বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Bohurupi Golper Question Answer

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Bohurupi Golper Question Answer

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর
বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর

. বিরাগীর মতে রাগ হল-
 (ক) রিপু
(খ) প্রবৃত্তি
(গ) আসক্তি
(ঘ) ইন্দ্রিয়
উত্তরঃ (ক) রিপু

.আমি মহারাজ নই,’ মহারাজের বদলে তিনি হলেন
 (ক) এককণা ধুলি
(খ) বিরাগী
(গ) এককণা বালি
(ঘ) সন্ন্যাসী
উত্তরঃ (ক) এককণা ধুলি

. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর বয়স আনুমানিক
 (ক) একশো বছর
(খ) পাঁচশো বছর
(গ) হাজার বছরের বেশি
(ঘ) দু-হাজার বছর
উত্তরঃ (গ) হাজার বছরের বেশি

.খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও। কথা বলেছে?
 (ক) ভবতোষ
(খ) অনাদি
(গ) কাশীনাথ
(ঘ) জনৈক বাসযাত্রী
উত্তরঃ (গ) কাশীনাথ

❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন

  • ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
  • ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
  • ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
  • ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
  • ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
⭐ এতসব সুবিধা পাবেন মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।

. বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল
 (ক) বারো টাকা আট আনা
(খ) দশ টাকা সাত আনা
(গ) আট টাকা দশ আনা
(ঘ) মাত্র পাঁচ টাকা
উত্তরঃ (গ) আট টাকা দশ আনা

❖ টিউশন টিচারদের জন্য বিশেষ অফার :

আপনি কি একজন টিউশন টিচার? স্টুডেন্টদের পরীক্ষা নিতে চান কিন্তু সময়ের অভাবে প্রশ্ন তৈরি করতে পারছেন না? আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন আপনার কোচিং সেন্টারের নামে কাস্টমাইজড প্রশ্নপত্রের প্যাকেজ। ✅ প্রতি সাবজেক্টের প্যাকেজে থাকবে ১০টি প্রশ্নপত্রের সেট। ✅ সঙ্গে আলাদা উত্তরপত্র (Answer Sheet) দেওয়া হবে। ✅ সাথে OMR শীট পেয়ে যাচ্ছেন একদম বিনামূল্যে। 💰দাম মাত্র 25 টাকা
📲 WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন

. কীসের ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার একটু বেশি হয়েছিল?
 (ক) পুলিশ
(খ) বাউল
(গ) কাপালিক
(ঘ) বাইজি
উত্তরঃ (ঘ) বাইজি

. যার লিচু বাগানে হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন
 (ক) দয়ালবাবু
(খ) জগদীশবাবু
(গ) ভবতোষবাবু
(ঘ) অনাদি
উত্তরঃ (ক) দয়ালবাবু

.ঘুষ নিয়ে তারপর মাস্টারের অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন সেই নকলপুলিশ হরিদা। ঘুষের পরিমাণ কত?
 (ক) চার আনা
(খ) আট টাকা
(গ) আট আনা
(ঘ) পঁচিশ পয়সা
উত্তরঃ (গ) আট আনা

. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু দিয়েছিলেন
 (ক) কাঠের খড়ম
(খ) সোনার আংটি
(গ) ধর্মগ্রন্থ
(ঘ) একশো টাকার নোট
উত্তরঃ (ক) কাঠের খড়ম

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

.১০ সপ্তাহে হরিদা বহুরূপী সেজে বাইরে যান
 (ক) একদিন
(খ) দুদিন
(গ) চারদিন
(ঘ) পাঁচদিন
উত্তরঃ (ক) একদিন

.১১ হরিদা চকের বাসস্ট্যান্ডে পাগল সেজেছিলেন
 (ক) সকালবেলায়
(খ) দুপুরবেলায়
(গ) বিকালবেলায়
(ঘ) সন্ধেবেলায়
উত্তরঃ (খ) দুপুরবেলায়

HS Class 12

সেমিস্টার প্রস্তুতি

WhatsApp গ্রুপ

.১২একটু তারিফই করলেন তারিফ করলেন
 (ক) জগদীশবাবু
(খ) দোকানদার
(গ) সন্ন্যাসী
(ঘ) মাস্টারমশাই
উত্তরঃ (ঘ) মাস্টারমশাই

.১৩ বিরাগীর ঝোলার ভিতর যে বই ছিল, তা হল
 (ক) গীতা
(খ) মহাভারত
(গ) কোরান
(ঘ) উপনিষদ
উত্তরঃ (ক) গীতা

.১৪ বিরাগীর মতেধন জন যৌবনহল
 (ক) মিথ্যা
(খ) অনর্থের মূল
(গ) বঞ্চনা
(ঘ) সুখের উৎস
উত্তরঃ (গ) বঞ্চনা

.১৫ একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল
 (ক) সকালবেলায়
(খ) বিকেলবেলায়
(গ) সন্ধ্যার সময়
(ঘ) দুপুরবেলায়
উত্তরঃ (ঘ) দুপুরবেলায়

.১৬আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” বক্তা হলেন
 (ক) বিরাগী
(খ) জগদীশবাবু
(গ) দয়ালবাবু
(ঘ) স্কুলের মাস্টারমশাই
উত্তরঃ (ক) বিরাগী

.১৭ হরিদা ছিলেন পেশায় একজন
 (ক) মাস্টার
(খ) কেরানি
(গ) দারোয়ান
(ঘ) বহুরূপী
উত্তরঃ (ঘ) বহুরূপী

কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (প্রশ্নমান১)

.খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।“-উক্তিটির কারণ কী?

উত্তরঃ একদিন দুপুরে চকের বাসস্ট্যান্ডে হরিদা পাগলের ছদ্মবেশে হাতে থান ইট নিয়ে বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই বাস ড্রাইভার কাশীনাথের এই উক্তি।

.বলতে বলতে আমরা সবাই হরিদার ঘরের ভিতরে ঢুকলাম।“-‘আমরাকে কে?

উত্তরঃ ‘আমরা’ হল লেখক, ভবতোষ ও অনাদি।

.এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের।‘- কথা কে. কাকে বলেছিলেন?

উত্তরঃ পুলিশের ছদ্মবেশে বহুরূপী হরিদা দয়ালবাবুর লিচু বাগানে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরে রাখলে তাদের ছাড়াতে গিয়ে শিক্ষক মহাশয় হরিদাকে এই অনুরোধ করেন।

. জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য বিরাগীকে কত টাকা দিতে চেয়েছিলেন?

উত্তরঃ জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য বিরাগীকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন।

.হরিদার জীবনে এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে।“- কীরকম খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে?

উত্তরঃ হরিদা পেশায় ছিলেন বহুরূপী। তিনি কখনও পাগল সাজতেন, কখনও বাউল, কখনও কাপালিক, আর কখনো-বা বোঁচকা কাঁধে কাবুলিওয়ালা। এই রকম বহুরুপীর খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে।

.সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন হরিদা।“-‘বহুরূপীকাকে বলে?

উত্তরঃ ‘বহুরুপী’ হল শিল্পী, যারা নানা রূপ ধরে মানুষের মনোরঞ্জন করে।

.সেটা পূর্বজন্মের কথা।‘- পূর্বজন্মের কথাটা কী?

উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ ছোটোগল্পে রাগ নামক রিপুকে পূর্বজন্মের কথা বলা হয়েছে।

.বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী।“-কী বলতে বলতে নেমেছিলেন?

উত্তরঃ বিরাগী বলেন, তিনি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন, ঠিক তেমনি অনায়াসে সোনা মাড়িয়েও চলে যেতে পারেন। এই কথা বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে যান বিরাগী।

.চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।“-জগদীশবাবুর চমকে ওঠার কারণ কী?

উত্তরঃ জগদীশবাবু তার বাড়িতে ধবধবে সাদা উত্তরীয় এবং সাদা থান পরিহিত আগন্তুক বিরাগীকে দেখে চমকে ওঠেন।

.১০ বিরাগীর মতেপরম সুখআসলে কী?

উত্তরঃ বিরাগীর মতে, ‘পরম সুখ’ হল সমস্ত সুখের বন্দন থেকে মুক্ত হওয়া।

.১১ পুলিশ সেজে হরিদা কোথায় দাঁড়িয়েছিল?

উত্তরঃ সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পের মুখ চরিত্র বহুরূপী হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়েছিল।

.১২ কোন ধরনের কাজ হরিদার পছন্দ ছিল না?

উত্তরঃ অফিস বা দোকানের বাঁধাধরা গতানুগতিক কাজ হরিদার জীবনে পছন্দ নয়।

.১৩কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলেহরির কান্ড।“-হরির কান্ডটি কী?

উত্তরঃ একদিন হরিদা রূপসি বাইজির সাজে পথে নেমেছিলেন। হাতে ছিল তার ফুলসাজি। এক-একটা দোকানের সামনে গিয়ে সে মুচকি হেসে, চোখ টিপে ফুলসাজিটা এগিয়ে দিচ্ছিল আর দোকানদাররা তাতে একটা করে সিকি ফেলে দিচ্ছিল। হরির এই কান্ড দেখেই দোকানদার হেসে ফেলেছিল।

.১৪ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা কত টাকা উপার্জন করেছিল?

উত্তরঃ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা আট টাকা দশ আনা রোজগার করেছিল।

.১৫অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।“-কোন্ ভুলের প্রসঙ্গ এসেছে?

উত্তরঃ হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর কাছ থেকে অনেকগুলি টাকা পেয়েও গ্রহণ করেননি। এখানে তার টাকা না নেওয়াকেই ভুল বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও। (প্রশ্নমান৩)

.তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।“- ঢং কী? কী কারণে বক্তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়? ১+২

ঢংএর স্বরূপঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে ‘ঢং’ বলতে বেশবাস বা ছদ্মবেশকে বোঝানো হয়েছে। তবে শব্দটি হরিদার জীবনের আদর্শেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ঢং নষ্ট হয়ে যেতে পারার কারণ: হরিদা যখন বহুরুপী সাজেন তখন সেই চরিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যান। পাগল সাজলে তার মুখ থেকে লালা ঝরে, পুলিশ সেজে তিনি ঘুস নিতে দ্বিধা করেন না, আবার বাইজি সেজে চোখ টিপে পয়সা আদায় করেন। যিনি প্রকৃত শিল্পী, শিল্পকর্মের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া তাঁর স্বভাব বৈশিষ্ট্য। বিরাগীর ধর্ম হল নিরাসক্তি। তাই বিরাগী বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে তীর্থভ্রমণের জন্য প্রণামি বাবদ একশো এক টাকা পেয়েও তিনি তা গ্রহণ করেননি। কারণ, তা গ্রহণ করলে বিরাগীর ধর্ম-আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হতেন, তার ঢং নষ্ট হয়ে যেত।

.তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যানউক্তিটির বক্তা কে? কী উপদেশ শুনিয়েছিলেন? ১+২

বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ গল্পে জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে উপদেশ শুনতে চেয়েছিলেন।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির উপদেশ: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, অর্থাৎ বিরাগীবেশী হরিদা উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন-ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়, ওসব হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু সেই পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে পেলেই এই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে যায়।

.আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”-কাকে কথা বলা হয়েছে? তাঁকে কথা বলা হয়েছে কেন? ১+২

উদ্দিষ্ট: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলা হয়েছে।

বক্তব্যের কারণঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে এক শীর্ণকায় সৌম্যকান্ত বিরাগীর আগমন ঘটলে তার প্রথম দর্শনের চমকে জগদীশবাবু বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে নিজেকে সামলে নেন ও বিরাগীজিকে আহ্বান জানান। তবে তিনি নীচে নেমে অভ্যর্থনা না জানিয়ে তাকে বারান্দা থেকেই আহ্বান জানান। যার ফলে জগদীশবাবুকে সম্পত্তির গর্বে অহংকারী বলে উল্লেখ করেন বিরাগীজি। তিনি তাকে ভগবানের চেয়ে বড়ো কি না জিজ্ঞাসা করে তার অহংকার বোধে আঘাত করেন।

. হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন? তিনি কীভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন? ১+২

দাঁড়ানোর স্থান: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ হরিদা একবার পুলিশ সেজেছিলেন। পুলিশের বেশে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন দয়ালবাবুর লিচু বাগানে।

ছলনা: পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে থেকে হরিদা স্কুলের চারটি ছেলেকে লিচু চুরির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ভয়ে কেঁদে ফেলে তারা। ফলে স্কুলের মাস্টারমশাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেগুলির হয়ে নকল পুলিশ হরিদার কাছে ক্ষমা চান, সেবারের মতো তাদের ক্ষমা করে দিতে বলেন। কিন্তু তাতেও তিনি হরিদাকে তুষ্ট করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আট আনা ঘুষ দিয়ে তিনি তাকে খুশি করেন।

এভাবেই নকল পুলিশ সেজে হরিদা মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে ছলনা করেছিলেন।

.অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।“-হরিদার কোন ভুলের কথা বলা হয়েছে?

হরিদার ভুলঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ গল্পে হরিদা বিরাগীর বেশে গিয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়ি। তার কথা বলার ধরনে ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার একটি থলি প্রণামি হিসেবে তাকে দান করেন। কিন্তু হরিদা তা স্পর্শ না করেই চলে যান। এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে ভবতোষ-অনাদিদের মনে হয় অভাবী হরিদার এই টাকা না নেওয়াটা একটা ভুল। এখানে সেই ভুলের কথাই বলা হয়েছে।

.কিন্তু ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়।” –কোন্ ধরনের কাজ হরিদার পছন্দ নয়? হরিদার পছন্দের কাজটি কী? ১+২

অপছন্দের কাজ: সুবোধ ঘোষের ‘গল্পসমগ্র’-র তৃতীয় খণ্ড থেকে গৃহীত ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার অপছন্দের কাজটি ছিল ঘড়ির কাঁটাকে মান্যতা দিয়ে ধরাবাঁধা কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া; তা সে অফিসের কাজই হোক বা বিক্রিওয়ালার কাজ।

পছন্দের কাজ: হরিদার জীবনের পছন্দের কাজ বলতে তাঁর পেশাকে বোঝানো হয়েছে। যদিও তাকে ‘পেশা’ না বলে ‘নেশা’ বলাটা বেশি যুক্তিসংগত। বহুরুপী হরিদা প্রায়সময়ই বিভিন্ন ছদ্মবেশে লোক সমক্ষে আবির্ভূত হতেন। কখনও পাগল, কখনও রূপসি বাইজি, কখনও বাউল, কখনো-বা বোঁচকা কাঁধে বুড়ো কাবুলিওয়ালা, কখনও কোট-পেন্টলুন পরা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব। একবার পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাই ও তাদের ছাত্রদের চোখেও ধুলো দিয়েছিলেন। এই পেশায় হরিদার আর্থিক দুরবস্থার পরিবর্তন না ঘটলেও মানুষটি এই কাজের মধ্য দিয়ে জীবনের প্রকৃত স্বাদ লাভ করেন। তাই সেক্ষেত্রে দরিদ্রতাকে তুচ্ছ মনে করে তাঁর শিল্পানুরাগই ছিল তাঁর জীবনবোধের সবচেয়ে ঊর্ধ্বে।

.আপনার কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।‘-প্রাণের অনুরোধ কী? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি প্রত্যুত্তরে কী বলেছেন? ১+২

প্রাণের অনুরোধঃ খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ ছোটোগল্পে শহরের এক ধনী ব্যক্তি হলেন জগদীশবাবু। ধর্মভীরু জগদীশবাবু তাঁর বাড়িতে আগত বিরাগীবেশী হরিকে প্রাণের অনুরোধ স্বরূপ জানান তিনি যেন কিছুদিন তাঁর বাড়িতে থেকে তাঁকে তাঁর পদসেবার সুযোগ করে দেন।

প্রত্যুত্তর: জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরোধের প্রত্যুত্তরে বিরাগীজি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি যুক্তি দেখিয়ে উত্তর দেন যে, একজন বিরাগীর প্রকৃত আশ্রয় বাইরের খোলা আকাশ ও ধরিত্রীর মাটি।

তাই তিনি জগদীশবাবুর মতো একজন বিষয়ীর দালান বাড়িতে বন্দির জীবন অতিবাহিত করবেন না।

.একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুর বেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।“- ‘আতঙ্কের হল্লাবলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে কী ঘটনা ঘটেছিল? +

অথবা, “খুব চমৎকার পাগল সাজাতে পেরেছে তো লোকটা।” -‘লোকটাবলতে এখানে কাকে বোঝানো হয়েছে? তার পাগল সাজার বর্ণনা দাও। +

অথবা, “একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয়।” –কাশীনাথ কাকে কেন ধমক দিয়েছিল?

আতঙ্কের হল্লা: খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ ছোটোগল্পে ‘আতঙ্কের হল্লা’ বলতে বাসযাত্রীদের ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করাকে বোঝানো হয়েছে।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ ছোটোগল্পে বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ পাগলবেশী হরিকে ধমক দিয়েছিল।

চকের বাসস্ট্যান্ডের ঘটনা/পাগল সাজার বর্ণনা/ধমক দেওয়ার কারণ: একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে দুপুরবেলা এক বন্ধ পাগল হাজির হয়। সেই পাগলের মুখ থেকে লালা ঝড়ে পড়ছিল, চোখ ছিল কটকটে লাল, কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটের মালা। শুধু তাই নয়, পাগলটি হাতে থান ইট নিয়ে বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। এতে যাত্রীরা অনেক বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল এবং চেঁচিয়ে উঠেছিল। কেউ কেউ দুটো একটা পয়সাও ছুঁড়ে দিচ্ছিল। বাস্তবে সেই পাগল ছিল বহুরূপী হরিদা, আর এই সত্য সম্বন্ধে বাস ড্রাইভার কাশীনাথ অবগত ছিল। তাই সে পরিস্থিতি সামাল দিতেই বিরক্তিভরে পাগলবেশী হরিকে ধমক দিয়েছিল।

কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (প্রশ্নমান৫)

.অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।“-হরিদা কী ভুল করেছিলেন? অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম কী? +

হরিদার ভুলঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বিরাগীর বেশে গিয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়ি। তার কথা বলার ধরনে ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার একটি থলি প্রণামি হিসেবে দান করেন। কিন্তু হরিদা তা স্পর্শ না করেই চলে যান। এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে ভবতোষ-অনাদিদের মনে হয় হরিদার এই টাকা না নেওয়াটা একটা ভুল। এখানে সেই ভুলের কথাই বলা হয়েছে।

অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম: হরিদা তার অবস্থা ফেরানোর জন্য বিরাগীবেশে জগদীশবাবুর কাছে মোটা কিছু আদায় করতে যান। কিন্তু জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামির টাকা না নেওয়ায় সেই সুযোগ তার নষ্ট হয়ে যায়। এখন আগামী দিনে উপবাসে দিন কাটানোই হরিদার নিয়তি। এই নিয়তিই হল অদৃষ্টর ক্ষমা না করার পরিণাম।

.হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।“-হরিদা কে? তার দারিদ্র্যপীড়িত জীবনযাত্রার পরিচয় দাও। +

অথবা, “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।“-হরিদার পরিচয় দাও। তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করো। +

হরিদার পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তিনি গরিব। বহুরুপী সেজে অর্থোপার্জন তাঁর পেশা ও নেশা।

নাটকীয় বৈচিত্র্য: নাটকে থাকে Rising Action, Climax। জীবনের পথেও থাকে চড়াই-উতরাই। তাই শেক্সপিয়র জীবনকে রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে আর মানুষকে তার কুশীলবের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যাঁদের জীবনে যত বেশি বৈচিত্র্য, তাঁদের জীবন তত বেশি বর্ণময়।

আরো পড়ুন : জলসম্পদ MCQ প্রশ্ন উত্তর

হরিদার পেশা বহুরুপী সেজে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো। বহুরূপী বেশে সপ্তাহে একদিন পথে বেরিয়ে হরিদা যা উপার্জন করেন, তাতেই তিনি তার ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে নেন। এতে অবশ্য তার সবসময় চলে না। তাই মাঝে মাঝে উপোসও করতে হয়। যেদিন খেয়াল হয় সেদিন হঠাৎ সকালে কিংবা সন্ধ্যায় বিচিত্র ছদ্মবেশে অপরূপ হয়ে হরিদা বেরিয়ে পড়েন পথে। কেউ চিনতে পারে না। যারা পারে তারা এক-দু-আনা বকশিশ দেয়; যারা পারে না, তারা হয়তো কিছুই দেয় না, কিংবা বিরক্ত হয়ে দুটো-একটা পয়সা ফেলে দেয়।

এভাবেই হরিদা কখনও বন্ধ পাগল, বাইজি, কাপালিক, বাউল, বুড়ো কাবুলিওয়ালা; কখনো-বা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব, পুলিশ, বিরাগী সেজে নিজের এবং শহরের জীবনে বৈচিত্র্য আনেন। কখনও ভরপেট খাবার কখনও উপবাস; কখনও মানুষের মনে বিস্ময়-মুগ্ধতা, কখনও আবার বিরক্তি বা ভয় সঞ্চার করে হরিদা শহরজীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য আনেন।

.চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।“-জগদীশবাবুর পরিচয় দাও। তিনি চমকে উঠলেন কেন? +

জগদীশবাবুর পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের এক অন্যতম প্রধান চরিত্র হলেন জগদীশবাবু। জগদীশবাবু হলেন হরিদাদের এলাকার সবচেয়ে ধনী ও চর্চিত ব্যক্তি। এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির অধিকারী তিনি, অবশ্য আত্মাহংকার তাঁর মধ্যে নেই। ‘সাদা মাথা, সাদা দাড়ি, সৌম্য শান্ত ও জ্ঞানী মানুষ’ জগদীশবাবু নিতান্তই ধর্মভীরু। তাই ধর্মের ভেকধারীরা সহজেই তাঁকে ঠকাতে পারে।

চমকে ওঠার কারণ: জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর সম্বন্ধে শুনে বহুরূপী হরিদা মোটা মতো একটা কিছু আদায় করার আশায় জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন বহুরূপীর বেশে বিরাগী সেজে। তাকে দেখে চমকে ওঠেন জগদীশবাবু ও স্পোর্টের চাঁদা আদায় করতে যাওয়া ভবতোষ-অনাদির দল। বিরাগীবেশী হরিদার পরনে ছিল ছোটো বহরের সাদা থান। আদুড় গায়ে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। মাথায় ফুরফুর করে উড়ছিল শুকনো সাদা চুল। ধুলো মাখা পা, হাতে একটা ঝোলা। তাতে একটিমাত্র বই-গীতা। আগন্তুক যেন জগতের অপর পার থেকে অশরীরী চেহারা আর শান্ত-উজ্জ্বল দৃষ্টি নিয়ে হেঁটে এসেছেন বলে মনে হচ্ছিল। মূলত, এহেন স্বর্গীয় দৃশ্যই জগদীশবাবুকে চমকিত করে তোলে।

.খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?”-বক্তা কে? খাঁটি মানুষ নয় বলার তাৎপর্য কী? ১+৪

বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন এই কাহিনির প্রধান চরিত্র হরিদা।

তাৎপর্য: হরিদা বহুরুপী। বহুরূপ ধারণ করে পথে পথে ঘুরে অর্থ উপার্জন করেন তিনি। জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন বিরাগীর ছদ্মবেশে। উদ্দেশ্য ছিল মোটা কিছু আদায় করে নেওয়া। সুযোগও এসেছিল। বিরাগীর তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিরাগীবেশী হরিদা তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেছেন, ধুলোর মতো সোনা মাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন। টাকার থলি স্পর্শ না করে তিনি সেই কথার সত্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

হরিদার বক্তব্য, তিনি খাঁটি মানুষ নন, অর্থাৎ খাঁটি বিরাগী নন, একজন গৃহী মানুষ মাত্র। তাই জগদীশবাবুর দেওয়া টাকার থলি তিনি গ্রহণ করতে পারেন না। বহুরূপীকে তো আর কেউ একশো এক টাকা বকশিশ দিতে পারে না। তার বকশিশ খুব জোর আট আনা কিংবা দশ আনা হতে পারে।

হরিদার বক্তব্য আংশিক সত্য। বহুরূপীকে কেউ শতাধিক টাকা প্রণামি দেবে না। কিন্তু টাকার থলি গ্রহণ না করে হরিদা প্রকৃত বিরাগীর স্তরে উন্নীত হয়েছেন। সন্ন্যাসী বা বিরাগীর পোশাক পরলেই দেহে-মনে তা হওয়া যায় না। তার জন্য চাই সাত্ত্বিক মন, সর্বত্যাগী মানসিকতা। হরিদা গৃহী হয়েও মানসিকতায় সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী-বিরাগী হয়ে উঠেছেন; সেই সঙ্গে বজায় রেখেছেন শিল্পীর সততা ও জাত্যাভিমান। তাই তিনি যথার্থই ‘খাঁটি মানুষ’। 

.বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যা।“-‘এই সন্ধ্যা‘- পরিচয় দাও। সেদিনের সন্ধ্যার ঘটনাটি বর্ণনা করো। ১+৪

সন্ধ্যার পরিচয়: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা যে সন্ধ্যাটিকে ‘বড়ো চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন, সেটি ছিল এক অসাধারণ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সন্ধ্যা। সেই সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে ছেলেরা স্পোর্টসের চাঁদা নিতে গিয়েছিল। সেই সন্ধ্যা ছিল স্নিগ্ধ, শান্ত চন্দ্রালোকে উজ্জ্বল। মৃদুমন্দ বাতাসে বইছিল। সেই বাতাসের স্পন্দনে জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানের গাছের পাতা ঝিরিঝিরি শব্দ করছিল। বাড়ির বারান্দার মস্ত বড়ো আলোর সামনে একটি চেয়ারে জগদীশবাবু বসেছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা: সেই সন্ধ্যায় হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এক বিরাগীর ছদ্মবেশে উপস্থিত হন। তাঁর পরনে ছিল ছোটো বহরের সাদা থান। আদুড় গায়ে একটিমাত্র ধবধবে সাদা উত্তরীয়। মাথা ভরতি শুকনো সাদা চুল যা মৃদুমন্দ বাতাসে উড়ছিল। পা ধুলোমাখা, হাতে একটিমাত্র ঝোলা আর তাতে রয়েছে একখানি বই-গীতা। আগন্তুককে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন জগতের অন্য এক প্রান্ত থেকে হেঁটে আসছেন তাঁর শান্ত উজ্জ্বল দৃষ্টি নিয়ে। আগন্তুককে নীচে নেমে অভ্যর্থনা না জানানোয় তিনি জগদীশবাবুর অর্থের অহমিকাকে শান্ত চিত্তে আঘাত করেন। জগদীশবাবুর বারংবার অনুরোধেও তিনি তাঁর গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন, এমনকি তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার থলি স্পর্শ না করেই চলে যান। জগদীশবাবু তাঁর কাছে উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি বলেন, ধন-জন-যৌবন কিছুই না, সেগুলি হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু সেই পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

.অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন?”-কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কীভাবেখাঁটি সন্ন্যাসীর মতোব্যবহার করেছিলেন সংক্ষেপে আলোচনা করো। ১+৪

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পের আলোচ্য অংশে গল্পের মূল চরিত্র হরিদার কথা বলা হয়েছে।

খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো আচরণ: জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আসা এক সন্ন্যাসীর বিচিত্র কাহিনি শুনে বহুরূপী হরিদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর ভবতোষ-অনাদিদের সেদিন সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে যেতে বলেন। স্পোর্টসের চাঁদা নেওয়ার জন্য যথাসময়ে ছেলেরা জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হয়। হঠাৎ সেখানে বিরাগীর ছদ্মবেশে উপস্থিত হন হরিদা। তাকে দেখে জগদীশবাবু এবং ভবতোষ-অনাদিরা চমকে ওঠে। তাঁর পরনে ছিল ছোটো বহরের সাদা থান। আদুড় গায়ে একটিমাত্র ধবধবে সাদা উত্তরীয়। মাথাভর্তি শুকনো সাদা চুল যা মৃদুমন্দ বাতাসে উড়ছিল। পা ধুলোমাখা, হাতে একটিমাত্র ঝোলা আর তাতে রয়েছে একখানি বই-গীতা। জগদীবাবু তাকে বারান্দা থেকে নীচে নেমে এসে অভ্যর্থনা না জানানোয় জগদীশবাবুকে তিনি সম্পত্তির গর্বে অহংকারী বলে উল্লেখ করেন। জগদীশবাবুর বারংবার অনুরোধেও তিনি তাঁর গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। জগদীশবাবু তাঁর কাছে উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি বলেন, ধন-জন-যৌবন কিছুই না, সেগুলি হল সুন্দর সুন্দর এক একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু সেই পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিরাগীর প্রতি মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তাঁর তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার একটি থলি প্রণামি হিসেবে দিলে বহুরূপী হরিদা তা প্রত্যাখান করেন। এভাবেই তিনি ‘খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো’ ব্যবহার করেছিলেন।

.আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ।“-কে, কাকে এই কথা বলেছেন? গল্পের আলোকে কথাটি তাৎপর্য আলোচনা করো। ২+৩

বক্তা উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটির বক্তা হলেন হরিদা। তিনি জগদীশবাবুকে এই কথাগুলি বলেন।

কথাটির তাৎপর্য: হরিদা চরিত্রটি হল শিল্প ও সততার প্রতি নিষ্ঠাবান এক অনন্য ব্যক্তিত্ব যিনি শিল্পকে রক্ষা করতে অর্থের প্রলোভনকে স্বেচ্ছায় ত্যাগ করতে পারেন। দারিদ্র্য তাঁর নিত্যসঙ্গী এবং তার জন্য তিনি মোটেই হাহুতাশ করেন না, বরং এই জীবনটাকেই তিনি ভালোবেসেছেন। তিনি একজন বহুরূপী। বিভিন্ন সময়ে এক-এক রকম সাজে তিনি পথে বের হন, মানুষকে আনন্দ দান করেন, পথ চলতি মানুষ তাঁকে যা দেয় তা দিয়েই তিনি তাঁর ভাতের সংস্থান করেন। সব দিন যে খাবার জোটে তা নয়, মাঝেমধ্যেই তাঁর হাঁড়িতে ভাত না ফুটে শুধু জল ফোটে।

জনৈক জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসীর বিচিত্র পরিচয় পেয়ে হরিদা এক বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে যেতে মনস্থ করেন। এক মনোরম সন্ধ্যেবেলার স্নিগ্ধ পরিবেশে বিরাগী সেজে তিনি জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। ছদ্মবেশী বিরাগীকে দেখে চমকে ওঠেন জগদীশবাবু আর ভবতোষ-অনাদিরা। তিনি নির্দ্বিধায় জগদীশবাবুর অর্থ অহংকারকে তিরস্কার করেন। একজন ধুলোমলিন বিরাগী হয়ে তিনি জগদীশবাবুর অট্টালিকায় আতিথ্য গ্রহণে অসম্মত হন, এমনকি তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার থলি তিনি প্রত্যাখান করেন। একজন বিরাগীর হৃদয়ের মধ্যেই থাকেন ঈশ্বর, ফলে ঈশ্বরের সন্ধানে তাঁর তীর্থভ্রমণের প্রয়োজন পড়ে না। আর হরিদা নিজের অন্তরে ঐশ্বরিক নির্লিপ্ততা খুঁজে পেয়েছেন বলেই তিনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান শিল্পী হতে পেরেছেন।

❖ আমাদের সাজেশন আপনি কেন কিনবেন?

আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আমাদের সাজেশন অনুসরণ করে 90% থেকে 99% পর্যন্ত নম্বর অর্জন করেছে। তাদের মার্কশিটের কপিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তাই 90%-এর বেশি নম্বরের লক্ষ্য থাকলে নিশ্চিন্তে আমাদের সাজেশন সংগ্রহ করতে পারেন।
পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
সাজেশন সংগ্রহ করার পর থেকে পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, পরামর্শ ও গাইডেন্স প্রদান করা হবে। আপনার সফল প্রস্তুতির জন্য আমরা সর্বদা পাশে থাকব।
বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
আমাদের সাজেশন নিলে ঘরে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্ট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবেন এবং দুর্বল দিকগুলি সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন।
Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমাদের PDF-এ কোনো Watermark ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি পৃষ্ঠা অত্যন্ত স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও সহজপাঠ্যভাবে তৈরি করা হয়েছে।
সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
সংশ্লিষ্ট বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিলেবাস ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রতিটি সাজেশন অত্যন্ত যত্নসহকারে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাছাইকৃত।
এতসব সুবিধা পাবেন মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে।
আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাজেশন বিক্রি করা নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের উপকৃত করা, তাদের ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেওয়া।
আরও পড়ুন প্রয়োজনে
পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | প্রশ্নমান MCQ 1, 3, 5 | ক্লাস 10 | Pother Dabi Golper Question Answer Click here
বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো MCQ | Class 11 1st Semester Bengali Click here
প্রাচীন বাংলা সমাজ ও সাহিত্য MCQ PDF | Class 11 1st Semester Bengali Click here
বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য MCQ PDF | Class 11 1st Semester Bengali Click here

Leave a Comment

WhatsApp    PDF সাজেশন নিতে ক্লিক করুন