হাসবিদ্যকথা গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 সংস্কৃত চতুর্থ সেমিস্টার | Haasbidyakotha Golper Question Answer | Class 12 4th Semester Sanskrit

हासविद्याकथा (হাসবিদ্যকথা)
बभूव काञ्ची नाम राजधानी। तस्यां सुप्रतापो नाम राजा। तत्रैकदा कस्यापि धनिकस्य धनं चोरयन्तश्चत्वारश्चौराः सन्धिद्वारि प्रशास्तृपुरुषैः प्राप्ताः शृङ्खलेन बद्ध्वा राज्ञे निवेदिताश्च। राजा च घातकपुरुषानादिदेश— “रे घातकपुरुषाः! चतुरोऽपि चौरानेतान् नगराद् बहिर्नीत्वा शूलमारोप्य मारयत।”
ततो राजाज्ञया घातकपुरुषैस्त्रयश्चौराः शूलमारोप्य हताः। चतुर्थेन चिन्तितं यत्—
“प्रत्यासन्नेऽपि मरणे रक्षोपायो विधीयते।
उपाये सफले रक्षा निष्फले नाधिकं मृतेः॥”
अपि च—
“व्याधिना पीड्यमानोऽपि मार्यमाणोऽपि भूभुजा।
प्रत्यायाति यमद्वारात् प्रतीकारपरो नरः॥”
इति सञ्चिन्त्य चौरेण घातकपुरुषा उक्ताः— “रे रे घातकपुरुषाः! त्रयश्चौरा युष्माभिर्हता एव राज्ञाज्ञया। मां राजसंनिधानं कृत्वैव मारयत। यतोऽहमेकां महतीं विद्यां जानामि, मयि मृते सा विद्या अस्तं यास्यति। राजा तु तां विद्यां गृहीत्वा मां मारयतु। तेन विद्या मर्त्यलोके तिष्ठतु।”
घातका ऊचुः— “रे चौर पापपुरुषोधम! वध्यस्थानमानीतोऽसि। किमपरं जीवितुमिच्छसि? कां विद्यां जानासि? कथं वा तवाधमस्य विद्या भूपालेन ग्रहीतव्या?”
चौर उवाच— “रे घातकाः! किं ब्रूथ? राजकार्यबाधं कर्तुमिच्छथ? यदि राज्ञा ज्ञातव्या विद्या, तदावश्यं ग्रहीतव्या महतीयं विद्या। किं च, विद्यावार्ताकथकेभ्यो युष्मभ्यं प्रसादः कर्तव्यः।”
ततस्तस्य चौरस्य वचनैः स्वामिकार्यानुरोधेन सा वार्ता तै राज्ञे निवेदिता। राजा च सकौतुकं चौरमाहूय पप्रच्छ—
राजोवाच— “रे चौर! कां विद्यां जानासि?”
चौर उवाच— “देव! सुवर्णकृषिं जानामि। यत् सुवर्णं दग्ध्वा सर्षपमात्राणि बीजानि कृत्वा भूमौ वप्यन्ते, मासाभ्यन्तरे सर्षपा इवाङ्कुरा निर्गच्छन्ति। यदि मे वचनमनृतं तदा मासैकेन वधोऽस्तु।”
राजोवाच— “साधु, वप सुवर्णम्।”
ततश्चौरः सुवर्णं दाहयित्वा सर्षपमात्राणि बीजानि कृत्वा राजान्तःपुरक्रीडासरसस्तटे परमनिगूढस्थाने भूपरिष्कारं कृत्वा बभाषे— “देव! क्षेत्रबीजे संपन्ने। वप्ता कश्चिद् दीयताम्।”
राजोवाच— “त्वमेव किं न वपसि?”
चौर उवाच— “यदि सुवर्णवपने ममैवाधिकारो भवेत्, तदा अनया विद्यया किमहं दुःखी भवामि? किं तु सुवर्णवपने चौरस्याधिकारो नास्ति। येन कदापि किमपि न चोरितम्, स वपतु। देव एव किं न वपति?”
राजोवाच— “मया चारणेभ्यो दातुं तातचरणानां धनं चोरितम्।”
चौर उवाच— “तर्हि मन्त्रिणो वपन्तु।”
मन्त्रिण ऊचुः— “वयं राजोपजीविनः कथमस्तेयिनो भवामः?”
चौर उवाच— “तर्हि धर्माधिकारी वपतु।”
धर्माध्यक्ष उवाच— “मयापि बाल्यदशायां मातुर्मोदकाश्चोरिताः।”
ततश्चौरेण विहस्योक्तम्— “यूयं सर्वेऽपि चौराः। अहं केवलं शूलमारोपणीयः?”
ततस्तस्य चतुरतया प्रहसन् राजोवाच— “कुबुद्धिरपि बुद्धिमानयं चौरो हास्यरसप्रवीनश्च। ततो ममैव संनिधाने तिष्ठतु, प्रस्तावे मां हासयतु खेलयतु च।”
स चौरो राज्ञा स्वसंनिधाने धृतः।
হাসবিদ্যকথা বঙ্গানুবাদ
বভূব কাঞ্চী নাম রাজধানী। তস্যাং সুপ্রতাপো নাম রাজা।
কাঞ্চী নামে একটি রাজধানী ছিল। সেখানে সুপ্রতাপ নামে একজন রাজা ছিলেন।
তত্রৈকদা কস্যাপি ধনিকস্য ধনং চোরয়ন্তশ্চত্বারশ্চৌরাঃ সন্ধিদ্বারি প্রশাস্তৃপুরুষৈঃ প্রাপ্তাঃ শৃঙ্খলেন বদ্ধ্বা রাজ্ঞে নিবেদিতাশ্চ।
সেখানে একদিন কোনো এক ধনী ব্যক্তির ধন চুরি করার সময় চারজন চোর নগরের প্রহরীদের হাতে ধরা পড়ল। তাদের শৃঙ্খল দিয়ে বেঁধে রাজার কাছে উপস্থিত করা হলো।
রাজা চ ঘাতকপুরুষানাদিদেশ— “রে ঘাতকপুরুষাঃ! চতুরোऽপি চৌরানেতান্ নগরাদ্ বহির্নীত্বা শূলমারোপ্য মারয়ত।”
রাজা ঘাতকদের আদেশ দিলেন— “হে ঘাতকেরা! এই চারজন চোরকেই নগরের বাইরে নিয়ে গিয়ে শূলে চড়িয়ে হত্যা করো।”
ততো রাজাজ্ঞয়া ঘাতকপুরুষৈস্ত্রয়শ্চৌরাঃ শূলমারোপ্য হতাঃ।
এরপর রাজার আদেশে ঘাতকেরা তিনজন চোরকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করল।
চতুর্থেন চিন্তিতং যৎ— “প্রত্যাসন্নেঽপি মরণে রক্ষোপায়ো বিধীয়তে। উপায়ে সফল্যে রক্ষা নিষ্ফলে নাধিকং মৃত্যেঃ॥”
চতুর্থ চোর চিন্তা করল— “মৃত্যু যখন একেবারে নিকটে, তখনও আত্মরক্ষার উপায় করা উচিত। উপায় সফল হলে জীবন রক্ষা পায়, আর উপায় ব্যর্থ হলেও মৃত্যুর চেয়ে বেশি কিছু হয় না।”
অপি চ— “ব্যাধিনা পীড্যমানোऽপি মার্যমাণোऽপি ভূভুজা। প্রত্যায়াতি যমদ্বারাত্ প্রতীকারপরো নরঃ॥”
আরও বলা হয়েছে— “ব্যাধিতে পীড়িত হলেও অথবা রাজা কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেও, যে ব্যক্তি প্রতিকারের উপায় করে, সে যমের দ্বার থেকেও ফিরে আসতে পারে।”
ইতি সঞ্চিন্ত্য চৌরেণ ঘাতকপুরুষা উক্তাঃ— “রে রে ঘাতকপুরুষাঃ! ত্রয়শ্চৌরা যুষ্মাভির্হতা এব রাজ্ঞাজ্ঞয়া। মাং রাজসন্নিধানং কৃত্বৈব মারয়ত।
এই কথা চিন্তা করে চোর ঘাতকদের বলল— “হে ঘাতকেরা! রাজার আদেশে তোমরা তিনজন চোরকে হত্যা করেছ। কিন্তু আমাকে রাজার সামনে উপস্থিত করেই হত্যা করো।
যতোऽহমেকাং মহতীং বিদ্যাং জানামি, ময়ি মৃতে সা বিদ্যা অস্তং যাস্যতি। রাজা তু তাং বিদ্যাং গৃহীত্বা মাং মারয়তু। তেন বিদ্যা মর্ত্যলোকে তিষ্ঠতু।”
কারণ আমি একটি মহামূল্যবান বিদ্যা জানি। আমি মারা গেলে সেই বিদ্যা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই রাজা আগে সেই বিদ্যা গ্রহণ করুন, তারপর আমাকে হত্যা করুন। এর ফলে বিদ্যাটি মর্ত্যলোকে টিকে থাকবে।”
ঘাতকা ঊচুঃ— “রে চৌর পাপপুরুষোধম! বধ্যস্থানমানীতোऽসি। কিমপরং জীবিতুমিচ্ছসি? কাম্ বিদ্যাং জানাসি? কথং বা তবাধমস্য বিদ্যা ভূপালেন গ্রহীতব্যা?”
ঘাতকেরা বলল— “ওরে চোর, পাপী ও অধম! তোমাকে তো মৃত্যুদণ্ডের স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন আবার কেন বাঁচতে চাইছ? তুমি কোন বিদ্যা জানো? আর তোমার মতো অধমের কাছ থেকে রাজা কীভাবে বিদ্যা গ্রহণ করবেন?”
চৌর উবাচ— “রে ঘাতকাঃ! কিং ব্রূথ? রাজকার্যবাধং কর্তুমিচ্ছথ? যদি রাজ্ঞা জ্ঞাতব্যা বিদ্যা, তদাবশ্যং গ্রহীতব্যা মহতীং বিদ্যা। কিং চ, বিদ্যাবার্তাকথকেভ্যো যুষ্মভ্যং প্রসাদঃ কর্তব্যঃ।”
চোর বলল— “হে ঘাতকেরা! তোমরা এ কী বলছ? তোমরা কি রাজার কাজে বাধা দিতে চাও? রাজা যদি এই বিদ্যা জানতে চান, তাহলে অবশ্যই তাঁকে এই মহামূল্যবান বিদ্যা গ্রহণ করতে হবে। আর এই বিদ্যার সংবাদ রাজাকে দেওয়ার জন্য তোমাদেরও পুরস্কৃত করা উচিত।”
ততস্তস্য চৌরস্য বচনৈঃ স্বামিকার্যানুরোধেন সা বার্তা তৈ রাজ্ঞে নিবেদিতা।
এরপর সেই চোরের কথায় এবং নিজেদের কর্তব্যের কথা ভেবে ঘাতকেরা বিষয়টি রাজাকে জানাল।
রাজা চ সকৌতুকং চৌরমাহূয় পপ্রচ্ছ—
রাজাও অত্যন্ত কৌতূহলী হয়ে চোরকে ডেকে পাঠালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন—
❖ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন
আপনার প্রয়োজনীয় সাজেশন
- ✅ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আপনার রেজাল্ট
- ✅ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সহযোগিতা
- ✅ বিনামূল্যে অনলাইন মক টেস্টের সুবিধা
- ✅ Watermark-মুক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন PDF
- ✅ সিলেবাস ও বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুত
রাজোভাচ— “রে চৌর! কাম্ বিদ্যাং জানাসি?”
রাজা বললেন— “হে চোর! তুমি কোন বিদ্যা জানো?”
চৌর উবাচ— “দেব! সুবর্ণকৃষিং জানামি। যৎ সুবর্ণং দগ্ধ্বা সর্ষপমাত্রাণি বীজানি কৃত্বা ভূমৌ বপ্যন্তে, মাসাভ্যন্তরে সর্ষপা ইবাঙ্কুরা নির্গচ্ছন্তি। যদি মে বচনমনৃতং তদা মাসৈকেন বধোऽস্তু।”
চোর বলল— “দেব! আমি সুবর্ণকৃষি বিদ্যা জানি। অর্থাৎ সোনা পুড়িয়ে সর্ষের দানার মতো ছোট ছোট বীজ তৈরি করে মাটিতে বপন করা হয়। এক মাসের মধ্যে সেই বীজ থেকে সর্ষের মতো অঙ্কুর বের হয়। যদি আমার কথা মিথ্যা হয়, তাহলে এক মাস পরে আমাকে হত্যা করা হোক।”
রাজোভাচ— “সাধু, বপ সুবর্ণম্।”
রাজা বললেন— “বেশ, সোনা বপন করো।”
ততশ্চৌরঃ সুবর্ণং দাহয়িত্বা সর্ষপমাত্রাণি বীজানি কৃত্বা রাজান্তঃপুরক্রীড়াসরসস্তটে পরমনিগূঢ়স্থানে ভূপরিষ্কারং কৃত্বা বভাষে— “দেব! ক্ষেত্রবীজে সম্পন্নে। বপ্তা কশ্চিদ্ দীয়তাম্।”
তখন চোর সোনা পুড়িয়ে সর্ষের দানার মতো বীজ তৈরি করল। এরপর রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুরের ক্রীড়াসরোবরের তীরে একটি অত্যন্ত গোপন স্থানে মাটি পরিষ্কার করে বলল— “দেব! ক্ষেত্র ও বীজ প্রস্তুত হয়েছে। এখন কোনো একজন বপনকারীকে দেওয়া হোক।”
রাজোভাচ— “ত্বমেব কিং ন বপসি?”
রাজা বললেন— “তুমিই নিজে বপন করছ না কেন?”
চৌর উবাচ— “যদি সুবর্ণবপনে মমৈবাধিকারো ভবেত্, তদা অনয়া বিদ্যয়া কিমহং দুঃখী ভবামি? কিং তু সুবর্ণবপনে চৌরস্যাধিকারো নাস্তি। যেন কদাপি কিমপি ন চোরিতম্, স বপতু। দেব এব কিং ন বপতি?”
চোর বলল— “যদি সোনা বপনের অধিকার আমারই থাকত, তাহলে এই বিদ্যা জানা সত্ত্বেও আমি কেন দুঃখী হতাম? কিন্তু সোনা বপনের অধিকার চোরের নেই। যে কখনও কোনো কিছু চুরি করেনি, সেই বপন করুক। দেবই বা নিজে বপন করছেন না কেন?”
রাজোভাচ— “ময়া চারণেভ্যো দাতুং তাতচরণানাং ধনং চোরিতম্।”
রাজা বললেন— “আমিও তো ব্রাহ্মণদের দান করার জন্য পূর্বপুরুষের ধন চুরি করেছি।”
চৌর উবাচ— “তর্হি মন্ত্রিণো বপন্তু।”
চোর বলল— “তাহলে মন্ত্রীরা বপন করুন।”
মন্ত্রিণ ঊচুঃ— “বয়ং রাজোপজীবিনঃ কথমস্তেয়িনো ভবামঃ?”
মন্ত্রীরা বললেন— “আমরা তো রাজার বেতনভোগী। আমরা কীভাবে চোর না হয়ে থাকতে পারি?”
চৌর উবাচ— “তর্হি ধর্মাধিকারী বপতু।”
চোর বলল— “তাহলে ধর্মাধ্যক্ষ বপন করুন।”
HS Class 12
সেমিস্টার প্রস্তুতি
WhatsApp গ্রুপধর্মাধ্যক্ষ উবাচ— “ময়াপি বাল্যদশায়াং মাতুর্মোদকাশ্চোরিতাঃ।”
ধর্মাধ্যক্ষ বললেন— “আমিও তো বাল্যকালে মায়ের মোদক চুরি করেছিলাম।”
ততশ্চৌরেণ বিহস্যোক্তম্— “যূয়ং সর্বেऽপি চৌরাঃ। অহং কেবলং শূলমারোপণীয়ঃ?”
তখন চোর হেসে বলল— “তোমরা সকলেই তো চোর! তাহলে কি শুধু আমাকেই শূলে চড়ানো হবে?”
ততস্তস্য চতুরতয়া প্রহসন্ রাজোভাচ— “কুবুদ্ধিরপি বুদ্ধিমানয়ং চৌরো হাস্যরসপ্রবীণশ্চ। ততো মমৈব সন্নিধানে তিষ্ঠতু, প্রসঙ্গে মাং হাসয়তু খেলয়তু চ।”
এরপর চোরের বুদ্ধিমত্তায় রাজা হাসতে হাসতে বললেন— “এই চোরটি কুবুদ্ধিসম্পন্ন হলেও বুদ্ধিমান এবং হাস্যরসে অত্যন্ত পারদর্শী। তাই সে আমার কাছেই থাকবে। সুযোগমতো সে আমাকে হাসাবে এবং আনন্দ দেবে।”
স চৌরো রাজ্ঞা স্বসন্নিধানে ধৃতঃ।
এইভাবে সেই চোরকে রাজা নিজের কাছেই রেখে দিলেন।
(हासविद्याकथा) হাসবিদ্যকথা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
১। চতুর্থ চোরের ধূর্ততার পরিচয় দাও।
‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে চতুর্থ চোর অত্যন্ত বুদ্ধিমান, ধূর্ত ও উপস্থিত-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। চারজন চোর ধরা পড়লে রাজা সকলকে শূলে চড়িয়ে হত্যার আদেশ দেন। তিনজন চোর নিহত হওয়ার পর চতুর্থ চোর বুঝতে পারে যে তারও মৃত্যু আসন্ন। তখন সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার উপায় বের করে।
সে ঘাতকদের বলে যে সে একটি মহামূল্যবান বিদ্যা জানে—‘সুবর্ণকৃষি’। তার মৃত্যু হলে সেই বিদ্যাও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রাজাকে সেই বিদ্যা শেখানোর পর যেন তাকে হত্যা করা হয়। ঘাতকেরা তার কথা রাজাকে জানালে রাজা কৌতূহলী হয়ে তাকে ডেকে পাঠান।
চোর রাজাকে জানায়, সোনা পুড়িয়ে সর্ষের মতো বীজ তৈরি করে মাটিতে বপন করলে এক মাসের মধ্যে সোনার চারা গজাবে। সে বীজ তৈরি করে রাজপ্রাসাদের নির্জন স্থানে জমিও প্রস্তুত করে। এরপর সে এমন একজনকে বীজ বপন করতে বলে, যে জীবনে কখনও কোনো জিনিস চুরি করেনি।
রাজা, মন্ত্রী এবং ধর্মাধ্যক্ষ—প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনের কোনো না কোনো চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। তখন চোর হাসতে হাসতে বলে, “তোমরা সকলেই চোর; শুধু আমাকেই কি শূলে চড়ানো হবে?” এভাবেই তার চতুর পরিকল্পনা সফল হয়। তার বুদ্ধি ও হাস্যরসে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। সুতরাং, চতুর্থ চোরের উপস্থিত বুদ্ধি, কৌশল ও ধূর্ততা তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিল।
২। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
‘হাসবিদ্যকথা’ নামটি গল্পটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পূর্ণ সার্থকভাবে যুক্ত। ‘হাসবিদ্যা’ বলতে এমন এক বিদ্যা বা কৌশলকে বোঝানো হয়েছে, যার সাহায্যে হাস্যরস সৃষ্টি করা যায় এবং বুদ্ধির কৌশলে মানুষকে হাসানো যায়। গল্পের চতুর্থ চোর এই বিদ্যার অসাধারণ পরিচয় দিয়েছে।
চতুর্থ চোর মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়ে নিজের বুদ্ধি ও হাস্যরসের সাহায্যে রাজাকে প্রভাবিত করে। সে ‘সুবর্ণকৃষি’র কথা বলে রাজাকে সোনার বীজ বপনের ব্যবস্থা করতে রাজি করায়। কিন্তু বীজ বপনের সময় সে এমন শর্ত দেয় যে, যে ব্যক্তি জীবনে কখনও চুরি করেনি, তাকেই বীজ বপন করতে হবে।
এর ফলে প্রথমে রাজা নিজের একটি চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে মন্ত্রীও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন না। ধর্মাধ্যক্ষও শৈশবে মায়ের মোদক চুরি করার কথা স্বীকার করেন। তখন চোর হাসতে হাসতে বলেন—“তোমরা সকলেই চোর; শুধু আমাকেই কি শূলে চড়ানো হবে?” এই ঘটনায় যেমন হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই চোরের বুদ্ধির পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছে।
শেষে রাজা চোরের বুদ্ধি ও হাস্যরসে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে দেন। অতএব, গল্পটির প্রধান ঘটনা ও হাস্যরস—উভয়ই ‘হাসবিদ্যা’কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই ‘হাসবিদ্যকথা’ নামটি যথার্থ ও সার্থক।
৩। ‘त्वमेव किं न वपसि?’ কার উক্তি? কাকে উদ্দেশ করে এই উক্তি? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কেন বপনকার্যে অসম্মত হয়েছিল?
‘त्वमेव किं न वपसि?’—এই উক্তিটি কাঁচীর রাজা সুপ্রতাপের। তিনি এই কথা চতুর্থ চোরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন।
চতুর্থ চোর রাজপ্রাসাদের নির্জন স্থানে মাটি প্রস্তুত করে সোনার বীজ বপনের জন্য একজন ব্যক্তিকে দিতে বলেছিল। রাজা তখন তাকে প্রশ্ন করেন—“তুমিই বপন করছ না কেন?” অর্থাৎ, যে ব্যক্তি এই বিদ্যা জানে এবং বীজ প্রস্তুত করেছে, সে নিজেই কেন বীজ বপন করছে না—রাজা সেই কথাই জানতে চেয়েছিলেন।
এর উত্তরে চোর অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বলে যে, সোনার বীজ বপনের অধিকার তার নেই। কারণ সে একজন চোর এবং চোরের পক্ষে এই কাজ করা উচিত নয়। যে ব্যক্তি জীবনে কখনও কোনো জিনিস চুরি করেনি, তাকেই বীজ বপন করতে হবে। এরপর সে রাজাকেই বীজ বপন করতে অনুরোধ করে।
রাজা তখন বলেন যে, তিনি একসময় তাঁর পিতার পাদপদ্মের অর্থ চুরি করেছিলেন, যাতে চারাণদের দান করতে পারেন। ফলে তিনিও নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করতে পারেন না। চোর তখন মন্ত্রীকে বীজ বপন করতে বলে। মন্ত্রীও জানান যে, তাঁরা রাজার আশ্রয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন; তাই তাঁরা কীভাবে নিজেদের চুরি না-করা ব্যক্তি বলে দাবি করবেন?
এরপর চোর ধর্মাধ্যক্ষকে বীজ বপন করতে বলে। ধর্মাধ্যক্ষও স্বীকার করেন যে, বাল্যকালে তিনি মায়ের মোদক চুরি করেছিলেন। ফলে তিনিও বপনকার্যের উপযুক্ত ব্যক্তি হতে পারেননি।
৪। ‘হাসবিদ্যা’ শব্দের দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? এই আখ্যানভাগে কী উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তার তাৎপর্য নিরূপণ করো।
‘হাসবিদ্যা’ বলতে হাস্যরস সৃষ্টি করার বিদ্যা বা কৌশলকে বোঝানো হয়েছে। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে চতুর্থ চোর নিজের অসাধারণ বুদ্ধি ও রসিকতার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যাতে রাজা, মন্ত্রী ও ধর্মাধ্যক্ষ সকলেই হাস্যকর অবস্থায় পড়েন।
চোর মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচার জন্য ‘সুবর্ণকৃষি’র কথা বলে। সে সোনা পুড়িয়ে সর্ষের মতো বীজ তৈরি করে এবং বলে যে, তা বপন করলে এক মাসের মধ্যে সোনার চারা জন্মাবে। কিন্তু বীজ বপনের জন্য সে এমন ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে, যে জীবনে কখনও চুরি করেনি। তখন একে একে রাজা, মন্ত্রী ও ধর্মাধ্যক্ষ নিজেদের জীবনের চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন।
এই আখ্যানের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেওয়া হয়েছে—মানুষের উচিত নিজের দোষ ও অন্যায় সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং অন্যকে দোষারোপ করার আগে নিজেকে বিচার করা। অনেক সময় মানুষ নিজের ছোট-বড় অপরাধ ভুলে গিয়ে অন্যের অপরাধের বিচার করে। চোর তার বুদ্ধির সাহায্যে এই ভণ্ডামিটিই প্রকাশ করে।
গল্পটি আরও শেখায় যে, বিপদের সময় উপস্থিত বুদ্ধি ও কৌশল মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে। তাই ‘হাসবিদ্যা’র মধ্যে শুধু হাস্যরস নয়, আত্মসমালোচনা, নৈতিক শিক্ষা এবং উপস্থিত বুদ্ধির মূল্যও নিহিত রয়েছে।
৫। ‘यूयं सर्वेऽपि चौराः’ কার উক্তি? কখন সে একথা বলেছিল? এই উক্তির দ্বারা সে কী প্রমাণ করেছিল?
‘यूयं सर्वेऽपि चौराः’—এই উক্তিটি চতুর্থ চোরের। রাজা, মন্ত্রী এবং ধর্মাধ্যক্ষ কেউই সোনার বীজ বপন করতে রাজি না হওয়ার পর চোর হাসতে হাসতে এই কথা বলেছিল।
চোর প্রথমে রাজাকে বীজ বপন করতে অনুরোধ করেছিল। রাজা জানান যে, তিনি তাঁর পিতার অর্থ চুরি করেছিলেন, যাতে চারাণদের দান করতে পারেন। তখন চোর মন্ত্রীকে বীজ বপন করতে বলে। মন্ত্রী জানান যে, তাঁরা রাজার আশ্রয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন; তাই তাঁদের পক্ষে চুরি না-করা ব্যক্তি বলে দাবি করা সম্ভব নয়।
এরপর চোর ধর্মাধ্যক্ষকে বীজ বপন করতে বলে। ধর্মাধ্যক্ষও স্বীকার করেন যে, বাল্যকালে তিনি মায়ের মোদক চুরি করেছিলেন। তখন চোর হাসতে হাসতে বলে—“তোমরা সকলেই চোর; শুধু আমাকেই কি শূলে চড়ানো হবে?”
এই উক্তির মাধ্যমে চোর প্রমাণ করেছিল যে, রাজা, মন্ত্রী ও ধর্মাধ্যক্ষ—কেউই সম্পূর্ণভাবে চুরির দোষ থেকে মুক্ত নন। প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে শুধু তাকে চোর বলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অন্যায়। তার বুদ্ধিদীপ্ত উক্তির ফলে তার নিজের অপরাধের তুলনায় অন্যদেরও একই ধরনের দোষ থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
৬। ‘उपाये सफले रक्षा निष्फले नाधिकं मृतेः’ কে, কোন্ প্রসঙ্গে কথাটি চিন্তা করেছিল? শ্লোকাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
‘उपाये सफले रक्षा निष्फले नाधिकं मृतेः’—এই শ্লোকাংশটি চতুর্থ চোর মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়ে চিন্তা করেছিল।
রাজা সুপ্রতাপ চারজন চোরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। রাজাজ্ঞা অনুযায়ী তিনজন চোরকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়। তখন চতুর্থ চোর বুঝতে পারে যে তার মৃত্যুও আসন্ন। কিন্তু সে মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে না থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে থাকে। সেই প্রসঙ্গেই সে চিন্তা করে—বিপদ যতই নিকটবর্তী হোক, আত্মরক্ষার জন্য উপায় অবলম্বন করা উচিত।
শ্লোকাংশটির অর্থ হল—কোনো উপায় সফল হলে প্রাণরক্ষা হতে পারে; আর সেই উপায় ব্যর্থ হলেও মৃত্যুর চেয়ে বেশি কোনো ক্ষতি হবে না। অর্থাৎ, মৃত্যুর সম্ভাবনা যখন নিশ্চিত বা অত্যন্ত নিকটবর্তী, তখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচার চেষ্টা করা উচিত।
চতুর্থ চোর এই নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ করেছিল। সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমে রাজাকে তার বিশেষ বিদ্যার কথা জানায় এবং পরে ‘সুবর্ণকৃষি’র কৌশলে রাজা ও রাজসভার লোকদের এমন অবস্থায় ফেলে দেয়, যাতে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়ে যায়। তাই শ্লোকাংশটি গল্পে চোরের উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মরক্ষার প্রচেষ্টার যথার্থ ভিত্তি।
৭। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পটির বিষয়বস্তু সংক্ষেপে লেখো।
কবি বিদ্যাপতি রচিত ‘পুরুষপরীক্ষা’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘হাসবিদ্যকথা’ একটি বুদ্ধি ও হাস্যরসনির্ভর আখ্যান। কাঁচী নগরের রাজা সুপ্রতাপের রাজত্বকালে চারজন চোর ধরা পড়ে। রাজা চারজনকেই শূলে চড়িয়ে হত্যা করার আদেশ দেন। তিনজন চোর নিহত হলেও চতুর্থ চোর নিজের বুদ্ধির সাহায্যে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে।
সে ঘাতকদের জানায় যে, সে একটি মহামূল্যবান বিদ্যা জানে। তার মৃত্যু হলে সেই বিদ্যাও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রাজাকে বিদ্যাটি শেখানোর পর যেন তাকে হত্যা করা হয়। রাজা কৌতূহলী হয়ে তাকে ডেকে পাঠান। চোর জানায়, সে ‘সুবর্ণকৃষি’ জানে—সোনা পুড়িয়ে সর্ষের মতো বীজ তৈরি করে বপন করলে এক মাসের মধ্যে সোনার চারা জন্মায়।
রাজা তাকে সেই বিদ্যা প্রয়োগ করতে বলেন। চোর সোনার বীজ তৈরি করে জমি প্রস্তুত করে এবং এমন একজনকে বীজ বপন করতে বলে, যে জীবনে কখনও চুরি করেনি। রাজা, মন্ত্রী ও ধর্মাধ্যক্ষ—প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনের কোনো না কোনো চুরির কথা স্বীকার করেন। তখন চোর হাসতে হাসতে সকলকে চোর বলে অভিহিত করে।
চোরের বুদ্ধি ও হাস্যরসে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। এভাবেই চতুর্থ চোর তার উপস্থিত বুদ্ধি ও হাস্যরসের সাহায্যে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।
৮। ‘হাসবিদ্যকথা’ কাহিনি অবলম্বনে রাজার সঙ্গে চোরের কথোপকথন বর্ণনা করো।
রাজা সুপ্রতাপ চতুর্থ চোরের ‘সুবর্ণকৃষি’ বিদ্যার কথা শুনে কৌতূহলী হয়ে তাকে নিজের কাছে ডেকে পাঠান। রাজা চোরকে জিজ্ঞাসা করেন—
রাজা: “হে চোর! তুমি কী বিদ্যা জানো?”
চোর: “দেব! আমি সুবর্ণকৃষি বিদ্যা জানি। সোনা পুড়িয়ে সর্ষের মতো ছোট ছোট বীজ তৈরি করে মাটিতে বপন করলে এক মাসের মধ্যে সর্ষের মতো সোনার চারা বের হয়। আমার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হলে এক মাস পরে আমাকে হত্যা করবেন।”
চোরের কথা শুনে রাজা বলেন—
রাজা: “বেশ, সোনা বপন করো।”
চোর তখন সোনা পুড়িয়ে বীজ তৈরি করে রাজপ্রাসাদের নির্জন স্থানে জমি প্রস্তুত করে। এরপর সে রাজাকে বলে—
চোর: “দেব! ক্ষেত ও বীজ প্রস্তুত হয়েছে। এখন একজন বপনকারী দিন।”
রাজা বলেন—
রাজা: “তুমিই বপন করছ না কেন?”
চোর উত্তর দেয়—
চোর: “সুবর্ণবীজ বপনের অধিকার আমার নেই। যে ব্যক্তি জীবনে কখনও কিছু চুরি করেনি, সেই এই বীজ বপন করবে। দেবই কেন বপন করছেন না?”
তখন রাজা বলেন—
রাজা: “আমি আমার পিতার অর্থ চুরি করেছিলাম, চারাণদের দান করার জন্য।”
চোর তখন বলে—
চোর: “তাহলে মন্ত্রী বপন করুন।”
মন্ত্রী বলেন—
মন্ত্রী: “আমরা তো রাজার আশ্রয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা কীভাবে চুরি না-করা ব্যক্তি হতে পারি?”
চোর তখন ধর্মাধ্যক্ষকে বীজ বপন করতে বলে। ধর্মাধ্যক্ষও স্বীকার করেন যে, বাল্যকালে তিনি মায়ের মোদক চুরি করেছিলেন।
তখন চোর হাসতে হাসতে বলে—
চোর: “তোমরা সকলেই চোর। শুধু আমাকেই কি শূলে চড়ানো হবে?”
এই কথোপকথনের মধ্য দিয়েই চোর তার বুদ্ধি ও হাস্যরসের সাহায্যে নিজের প্রাণ রক্ষা করে।
৯। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে রাজার চরিত্রের কী পরিচয় পাওয়া যায়?
‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে রাজা সুপ্রতাপের চরিত্রের বিভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে। তিনি একদিকে কঠোর শাসক, অন্যদিকে কৌতূহলী, উদার ও রসিকতাপ্রিয় ব্যক্তি।
প্রথমে চারজন চোর ধরা পড়লে রাজা তাদের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির আদেশ দেন। তিনি ঘাতকদের চারজন চোরকেই নগরের বাইরে নিয়ে গিয়ে শূলে চড়িয়ে হত্যা করতে বলেন। এতে তাঁর কঠোর শাসকের পরিচয় পাওয়া যায়।
কিন্তু চতুর্থ চোর যখন একটি বিশেষ বিদ্যার কথা জানায়, তখন রাজা তার কথা শুনতে আগ্রহী হন। তিনি চোরকে নিজের কাছে ডেকে তার বিদ্যার কথা জানতে চান। চোর যখন ‘সুবর্ণকৃষি’র কথা বলে, তখন রাজা কৌতূহলী হয়ে তাকে সেই বিদ্যা প্রয়োগের অনুমতি দেন। এতে রাজার জ্ঞান ও নতুন বিষয় জানার আগ্রহ প্রকাশ পায়।
চোর যখন এমন শর্ত দেয় যে, যে ব্যক্তি জীবনে কখনও চুরি করেনি, সেই বীজ বপন করবে, তখন রাজা নিজের অতীতের একটি ঘটনা অকপটে স্বীকার করেন। এতে তাঁর সত্যবাদিতা ও আত্মস্বীকারের মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
সবশেষে চোরের বুদ্ধি ও হাস্যরসে রাজা মুগ্ধ হন। তিনি চোরকে শাস্তি না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং বলেন যে, সে যেন সুযোগমতো তাঁকে হাসায় ও আনন্দ দেয়। তাই রাজার চরিত্রে কঠোরতা, কৌতূহল, সরলতা, উদারতা ও হাস্যরসপ্রিয়তার সমন্বয় দেখা যায়।
আরো পড়ুন : তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর
১০। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে চতুর্থ চোরের বুদ্ধিমত্তা ও হাস্যরসপ্রবণতার যে পরিচয় পাওয়া যায় তার বিস্তৃত বিবরণ দাও।
‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পের চতুর্থ চোরই গল্পের প্রধান চরিত্র। তার মধ্যে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি, কৌশল এবং হাস্যরসপ্রবণতার পরিচয় পাওয়া যায়।
চারজন চোরের মধ্যে তিনজন যখন শূলে চড়ে নিহত হয়, তখন চতুর্থ চোর বুঝতে পারে যে তার মৃত্যুও আসন্ন। সে হতাশ না হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার উপায় চিন্তা করে। প্রথমেই সে ঘাতকদের বলে যে, সে একটি মহামূল্যবান বিদ্যা জানে। তার মৃত্যু হলে সেই বিদ্যাও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। এই কৌশলে সে রাজাকে তার কাছে আনতে সক্ষম হয়।
রাজাকে সে ‘সুবর্ণকৃষি’র কথা বলে। সোনা পুড়িয়ে সর্ষের মতো বীজ তৈরি করে মাটিতে বপন করলে সোনার চারা জন্মাবে—এমন একটি আশ্চর্য বিদ্যার কথা বলে সে রাজাকে কৌতূহলী করে তোলে। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া।
সবচেয়ে বড় বুদ্ধির পরিচয় সে দেয় বীজ বপনের সময়। সে শর্ত দেয় যে, যে ব্যক্তি জীবনে কখনও চুরি করেনি, সেই বীজ বপন করবে। ফলে রাজা নিজের একটি চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে মন্ত্রীও নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন না। ধর্মাধ্যক্ষও বাল্যকালে মায়ের মোদক চুরি করার কথা স্বীকার করেন।
এই পরিস্থিতিতে চোর হাসতে হাসতে বলে—“তোমরা সকলেই চোর; শুধু আমাকেই কি শূলে চড়ানো হবে?” এই উক্তিতে তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও হাস্যরস একই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। সে কারও সঙ্গে সরাসরি বিবাদ না করে হাসির মাধ্যমে সকলের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
চোরের এই বুদ্ধিদীপ্ত আচরণে রাজাও হাসেন এবং তার প্রতিভায় মুগ্ধ হন। শেষ পর্যন্ত রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। অতএব, চতুর্থ চোরের চরিত্রে উপস্থিত বুদ্ধি, কৌশল, আত্মরক্ষার ক্ষমতা এবং হাস্যরসপ্রবণতার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।
Our Latest Products
উচ্চমাধ্যমিক
All Subject দেখুন →
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম বাংলা সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক English সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেম ইতিহাস সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন
উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন
একাদশ শ্রেণি
All Subject দেখুন →
একাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন
একাদশ শ্রেণি দর্শন সাজেশন
একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন
একাদশ শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
একাদশ শ্রেণি শিক্ষাবিজ্ঞান সাজেশন