বৃদ্ধি যথাযথ ঘটে না যা তাদের বিকাশের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে।
  • আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি: অর্থের অভাবেও সামাজিক দিক থেকে তারা পিছিয়ে থাকে ফলে সেই পরিবারের শিশুরা হীনমন্যতায় ভোগে এবং তাদের প্রতি সমাজের মানুষজন অনেকে বিদ্রুপ স্বরূপ আচরণ করে, যা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের অন্তরায়।
  • শিক্ষার অভাব: দরিদ্র বাবা-মায়েদের শিক্ষার অভাব শিশুদের মানসিক, সামাজিক, নৈতিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশের অন্তরায় হয়।

আরও পড়ুন – নৈতিক প্রত্যয়সমূহ প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুনLink
ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তরClick Here
তেলেনাপোতা আবিষ্কার প্রশ্ন উত্তরClick Here
আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তরClick Here

Leave a Comment