ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার | Chuti Golper Question Answer

Table of Contents

ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার | ক্লাস 11 বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | Chuti Golper Question Answer Class Eleven 2nd Semester Bengali

ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর
ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর

কবি পরিচিতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর :
(১৮৬১–১৯৪১) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিক। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সংগীত—সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে মানুষের জীবন, প্রকৃতি, প্রেম, দুঃখ, আনন্দ এবং নানা মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটেছে।
বিশেষ করে তাঁর ছোটগল্পে সাধারণ মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ ও সম্পর্কের নানা দিক অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলা ছোটগল্পের বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘ছুটি’ তাঁর একটি বিখ্যাত ও মর্মস্পর্শী ছোটগল্প।

ছুটি গল্পের বিষয়বস্তু (সংক্ষিপ্তসার)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের প্রধান বিষয় হলো কিশোর ফটিকের জীবন, তার স্বাধীনচেতা স্বভাব, মাতৃস্নেহের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং আপন পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বেদনা। গ্রামের দুরন্ত ও চঞ্চল বালক ফটিক বন্ধুদের মধ্যে সর্দার। দুষ্টুমি ও খেলাধুলার মধ্যেই তার আনন্দ। কিন্তু মায়ের কাছে তার এই স্বভাব প্রায়ই বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।

ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ফটিক অত্যন্ত আনন্দিত হলেও কলকাতায় গিয়ে তার সেই আনন্দ স্থায়ী হয় না। অপরিচিত পরিবেশ, মামির স্নেহহীনতা এবং স্কুলের নানা অপমানের কারণে সে ক্রমশ একাকী ও অসহায় হয়ে পড়ে। তার মনে বারবার গ্রামের মাঠ, নদী, বন্ধু এবং সর্বোপরি মায়ের কথা মনে পড়তে থাকে।
ফটিকের এই মানসিক কষ্ট ধীরে ধীরে তার শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়। সে মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায় এবং একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আবার মামার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত মায়ের আগমন ঘটলেও ফটিক তখন মৃত্যুশয্যায়।

ছুটি গল্পের চরিত্র পরিচিতি

১. ফটিক চক্রবর্তী : ফটিক গল্পের প্রধান চরিত্র। সে তেরো-চৌদ্দ বছরের দুরন্ত, স্বাধীনচেতা ও চঞ্চল বালক। গ্রামের ছেলেদের মধ্যে সে সর্দার। খেলাধুলা ও দুষ্টুমিতে তার বিশেষ আগ্রহ। কিন্তু তার এই দুরন্ত স্বভাবের আড়ালে রয়েছে অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল একটি মন।

কলকাতায় মামার বাড়িতে গিয়ে সে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে। মামির কাছ থেকে স্নেহ না পাওয়া, স্কুলে অপমানিত হওয়া এবং নিজের গ্রাম ও মাকে দেখতে না পাওয়ার কারণে তার মন ভেঙে যায়। অসুস্থ অবস্থায়ও তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া।

২. মাখনলাল : মাখনলাল ফটিকের ছোট ভাই। সে শান্ত ও সুশীল প্রকৃতির। ফটিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময় মধুর ছিল না। কাঠের গুঁড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারি হয়। পরে মাখন ফটিকের বিরুদ্ধে মায়ের কাছে অভিযোগ করে।

৩. ফটিকের মা : ফটিকের মা কঠোর ও রাগী স্বভাবের হলেও তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। ফটিকের দুষ্টুমির জন্য তিনি প্রায়ই তাকে বকাঝকা ও শাসন করেন। ফটিকের প্রতি তাঁর কঠোরতার কারণে ফটিক মনে করে যে মা তাকে ভালোবাসেন না। কিন্তু গল্পের শেষে ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গভীর শোকে ভেঙে পড়েন।

৪. বিশ্বম্ভরবাবু : বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মামা। তিনি দীর্ঘদিন পশ্চিমে কাজ করার পর দেশে ফিরে আসেন। ফটিকের অবাধ্যতা ও পড়াশোনায় অমনোযোগের কথা শুনে তাকে কলকাতায় নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ফটিকের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তার অসুস্থতার সময় যথাসাধ্য যত্ন নেন। শেষ পর্যন্ত ফটিকের মাকে কলকাতায় আনানোর ব্যবস্থাও করেন।

৫. মামি : ফটিকের মামি ফটিককে আপন সন্তানের মতো গ্রহণ করতে পারেননি। নিজের তিন ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার চলছিল। ফটিকের উপস্থিতিকে তিনি অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর স্নেহহীন ও বিরক্তিপূর্ণ আচরণ ফটিকের মনে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করে।

ছুটি গল্পের গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ

১. গ্রামের বালকদের সর্দার ফটিক নদীর ধারে পড়ে থাকা একটি বিশাল কাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।

২. ফটিকের ছোট ভাই মাখন কাঠের গুঁড়ির উপর বসে থাকে। ফটিকের পরিকল্পনায় মাখনকেও গুঁড়ির সঙ্গে গড়িয়ে দেওয়া হয়।

৩. গুঁড়ি গড়াতে শুরু করলে মাখন পড়ে যায় এবং রেগে গিয়ে ফটিককে মারধর করে।

৪. বাড়িতে ফিরে মাখন ফটিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। মা ফটিককে শাস্তি দেন এবং একপর্যায়ে ফটিক মাকে ঠেলে দেয়।

৫. সেই সময় ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু বাড়িতে আসেন।

৬. ফটিকের অবাধ্যতা ও পড়াশোনায় অমনোযোগের কথা শুনে বিশ্বম্ভরবাবু তাকে কলকাতায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানোর প্রস্তাব দেন। ফটিক আনন্দের সঙ্গে রাজি হয়।

৭. কলকাতায় গিয়ে ফটিক মামির কাছ থেকে প্রত্যাশিত স্নেহ পায় না। নিজের গ্রাম, নদী, মাঠ, বন্ধু এবং মায়ের কথা তার বারবার মনে পড়তে থাকে।

৮. স্কুলেও ফটিক পড়াশোনায় মন দিতে পারে না। শিক্ষক তাকে শাস্তি দেন এবং সহপাঠীরাও তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে।

৯. একদিন তার স্কুলের বই হারিয়ে যায়। মামির কাছেও সে স্নেহ বা সহানুভূতি পায় না।

১০. ফটিক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বুঝতে পারে তার জ্বর এসেছে। পরদিন সে মায়ের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন

  • ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
  • ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
  • ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
  • ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
  • ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
⭐ এতসব সুবিধা পাবেন মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।

১১. প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মামার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।

১২. ফটিকের জ্বর অত্যন্ত বেড়ে যায়। প্রলাপের মধ্যেও সে বারবার মায়ের কথা বলতে থাকে।

১৩. বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মাকে খবর পাঠান। ফটিকের শেষ মুহূর্তে তার মা এসে পৌঁছান।

১৪. মাকে কাছে পেয়ে ফটিক বলে—“মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।” এই কথার মধ্য দিয়েই গল্পের করুণ সমাপ্তি ঘটে।

ছুটি গল্পের গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন উত্তর

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পটির নামকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘ছুটি’ শব্দটি ফটিকের জীবনের সঙ্গে নানা অর্থে যুক্ত হয়ে আছে। তাই গল্পটি পড়লে বোঝা যায়, নামটি শুধু বাহ্যিক কোনো ঘটনার ইঙ্গিত নয়, এর মধ্যে গল্পের মূল বক্তব্যও নিহিত রয়েছে।

প্রথমত, ফটিক কলকাতায় গিয়ে স্কুলের ছুটির জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করত। গ্রামের মুক্ত পরিবেশ, বন্ধুদের সঙ্গ, নদী, মাঠ এবং সর্বোপরি মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। একদিন সে মামাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, মায়ের কাছে কবে যাবে। মামা তাকে বলেছিলেন, স্কুলের ছুটি হলে সে বাড়ি যেতে পারবে। ফলে তার কাছে ‘ছুটি’ হয়ে ওঠে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আশার প্রতীক।

দ্বিতীয়ত, ফটিক কলকাতার স্নেহহীন ও অপরিচিত পরিবেশে নিজেকে বন্দি মনে করত। সে নিজের গ্রাম ও মায়ের ভালোবাসার জন্য গভীরভাবে আকুল ছিল। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার এই আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়। সে মায়ের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েও পড়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

সবশেষে ‘ছুটি’ শব্দটি গভীর প্রতীকী অর্থ লাভ করে। মৃত্যুশয্যায় মাকে কাছে পেয়ে ফটিক বলে—“মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।” এখানে ‘ছুটি’ মানে আর স্কুলের ছুটি নয়; জীবনের সমস্ত দুঃখ, অপমান, একাকিত্ব ও বঞ্চনা থেকে চিরমুক্তি।

সুতরাং, গল্পের ঘটনা, ফটিকের মানসিক আকাঙ্ক্ষা এবং করুণ পরিণতি—সবদিক বিচার করলে ‘ছুটি’ নামকরণটি গভীর অর্থবহ, সার্থক ও শিল্পসম্মত।

২। ছোটোগল্প হিসেবে ‘ছুটি’ গল্পটি কতটা সার্থক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ একটি সার্থক ছোটোগল্প। ছোটোগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প পরিসরে একটি বিশেষ ঘটনা বা জীবনসমস্যাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ রস ও ভাবের সৃষ্টি করা। ‘ছুটি’ গল্পে লেখক ফটিকের জীবনকে কেন্দ্র করে মাতৃস্নেহ, একাকিত্ব, বঞ্চনা এবং আপন পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার করুণ অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

গল্পের কাহিনি মূলত ফটিককে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। গ্রামের দুরন্ত বালক ফটিক কলকাতায় মামার বাড়িতে এসে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে পড়ে যায়। সেখানে মামির স্নেহহীনতা, স্কুলের অপমান ও শাস্তি এবং নিজের গ্রাম ও মায়ের জন্য তার তীব্র আকুলতা—এই কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়েই কাহিনি দ্রুত এগিয়ে যায়। ফলে গল্পে অপ্রয়োজনীয় ঘটনা বা চরিত্রের বিস্তার নেই।

গল্পটির চরিত্রচিত্রণও অত্যন্ত সার্থক। ফটিককে প্রথমে দুরন্ত ও অবাধ্য বালক হিসেবে দেখানো হলেও ধীরে ধীরে তার অন্তরের কোমলতা, অভিমান এবং মাতৃস্নেহের জন্য আকুলতা প্রকাশ পায়। মামি ও বিশ্বম্ভরবাবুর চরিত্রও কাহিনির প্রয়োজন অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত অথচ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ফটিকের মানসিক পরিবর্তনই গল্পটির প্রধান আকর্ষণ।

গল্পের পরিবেশচিত্রও যথাযথ। গ্রামের মুক্ত প্রকৃতি ও কলকাতার আবদ্ধ জীবনের বৈপরীত্য ফটিকের মানসিক অবস্থাকে স্পষ্ট করেছে। শেষদিকে প্রবল বৃষ্টি, অসুস্থ ফটিকের অবস্থা এবং মায়ের জন্য তার প্রতীক্ষা গল্পের আবেগকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।

সবশেষে ফটিকের মুখে “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি”—এই মর্মস্পর্শী উক্তির মধ্য দিয়ে গল্পের পরিণতি ঘটে। এতে কাহিনি যেমন সম্পূর্ণতা পেয়েছে, তেমনি ‘ছুটি’ শব্দটিও গভীর তাৎপর্য লাভ করেছে।
অতএব, সংহত কাহিনি, জীবন্ত চরিত্র, মানবিক অনুভূতি, পরিবেশের যথাযথ ব্যবহার এবং মর্মস্পর্শী পরিণতির পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় ‘ছুটি’ বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত সার্থক ছোটোগল্প।

৩। রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

HS Class 12

সেমিস্টার প্রস্তুতি

WhatsApp গ্রুপ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের প্রধান চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী। তেরো-চৌদ্দ বছরের এই কিশোরকে কেন্দ্র করেই গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। ফটিকের চরিত্রের মধ্যে যেমন দুরন্তপনা ও স্বাধীনচেতা মনোভাব আছে, তেমনই আছে গভীর কোমলতা, অভিমান, আত্মসম্মান এবং মাতৃস্নেহের জন্য তীব্র আকুলতা। তাই ফটিক শুধু একজন দুষ্টু বালক নয়, সে একটি বেদনাহত কিশোর মনের প্রতীক।

১. দুরন্ত ও চঞ্চল: ফটিক গ্রামের ছেলেদের সর্দার। খেলাধুলা ও দুষ্টুমিতে তার উৎসাহের সীমা নেই। নদীর ধারে পড়ে থাকা বিশাল কাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও তার মাথা থেকেই আসে। এই ঘটনায় তার দুরন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

২. নেতৃত্বদানে সক্ষম: ফটিকের মধ্যে স্বাভাবিক নেতৃত্বের গুণ ছিল। গ্রামের ছেলেরা তার কথায় সহজেই একত্রিত হতো এবং তার পরিকল্পনায় অংশ নিত। ফলে বয়সে ছোট হলেও বন্ধুদের মধ্যে তার একটি প্রভাবশালী অবস্থান ছিল।

৩. স্বাধীনচেতা: ফটিক মুক্ত পরিবেশে নিজের মতো করে থাকতে ভালোবাসত। গ্রামের মাঠ, নদী, ঘুড়ি, বন্ধুদের দল এবং খেলাধুলার স্বাধীনতা ছিল তার জীবনের আনন্দ। কলকাতার আবদ্ধ পরিবেশে এসে সে সেই স্বাধীনতার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করে।

৪. প্রাণবন্ত ও খেলাপ্রিয়: ফটিকের শৈশব ছিল খেলাধুলা ও আনন্দে ভরা। নদীতীরে ঘুরে বেড়ানো, সাঁতার কাটা, ঘুড়ি ওড়ানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে নানা দুষ্টুমিতে মেতে থাকাই ছিল তার স্বাভাবিক জীবন। তাই কলকাতার নিয়মবদ্ধ জীবন তার কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে।

৫. অভিমানী: ফটিকের মনে অভিমান প্রবল ছিল। মাখনের সঙ্গে ঘটনার পর মায়ের শাসন এবং মাখনের প্রতি মায়ের পক্ষপাত তাকে কষ্ট দেয়। কলকাতায় গিয়েও সে মায়ের কথা মনে করে অভিমান ও দুঃখে ভুগতে থাকে। তবে তার অভিমানের আড়ালেই মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল।

৬. আত্মসম্মানী ও সংবেদনশীল: ফটিক অন্যের কাছে নিজেকে বোঝা মনে করতে চাইত না। বই হারানোর পর মামির বিরক্তি তাকে গভীরভাবে আহত করে। অসুস্থ হওয়ার সময়ও সে মনে করেছিল, তার অসুখের জন্য মামির অকারণে কষ্ট হবে। এই আত্মসংকোচ তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় দেয়।

৭. মাতৃস্নেহকাতর: ফটিকের চরিত্রের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বৈশিষ্ট্য তার মায়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ। কলকাতায় গিয়ে সে বুঝতে পারে, মায়ের শাসনের মধ্যেও স্নেহ ছিল। তাই সে বারবার মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায়। এমনকি অসুস্থ অবস্থায়ও তার মনে কেবল মায়ের কথাই ঘুরতে থাকে।

৮. স্নেহবঞ্চিত ও একাকী: কলকাতার পরিবেশে ফটিক নিজেকে আপন করে নেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পায়নি। মামির স্নেহহীনতা, মামাতো ভাইদের আচরণ এবং স্কুলের অপমান তাকে ক্রমশ একাকী করে তোলে। সে নিজের অস্তিত্বকেই যেন অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করতে থাকে।

৯. কোমল হৃদয়ের অধিকারী: বাহ্যিকভাবে দুরন্ত হলেও ফটিকের মন ছিল অত্যন্ত কোমল। মায়ের স্নেহের অভাব তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। তার অসুস্থতার সময় মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা তার গভীর অনুভূতিশীলতারই প্রকাশ।

ফটিকের চরিত্রে দুরন্তপনা, নেতৃত্ব, স্বাধীনচেতা মন, অভিমান, আত্মসম্মান, সংবেদনশীলতা ও মাতৃস্নেহের আকুলতা—সবকিছুর অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। তার বাহ্যিক দুষ্টুমির আড়ালে যে কোমল ও ভালোবাসাকাতর মন লুকিয়ে ছিল, রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত মমতার সঙ্গে তা প্রকাশ করেছেন। এই কারণেই ফটিক পাঠকের মনে গভীর সহানুভূতি ও মমতা জাগিয়ে তোলে।

৪। রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পে মামির চরিত্রটি আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে মামি প্রধান চরিত্র না হলেও ফটিকের করুণ পরিণতির পেছনে তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মামির চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক একদিকে যেমন একজন গৃহিণীর বাস্তব সংসারজীবনকে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে তেমনই ফটিকের স্নেহবঞ্চিত অবস্থাটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন।

১. সংসারকেন্দ্রিক: মামি নিজের সংসার ও সন্তানদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর নিজের তিনটি ছেলে ছিল এবং তাদের নিয়ে তিনি নিজের নিয়মে সংসার পরিচালনা করতেন। সেই সংসারের মধ্যে হঠাৎ তেরো বছরের অপরিচিত পাড়াগেঁয়ে ফটিকের আগমনকে তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি।

২. স্নেহহীন ও কঠোর: ফটিকের প্রতি মামির আচরণে আন্তরিক স্নেহের অভাব ছিল। ফটিক তাঁর কাছে আপন সন্তানের মতো হয়ে উঠতে পারেনি। বরং মামির চোখে সে ছিল এক ধরনের অতিরিক্ত দায় বা ঝামেলা। ফলে ফটিক যে স্নেহ ও আশ্রয়ের প্রত্যাশা করেছিল, তা তার ভাগ্যে জোটেনি।

৩. ফটিকের প্রতি বিরক্ত: ফটিক মামির মন জয় করার জন্য কোনো কাজের সুযোগ পেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করত। কিন্তু মামি সেই উৎসাহকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে তাকে থামিয়ে দিতেন এবং পড়াশোনায় মন দিতে বলতেন। এতে ফটিকের মনে আরও কষ্ট জন্মাত।

৪. সহানুভূতির অভাব: ফটিক যখন স্কুলের বই হারিয়ে অপরাধীর মতো মামির কাছে এসে জানায়, তখন মামি তাকে সান্ত্বনা না দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলেন যে তিনি মাসে পাঁচবার করে বই কিনে দিতে পারবেন না। এই কথায় ফটিক গভীরভাবে অপমানিত ও অসহায় বোধ করে।

৫. বাস্তববাদী ও হিসাবি: মামির আচরণে সংসারের অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিকের প্রতি তাঁর সচেতনতা প্রকাশ পায়। বই হারানোর ঘটনায় তিনি নতুন করে বই কেনার বিষয়টি নিয়েই বিরক্ত হন। তবে এই বাস্তবতা ফটিকের কোমল মানসিক অবস্থার সঙ্গে একেবারেই মানিয়ে যায়নি।

৬. ফটিকের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন: মামির চরিত্রকে একেবারে হৃদয়হীন বললে তা সম্পূর্ণ সত্য হবে না। ফটিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরও দুশ্চিন্তা হয়েছিল। সারাদিন দুশ্চিন্তায় তাঁর ভালোভাবে আহার হয়নি এবং নিজের ছেলেদের সঙ্গেও তিনি অকারণে খিটখিট করেছিলেন। অর্থাৎ তাঁর কঠোরতার আড়ালে কিছুটা উদ্বেগ ও দায়বোধও ছিল।

৭. সীমাবদ্ধ মাতৃসুলভ অনুভূতি: ফটিক অসুস্থ অবস্থায় ফিরে এলে মামি বিরক্ত হয়ে বলেন, “পরের ছেলেকে নিয়ে কেন এ কর্মভোগ। দাও ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও।” এই উক্তিতে তাঁর অসহায়তা ও ফটিককে নিজের সন্তানের মতো গ্রহণ করতে না-পারার মানসিকতা প্রকাশ পায়।

৫। ‘ছুটি’ গল্পে প্রকৃতির প্রভাব আলোচনা করো। অথবা, ‘ছুটি’ গল্পের মর্মান্তিক পরিণতির পিছনে প্রকৃতির প্রভাব কতখানি তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে প্রকৃতি কাহিনির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রকৃতি এখানে কখনও ফটিকের আনন্দ ও স্বাধীনতার আশ্রয়, আবার কখনও তার করুণ পরিণতির নেপথ্য কারণ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। গ্রামের মুক্ত প্রকৃতির সঙ্গে কলকাতার আবদ্ধ জীবনের পার্থক্য ফটিকের মানসিক অবস্থাকে বুঝতে বিশেষ সাহায্য করে।

গ্রামের মাঠ, নদী, নদীতীর, ঘুড়ি ওড়ানো, সাঁতার কাটা এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মধ্যেই ফটিকের শৈশব গড়ে উঠেছিল। এই মুক্ত প্রকৃতির পরিবেশ তার প্রাণবন্ত ও স্বাধীনচেতা স্বভাবের সঙ্গে সম্পূর্ণ মানানসই ছিল। কলকাতায় গিয়ে যখন সে চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তার মনে বারবার সেই গ্রামের মাঠ, নদী ও স্বাধীন জীবনের স্মৃতি ফিরে আসে। প্রকৃতির এই স্মৃতিই তার মনে নিজের গ্রাম ও মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে তোলে।

গল্পের শেষদিকে প্রকৃতির রূপ সম্পূর্ণ বদলে যায়। ফটিক অসুস্থ অবস্থায় মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সেই সময় শ্রাবণের মুষলধারে বৃষ্টি, জলমগ্ন রাস্তা এবং অবিরাম বর্ষণ তার পথকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে কাদায় জর্জরিত অবস্থায় তাকে পুলিশ উদ্ধার করে। এরপর তার জ্বর অত্যন্ত বেড়ে যায় এবং শারীরিক অবস্থা ক্রমশ সংকটজনক হয়ে ওঠে।

তবে ফটিকের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য শুধু প্রকৃতিকে দায়ী করা যায় না। তার স্নেহবঞ্চিত জীবন, কলকাতার অপরিচিত পরিবেশ, স্কুলের অপমান এবং মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার দুর্দশার মূল কারণ। প্রকৃতি সেই দুঃখকে আরও তীব্র করে তার মৃত্যুর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

‘ছুটি’ গল্পে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়; ফটিকের মানসিক জগৎ ও করুণ পরিণতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গ্রামের প্রকৃতি ফটিকের কাছে স্বাধীনতার প্রতীক, আর বর্ষার প্রকৃতি তার জীবনের শেষ যাত্রায় এক নির্মম বাধা। এই দ্বৈত ভূমিকার জন্যই গল্পে প্রকৃতির প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

৬। ‘ছুটি’ গল্পে গ্রাম ও শহরের দ্বন্দ্ব কীভাবে ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে গ্রাম ও শহরের দ্বন্দ্ব মূলত ফটিকের জীবন ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রাম ফটিকের কাছে স্বাধীনতা, আনন্দ, পরিচিতি ও আপনজনের প্রতীক; অন্যদিকে শহর তার কাছে অপরিচিতি, নিয়মের বন্ধন, একাকিত্ব ও স্নেহবঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গ্রামের পরিবেশে ফটিক ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছন্দ। নদীর ধারে খেলাধুলা, মাঠে ঘুড়ি ওড়ানো, নদীতে সাঁতার কাটা এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ছিল তার জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ। সেখানে সে ছিল ছেলেদের সর্দার এবং নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারত। গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে তার দুরন্ত ও স্বাধীনচেতা স্বভাবের একটি স্বাভাবিক মিল ছিল। ফলে গ্রাম তার কাছে শুধু বাসস্থান নয়, তার শৈশব ও স্বাধীন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অন্যদিকে কলকাতায় এসে ফটিক সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের মুখোমুখি হয়। মামার বাড়িতে সে নিজেকে আপন করে নিতে পারে না। চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ জীবন, মামির স্নেহহীনতা এবং স্কুলের নিয়ম ও শাস্তি তার স্বাধীন স্বভাবকে দমিয়ে দেয়। সেখানে সে যেন সর্বদাই বুঝতে পারে যে সে কোথাও ঠিক খাপ খাওয়াতে পারছে না। ফলে গ্রামের স্মৃতি তার মনে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এইভাবে গ্রাম ও শহরের দ্বন্দ্ব আসলে ফটিকের স্বাধীনতা ও বন্দিত্বের দ্বন্দ্ব হয়ে উঠেছে। গ্রাম থেকে শহরে আসা তার কাছে কেবল স্থান পরিবর্তন নয়, জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ পরিবর্তন। শহরে এসে সে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করে, তার বিপরীতে গ্রামের স্মৃতিই তার কাছে আশ্রয় হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকেই ফটিক বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার পরও তার মন পড়ে থাকে সেই আপন গ্রাম ও মায়ের কাছে। তাই ‘ছুটি’ গল্পে গ্রাম ও শহরের দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ মূলত স্বাধীনতা ও আবদ্ধতা, আপন পরিবেশ ও অপরিচিত পরিবেশ এবং স্নেহ ও স্নেহবঞ্চনার দ্বন্দ্বকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরেছেন।

৭। “বিধবা এ প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হইলেন।” — বিধবাটি কে এবং তাঁর প্রস্তাবটি কী ছিল? তিনি এ প্রস্তাবে সম্মত হলেন কেন? [২+৩]

বিধবার পরিচয় : এখানে ‘বিধবা’ বলতে ফটিকের মাকে বোঝানো হয়েছে। ফটিকের পিতা মারা যাওয়ায় তাঁর মা বিধবা হয়েছিলেন। তিনি ফটিক ও মাখনলাল—এই দুই ছেলেকে নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন।

বিধবার প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার কারণ : ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু তাঁর ভাগিনের অবাধ্যতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও পড়াশোনায় অমনোযোগের কথা শুনে ফটিককে কলকাতায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফটিকের মা এই প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হন। কারণ, ফটিকের দুরন্ত ও অবাধ্য স্বভাবের জন্য তিনি প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেন এবং মনে করতেন, কোনোদিন তার দুষ্টুমির কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্যদিকে মাখন ছিল শান্ত, সুশীল ও পড়াশোনায় আগ্রহী। তাই ফটিককে মামার কাছে রেখে দিলে তার পড়াশোনা ও স্বভাবের উন্নতি হবে—এই আশাও তাঁর মনে ছিল। তাছাড়া ফটিক নিজেও কলকাতায় যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ও আনন্দিত ছিল।

৮। “বিশেষত, তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই।” — এ কথা কার সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং এ কথার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

যার সম্পর্কে বলা হয়েছে : উদ্ধৃত কথাটি ফটিকের সম্পর্কে বলা হয়েছে। গল্পের প্রসঙ্গে এটি মূলত ফটিকের মতো কৈশোরে পা দেওয়া ছেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তাৎপর্য : এই কথার মধ্যে কৈশোরের একটি বিশেষ মানসিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। তেরো-চৌদ্দ বছর হলো শৈশব ও যৌবনের মধ্যবর্তী এক পরিবর্তনশীল সময়। এই বয়সে ছেলেদের আচরণে একদিকে শিশুসুলভ সরলতা থাকে, অন্যদিকে তারা নিজেদের বড় বলে মনে করতে শুরু করে। ফলে তাদের কথা কখনও শিশুসুলভ, কখনও আবার অতিরিক্ত পরিণত বা প্রগলভ বলে মনে হয়। শরীরের দ্রুত পরিবর্তন, আচরণের অস্থিরতা এবং নিজের পরিচয় সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে এই বয়সটি অনেক সময় পরিবার ও সমাজের কাছে অসুবিধাজনক বলে মনে হয়। গল্পে বলা হয়েছে, এই বয়সে ছেলেরা নিজেরাও অনেক সময় অনুভব করে যে পৃথিবীর কোথাও তারা ঠিক খাপ খাচ্ছে না। অথচ একই সময়ে তাদের মনে স্নেহ ও ভালোবাসার প্রয়োজন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

৯। ছুটি’ গল্পে মামাবাড়িতে গিয়ে ফটিকের যে দুরবস্থা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো। অথবা, “দেয়ালের মধ্যে আটকা পড়িয়া কেবলই তাহার সেই গ্রামের কথা মনে পড়িত।”-কার, কী কারণে গ্রামের কথা মনে পড়ত?

উত্তর: ‘ছুটি’ গল্পে মামাবাড়িতে গিয়ে ফটিকের জীবনে গভীর দুরবস্থা নেমে আসে। গ্রামে সে ছিল স্বাধীনচেতা, দুরন্ত ও চঞ্চল। নদীর ধারে, মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে তার দিন কাটত। কিন্তু কলকাতার মামাবাড়িতে এসে সে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশের মধ্যে পড়ে যায়। মামি তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। ফটিকের মনে হতে থাকে, সে যেন এই বাড়ির একজন আপনজন নয়, বরং বাড়তি বোঝা। তার এই বয়সে মায়ের স্নেহের প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু মামাবাড়িতে সে সেই আপন করে নেওয়ার উষ্ণতা পায়নি।

স্কুলেও ফটিকের অবস্থা ভালো ছিল না। পড়াশোনায় তার মন বসত না, ফলে শিক্ষকের কাছে তাকে শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে হতো। সহপাঠী ও মামাতো ভাইয়েরাও তাকে নিয়ে ঠাট্টা করত। একবার তার বই হারিয়ে গেলে শিক্ষক তাকে মারধর করেন। মামিকে বই হারানোর কথা জানালে তিনিও নতুন বই কিনে দেওয়ার ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এতে ফটিকের মনে অপরাধবোধ ও হীনম্মন্যতা আরও বেড়ে যায়।

এইসব কারণে ফটিক ক্রমশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার মনে শুধু গ্রামের কথা, বন্ধুদের কথা এবং সবচেয়ে বেশি মায়ের কথা মনে হতে থাকে। গ্রামের খোলা মাঠ, নদীর ধারে সাঁতার কাটা, ঘুড়ি ওড়ানো—সবকিছুর জন্য তার মন কাঁদত। কলকাতার বন্দিজীবন তার কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং প্রবল বৃষ্টিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এইভাবেই মামাবাড়ির অযত্ন, স্কুলের অপমান ও মায়ের জন্য তীব্র আকুলতা ফটিকের দুরবস্থাকে চরম পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

১০। তখন তাহার চিত্ত অধীর হইয়া উঠিত।”-কার কথা বলা হয়েছে এবং তার চিত্ত অধীর হয়ে উঠত কেন, তা আলোচনা করো।

যার কথা বলা হয়েছে : এখানে ফটিকের কথা বলা হয়েছে। কলকাতার মামাবাড়িতে থাকার সময় তার চিত্ত অধীর হয়ে উঠত।

চিত্ত অধীর হয়ে ওঠার কারণ : গ্রামে থাকতে ফটিক ছিল স্বাধীন ও প্রাণচঞ্চল। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, মাঠে ঘোরা, নদীর ধারে সাঁতার কাটা, ঘুড়ি ওড়ানো—এইসবের মধ্যেই তার জীবন আনন্দে কাটত। কিন্তু কলকাতার মামাবাড়িতে এসে সে যেন হঠাৎ একেবারে অন্যরকম জীবনের মধ্যে পড়ে যায়। সেখানে তার স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ ছিল না এবং চারপাশের পরিবেশও তার কাছে আপন মনে হতো না। বিশেষ করে মামির আচরণে ফটিক বুঝতে পারত যে সে এই বাড়িতে স্বচ্ছন্দে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তার মনে এক ধরনের একাকিত্ব ও অসহায়তা তৈরি হয়।

ফটিকের সবচেয়ে বেশি মনে পড়ত তার মা ও গ্রামের কথা। সে মায়ের স্নেহ থেকে দূরে এসে বুঝতে পারে, মায়ের কাছেই তার প্রকৃত আশ্রয়। তাই কখন সে আবার মায়ের কাছে ফিরে যাবে—এই চিন্তাই তাকে অস্থির করে তুলত। একদিন সে মামাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, সে কবে মায়ের কাছে যেতে পারবে। মামা জানালেন, স্কুলের ছুটি হলে সে বাড়ি যেতে পারবে। কিন্তু সেই ছুটি তখনও অনেক দূরে। এই কথা শুনে তার অধীরতা আরও বেড়ে যায়।

স্কুলের পরিবেশও তার মনকে শান্তি দেয়নি। পড়াশোনায় মন না বসা, শিক্ষকের শাস্তি, সহপাঠীদের ঠাট্টা এবং বই হারানোর জন্য অপমান—সব মিলিয়ে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তাই কলকাতার সেই আবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই ক্রমে তার চিত্তকে অধীর করে তুলেছিল।

আরো পড়ুন : বাক্য থেকে বচনে রূপান্তর

১১। “পরদিন প্রাতঃকালে ফটিককে আর দেখা গেল না।”- কেন দেখা গেল না? তার পরের ঘটনা সংক্ষেপে লেখো। ২+৩

দেখা না যাওয়ার কারণ : কলকাতার মামাবাড়িতে ফটিক নিজেকে খুবই একা ও অবাঞ্ছিত মনে করছিল। তার গ্রামের বাড়ি ও মায়ের কথা সবসময় মনে পড়ত। সে মামাকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছিল, কবে সে মায়ের কাছে যেতে পারবে। কিন্তু স্কুলের ছুটি তখনও অনেক দূরে ছিল। স্কুলের অপমান, মামির অনাদর এবং মায়ের জন্য তীব্র আকুলতায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। তাই আর থাকতে না পেরে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একদিন সকালে সে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

পরের ঘটনা : ফটিক বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া গেল না। চারদিকে তখন প্রবল শ্রাবণের বৃষ্টি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তার মামা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ফটিককে খুঁজে বের করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন তার সমস্ত শরীর কাদায় মাখা, কাপড় ভেজা, চোখ লাল এবং সে ঠান্ডায় কাঁপছিল। মামা তাকে কোলে করে ঘরে নিয়ে আসেন। ফটিক জানায়, সে মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল, কিন্তু তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরপর তার প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং তার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। জ্বরের ঘোরে সে শুধু মায়ের কথা বলতে থাকে। খবর পেয়ে তার মা কলকাতায় এসে পৌঁছান। মাকে দেখে ফটিকের শেষ আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। মৃত্যুর আগে সে মাকে বলে— “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”

১২। “ফটিক খালাসিদের মতো সুর করিয়া বলিতে লাগিল, – “এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।” ফটিকের এরূপ অবস্থা হয়েছিল কেন, তা পাঠ্যাংশ অনুসরণে বিবৃত করো।

উত্তর: এখানে ফটিকের অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। কলকাতার মামাবাড়িতে এসে ফটিক মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মায়ের স্নেহ থেকে দূরে থাকা, মামির অনাদর, স্কুলের অপমান ও শাস্তি এবং গ্রামের মুক্ত জীবনের জন্য তীব্র আকুলতা তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য সে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু প্রবল শ্রাবণের বৃষ্টির মধ্যে তাকে পুলিশ খুঁজে এনে মামাবাড়িতে ফিরিয়ে দেয়। তখন তার শরীর কাদায় মাখা, কাপড় সম্পূর্ণ ভেজা, চোখ লাল এবং সে ঠান্ডায় কাঁপছিল।

এরপর ফটিকের প্রবল জ্বর আসে এবং তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ গুরুতর হয়ে ওঠে। জ্বরের ঘোরে সে স্বাভাবিক চেতনা হারিয়ে ফেলে এবং নানা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। তার মনের মধ্যে তখনও গ্রামের স্মৃতি ও মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে কাজ করছিল। ডাক্তার এসে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। এই সময় ফটিক খালাসিদের মতো সুর করে বলতে থাকে— “এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।” এই কথার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, জ্বরের ঘোরে তার চেতনায় নদী, নৌকা ও গ্রামের পরিচিত পরিবেশের স্মৃতি ফিরে এসেছিল।

কিছুক্ষণ পর তার মা এসে পৌঁছান। মা তাকে স্নেহভরে ডাকলে ফটিক সাড়া দেয়। শেষ মুহূর্তে তার মনে হয়, এবার সে সত্যিই মায়ের কাছে, নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে। তাই সে বলে— “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।” এই ‘ছুটি’ আসলে তার সমস্ত কষ্ট ও বন্দিদশা থেকে চিরমুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।

১৩। “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”-কে, কখন এ কথা বলেছে? এ কথা বলার কারণ কী? ২ + ७

যে, যখন বলেছে : কথাটি ফটিক তার মা যশোদাকে বলেছে। প্রবল জ্বরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় থাকার সময় তার মা কলকাতায় এসে পৌঁছান। মাকে সামনে পেয়ে ফটিক শেষ মুহূর্তে এই কথাগুলি বলে।

বলার কারণ : কলকাতার মামাবাড়িতে এসে ফটিক নিজের পরিচিত গ্রাম, বন্ধু এবং মায়ের স্নেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মামাবাড়ির পরিবেশ তার কাছে আপন মনে হয়নি। মামির অনাদর, স্কুলে পড়াশোনায় অমনোযোগের জন্য শিক্ষকের শাস্তি, সহপাঠীদের ঠাট্টা এবং বই হারানোর কারণে অপমান—সব মিলিয়ে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা। তাই সে বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবত এবং মামাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কবে সে বাড়ি যেতে পারবে। কিন্তু স্কুলের ছুটি তখনও অনেক দূরে ছিল।

একদিন মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য ফটিক কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। প্রবল শ্রাবণের বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ তাকে খুঁজে এনে মামাবাড়িতে ফিরিয়ে দেয়। তখন তার শরীরে প্রবল জ্বর দেখা দেয় এবং অসুস্থতা ক্রমশ গুরুতর হয়ে ওঠে। জ্বরের ঘোরে সে মায়ের কথা বলতে থাকে। ডাক্তারও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। অবশেষে খবর পেয়ে তার মা কলকাতায় এসে পৌঁছান। মাকে সামনে পেয়ে ফটিকের মনে হয়, এতদিনের কষ্ট, একাকিত্ব ও বন্দিদশার অবসান ঘটেছে। তার কাছে ‘ছুটি’ শুধু স্কুলের ছুটি নয়—জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট থেকে চিরমুক্তি এবং মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রতীক। তাই মৃত্যুর মুহূর্তে সে মাকে বলে, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”

আমাদের যে কোনো E-Book সরাসরি WhatsApp-এর মাধ্যমে কিনতে বা কোনো সমস্যা হলে নিচের বাটনে ক্লিক করে মেসেজ করুন -
আরও পড়ুন প্রয়োজনে
HS 3rd Semester Bengali Question Paper 2027 PDF: উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র উত্তর সহ! সংগ্রহ করে নিন Click here
তিমির হননের গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার | Timir Hononer Gaan Kobitar Question Answer Click here
HS 3rd Semester Bengali Last Minute Suggestion 2026-27 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা লাস্ট মিনিট সাজেশন 2026-27 Click here
পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Pother Dabi Golper Question Answer Click here

Our Latest Products

উচ্চমাধ্যমিক

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

একাদশ শ্রেণি

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00
একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

একাদশ শ্রেণি English সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹25.00
একাদশ শ্রেণি সাজেশন SALE

একাদশ শ্রেণি সাজেশন

★★★★★
₹49.00 ₹35.00

Leave a Comment

PDF সাজেশন নিতে ক্লিক করুন