পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Pother Dabi Golper Question Answer

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: প্রশ্নমান–১
১.১ নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে যেদিকে নজর দিতে বলেছিলেন
(ক) বন্দরের দিকে
(খ) স্টেশনের দিকে
(গ) জাহাজ ঘাটের দিকে
(ঘ) রাত্রের মেলট্রেনটার দিকে
উত্তরঃ (ঘ) রাত্রের মেলট্রেনটার দিকে ✓
১.২ গিরীশ মহাপাত্রের চুলে যে গন্ধ ছিল, তার কারণ হল
(ক) লেবুর তেল
(খ) গঞ্জিকা
(গ) প্রসাধনী
(ঘ) বহুদিন স্নান না করা
উত্তরঃ (ক) লেবুর তেল ✓
১.৩ “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।“— বক্তা হলেন
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তরঃ (ক) জগদীশবাবু ✓
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
১.৪ “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই“—এখানে জানোয়ার হল
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) জগদীশবাবু
(গ) তলওয়ারকর
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তরঃ (ক) গিরীশ মহাপাত্র ✓
১.৫ অপূর্বর পিতার বন্ধু ছিলেন
(ক) জগদীশবাবু
(খ) রামদাস
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তরঃ (গ) নিমাইবাবু ✓
১.৬ “কিন্তু বুনো হাঁস ধরাই যে এদের কাজ“—বক্তা হলেন
(ক) অপূর্ব
(খ) রামদাস
(গ) জগদীশবাবু
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তরঃ (খ) রামদাস ✓
১.৭ “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”— বস্তুটি হল
(ক) গাঁজার কলকে
(খ) কম্পাস
(গ) ফুটবুল
(ঘ) বাঘ আঁকা রুমাল
উত্তরঃ (ক) গাঁজার কলকে ✓
১.৮ গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর পুনরায় দেখা হয়েছিল
(ক) পুলিশ স্টেশনে
(খ) জাহাজ ঘাটায়
(গ) রেল স্টেশনে
(ঘ) বিমান বন্দরে
উত্তরঃ (গ) রেল স্টেশনে ✓
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
১.৯ “আমি বাবু ভারী ধর্মভীরু মানুষ“— কথাটি বলেছে
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) রামদাস
উত্তরঃ (ক) গিরীশ মহাপাত্র ✓
১.১০ “রাত্রের মেল ট্রেনটার প্রতি একটু দৃষ্টি রেখো, সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।“—বক্তা হলেন
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) রামদাস তলওয়ারকর
(ঘ) অপূর্ব
উত্তরঃ (খ) নিমাইবাবু ✓
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপ১.১১ “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।“— লোকটির বয়স
(ক) পঁচিশ-ছাব্বিশ
(খ) সাতাশ-আঠাশ
(গ) ত্রিশ-বত্রিশ
(ঘ) বত্রিশ-তেত্রিশ
উত্তরঃ (গ) ত্রিশ-বত্রিশ ✓
১.১২ গিরীশ মহাপাত্রের বন্ধুরা কোথা থেকে আসবে বলে কথা আছে?
(ক) ভামো
(খ) শোত্রবো
(গ) মিক্সিলা
(ঘ) এনাঞ্জাং
উত্তরঃ (ঘ) এনাঞ্জাং ✓
১.১৩ হলঘরে মোটঘাট নিয়ে বসেছিল
(ক) জন-পাঁচেক লোক
(খ) জন-ছয়েক লোক
(গ) জন-চারেক লোক
(ঘ) জন-তিনেক লোক
উত্তরঃ (খ) জন-ছয়েক লোক ✓
১.১৪ “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।“— এখানে বুড়ো মানুষটি হলেন
(ক) জগদীশবাবু
(খ) অপূর্ব
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) রামদাস তলওয়ারকর
উত্তরঃ (গ) নিমাইবাবু ✓
১.১৫ থানায় আটকে জন–ছয়েক বাঙালিকে যে থানায় আটক করা হয়েছিল, সেটি অবস্থিত
(ক) উত্তর ব্রহ্ম
(খ) রেঙ্গুন
(গ) ইংল্যান্ড
(ঘ) ভারতবর্ষ
উত্তরঃ (ক) উত্তর ব্রহ্ম ✓
১.১৬ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাকে পাওয়া গিয়েছিল
(ক) দুটি টাকা ও গন্ডা দুয়েক পয়সা
(খ) একটি টাকা ও গন্ডা চারেক পয়সা
(গ) দুটি টাকা ও গন্ডা চারেক পয়সা
(ঘ) একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা
উত্তরঃ (ঘ) একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা ✓
১.১৭ “আপাতত ভামো যাচ্চি।“— বক্তা হল
(ক) গিরীশ
(খ) রামদাস
(গ) অপূর্ব
(ঘ) নিমাইবাবু
কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রশ্নমান–১
২.১ ‘সব–কটা আফিসেই গোলযোগ ঘটচে।‘-সব ক–টা অফিসের নাম লেখো।
উত্তরঃ
সব-ক-টা অফিস হল ম্যান্ডোলা, শোত্রবো, মিথিলা এবং প্রোম।
২.২ “মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।”– কোন্ কথা মনে করে অপূর্বর এই মনোবেদনা?
উত্তরঃ একবার বিনা দোষে অপূর্বকে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেয় এবং এরপর সে স্টেশনমাস্টারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি সেই অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন-এই ঘটনার কথা মনে পড়লে অপূর্বর দুঃখে, লজ্জায়, ঘৃণায় মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করে।
২.৩ ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর কে কে সঙ্গী হয়েছিল?
উত্তরঃ ভামো যাত্রার সময় অপূর্বর সঙ্গী হয়েছিল একজন আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্তানি ব্রাহ্মণ পিয়াদা।
২.৪ গিরীশ মহাপাত্রের আসল নাম কী ছিল?
উত্তরঃ গিরীশ মহাপাত্রের আসল নাম ছিল সব্যসাচী মল্লিক।
২.৫ “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”- কোন্ বস্তুটি পকেটে ছিল?
উত্তরঃ ‘এ বস্তুটি’ বলতে গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে থাকা গাঁজার কলকে-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
২.৬ “কিন্তু ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।“-ভ্রমটি কী?
উত্তরঃ ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশের নায়ক অপূর্ব ফাস্ট ক্লাস প্যাসেঞ্জার হওয়ায় সে ভেবেছিল রাত্রিতে সুখ নিদ্রার মধ্যেই পরের দিন ভামো পৌঁছে যাবে। একেই ‘ভ্রম’ বলা হয়েছে।
২.৭ “রামদাস কহিল, তাহলে আপনাকেই হয়তো আর একদিন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।“- কোন্ ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে করতে হতে পারে বলে বক্তার অভিমত?
উত্তরঃ রামদাস তলওয়ারকরের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে অপূর্ব জানিয়েছে নিমাইবাবুর চাকরির ব্যবস্থা তার বাবা করে দেওয়ার কারণে অপূর্ব নিমাইবাবুকে ‘কাকা’ সম্বোধন করে। সহকর্মী রামদাস এই কথা শুনে অপূর্বকে জানিয়েছে নিমাইবাবু ব্রিটিশদের দাসত্ব করে স্বদেশের যে ক্ষতি করেছেন তার জন্য অপূর্বকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
২.৮ “নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন।“-নিমাইবাবুর চুপ করে থাকার কারণ কী?
উত্তরঃ সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা, আচার-আচরণ ও কালচার-এসব কোনো কিছুই সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না। তা দেখে থানায় উপস্থিত অপূর্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে-এ ব্যক্তি যে সব্যসাচী মল্লিক নয়, তার সে জামিন হতে পারে। অপূর্বর এ কথায় নিমাইবাবু চুপ করেছিলেন।
২.৯ “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।“-বুড়োমানুষের কোন্ কথা শুনতে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ‘বুড়োমানুষ’, অর্থাৎ নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন। এ কথা শুনতে বলা হয়েছে।
২.১০ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁকে ও পকেটে কী কী ছিল?
উত্তরঃ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাকে ছিল একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা আর পকেটে ছিল একটি লোহার কম্পাস, কাঠের একটি ফুটবুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও একটি গাঁজার কলকে।
২.১১ ‘ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য‘-নিয়মটি কী?
উত্তরঃ নিয়মটি হল এই যে, একজন প্রথম শ্রেণির যাত্রীবে মাঝ রাতে জাগিয়ে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো যায় না।
২.১২ “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।“- কোন্ ব্যাপারে অপূর্ব রাজি হয়েছিল?
উত্তরঃ রামদাসের স্ত্রী একদিন অপূর্বকে অনুরোধ করেছিল যে যতদিন অপূর্বর মা কিংবা বাড়ির আর কোনো আত্মীয়া এ দেশে এসে বাসার উপযুক্ত ব্যবস্থা না করছে ততদিন তার হাতেই যৎসামান্য মিষ্টান্ন তাকে প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে। এই অনুরোধে অপূর্ব রাজি হয়েছিল।
২.১৩ ভামো যাত্রাপথে ট্রেনে অপূর্ব বিরক্ত হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ ভামো যাত্রা পথে পুলিশের লোক তাকে তিনবার ঘুম ভাঙিয়ে নাম ও ঠিকানা লিখে নেয়। এতেই সে বিরক্ত হয়।
২.১৪ অপূর্বর বাড়িতে চুরির সময় তেওয়ারি কোথায় কী দেখতে গিয়েছিল?
উত্তরঃ অপূর্বর বাড়িতে চুরির সময় তেওয়ারি বর্মা নাচ দেখতে গিয়েছিল ফয়াতে।
প্রসজ্ঞা নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: প্রশ্নমান–৩
৩.১ “তারপর সকালে গেলাম পুলিশে খবর দিতে।”—বক্তা কে? কোন্ খবরের কথা বলা হয়েছে? ১+২
উত্তরঃ বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ উপন্যাস থেকে গৃহীত, নির্বাচিত অংশে উক্ত মন্তব্যটির বক্তা অপূর্ব।
৩.২ ‘কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি।‘-কে, কাকে, কেন সদাশয় ব্যক্তি বলেছেন?
উত্তরঃ বক্তা ও উদ্দিষ্টঃ ‘পথের দাবী’ রচনাংশে জগদীশবাবু আলোচ্য কথাটি গিরীশ মহাপাত্রকে বলেছেন। কারণ, সে নিজে গাঁজা খায় না কিন্তু পথে কুড়িয়ে পেয়ে একটি গাঁজার কলকে পকেটে রেখেছে যদি কারও কাজে লাগে এই ভেবে।
৩.৩ “… গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে!”-এরা কারা? বুনো হাঁসের পিছনে ছোটার কথা বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে দাও। ১+২
উত্তরঃ এরা: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের নির্বাচিত অংশ থেকে গৃহীত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্ত মন্তব্যটি অপূর্ব পুলিশের দলের উদ্দেশ্যে করেছে।
কারণ: ‘বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি’ কথাটি বলার উদ্দেশ্য হল সময়ের অপব্যয় তথা অযৌক্তিক কার্যকলাপের দিকে নির্দেশ করা। আসলে সারাদিন ধরে রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা জনৈক গিরীশ মহাপাত্র নামক এক অদ্ভুত বেশভূষা ও আচরণকারী ব্যক্তিকে নিয়ে থানায় এমন কাণ্ড বাঁধিয়েছিল তা যেমন হাস্যকর তেমনি অমূলক কার্যকলাপ। পুলিশের এই হাস্যকর কার্যকলাপ লক্ষ করে অপূর্ব এরূপ মন্তব্য করেছিলেন।
৩.৪ “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।“-পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের বর্ণনাঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ রচনাংশে পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের যে পরিচয় মেলে, তা হল-গৌরবর্ণ তনু রৌদ্রের প্রখরতায় তামাটে বর্ণ যুক্ত, অত্যন্ত রোগা শরীর বিশিষ্ট, অনধিক বত্রিশ বছর বয়সি এক ব্যাক্তি। ঘন ঘন কাশতে কাশতে তার প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত, বোধ হয় সংসারের মেয়াদ তার আর বেশিদিন নেই। লক্ষ করার মধ্যে রয়েছে দুটি প্রদীপ্ত চোখ, বেশভূষার মধ্যেও রয়েছে এক বেমানান পরিপাট্য, যা অত্যন্ত হাস্যকরও বটে। মাথার সামনের দিকটা বড়ো বড়ো চুল, কিন্তু ঘাড় ও কানের দিকে তার কিছু নেই বললেই চলে।
৩.৫ “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”– কোন্ বস্তুর কথা বলা হয়েছে? তা পকেটে থাকার সপক্ষে যে যুক্তিটি দেওয়া হয়েছিল তাই বা কতটা গ্রহণযোগ্য ছিল? ১+২
‘বস্তু‘-র পরিচয়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত আলোচ্য অংশে গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে থাকা গাঁজার কলকের কথা বলা হয়েছে।
যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা: পুলিশের খানাতল্লাশিতে গিরীশ মহাপাত্রের বুক পকেট থেকে একটি গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল। নিমাইবাবু গাঁজা খাওয়ার কথা জানতে চাইলে গিরীশ তা অস্বীকার করে। তাহলে কলকে পকেটে কেন তা জানতে চাইলে গিরীশ জানায় যে সে ওটা পথে কুড়িয়ে পেয়েছে। যদি কারও কাজে লাগে, তাই তুলে রেখেছে। তবে গিরীশ মহাপাত্রের এই বক্তব্য অবশ্যই যুক্তিসংগত নয়। কোনো ব্যক্তিই পরার্থে গাঁজার কলকের মতো একটি মাদক বস্তুকে পকেটে রাখবে না। তা ছাড়া গিরীশের চেহারার ভগ্নদশাও তার অতিরিক্ত মাদকাসক্তির প্রমাণবাহী। তাই তার দেওয়া যুক্তি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
৩.৬ “আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারে দণ্ডভোগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না“- বক্তা কাকে এ কথা বলেছিলেন? কোন্ অবিচারের দণ্ডভোগ তাকে ব্যথিত করেছিল? ১+২
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে অপূর্ব তার বন্ধু ও সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকরকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে।
আলোচ্য অবিচার: বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবিধান চেয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার দেশি লোক হওয়ার অপরাধে তাকে দেশের স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। এই অবিচারের যন্ত্রণাই অপূর্বকে ব্যথিত করেছিল।
৩.৭ “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন।“-বক্তা কে? তাঁর বাবা কাকে, কী চাকরি করে দিয়েছিলেন? ১+২
বক্তাঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হল অপূর্ব।
উদ্দিষ্ট ও তার চাকরি: নিমাইবাবু হলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্ব তাঁকে কাকা বলে ডাকে। তার বাবা নিমাইবাবুকে পুলিশ বিভাগে চাকরি করে দিয়েছিলেন।
৩.৮ ‘তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না‘ –বক্তা কে? তার কোন্ লাঞ্ছনার কথা বলা হয়েছে? ১+২
বক্তা: ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হল অপূর্ব।
লাঞ্ছনাটি: পরাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অপূর্বর মনে যে যন্ত্রণা, তা সে বন্ধু রামদাসের কাছে ব্যক্ত করে। কিছু ইংরেজ যুবক অপূর্বকে বিনা দোষে স্টেশন থেকে লাথি মেরে বের করে দেয়। অপূর্ব প্রতিকার চেয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছে নালিশ জানালে ইংরেজ স্টেশনমাস্টার কোনোরকম বিচার না করেই অপূর্বকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর করে দেয়। অপূর্ব এ সকল লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিল কেবল ভারতীয় হওয়ার কারণে এবং সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা হল সেইসময় উপস্থিত ভারতীয়রা কেউ অপূর্বর হয়ে প্রতিবাদ করেনি।
৩.৯ “কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি।”—কার চোখের কথা বলা হয়েছে? চোখ দুটির বর্ণনা দাও। ১+২
উত্তরঃ
উদ্দিষ্ট: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের উদ্ধৃতাংশে গিরীশ মহাপাত্রের চোখের কথা বলা হয়েছে।
চোখের বর্ণনা: গিরীশ মহাপাত্রের রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি অপূর্বর কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছিল। সেই চোখ ছোটো না বড়ো, টানা না গোল, দীপ্ত না প্রভাহীন-তার বিবরণ দিতে যাওয়া বৃথা। গভীর জলাশয়ের মতো সেই চোখ দুটিতে কী যে আছে, ভয় হয় এখানে খেলা চলবে না। সাবধানে দূরে দাঁড়ানোই উচিত। এই দুটি চোখের কোনো অতল তলে তার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকোনো আছে, মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে সাহস করে না। কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বেঁচে আছে। অপূর্ব সেই চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে যায়।
৩.১০ “রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন সনির্বন্ধ অনুরোধ করিয়াছিলেন…”- রামদাস কে? তার স্ত্রী অপূর্বকে কী অনুরোধ করেছিলেন? ১+২
রামদাস: রামদাস হল ‘পথের দাবী’ রচনাংশের অন্যতম চরিত্র অপূর্বর সহকর্মী তথা বন্ধু। তার পুরো নাম রামদাস তলওয়ারকর।
অনুরোধ: যতদিন পর্যন্ত অপূর্বর মা কিংবা বাড়ির কোনো আত্মীয়া মহিলা এদেশে এসে বাসা ও খাওয়া-দাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা না করেন, ততদিন ছোটো বোনের, অর্থাৎ তলওয়ারকরের স্ত্রীর হাতের তৈরি যৎসামান্য মিষ্টান্ন প্রতিদিন তাকে গ্রহণ করতে হবে-তলওয়ারকরের স্ত্রী এই অনুরোধটি অপূর্বকে করেছিলেন।
৩.১১ “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।“-কে, কাকে কথাটি বলেছে? এ কথা বলার কারণ কী? ১+২
বক্তা ও উদ্দেশ্য: বুড়ো মানুষটি, অর্থাৎ নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাকে আর গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন।
বক্তব্যের কারণ: নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন। গিরীশের স্বাস্থ্য ছিল ভঙ্গুর। দেখে মনে হয়েছিল, সে আর বেশিদিন বাঁচবে না। তাই তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে বার হওয়ায় এবং তার মধ্যে গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ বর্তমান থাকায় নিমাইবাবু তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে চিন্তিত হয়ে তাকে গাঁজা খেতে বারণ করেছিলেন এবং সে-কথা শুনতে বলেছিলেন।
৩.১৪ ‘কাল তাহার ঘরে চুরি হইয়া গেছে‘-কার ঘরে চুরি হয়েছিল? তারপর কী ঘটেছিল? ১+২
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্বর ঘরে চুরি হয়েছিল।
চুরি পরবর্তী ঘটনা: অপূর্বর অনুপস্থিতিতে একদিন অপূর্বর ঘরে চোর ঢোকে আর কিছু টাকাপয়সা চুরি করে। তার ঘরের ওপরের তলায় যে খ্রিস্টান মেয়েটি থাকে সে এসে চোর তাড়িয়ে দেয় এবং নিজের ঘরের তালা এনে অপূর্বর ঘরের ছিটকিনিতে লাগিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, সে সবকিছুর হিসাব লিখে রাখে।
৩.১৫ “তিনি ঢের বেশি আমার আপনার।“-কে, কাকে ‘আপনার‘ বলে মনে করে? কেন মনে করে? ১+২
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব সব্যসাচী মল্লিকের মতো দেশপ্রমিক বিপ্লবীদের ‘ঢের বেশি আমার আপনার’ বলে মনে করে।
মনে করার কারণ: সব্যসাচী মল্লিকের মতো বিপ্লবীরা নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে দেশমাতৃকার পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের ব্রত গ্রহণ করেছে। তাদের কাছে নিজের স্বার্থ তুচ্ছ, দেশই একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। তাই নিমাইবাবুর মতো ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা অপূর্বর পূর্ব পরিচিত এবং বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও সব্যসাচীর মতো বিপ্লবীকেই দেশপ্রমিক অপূর্ব নিজের লোক বলে মনে করে।
৩.১৬ ‘ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।‘- ‘ইহা‘ বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? কীভাবে সেটি ‘ভ্রম‘ প্রমাণিত হয়? ১+২
ইহা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব ট্রেনে চেপে প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে ভামো যাত্রাকালে ভেবেছিল সকাল পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না। তার এই ভাবনাকেই আলোচ্য অংশে ‘ইহা’ বলে বোঝানো হয়েছে।
ভ্রম প্রমাণিত হওয়া: কয়েকটা স্টেশন অতিক্রম করার পরেই অপূর্ব উপলব্ধি করল তার এই ভাবনা ভুল। কেন-না, সেই রাতে রেল পুলিশ বার তিনেক তার ঘুম ভাঙিয়ে তার নাম ধাম ও ঠিকানা লিখে নিয়েছে। সে যেহেতু ইউরোপীয় নয়, তাই প্রথম শ্রেণির যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য সে পায়নি।
৩.১৭ ‘তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।‘-কে, কাকে এই কথা বলে? ইউরোপিয়ান না হওয়ার কী ফল উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভোগ করতে হয়? ১+২
বক্তা ও শ্রোতা: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব ট্রেনের প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে ভামো যাওয়ার সময় বর্মা পুলিশের জনৈক সাব ইনস্পেকটর তাকে আলোচ্য এই কথাগুলি বলেছিল।
ইউরোপিয়ান না হওয়ার ফল: অফিসের কাজে অপূর্ব রেঙ্গুন থেকে ভামোর উদ্দেশ্যে ট্রেনে যাত্রা করে। নির্ঝঞ্ঝাট ট্রেন যাত্রার আশায় সে প্রথম শ্রেণির টিকিট কাটে। কিন্তু ট্রেন কয়েকটা স্টেশন পেরোলেই সে বোঝে তার ভাবনা কতটা ভুল। পুলিশের লোক বার তিনেক তার ঘুম ভাঙিয়ে নামধাম ঠিকানা লিখে নেয়। অপূর্ব প্রতিবাদ করলে পুলিশ সাব ইনস্পেকটর তাকে বলে, অপূর্ব যেহেতু ইউরোপিয়ান নয়, তাই তার প্রতি পুলিশ এই আচরণ করতেই পারে, এমনকি ইচ্ছে করলে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারে।
কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : প্রশ্নমান–৫
৪.১ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।”–বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও। ১+৪
বাবুটির পরিচয়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশের উদ্ধৃতাংশে বাবুটি হল গিরীশ মহাপাত্র।
সাজসজ্জার পরিচয়ঃ গিরীশ মহাপাত্র শৌখিন মানুষ। তার চেহারা পোশাক-পরিচ্ছদ সেই অসংগতিপূর্ণ শৌখিনত্বের সমর্থক। তার চুলের বাহার অদ্ভুত-সামনে বড়ো, ঘাড় ও কানের দিকে নেই বললেই চলে। মাথায় চেরা সিঁথি। চুল লেবুর তেলে জবজবে। গায়ে জাপানি সিল্কের সাত রঙা চুড়িদার পাঞ্জাবি। বুক-পকেট থেকে উঁকি দিচ্ছে বাঘ আঁকা রুমাল। পরনে বিলিতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পায়ে সাদা-কালো নয়, সবুজ রঙের ফুল মোজা। হাঁটুর উপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। পাম্পশু বার্নিশ করা এবং তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগোড়া লোহার নাল দিয়ে বাঁধানো। হাতে একগাছি হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।
আরো পড়ুন : বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর
মহাপাত্রের যে বুক-পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল উঁকি দিচ্ছিল, সেই পকেট থেকেই পাওয়া যায় গাঁজার কলকে। শরীরে গাঁজা খাওয়ার লক্ষণ আর পকেটে কলকে দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় মহাপাত্র রীতিমতো নেশাড়ু। এ ছাড়া বিড়ি খাওয়ার শখও তার আছে।
৪.২ “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।“-‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট‘ কথাটির অর্থ কী? তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোন্ পরিস্থিতি তৈরি হল? ১+৪
‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট‘ কথাটির অর্থ: ‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ কথাটির অর্থ হল রাজনৈতিক সন্দেহভাজন ব্যক্তি।
পরিস্থিতি: গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারা যেমন অসংগতিপূর্ণ, তার কথাবার্তা, আচার-আচরণও তেমনি হাস্যকর। তার নাম-গিরীশ মহাপাত্র। ‘গিরীশ’ শব্দের অর্থ হিমালয়। ‘মহাপাত্র’ শব্দের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কোথায় মহামান্য ব্যক্তি আর কোথায় ধুঁকতে থাকা নাটুয়া এই লোকটা! নিমাইবাবু তাই ব্যঙ্গ করে ‘একদম মহাপাত্র!’ বলেছেন।
গিরীশের পকেট থেকে পাওয়া গেছে গাঁজার কলকে। নিমাইবাবুর প্রশ্নের উত্তরে সে জানিয়েছে, গাঁজা সে খায় না। পথে কুড়িয়ে পেয়েছে, তাই উ কলকেটি পকেটে রেখেছে। বন্ধু-বান্ধবেরা কেউ তৈরি করে দিতে বললে দেয়। গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ যার শরীরে, তার এই যুধিষ্ঠির সুলভ কথা শুনে জগদীশবাবু রেগে গেছেন। তাকে ‘দয়ার সাগর’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন, ‘মিথ্যেবাদী’ বলেছেন। আর নিমাইবাবু তার স্বাস্থ্যের দিকে তাকিয়ে গাঁজা খেতে বারণ করেছেন।
মোটকথা, গিরীশ মহাপাত্রের চিত্র ও চরিত্রে হাস্যকর অসংগতি ফুটে উঠেছে-যা তাকে সব্যসাচী মল্লিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে। তার মাথার লেবুর তেলের গন্ধ যেমন থানাসুদ্ধ সবার মাথা ধরিয়েছে, তেমনি তার হাস্যকর আচরণ ও কথাবার্তা বাঘা বাঘা পুলিশের মাথা গুলিয়ে দিয়েছে।
৪.৩ পলিটিকাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে পুলিশস্টেশনে আনার পর সেখানে যে ঘটনা ঘটেছিল তা ‘পথের দাবী‘ রচনাংশ অনুসারে লেখো।
উত্তরঃ পলিটিকাল সাসপেক্টকে পুলিশস্টেশনে আনার পরবর্তী ঘটনা: লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে গিরীশ মহাপাত্র নামক ক্ষীণকায়, কাশির পরিশ্রমটুকু সহ্য করতে না পারা ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিটিকে রাজনৈতিক আসামি সব্যসাচী মল্লিক ভেবে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হলে থানায় এসে নিমাইবাবু তাকে জেরা করেন এবং মহাপাত্রের উপস্থিতিতেই পুলিশের বড়োকর্তা বেশ কৌতুকরস উপভোগ করেন তার পোশাক, আচরণ ও কথাবার্তা দেখে। তিনি তাই একান্ত সহজভাবেই মহাপাত্রকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার হুকুম জারি করেন। অন্যদিকে নিমাইবাবুর নির্দেশমতো অপূর্ব মহাপাত্রের পোশাক-আশাকের দিকে তাকিয়ে হাসি গোপন করে। কিন্তু এই অদ্ভুতদর্শন ব্যক্তিটিকে অপূর্ব বারবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষণ করে নিমাইবাবুর কাছে লোকটিকে নিঃসন্দেহে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। কারণ, মহাপাত্রের সঙ্গে স্বদেশপ্রেমী সব্যসাচী মল্লিকের দুস্তর ব্যবধান আছে বলে অপূর্ব মনে করে। অপূর্ব এক্ষেত্রে সব্যসাচীর কালচারের কথাটিও নিমাইবাবুকে ভেবে দেখতে বলে। এরপর নিমাইবাবু মহাপাত্রের ট্যাক এবং পকেটে অনুসন্ধান করে কয়েকটি জিনিস খুঁজে পান। তার মধ্যে ছিল একটা গাঁজার কলকে, যা থেকে নিমাইবাবুর সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে যে মহাপাত্র হয়তো নিজেই গাঁজা সেবন করে। কিন্তু সে বিষয়টি অস্বীকার করে। সে জানায় অন্যদের ইচ্ছামতো সে সেজে দেয়-নিজে খায় না। জগদীশবাবু এমন কথা শুনে তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেন। কিন্তু নরম মনের মানুষ নিমাইবাবু তাকে থানা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
৪.৪ বিদেশি সাহেবের কাছে অপূর্বর অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার যে দুটি ঘটনার বর্ণনা রয়েছে তা লেখো।
উত্তরঃ বিদেশি সাহেবের কাছে অপূর্বর অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার দুটি ঘটনা:
প্রথম ঘটনা: অপূর্ব তার অফিসের কাজে প্রথম শ্রেণির যাত্রী রূপে ভামো শহরে যাচ্ছিল। সন্ধ্যাহ্নিক শেষ করে রাত্রির ভোজন সমাপন করে অপূর্ব প্রস্তুত করা শয্যায় নিদ্রার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল। সকাল পর্যন্ত তার নিদ্রায় কেউ ব্যাঘাত করবে না এমন বিশ্বাস নিয়ে সে ঘুমোতে গেলেও ব্রিটিশ পুলিশের লোক তিনবার তাঁর নিদ্রাভঙ্গ করে নাম-ধাম ও ঠিকানা লিখে নিয়েছিল। প্রথম শ্রেণির যাত্রী রূপে সে এই অনাবশ্যক জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবাদ করলে বর্মা সাব ইনস্পেকটর কটু কণ্ঠে জবাব দেয়- “তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।” তিনি আরও জানান ইচ্ছা করলে তিনি অপূর্বকে ট্রেন থেকে নীচে নামাতেও পারেন। অর্থাৎ, ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ভারতীয় আর ইংরেজদের জন্য আলাদা নিয়ম কার্যকর ছিল; সেই সঙ্গে কেবলমাত্র সন্দেহের বশে যে-কোনো ভারতীয়কে যথেচ্ছ হয়রান করাও হত।
দ্বিতীয় ঘটনা: পরাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অপূর্বর মনে যে যন্ত্রণা, তা বন্ধু রামদাসের কাছে ব্যক্ত করে। কিছু ইংরেজ যুবক অপূর্বকে বিনা দোষে স্টেশন থেকে লাথি মেরে বের করে দেয়। অপূর্ব প্রতিকার চেয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছে নালিশ জানালে ইংরেজ স্টেশনমাস্টার কোনোরকম বিচার না করেই অপূর্বকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর করে দেয়। অপূর্ব এ সকল লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিল কেবল ভারতীয় হওয়ার কারণে এবং সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা হল উপস্থিত ভারতীয়রা কেউ অপূর্বর হয়ে প্রতিবাদ করেনি।
❖ আমাদের সাজেশন আপনি কেন কিনবেন?
অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আমাদের সাজেশন অনুসরণ করে 90% থেকে 99% পর্যন্ত নম্বর অর্জন করেছে। তাদের মার্কশিটের কপিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তাই 90%-এর বেশি নম্বরের লক্ষ্য থাকলে নিশ্চিন্তে আমাদের সাজেশন সংগ্রহ করতে পারেন।
সাজেশন সংগ্রহ করার পর থেকে পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, পরামর্শ ও গাইডেন্স প্রদান করা হবে। আপনার সফল প্রস্তুতির জন্য আমরা সর্বদা পাশে থাকব।
আমাদের সাজেশন নিলে ঘরে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্ট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবেন এবং দুর্বল দিকগুলি সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন।
ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমাদের PDF-এ কোনো Watermark ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি পৃষ্ঠা অত্যন্ত স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও সহজপাঠ্যভাবে তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিলেবাস ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রতিটি সাজেশন অত্যন্ত যত্নসহকারে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাছাইকৃত।
আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।
| আরও পড়ুন | প্রয়োজনে |
|---|---|
| বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Bohurupi Golper Question Answer | Click here |
| বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো MCQ | Class 11 1st Semester Bengali | Click here |
| প্রাচীন বাংলা সমাজ ও সাহিত্য MCQ PDF | Class 11 1st Semester Bengali | Click here |
| বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য MCQ PDF | Class 11 1st Semester Bengali | Click here |